আল কুরআন


সূরা আন-নাবা (আয়াত: 31)

সূরা আন-নাবা (আয়াত: 31)



হরকত ছাড়া:

إن للمتقين مفازا ﴿٣١﴾




হরকত সহ:

اِنَّ لِلْمُتَّقِیْنَ مَفَازًا ﴿ۙ۳۱﴾




উচ্চারণ: ইন্না লিলমুত্তাকীনা মাফা-যা-।




আল বায়ান: নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে সফলতা।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩১. নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য আছে সাফল্য,




তাইসীরুল ক্বুরআন: (অন্য দিকে) মুত্তাকীদের জন্য আছে সাফল্য।




আহসানুল বায়ান: ৩১। নিশ্চয়ই আল্লাহভীরুদের জন্যই রয়েছে সফলতা;[1]



মুজিবুর রহমান: এবং নিশ্চয়ই সংযমশীল লোকদের জন্যই সফলতা;



ফযলুর রহমান: মোত্তাকীদের জন্য এক বিরাট সাফল্য (জান্নাত) রয়েছে।



মুহিউদ্দিন খান: পরহেযগারদের জন্যে রয়েছে সাফল্য।



জহুরুল হক: ধর্মভীরুদের জন্য নিশ্চয়ই রয়েছে মহাসাফল্য --



Sahih International: Indeed, for the righteous is attainment -



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩১. নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য আছে সাফল্য,


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: ৩১। নিশ্চয়ই আল্লাহভীরুদের জন্যই রয়েছে সফলতা;[1]


তাফসীর:

[1] দুর্ভাগ্যবানদের কথা আলোচনা করার পর এখন সৌভাগ্যবানদের আলোচনা এবং তাদের সেই নিয়ামতের বর্ণনা; যা তারা আখেরাতে উপভোগ করবে। আর এই সাফল্য ও নিয়ামত তাকওয়া (আল্লাহভীরুতা)র ফলে লাভ হবে। তাকওয়া হল ঈমান ও আনুগত্যের চাহিদার পরিপূর্ণতার নাম। সৌভাগ্যবান লোক তো তারাই, যারা ঈমান আনার পর তাকওয়া এবং নেক আমলে যত্নবান হয়। আল্লাহ আমাদেরকে তাদের দলভুক্ত করুন। আমীন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩১-৩৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর:



জাহান্নামীদের দুঃখ-কষ্টের কথা আলোচনা করার পর জান্নাতীদের সুখ-সাচ্ছন্দ্য ও আরাম-আয়েশের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এটাকেই রীতি বা পরস্পর বিপরীতমুখী বর্ণনা বলা হয়। অর্থাৎ কুরআনে যেখানে ঈমানের কথা বর্ণনা হয়েছে সেখানেই কুফরের কথা বর্ণনা হয়েছে। যেখানেই জাহান্নাম ও তার দুর্দশার কথা বর্ণনা হয়েছে, সেখানেই জান্নাত ও সুখ সাচ্ছন্দ্যের কথাও নিয়ে আসা হয়েছে। যারা দুনিয়াতে তাক্বওয়া অবলম্বন করে চলত তারা আখিরাতে সফলকাম হবে অর্থাৎ তারা চোখের পলকে পুলসিরাত পার হতে সক্ষম হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّآ اُخْفِیَ لَھُمْ مِّنْ قُرَّةِ اَعْیُنٍﺆ جَزَا۬ئًۭ بِمَا کَانُوْا یَعْمَلُوْنَ‏)‏



“কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন জুড়োনো কী কী সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদানস্বরূপ?” (সূরা সাজদাহ ৩২: ১৭)





হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন : আমি আমার সৎকর্মশীল বান্দাদের জন্য এমন জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছি যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শ্রবণ করেনি এবং মানুষের কল্পনায় যা কখনও আসেনি। (সহীহ বুখারী হা. ৪৭৭৯, সহীহ মুসলিম হা. ২৮২৪)



كَوَاعِبَ শব্দটি كاعب এর বহুবচন। শাব্দিক অর্থ হলো : পায়ের গিঁট বা টাখনু। টাখনু যেমন সর্বদা উঁচু থাকে, জান্নাতী নারীদের স্তনগুলো অনুরূপ সর্বদা উঁচু উঁচু থাকবে, কখনও ঝুলে পড়বে না যা তাদের রূপ ও সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ।



أَتْرَابًا অর্থ : সমবয়স্কা। অর্থাৎ জান্নাতীরা যে সব হুর পাবে তারা হবে সমবয়স্কা। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: জান্নাতী নারীদের বয়স হবে ৩০ বা ৩৩ বছর। (তিরমিযী হা. ২৫৪৫, হাসান) আয়িশাহ (রাঃ) বলেন : একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বাড়িতে প্রবেশ করলেন। তখন এক বৃদ্ধা আমার নিকটে বসা ছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন ইনি কে? আমি বললাম : উনি সম্পর্কে আমার খালা। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন : কোন বৃদ্ধা মহিলা জান্নাতে যাবে না। এ কথা শুনে বৃদ্ধা মহিলাটি কাঁদতে লাগলেন। আয়িশাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) -কে এ খবর জানালে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন : ঐ সময় সকল নর-নারী যুবক যুবতী হয়ে থাকবে। (তিরমিযী হা. ২৫৩৯, হাসান)



دِهَاقًا অর্থ: পরিপূর্ণ। অর্থাৎ জান্নাতে শরাবে পরিপূর্ণ পেয়ালা পরিবেশন করা হবে।



(لَغْوًا وَّلَا كِذَّابًا)



অর্থাৎ কোন অসার ও অশ্লীল কথাবার্তা সেখানে শুনবে না। বরং সেখানে থাকবে সালাম আর সালাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لَا يَسْمَعُوْنَ فِيْهَا لَغْوًا وَّلَا تَأْثِيْمًا إِلَّا قِيْلًا سَلَامًا سَلَامًا) ‏‏



“তারা শুনবে না কোন অসার অথবা পাপ বাক্য। ‘সালাম’ আর ‘সালাম’ বাণী ব্যতীত।” (সূরা ওয়াকিয়াহ ৫৬: ২৫-২৬) এ সম্পর্র্কে সূরা ওয়াকিয়াতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।



(جَزَا۬ءً مِّنْ رَّبِّكَ)



এ সব তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আমলের প্রতিদান। অতএব যারা সৎ আমল করবে তাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা আখিরাতে নেয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন। তাই আমাদের সৎ আমলের দিকে অগ্রগামী হওয়া উচিত।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. তাক্বওয়ার ফযীলত জানতে পারলাম।

২. মুত্তাকীদের জন্য জান্নাতে যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে তা জানতে পারলাম।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৩১-৩৬ নং আয়াতের তাফসীর

পরহেযগার ও পুণ্যবানদের জন্যে আল্লাহর নিকট যেসব নিয়ামত ও রহমত রয়েছে সে সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বল আলামীন বলছেন যে, এই লোকগুলো হলো সফলকাম। এদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়েছে এবং এরা জাহান্নাম হতে পরিত্রাণ লাভ করে জান্নাতে পৌঁছে গেছে।

(আরবি) বলা হয় খেজুর ইত্যাদির বাগানকে। এই পুণ্যবান ও পরহেযগার লোকগুলো উদ্ভিন্ন যৌবনা তরুণী অর্থাৎ হূর লাভ করবে, যারা হবে উঁচু ও স্ফীত বক্ষের অধিকারিণী এবং সমবয়স্কা। যেমনঃ সূরায়ে ওয়াকিআ'র তাফসীরে এর পূর্ণ বর্ণনা গত হয়েছে।

হযরত আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ নিশ্চয়ই জান্নাতীদের গায়ের) জামাগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টিরূপে প্রকাশিত হবে। তাদের উপর মেঘমালা ছেয়ে যাবে এবং তাদেরকে ডাক দিয়ে বলা হবে “হে জান্নাতবাসিগণ! তোমরা কি চাও যে, আমি তোমাদের উপর তা বর্ষণ করি?` (অতঃপর তারা যা কিছু চাইবে তা-ই তাদের উপর বর্ষিত হবে) এমন কি তাদের উপর সমবয়স্কা উদভিন্ন যৌবনা তরুণীও বর্ষিত হবে। (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

তারা পবিত্র শরাবের উপচে পড়া পেয়ালা একটির পর একটি লাভ করবে। তাতে এমন কোন নেশা হবে না যে, অশ্লীল ও অর্থহীন কথা তাদের মুখ দিয়ে বের হবে যা অন্য কেউ শুনতে পাবে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তথায় থাকবে না কোন অসার ও পাপের কথা ।” অর্থাৎ তাতে কোন অর্থহীন বাজে কথা এবং অশ্লীল ও পাপের কথা প্রকাশ পাবে না। সেটা হলো দারুস সালাম বা শান্তির ঘর। যেখানে কোন দূষণীয় বা মন্দ কথাই প্রকাশ পাবে না।

পুণ্যবানদেরকে এসব নিয়ামত তাদের সৎ কর্মের বিনিময় হিসেবে আল্লাহ তাআলা দান করবেন। এটা হলো মহান আল্লাহর অশেষ করুণা ও রহমত। আল্লাহ পাকের এই করুণা ও অনুগ্রহ সীমাহীন, ব্যাপক ও পরিপূর্ণ। আরবরা বলে থাকেঃ

(আরবি) অর্থাৎ “তিনি আমাকে ইনআম দিয়েছেন এবং পরিপূর্ণরূপেই দিয়েছেন। অনুরূপভাবে বলা হয়ঃ (আরবি) অর্থাৎ “সর্বদিক দিয়ে আল্লাহই আমার জন্যে যথেষ্ট।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।