সূরা আল-ইনসান (আদ-দাহর) (আয়াত: 1)
হরকত ছাড়া:
هل أتى على الإنسان حين من الدهر لم يكن شيئا مذكورا ﴿١﴾
হরকত সহ:
هَلْ اَتٰی عَلَی الْاِنْسَانِ حِیْنٌ مِّنَ الدَّهْرِ لَمْ یَکُنْ شَیْئًا مَّذْکُوْرًا ﴿۱﴾
উচ্চারণ: হাল আতা- ‘আলাল ইনছা-নি হীনুম মিনাদ্দাহরি লাম ইয়াকুন শাইআম মাযকূরা- ।
আল বায়ান: মানুষের উপর কি কালের এমন কোন ক্ষণ আসেনি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১. কালপ্রবাহে মানুষের উপর কি এমন এক সময় আসে নি(১) যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?(২)
তাইসীরুল ক্বুরআন: মহাকালের মধ্য হতে মানুষের উপর কি এমন একটা সময় অতিবাহিত হয়নি যখন সে উল্লেখ করার যোগ্য কোন বস্তুই ছিল না?
আহসানুল বায়ান: (১) অবশ্যই মানুষের উপর এমন এক সময় এসেছিল, যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না। [1]
মুজিবুর রহমান: কাল-প্রবাহে মানুষের উপর এক সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিলনা।
ফযলুর রহমান: মানুুষের ওপর কি এমন একটা সময় যায়নি, যখন সে কোন উল্লেখযোগ্য বস্তু ছিল না?
মুহিউদ্দিন খান: মানুষের উপর এমন কিছু সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না।
জহুরুল হক: মানুষের উপরে কি দীর্ঘ সময়ের অবকাশ অতিবাহিত হয় নি যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?
Sahih International: Has there [not] come upon man a period of time when he was not a thing [even] mentioned?
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১. কালপ্রবাহে মানুষের উপর কি এমন এক সময় আসে নি(১) যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না?(২)
তাফসীর:
(১) هل অব্যয়টি আসলে প্রশ্নবোধকরূপে ব্যবহৃত হয়। মাঝে মাঝে কোন জাজ্বল্যমান ও প্রকাশ্য বিষয়কে প্রশ্নের আকারে ব্যক্ত করা যায়, যাতে তার প্রকাশ্যতা আরও জোরদার হয়ে যায়। [ফাতহুল কাদীর] উদ্দেশ্য এই যে, যাকেই জিজ্ঞাসা করবে, সে এ উত্তরই দিবে, অপর কোন সম্ভাবনাই নেই।
(২) আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে, মানুষের উপর এমন দীর্ঘ এক সময় অতিবাহিত হয়েছে, যখন পৃথিবীতে তার নাম-নিশানা এমন কি, আলোচনা পর্যন্ত ছিল না। আয়াতে বৰ্ণিত “যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না” এর অর্থ বৰ্ণনায় কয়েকটি মত রয়েছে, এক. এখানে মানবসৃষ্টির পূর্বের অবস্থা ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ এ অন্তহীন মহাকালের মধ্যে একটি দীর্ঘ সময় তো এমন অতিবাহিত হয়েছে যখন মানব প্ৰজাতির আদৌ কোন অস্তিত্ব ছিল না। তারপর মহাকাল প্রবাহে এমন একটি সময় আসল যখন মানুষ নামের একটি প্রজাতির সূচনা করা হল। [কুরতুবী] দুই. সে একটি ধড় ছিল যার কোন নাম-নিশানা ছিল না। পরবর্তীতে রূহ এর মাধ্যমে তাকে স্মরণীয় করা হয়েছে। [বাগভী; কুরতুবী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১) অবশ্যই মানুষের উপর এমন এক সময় এসেছিল, যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না। [1]
তাফসীর:
[1] هَلْ এখানে قَدْ অর্থে ব্যবহূত। الإنسَان বলতে কেউ কেউ ‘আবুল বাশার’ অর্থাৎ, প্রথম মানুষ আদম (আঃ)-কে বুঝিয়েছেন। আর حِيْنٌ (এক সময়) বলতে রূহ ফুঁকার পূর্বের কালকে বুঝানো হয়েছে, আর তা ছিল ৪০ বছর। অধিকাংশ মুফাসসেরগণের নিকট ‘মানুষ’ শব্দটি শ্রেণীবাচক অর্থে ব্যবহার হয়েছে এবং তাঁরা حِيْنٌ (এক সময়) বলতে গর্ভধারণের সময়কে বুঝিয়েছেন। যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না। এতে আসলে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে যে, সে সুন্দর এক আকৃতি নিয়ে পৃথিবীতে আসার পর প্রতিপালকের সামনে অহংকার ও দাম্ভিকতা প্রদর্শন করে। তাকে তো নিজের অবস্থা স্মরণ রাখা উচিত যে, আমি তো সে-ই, যার কোন অস্তিত্ব ছিল না, তখন আমাকে কে চিনত?
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: নামকরণ ও গুরুত্ব :
الدهر শব্দের অর্থ : সময়, যুগ, কাল ইত্যাদি। এ সূরার প্রথম আয়াতে উল্লিখিত শব্দ থেকেই সূরার নামকরণ করা হয়েছে। প্রথম আয়াতে الإنسان (মানুষ) শব্দটি বিদ্যমান। তাই ইনসান নামেও এ সূরাকে অভিহিত করা হয়। সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ, না মদীনায় অবতীর্ণ-এ ব্যাপারে মতভেদ পাওয়া গেলেও অধিকাংশ আলেমদের মতে এটি মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন : শেষের দশ আয়াত মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। (ফাতহুল কাদীর)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমু‘আর দিন ফজরের সালাতে প্রথম রাকাতে সূরা সাজদাহ দ্বিতীয় রাকাতে অত্র সূরা পাঠ করতেন। (নাসায়ী হা. ৯৫৫, ইবনু মাযাহ হা. ৮২১, সহীহ)
সূরার শুরুতেই প্রশ্নাকারে মানুষের সৃষ্টির উৎস ও রহস্য উদঘাটন করে তার সৃষ্টির পেছনে কোন মহৎ উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে, তারপর কাফিরদের শাস্তির কথা সংক্ষিপ্তাকারে বলার পর সৎ, কৃতজ্ঞ ও সৃষ্টি জীবের প্রতি দয়ালু ব্যক্তিদের জন্য তৈরি করা জান্নাতের নেয়ামত ও তাতে তাদের সাচ্ছন্দ্যে বসবাসের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
১-৩ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আলোচ্য আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সৃষ্টির প্রাথমিক ও তার পূর্বের অবস্থা বর্ণনা করছেন। মানুষকে সৃষ্টি করার পূর্বে সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না। এ আয়াতটি মানুষের বিবেকে আরো অনেক চিন্তা-ভাবনা ও আত্মজিজ্ঞাসার জন্ম দেয়। মানুষের জন্মের উৎস, পার্থিব জীবন ও তার চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে তাকে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। এরপর আসে জন্মের পর মানুষের স্থীতি ও প্রজাতিক বিস্তৃতির প্রসংগ। এর পেছনে রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্নতর এক কাহিনী। আয়াতে حِيْنٌ مِّنَ الدَّهْرِ বলতে মায়ের গর্ভে রূহ ফুঁকে দেওয়ার পূর্বের সময়কালকে বুঝোনো হয়েছে, যে সময় বীর্য আকারে জরায়ুতে বিদ্যমান ছিল। এ সময়টা ছিল চল্লিশ দিন।
(مِنْ نُّطْفَةٍ أَمْشَاجٍ)
“আমশাজ” অর্থ : মিশ্রিত, অর্থাৎ স্বামী ও স্ত্রীর ডিম্বাণু উভয়ের সংমিশ্রণকে বুঝোনো হয়েছে। স্বামীর বীর্য স্ত্রীর ডিম্বাণুর সংমিশ্রণে চল্লিশ দিন বিদ্যমান থাকার পর আল্লাহ তা‘আলা মায়ের জরায়ুতে রূহ ফুঁকে দেন। তারপর স্তরে স্তরে পর্যায়ক্রমে সৃষ্টি করেন। অসীম শক্তিধর স্রষ্টা এভাবে মিশ্রিত বীর্য থেকে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন নিছক তামাসাচ্ছলে বা উদ্দেশ্যহীনভাবে নয় বরং তাকে পরীক্ষা করার জন্য যে, কে সৎ আমলে উত্তম। এ কারণেই তিনি মানুষকে সৃষ্টি করার পর তাকে দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তিসম্পন্ন করেছেন। তারপর তাকে ভাল ও মন্দ উভয় পথ দেখিয়ে বিবেকের স্বাধীনতা দান করেছেন। যাতে আখিরাতে আল্লাহ তা‘আলার কাছে সে কোন অভিযোগ করতে না পারে। এ সম্পর্কে সূরা মু’মিনূনে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
نَّبْتَلِيْهِ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পরীক্ষা করার জন্য, কে সৎ আমলে উত্তম। যেমন তিনি বলেন :
(الَّذِيْ خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيٰوةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ط وَهُوَ الْعَزِيْزُ الْغَفُوْرُ)
“যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে পরীক্ষা করবার জন্য কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক দিয়ে সর্বোত্তম। আর তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।” (সূরা মুলক ৬৭ : ২)
(إِنَّا هَدَيْنٰهُ السَّبِيْلَ)
অর্থাৎ মানুষ সৃষ্টি করার পর আল্লাহ তা‘আলা ভালমন্দের দুটি পথই দেখিয়ে দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَهَدَيْنٰهُ النَّجْدَيْن)
“আর আমি কি তাকে দু’টি পথ দেখাইনি?” (সূরা বালাদ ৯০ : ১০)
অনেকে বলে থাকে, আল্লাহ তা‘আলা খারাপ পথ না দেখিয়ে শুধু ভাল পথ দেখালে তো মানুষ অন্যায় কাজ করত না। হ্যাঁ, আল্লাহ তা‘আলা উভয় পথকে দেখিয়ে দিয়েছেন পরীক্ষা করার জন্য। সাথে সাথে বলে দিয়েছেন যারা ভাল পথে চলবে তাদের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে উত্তম প্রতিদান আর যারা খারাপ পথ অবলম্বন করবে তাদের পরিণাম হবে ভয়াবহ ও অত্যন্ত খারাপ।
(إِمَّا شَاكِرًا وَّإِمَّا كَفُوْرًا)
অর্থাৎ মানুষকে ভালমন্দের উভয় পথ দেখিয়ে দেওয়ার পর একশ্রেণির মানুষ আল্লাহ তা‘আলার পথে চলে আরেক শ্রেণি আল্ল্হার সাথে কুফরী করে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : প্রত্যেক ব্যক্তি সকাল করে নিজেকে বিক্রিত অবস্থায়। বিক্রি করে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় (অর্থাৎ কুফরী করে জাহান্নামে যায়) অথবা নিজেকে মুক্ত করে। (অর্থাৎ ঈমান এনে জাহান্নাম থেকে নিজেকে মুক্ত করে)। (সহীহ মুসলিম হা. ২২৩)
সুতরাং বিবেক ও মত প্রকাশ ইত্যাদির স্বাধীনতা পেয়ে যেন আল্লাহদ্রোহী কাজে লিপ্ত না হই সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখা উচিত, কারণ সব কিছুর হিসাব দিতে হবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. সূরার গুরুত্ব অবগত হলাম।
২. মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে সাধারণ একটু পানি থেকে, অতএব গর্ব অহংকারের সাথে দম্ভভরে চলার কোন কারণ নেই।
৩. আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টির পর ভালমন্দ উভয় পথ দেখিয়ে দিয়েছেন।
৪. যারা সৎপথ বেছে নিয়েছে তারা সফলকাম আর যারা সৎপথ বর্জন করেছে তারা হতভাগা।
৫. মানুষকে উভয় পথ প্রদর্শনের উদ্দেশ্য হল পরীক্ষা করা। কে ঈমানের পথে চলে আর কে তা বর্জন করে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: সহীহ্ মুসলিমের হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীস ইতিপূর্বে গত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) জুমআ’র দিন ফজরের নামাযে সূরা আলিফ-লাম-তানযীল এবং হাল আতা আলাল ইনসান পাঠ করতেন। একটি মুরসাল গারীব হাদীসে রয়েছে যে, যখন এই সূরাটি অবতীর্ণ হয় এবং রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তা পাঠ করেন তখন তাঁর নিকট একটি কালো বর্ণের সাহাবী (রাঃ) বসেছিলেন। যখন জান্নাতের গুণাবলীর বর্ণনা আসে তখন হঠাৎ তাঁর মুখ হতে একটা ভীষণ চীৎকার বের হয় এবং সাথে সাথে তাঁর দেহ হতে প্রাণ পাখী উড়ে যায়। ঐ সময় রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তাঁর সাহাবীদেরকে বলেনঃ “তোমাদের সাথী এবং তোমাদের ভাই-এর প্রাণ জান্নাতের আগ্রহে বেরিয়ে গেছে।”
১-৩ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ্ তা'আলা খবর দিতে গিয়ে বলেন যে, তিনি মানুষকে এমন অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন যে, তার নিকৃষ্টতা ও দুর্বলতার কারণে সে উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না। তিনি তাকে পুরুষ ও নারীর মিলিত শুক্রের মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন এবং বিভিন্ন অবস্থায় পরিবর্তিত করার পর তাকে বর্তমান রূপ ও আকৃতি দান করেছেন। মহান আল্লাহ্ বলেনঃ আমি তাকে পরীক্ষা করবার জন্যে শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন করেছি। যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেছেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “তোমাদেরকে পরীক্ষা করবার জন্যে যে, কে তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম?” (৬৭:২) সুতরাং তিনি তোমাদেরকে কর্ণ ও চক্ষু দান করেছেন যাতে আনুগত্য ও অবাধ্যতার মধ্যে পার্থক্য করতে পার।
মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি। অর্থাৎ অত্যন্ত স্পষ্ট ও পরিষ্কারভাবে আমার সরল সোজা পথ তোমার কাছে খুলে দিয়েছি।
যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “সামূদ সম্প্রদায়কে আমি পথের নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা অন্ধত্বকে হিদায়াতের উপর প্রাধান্য দিয়েছিল।” (৪১:১৭) আর এক জায়গায় আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “আমি তাকে দু'টি পথই দেখিয়েছি।” (৯০:১০) অর্থাৎ ভাল ও মন্দ দু'টি পথই প্রদর্শন করেছি। (আরবি)-এই আয়াতের তাফসীরে হযরত মুজাহিদ (রঃ), হযরত আবূ সালিহ্ (রঃ), হযরত যহহাক (রঃ) এবং হযরত সুদ্দী (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, পথ দেখানো দ্বারা উদ্দেশ্য হলোঃ আমি তাকে মায়ের পেট হতে বের হবার পথ দেখিয়েছি। কিন্তু এটা গারীব উক্তি। প্রথম উক্তিটিই সঠিক।
(আরবি) এখানে (আরবি) হওয়ার কারণে (আরবি) এবং (আরবি)-এর উপর (আরবি) বা যবর হয়েছে। এর (আরবি) হলো (আরবি) এর সর্বনামটি। অর্থাৎ আমি তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি এমন অবস্থায় যে সে হতভাগ্য বা ভাগ্যবান। যেমন সহীহ মুসলিমে হযরত আবূ মালিক আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “প্রত্যেক ব্যক্তি সকাল বেলায় স্বীয় নফসকে বিক্রিকারী হয়ে থাকে, হয় সে ওকে মুক্তকারী হয়, না হয় ওকে ধ্বংসকারী হয়।”
মুসনাদে আহমাদে হযরত জাবির ইবনে আবদিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। যে, নবী (সঃ) হযরত কা'ব ইবনে আজরা (রাঃ)-কে বলেনঃ “আল্লাহ তোমাকে নির্বোধদের নেতৃত্ব হতে রক্ষা করুন!” হযরত কাব (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! নির্বোধদের নেতৃত্ব কি?` উত্তরে তিনি বললেনঃ “তারা ঐ সব নেতা যারা আমার পরে নেতৃত্ব লাভ করবে। তারা না আমার সুন্নাতের উপর আমল করবে, না আমার তরীকার উপর চলবে। যারা তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে এবং উৎপীড়নমূলক কার্যে সাহায্য করবে তারা আমার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত নই। জেনে রেখো যে, তারা আমার হাউযে কাওসারের উপরও আসতে পারবে না। পক্ষান্তরে, যারা তাদের মিথ্যাকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে না এবং তাদের অত্যাচারমূলক কাজে সাহায্য সহযোগিতা করবে না তারা আমার এবং আমি তাদের। তারা আমার হাউযে কাওসারে আমার সাথে মিলিত হবে। হে কা'ব (রাঃ)! রোযা ঢাল স্বরূপ, সাদকা বা দান-খয়রাত পাপরাশিকে মিটিয়ে দেয় এবং নামায আল্লাহর নৈকট্য লাভের কারণ অথবা বলেছেনঃ মুক্তির দলীল। হে কাব (রাঃ)! (দেহের) ঐ গোশত জান্নাতে প্রবেশ করবে না যা হারাম দ্বারা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়েছে। ওটা জাহান্নামেরই যোগ্য। হে কা'ব (রাঃ)! মানুষ সকাল বেলায় নিজের নফসকে বিক্রী করে থাকে। কেউ ওকে আযাদকারী হয় এবং কেউ হয় ওকে ধ্বংসকারী।” সূরা রূমের (আরবি) আল্লাহর প্রকৃতির অনুসরণ কর, যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। (৩০:৩০) এ আয়াতের তাফসীরে হযরত জাবির (রাঃ)-এর রিওয়াইয়াতে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিম্নের উক্তিটি গত হয়েছেঃ “প্রত্যেক সন্তান ইসলামের ফিতরাত বা প্রকৃতির উপর সৃষ্ট হয়ে থাকে, শেষ পর্যন্ত তার জিহ্বা চলতে থাকে, হয় সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী হয়, না হয় অকৃতজ্ঞ হয়।”
মুসনাদে আহমাদে হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তিই (বাড়ী হতে) বের হয় তারই দরজার উপর দু’টি পতাকা থাকে, একটি থাকে ফেরেশতার হাতে এবং অপরটি থাকে শয়তানের হাতে। যদি সে এমন কাজের জন্যে বের হয়ে থাকে যাতে আল্লাহ সন্তুষ্ট, তবে ফেরেশতা তাঁর পতাকা নিয়ে তার সাথী হয়ে যান এবং তার প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত সে ফেরেশতার পতাকার নীচেই থাকে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির কাজে বের হয়, শয়তান তার পতাকা নিয়ে তার সাথে হয়ে যায় এবং তার প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত সে শয়তানের পতাকা তলেই থাকে।”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।