আল কুরআন


সূরা আল-মা‘আরিজ (আয়াত: 35)

সূরা আল-মা‘আরিজ (আয়াত: 35)



হরকত ছাড়া:

أولئك في جنات مكرمون ﴿٣٥﴾




হরকত সহ:

اُولٰٓئِکَ فِیْ جَنّٰتٍ مُّکْرَمُوْنَ ﴿ؕ۳۵﴾




উচ্চারণ: উলাইকা ফী জান্না-তিম মুকরামূন।




আল বায়ান: তারাই জান্নাতসমূহে সম্মানিত হবে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৫. তারাই সম্মানিত হবে জান্নাতসমূহে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারাই হবে জান্নাতে সম্মানিত।




আহসানুল বায়ান: (৩৫) তারা সম্মানিত হবে জান্নাতে।



মুজিবুর রহমান: তারাই সম্মানিত হবে জান্নাতে।



ফযলুর রহমান: এরাই সম্মানের সাথে জান্নাতে স্থান পাবে।



মুহিউদ্দিন খান: তারাই জান্নাতে সম্মানিত হবে।



জহুরুল হক: তারাই থাকবে জান্নাতে পরম সম্মানিত অবস্থায়।



Sahih International: They will be in gardens, honored.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩৫. তারাই সম্মানিত হবে জান্নাতসমূহে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩৫) তারা সম্মানিত হবে জান্নাতে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮-৩৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



(یَوْمَ تَکُوْنُ السَّمَا۬ئُ کَالْمُھْلِ... وَجَمَعَ فَاَوْعٰی)



এ আয়াতগুলোতে কিয়ামতের পূর্বে আকাশ-জমিন ও উভয়ের মধ্যস্থিত বস্তুর যে অবস্থা হবে তার বিবরণ এবং অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য সন্তান, স্ত্রী, ভাই এমনকি পৃথিবীর সব কিছু দিতে প্রস্তুত থাকবে কিন্তু তার বিনিময়েও শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না সে বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।



الْمُهْل অর্থ : ইবনু আব্বাস (রাঃ)-সহ প্রসিদ্ধ মুফাসসিরগণ বলেছেন :



دردي الزيت



বা তেল গলানোর পর নিচে যে সরিষার আঁশ/বস্তু (খইল) পড়ে থাকে তাই হল دردى الزيت। কিয়ামতের দিন আকাশ এরূপ হয়ে যাবে।



الْعِهْن ঘরের ভেতর ছিদ্র দিয়ে সূর্যের আলো প্রবেশ করলে আলোতে যে ধূলিকণা উড়তে দেখা যায় তাই-ই হল الْعِهْن। কিয়ামতের দিন পাহাড়সমূহ এরূপ হয়ে যাবে। حَمِيْمٌ বলা হয় অন্তরঙ্গ বন্ধুকে।



يُّبَصَّرُوْنَهُمْ



অর্থাৎ যদিও একজন অন্যজনকে প্রত্যক্ষ করতে পারবে কিন্তু সবাই নিজ চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে, কেউ কাউকে জিজ্ঞাসা করবে না।



ثُمَّ يُنْجِيْهِ অর্থাৎ দুনিয়াতে স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়-স্বজন, ধন-সম্পদ ইত্যাদি তার কত প্রিয় ছিল কিন্তু আখিরাতে এ সবের কোন মূল্যই থাকবে না। এ সব কিছূু দিয়ে হলেও সে বাঁচতে চাইবে। কিন্তু সে কখনো বাঁচতে পারবে না।



فَصِيْلَتِهِ অর্থ : গোষ্ঠি, জাতি।



لَظٰي হল জাহান্নামের একটি নাম। এ অংশের প্রখরতা খুব বেশি, ফলে চামড়া পুুড়ে শরীর থেকে খসে যাবে।



(تَدْعُوْا مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلّٰي)



অর্থাৎ জাহান্নাম তাকে ডাকবে সত্য দীন গ্রহণ করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছে বলে।



(وَجَمَعَ فَأَوْعٰي)



অর্থাৎ সম্পদ জমা করে রাখত যাকাত দিত না-এমনসব ব্যক্তিদের জন্য জাহান্নামের এরূপ শাস্তি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে এমন অবস্থা থেকে মুক্তি দান করুন। আমীন!



(اِنَّ الْاِنْسَانَ خُلِقَ ھَلُوْعًا... اُولٰ۬ئِکَ فِیْ جَنّٰتٍ مُّکْرَمُوْنَ)



এখানে মানুষের চিরাচরিত একটি স্বভাবের কথা আলোচনা করা হয়েছে। মানুষ যখন বিপদে পড়ে তখন হা-হুতাশ করে আর যখন কোন নেয়ামত পায় তথা ধন-সম্পদ বা শারীরিক সুস্থতা ইত্যাদি তখন কৃপণতা করে আল্লাহ তা‘আলার হক যথাযথ আদায় করে না, তবে যারা সৎ বান্দা তারা ব্যতীত।



রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :



্রشَرُّ مَا فِي رَجُلٍ شُحٌّ هَالِعٌ وَجُبْنٌ خَالِعٌগ্ধ



মানুষের মাঝে নিকৃষ্টতম স্বভাব হলো অত্যন্ত কৃপণতা ও চরম কাপুরুষতা। (আবূ দাঊদ : ২৫১৩, সিলসিলা সহীহাহ : ৫৬০)

পরের আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদের গুণাবলী উল্লেখ করেছেন। এ সম্পর্কে সূরা মু’মিনূনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. কিয়ামতের পূর্বে আকাশ-জমিনের ভয়াবহ অবস্থা হবে।

২. মানুষ সেদিন সব কিছুর বিনিময়ে হলেও নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করবে কিন্তু সক্ষম হবে না।

৩. জাহান্নাম যাদেরকে ডাকবে তাদের পরিচয় জানলাম।

৪. সুখ-সাচ্ছন্দ্যে আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করা এবং দুঃখ-বেদনায় ধৈর্য ধারণ করা উচিত। সুখ-শান্তি পেয়ে আল্লাহ তা‘আলাকে ভুলে গিয়ে যা ইচ্ছা তাই করা উচিত নয়।

৫. প্রকৃত মু’মিনরা সালাত ও লজ্জাস্থান হেফাজত করে ও সম্পদের হকের কথা ভুলে যায় না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৩৬-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর

মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ ঐ কাফিরদের উপর অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন যারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর যুগে বিদ্যমান ছিল, স্বয়ং তাঁকে দেখতে পাচ্ছিল এবং তিনি যে হিদায়াত নিয়ে এসেছিলেন তা তাদের সামনেই ছিল। এতদসত্ত্বেও তারা তার নিকট হতে পালিয়ে যাচ্ছিল এবং তাঁকে বিদ্রুপ করার উদ্দেশ্যে ডান ও বাম দিক হতে দলে দলে তার দিকে ছুটে আসছিল। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তাদের কি হয়েছে যে, তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় উপদেশ হতে? তারা যেন ভীত এস্ত গর্দভ- যা সিংহের সম্মুখ হতে পলায়নপর।”(৭৪:৪৯-৫১) অনুরূপভাবে এখানেও বলেনঃ এই কাফিরদের কি হলো যে, তারা ঘৃণা ভরে তোমার নিকট হতে সরে যাচ্ছে? কেন তারা ডানে বামে ছুটে চলছে? তারা বিচ্ছিন্নভাবে এদিক-ওদিক চলে যাচ্ছে এর কারণ কি? হযরত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) প্রবৃত্তির উপর আমলকারীদের সম্পর্কে এ কথাই বলেন যে, তারা আল্লাহর কিতাবের বিরুদ্ধাচরণকারী হয়ে থাকে এবং তারা পরস্পরও একে অপরের বিরোধী হয়ে থাকে। হ্যাঁ, তবে কিতাবুল্লাহর বিরোধিতায় তারা সব একমত থাকে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে আওফীক (রঃ)-এর রিওয়াইয়াতে বর্ণিত আছে যে, এর ভাবার্থ হলোঃ তারা বেপরোয়া ভাবে ডানে-বামে হয়ে তোমাকে বিদ্রুপ ও উপহাস করে। হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, অর্থ হলোঃ তারা ডানে-বামে হয়ে গিয়ে প্রশ্ন করেঃ এ লোকটি কি বলেছে? হযরত কাতাদাহ (রঃ) বলেন যে, তারা দলবদ্ধভাবে ডানে-বামে হয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর চতুর্দিকে ফিরতে থাকে। না তাদের কিতাবুল্লাহর উপর চাহিদা আছে, না রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-এর প্রতি কোন আগ্রহ আছে।

হযরত জাবির ইবনে সামরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) জনগণকে বিচ্ছিন্নভাবে দলে দলে আসতে দেখে বলেনঃ “আমার কি হলো যে, আমি তোমাদেরকে এভাবে দলে দলে আসতে দেখছি?” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম মুসলিম (রঃ), ইমাম আবূ দাউদ (রঃ), ইমাম নাসাঈ (রঃ) এবং ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তাদের প্রত্যেকে কি এই প্রত্যাশা করে যে, তাকে দাখিল করা হবে প্রাচুর্যময় জান্নাতে? না, তা হবে না। অর্থাৎ তাদের অবস্থা যখন এই যে, তারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সঃ) হতে ডানে-বামে বক্র হয়ে চলছে তখন তাদের এ চাহিদা কখনো পুরো হতে পারে না। বরং তারা জাহান্নামী দল।

এখন তারা যেটাকে অসম্ভব মনে করছে তার সর্বোত্তম প্রমাণ তাদের নিজেদেরই অবগতি ও স্বীকারুক্তি দ্বারা বর্ণনা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছেঃ আমি তাদেরকে যা হতে সৃষ্টি করেছি তা তারা জানে। তা এই যে, আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি দুর্বল পানি হতে। তাহলে তিনি কি তাদেরকে পুনর্বার সৃষ্টি করতে পারবেন না? যেমন তিনি বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “আমি কি তোমাদেরকে নিকৃষ্ট পানি হতে সৃষ্টি করিনি?” (৭৭:২০) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “সুতরাং মানুষ প্রণিধান করুক যে, তাকে কি হতে সৃষ্টি করা হয়েছে! তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি হতে। এটা নির্গত হয় মেরুদণ্ড ও পঞ্জরাস্থির মধ্য হতে। নিশ্চয়ই তিনি তার প্রত্যানয়নে ক্ষমতাবান। যেই দিন গোপন বিষয় পরীক্ষিত হবে সেই দিন তার কোন সামর্থ্য থাকবে না এবং সাহায্যকারীও না।” (৮৬:৭-১০)

এখানে মহান আল্লাহ্ বলেনঃ শপথ ঐ সত্তার যিনি যমীন ও আসমান সৃষ্টি করেছেন, পূর্ব ও পশ্চিম নির্ধারণ করেছেন এবং তারকারাজির গোপন হওয়ার ও প্রকাশিত হওয়ার স্থান নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন! ভাবার্থ হচ্ছেঃ হে কাফির সম্প্রদায়! তোমরা যা ধারণা করছো ব্যাপার তা নয় যে, হিসাব-কিতাব হবে না এবং হাশর-নশরও হবে না। এসব অবশ্যই সংঘটিত হবে। এজন্যেই কসমের পূর্বে তাদের বাতিল ধারণাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেন এবং এটাকে এমনভাবে সাব্যস্ত করেন যে, নিজের পূর্ণ শক্তির বিভিন্ন নমুনা তাদের সামনে পেশ করেন। যেমন আসমান ও যমীনের প্রাথমিক সৃষ্টি এবং এই দু'টির মধ্যে প্রাণীসমূহ, জড় পদার্থ এবং বিভিন্ন নিয়ামতের বিদ্যমানতা। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “অবশ্যই মানব সৃষ্টি অপেক্ষা আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করাই বড় ব্যাপার, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানে না।”(৪০:৫৭)।

ভাবার্থ এই যে, আল্লাহ্ তা'আলা যখন বৃহৎ হতে বৃহত্তম জিনিস সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন তখন তিনি ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতম জিনিস সৃষ্টি করতে কেন সক্ষম হবেন না? অবশ্যই তিনি সক্ষম হবেন। যেমন তিনি এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তারা কি দেখে না যে, আল্লাহ, যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং ওগুলো সৃষ্টি করতে ক্লান্ত হননি, তিনি কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম হবেন না? হ্যাঁ অবশ্যই তিনি সব কিছুরই উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।` (৪৬:৩৩)

অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি কি ওগুলোর অনুরূপ সৃষ্টি করতে সমর্থ নন? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ। তার ব্যাপার শুধু এই যে, তিনি যখন কোন কিছুর ইচ্ছা করেন তখন তিনি ওকে বলেনঃ 'হও', ফলে তা হয়ে যায়।”(৩৬:৮১-৮২)

এখানে মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি শপথ করছি উদয়াচল ও অস্তাচলের অধিপতির- নিশ্চয়ই আমি তাদের এই দেহকে, যেমন এখন এটা রয়েছে, এর চেয়েও উত্তম আকারে পরিবর্তিত করতে পূর্ণমাত্রায় ক্ষমতাবান কোন জিনিস, কোন ব্যক্তি এবং কোন কাজ আমাকে অপারগ ও অক্ষম করতে পারে না। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করতে পারবো না? বস্তুতঃ আমি তার অঙ্গুলীর অগ্রভাগ পর্যন্ত পূনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম।” (৭৫:৩-৪) আরো বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “আমি তোমাদের জন্যে মৃত্যু নির্ধারিত করেছি এবং আমি অক্ষম নই তোমার স্থলে তোমাদের সদৃশ আনয়ন করতে এবং তোমাদেরকে এমন এক আকৃতি দান করতে যা তোমরা জান না।” (৫৬:৬০-৬১)।

সুতরাং (আরবি)-এর একটি ভাবার্থ তো এটাই যা উপরে বর্ণিত হলো। আর দ্বিতীয় ভাবার্থ, যা ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন তা হলোঃ নিশ্চয়ই আমি সক্ষম তাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর মানব গোষ্ঠীকে তাদের স্থলবর্তী করতে, যারা হবে আমার পূর্ণ অনুগত, যারা আমার অবধাচরণ করবে না। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “যদি তোমরা বিমুখ হও, তবে তিনি অন্য জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন; তারা তোমাদের মত হবে না।”(৪৭:৩৮) তবে প্রথম ভাবার্থটিই বেশী প্রকাশমান। কেননা এর পরবর্তী আয়াতগুলোতে এ লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে। এসব ব্যাপারে একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।

এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেনঃ হে নবী (সঃ) ! তুমি তাদেরকে বাক-বিতণ্ডা ও ক্রীড়া-কৌতুকে মত্ত থাকতে দাও, যে দিবস সম্পর্কে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল, তার সম্মুখীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। সেদিন তারা কবর হতে বের হবে দ্রুত বেগে, মনে হবে যে, তারা কোন একটি লক্ষ্যস্থলের দিকে ধাবিত হচ্ছে অবনত নেত্রে। হীনতা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। এটাই সেই দিন, যার বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল। এটা হলো দুনিয়ায় আল্লাহর আনুগত্য হতে সরে পড়া ও ঔদ্ধত্য প্রকাশ করার ফল। আর এটা হলো ঐ দিন যা সংঘটিত হওয়াকে অসম্ভব মনে করা হচ্ছে এবং নবী (সঃ)-কে, শরীয়তকে ও আল্লাহর কালামকে তুচ্ছ জ্ঞান করে উপহাসের ছলে বলা হচ্ছেঃ কিয়ামত কেন সংঘটিত হচ্ছে না? আর কেনই বা আমাদের উপর শাস্তি আপতিত হয় না?





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।