আল কুরআন


সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 4)

সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 4)



হরকত ছাড়া:

وما تأتيهم من آية من آيات ربهم إلا كانوا عنها معرضين ﴿٤﴾




হরকত সহ:

وَ مَا تَاْتِیْهِمْ مِّنْ اٰیَۃٍ مِّنْ اٰیٰتِ رَبِّهِمْ اِلَّا کَانُوْا عَنْهَا مُعْرِضِیْنَ ﴿۴﴾




উচ্চারণ: ওয়ামা-তা’তীহিম মিন আ-য়াতিম মিন আ-ইয়া-তি রাব্বিহিম ইল্লা-কা-নূ‘আনহা-মু‘রিদীন।




আল বায়ান: আর তাদের কাছে তাদের রবের আয়াতসমূহের কোন আয়াত আসলেই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪. আর তাদের রব-এর আয়াতসমূহের এমন কোন আয়াত তাদের কাছে উপস্থিত হয় না যা থেকে তারা মুখ না ফেরায়।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তাদের রব্বের নিদর্শনাবলী হতে এমন কোন নিদর্শন তাদের কাছে আসে না যা থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় না।




আহসানুল বায়ান: (৪) তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীর মধ্যে এমন কোন নিদর্শন তাদের নিকট উপস্থিত হয় না, যা থেকে তারা মুখ ফেরায় না।



মুজিবুর রহমান: আর তাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, তাদের নিকট তাদের রবের নিদর্শনসমূহ হতে যে কোন নিদর্শনই আসুক না কেন, তা হতেই তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।



ফযলুর রহমান: তাদের (অবিশ্বাসীদের) কাছে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন এলেই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।



মুহিউদ্দিন খান: তাদের কাছে তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী থেকে কোন নিদর্শন আসেনি; যার প্রতি তারা বিমুখ হয় না।



জহুরুল হক: আর তাদের কাছে তাদের প্রভুর নির্দেশাবলীর মধ্যে থেকে এমন কোনো নির্দেশ আসে না যা থেকে তারা ফেরতগামী না হয়।



Sahih International: And no sign comes to them from the signs of their Lord except that they turn away therefrom.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪. আর তাদের রব-এর আয়াতসমূহের এমন কোন আয়াত তাদের কাছে উপস্থিত হয় না যা থেকে তারা মুখ না ফেরায়।(১)


তাফসীর:

(১) এ আয়াতে অমনোযোগী মানুষের হঠকারিতা ও সত্যবিরোধী জেদের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, তাদের কাছে আল্লাহর নিদর্শনাবলী থাকার পাশাপাশি নবী-রাসূলগণ তাদের কাছে আল্লাহ্ তা'আলার একত্ববাদের সুস্পষ্ট যুক্তি-প্রমাণ ও নিদর্শন নিয়ে এসেছেন এবং তা তাদের কাছে স্পষ্টও হয়েছে। তা সত্ত্বেও অবিশ্বাসীরা এ কর্মপন্থা অবলম্বন করে রেখেছে যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের হেদায়াতের জন্য যে কোন নিদর্শন প্রেরণ করা হলে, তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়- এ সম্পর্কে মোটেই চিন্তা-ভাবনা করে না। [মুয়াসসার]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪) তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীর মধ্যে এমন কোন নিদর্শন তাদের নিকট উপস্থিত হয় না, যা থেকে তারা মুখ ফেরায় না।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪-৬ নং আয়াতের তাফসীর:



اٰيَةٌ আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য এমন নিদর্শন ও দলীল যা আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদ, রাসূলের প্রতি ঈমান ও পুনরুত্থানের প্রতি প্রমাণ বহন করে। একশত বছরকে قَرْنٍ ‘র্কন’ বা এক শতাব্দি বলা হয়। অর্থাৎ পূর্ববর্তী শতাব্দীর মানুষ। مِّدْرَارً মুষলধারে বৃষ্টি হওয়াকে মিদরার বলা হয়।



এ আয়াতগুলোতে একশ্রেণির মানুষের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে, যাদের কাছে সত্যের নিদর্শন ও প্রমাণ আসার পরে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই সাথে তাদের পূর্ববর্তী সত্য বর্জনকারী জাতির ধ্বংসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।



তারা হল কাফির-মুশরিক, যুগে যুগে নাবী-রাসূলগণ যে সত্যের দাওয়াত নিয়ে এসেছেন তারা সে দাওয়াত বর্জন করে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, তোমাদের পূর্বে অনেক জাতিকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছিলাম এবং নেয়ামতরাজি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। কিন্তু তাদের অপরাধের কারণে তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি। অতএব তাদের থেকে তোমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. পূর্ববর্তী অপরাধীদের শাস্তি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

২. আল্লাহ তা‘আলা যাদেরকে শাস্তি দিয়েছেন তারা সবাই চরমভাবে সীমালংঘন করেছিল।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪-৬ নং আয়াতের তাফসীর:

মুশরিক ও কাফিরদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, যখনই তাদের কাছে আল্লাহর কোন আয়াত আসে অর্থাৎ কোন মু'জিযা বা আল্লাহ তাআলার একত্ত্বের উপর কোন স্পষ্ট দলীল অথবা রাসূল (সঃ)-এর সত্যতার কোন নিদর্শন এসে পড়ে তখন তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং ওটাকে মোটেই গ্রাহ্য করে না। আর যখন তাদের কাছে সত্য কথা এসে যায় তখন। তারা তা অস্বীকার করতে শুরু করে। এর পরিণাম তারা সতুরই জানতে পারবে। এটা তাদের জন্যে কঠিন হুমকি স্বরূপ। কেননা, তারা সত্যকে মিথ্যা জেনেছে। সুতরাং এখন এই মিথ্যা প্রতিপন্ন করার পরিণাম তাদেরকে অবশ্যই দেখতে হবে। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করছেন যে, তাদের পূর্ববর্তী লোকেরা, যারা তাদের চেয়ে বেশী শক্তিশালী ছিল এবং শাসন ক্ষমতাও লাভ করেছিল, আর সংখ্যার দিক দিয়েও তারা অধিক ছিল, তাদেরকেও তিনি শাস্তি থেকে রেহাই দেননি। এটা থেকে তাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত যে, ঐরূপ শাস্তি তাদের উপরও এসে যেতে পারে। তাই আল্লাহ পাক বলেনঃ তারা কি দেখেনি যে, আমি তাদের পূর্বে বহু কওমকে ধ্বংস করে দিয়েছি? অথচ তারা দুনিয়ায় বিরাট শক্তির অধিকারী ছিল! তাদের মত ধন-দৌলত, সন্তান-সন্ততি এবং শান-শওকত তোমরা লাভ করতে পারনি। আমি তাদের উপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করতাম। তারা দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হয়নি। তাদেরকে আমি বাগ-বাগিচা, ঝরণা এবং নদ-নদী প্রদান করেছিলাম। এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য ছিল তাদেরকে ঢিল দিয়ে রাখা। অতঃপর তাদের পাপের কারণে আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি এবং তাদের স্থলে অন্য কওমকে এনে বসিয়েছি। পূর্ববর্তী লোকেরা তো তাদের কর্মফল হিসেবে ধ্বংস হয়ে যায়! তাদের পরবর্তী লোকেরাও কিন্তু তাদের মতই আমল করে, ফলে তাদের মত তারাও হালোক হয়ে যায়। অতএব, হে লোক সকল! তোমরাও ভয় কর, নতুবা তোমাদের পরিণতিও তাদের মতই হবে। তোমাদেরকে ধ্বংস করা তাদের তুলনায় আল্লাহর কাছে মোটেই বড় কাজ নয়। তোমরা যে রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছো তিনি। তো তাদের রাসূল অপেক্ষা বেশী মর্যাদার অধিকারী। সুতরাং তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য স্বীকার না কর তবে তোমরা তাদের চেয়ে বেশী শাস্তির যোগ্য হয়ে যাবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।