সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 147)
হরকত ছাড়া:
فإن كذبوك فقل ربكم ذو رحمة واسعة ولا يرد بأسه عن القوم المجرمين ﴿١٤٧﴾
হরকত সহ:
فَاِنْ کَذَّبُوْکَ فَقُلْ رَّبُّکُمْ ذُوْ رَحْمَۃٍ وَّاسِعَۃٍ ۚ وَ لَا یُرَدُّ بَاْسُهٗ عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِیْنَ ﴿۱۴۷﴾
উচ্চারণ: ফাইন কাযযাবূকা ফাকুর রাব্বুকুম যূরাহমাতিওঁ ওয়া-ছি‘আতিওঁ ওয়ালা-ইউরাদ্দুবা’ছুহূ ‘আনিল কাওমিল মুজ রিমীন।
আল বায়ান: অতঃপর যদি তারা তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে তুমি বল, তোমাদের রব সর্বব্যাপী দয়ার অধিকারী। আর তার আযাব অপরাধী কওম থেকে ফেরানো হয় না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৪৭. অতঃপর যদি তারা আপনার উপর মিথ্যারোপ করে, তবে বলুন, ‘তোমাদের রব সর্বব্যাপী দয়ার মালিক এবং অপরাধী সম্প্রদায়ের উপর থেকে তার শাস্তি রদ করা হয় না।
তাইসীরুল ক্বুরআন: অতঃপর যদি তারা তোমাকে মিথ্যে মনে করে তবে তাদেরকে বল, তোমাদের প্রতিপালক প্রশস্ত দয়ার মালিক, (কিন্তু তাওবা না করে অপরাধীই থেকে গেলে) তবে অপরাধী সম্প্রদায়ের উপর হতে তাঁর শাস্তি রদ হয় না।
আহসানুল বায়ান: (১৪৭) তবুও যদি তারা তোমাকে মিথ্যাজ্ঞান করে তাহলে বল, ‘তোমাদের প্রতিপালক ব্যাপক করুণাময়।[1] আর অপরাধী সম্প্রদায়ের উপর হতে তাঁর শাস্তি রদ হয় না।’[2]
মুজিবুর রহমান: সুতরাং এ সব বিষয়ে যদি তারা তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করে তাহলে তুমি বলে দাওঃ তোমাদের রাব্ব খুবই করুণাময়, আর অপরাধী সম্প্রদায় হতে তাঁর শাস্তির বিধান কখনই প্রত্যাহার করা হবেনা।
ফযলুর রহমান: অতঃপর তারা যদি তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে তাহলে তুমি বলবে, “তোমাদের প্রভু অসীম দয়ার মালিক এবং অপরাধীদের থেকে তাঁর শাস্তি ফিরিয়ে নেয়া হয় না।”
মুহিউদ্দিন খান: যদি তারা আপনাকে মিথ্যবাদী বলে, তবে বলে দিনঃ তোমার প্রতিপালক সুপ্রশস্ত করুণার মালিক। তাঁর শাস্তি অপরাধীদের উপর থেকে টলবে না।
জহুরুল হক: কাজেই তারা যদি তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে তবে বলো -- "তোমাদের প্রভু সর্বব্যাপী করুণার মালিক, কিন্ত তাঁর শাস্তি প্রতিহত হবে না অপরাধী সম্প্রদায়ের থেকে।"
Sahih International: So if they deny you, [O Muhammad], say, "Your Lord is the possessor of vast mercy; but His punishment cannot be repelled from the people who are criminals."
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৪৭. অতঃপর যদি তারা আপনার উপর মিথ্যারোপ করে, তবে বলুন, ‘তোমাদের রব সর্বব্যাপী দয়ার মালিক এবং অপরাধী সম্প্রদায়ের উপর থেকে তার শাস্তি রদ করা হয় না।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৪৭) তবুও যদি তারা তোমাকে মিথ্যাজ্ঞান করে তাহলে বল, ‘তোমাদের প্রতিপালক ব্যাপক করুণাময়।[1] আর অপরাধী সম্প্রদায়ের উপর হতে তাঁর শাস্তি রদ হয় না।’[2]
তাফসীর:
[1] এই কারণেই মিথ্যাজ্ঞান সত্ত্বেও শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে তিনি তাড়াহুড়া করেন না।
[2] অর্থাৎ, অবকাশ দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, আল্লাহর শাস্তি থেকে সব সময়ের জন্য সুরক্ষিত থাকবে। তিনি যখনই শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন তা কেউ রোধ করতে পারবে না।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৪৬-১৪৭ নং আয়াতের তাফসীর:
ذِيْ ظُفُرٍ ‘নখবিশিষ্ট জীব’বলতে যে প্রাণীর নখ পৃথক নয়, বরং এক সাথে মিশে থাকে। যেমন উট। الْحَوَايَآ ‘নাড়ি-ভুঁড়ির চর্বি’ যে চর্বি নাড়িভুঁড়ির সাথে মিশে থাকে।
আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদের জুলুমের কারণে যে সকল প্রাণী ও বস্তু খাওয়া হারাম করেছিলেন তার বর্ণনা দিচ্ছেন। সূরা নিসার ১৬০ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَبِظُلْمٍ مِّنَ الَّذِيْنَ هَادُوْا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبٰتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِيْلِ اللّٰهِ كَثِيْرًا)
“ভাল ভাল যা ইয়াহূদীদের জন্য বৈধ ছিল আমি তা তাদের জন্য অবৈধ করেছি তাদের সীমালঙ্ঘন এবং আল্লাহর পথে অনেককে বাধা দেয়ার কারণে।”
তাদের ওপর হারামকৃত প্রাণীর অন্যতম হল: ذو ظفر অর্থাৎ নখবিশিষ্ট পশু। নখবিশিষ্ট পশু বলতে এমন প্রাণী যার আঙ্গুলগুলো ফাঁক ফাঁক নয়। যেমন: উট, উটপাখি, হাঁস ইত্যাদি। জুলুমের কারণে এসব হারাম ছিল। কেবল সেসব প্রাণী বৈধ ছিল যাদের পায়ের ক্ষুর বা আঙ্গুল ফাঁক ফাঁক হত। (আয়সারুত তাফাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)
অনুরূপভাবে গরু-ছাগলের চর্বিও তাদের জন্য হারাম ছিল। তবে যে চর্বি গরু অথবা ছাগলের পিঠে হয় কিংবা নাড়ীভুড়ির সাথে মিশে থাকে অথবা হাড়ের সাথে মিশে থাকে তা হালাল ছিল।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
لَعَنَ اللّٰهُ الْيَهُوْدَ حُرِّمَتْ عَلَيْهِمُ الشُّحُوْمُ فَجَمَّلُوْهَا فَبَاعُوْهَا
ইয়াহূদীদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার লা‘নত, কারণ তাদের ওপর চর্বি হরাম করা হয়েছিল। কিন্তু (নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে) চর্বি রিফাইন করত অতঃপর বিক্রি করত। (সহীহ বুখারী হা: ৩৪৬০, সহীহ মুসলিম হা: ১৫৮২)
অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ حُرِّمَتْ عَلَيْهِمْ الشُّحُومُ فَبَاعُوهَا وَأَكَلُوْا أَثْمَانَهَا
ইয়াহূদীদেরকে আল্লাহ তা‘আলা ধ্বংস করুক। তাদের ওপর চর্বি হারাম করা হয়েছিল। কিন্তু (নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে) তা বিক্রি করত এবং তার মূল্য ভোগ করত। (সহীহ বুখারী হা: ২২২৪)
পরের আয়াতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমার দুশমনদের বলে দাও: আল্লাহ তা‘আলা যেমন দয়ালু তেমনি পাপিষ্ঠদের শাস্তি দানে কঠোর। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَإِنَّ رَبَّكَ لَشَدِيْدُ الْعِقَابِ)
“তোমার প্রতিপালক শাস্তি দানে তো কঠোর।”(সূরা রা‘দ ১৩:৬)
نَبِّئْ عِبَادِيْٓ أَنِّيْٓ أَنَا الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ - وَأَنَّ عَذَابِيْ هُوَ الْعَذَابُ الْأَلِيْمُ
“আমার বান্দাদেরকে বলে দাও যে, আমি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু এবং আমার শাস্তি- সে অতি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি!” (সূরা হিজর ১৫:৪৯-৫০)
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. ইয়াহূদীদের জুলুমের কারণে তাদের ওপর শাস্তিস্বরূপ এসব বিধান দেয়া হয়েছিল।
২. আল্লাহ তা‘আলা যেমন দয়ালু তেমন শাস্তি দানে কঠোর, সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার দয়ার আশা রাখতে হবে এবং আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির কথাও ভাবতে হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তোমার বিরুদ্ধবাদী দল ইয়াহূদী এবং মুশরিকরা যদি তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে তাদেরকে বলে দাও তোমাদের প্রভু বড়ই করুণাময়! একথা বলে তাদেরকে উৎসাহিত করা হচ্ছে যে, তারাও যেন তার সুপ্রশস্ত ও ব্যাপক করুণা যা করে, তাহলে রাসূল (সঃ)-এর অনুসরণের তাদেরকে তাওফীক প্রদান করা হবে। কেননা, যদি তিনি অনুগ্রহ না করেন তবে পাপী ও অপরাধীদের থেকে আল্লাহর শাস্তি কেউই টলাতে পারবে না। এখানে আগ্রহ উৎপাদন ও ভয় প্রদর্শন উভয়ই হচ্ছে। ভাবার্থ হচ্ছে-তোমরা রাসূল (সঃ)-এর বিরুদ্ধাচরণ কর না, নতুবা তার শাস্তিতে পাকড়াও হয়ে যাবে। সব জায়গাতেই আল্লাহ তা'আলা আগ্রহ উৎপাদন ও ভয় প্রদর্শন এক সাথেই এনেছেন। যেমন এই সূরার শেষে রয়েছে- “আল্লাহ সত্বর শাস্তি প্রদানকারী এবং ক্ষমাশীল।” অর্থাৎ তিনি লোকদের পাপরাশি ক্ষমাকারী আবার তাদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদানকারীও বটে। অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ “হে নবী (সঃ)! আমার বান্দাদেরকে তুমি জানিয়ে দাও-আমি ক্ষমাশীল ও দয়ালু আর আমার শাস্তিও হচ্ছে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।” অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ “তিনি পাপ মার্জনাকারী, তাওবা কবুলকারী এবং কঠোর শাস্তি প্রদানকারী।” আল্লাহ তা'আলা আর এক জায়গায় বলেনঃ “নিশ্চয়ই তোমার প্রভুর পাকড়াও অত্যন্ত কঠোর। তিনিই প্রথমবার সৃষ্টি করেন এবং পুনর্বারও সৃষ্টি করবেন। আর তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল, অত্যন্ত স্নেহ পরায়ণ।` এ সম্পর্কীয় বহু আয়াত রয়েছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।