সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 134)
হরকত ছাড়া:
إن ما توعدون لآت وما أنتم بمعجزين ﴿١٣٤﴾
হরকত সহ:
اِنَّ مَا تُوْعَدُوْنَ لَاٰتٍ ۙ وَّ مَاۤ اَنْتُمْ بِمُعْجِزِیْنَ ﴿۱۳۴﴾
উচ্চারণ: ইন্নামা-তূ‘আদূ না লাআ-তিওঁ ওয়া মাআনতুম বিমু‘জিযীন।
আল বায়ান: নিশ্চয় তোমাদেরকে যে ওয়াদা দেয়া হচ্ছে, তা অবশ্যই আসবে এবং (এ ব্যাপারে তাঁকে) তোমরা অক্ষম করতে পারবে না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৩৪. নিশ্চয় তোমাদের সাথে যা ওয়াদা করা হচ্ছে তা অবশ্যই আসবে এবং তোমরা তা ব্যর্থ করতে পারবে না।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: যা ঘটবে বলে তোমাদেরকে ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা ঘটবেই, তা ব্যর্থ করে দেয়ার ক্ষমতা তোমাদের নেই।
আহসানুল বায়ান: (১৩৪) তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে, তোমরা তা ব্যর্থ করতে পারবে না। [1]
মুজিবুর রহমান: তোমাদের নিকট যে বিষয় সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা অবশ্যম্ভাবী, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম ও দুর্বল করতে পারবেনা।
ফযলুর রহমান: তোমাদেরকে যা ওয়াদা করা হয়েছে তা অবশ্যই আসবে এবং তোমরা (তা) ব্যর্থ করতে পারবে না।
মুহিউদ্দিন খান: যে বিষয়ের ওয়াদা তোমাদের সাথে করা হয়, তা অবশ্যই আগমন করবে এবং তোমরা অক্ষম করতে পারবে না।
জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ তোমাদের কাছে যা ওয়াদা করা হয়েছে তা অবশ্যই ঘটবে, আর তোমরা এড়িয়ে যেতে পারবে না।
Sahih International: Indeed, what you are promised is coming, and you will not cause failure [to Allah].
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৩৪. নিশ্চয় তোমাদের সাথে যা ওয়াদা করা হচ্ছে তা অবশ্যই আসবে এবং তোমরা তা ব্যর্থ করতে পারবে না।(১)
তাফসীর:
(১) এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলার অমুখাপেক্ষী হওয়া, করুণাময় হওয়া এবং সর্বশক্তির অধিকরী হওয়ার কথা উল্লেখ করার পর অবাধ্য ও নির্দেশ অমান্যকারীদেরকে হুশিয়ার করা হয়েছে যে, আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে যে শাস্তির ভয় প্রদর্শন করেছেন, তা অবশ্যই আগমণ করবে এবং তোমরা সব একত্রিত হয়েও আল্লাহর সে আযাব প্রতিরোধ করতে পারবে না।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৩৪) তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে, তোমরা তা ব্যর্থ করতে পারবে না। [1]
তাফসীর:
[1] এ থেকে বুঝানো হয়েছে কিয়ামতকে। আর ‘তোমরা তা ব্যর্থ করতে পারবে না’ কথার অর্থ হল, তিনি তোমাদেরকে পুনরায় জীবিত করার ক্ষমতা রাখেন। তাতে তোমরা যদি মাটিতে মিশে ধূলিকণায় পরিণত হয়ে যাও তবুও।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১২৮-১৩৫ নং আয়াতের তাফসীর:
যারা মানুষকে ভুল পথে নিয়ে যায়, সে মানুষ হোক আর জিন হোক তাদেরকে হুশিয়ার করে দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন- সকলকে তিনি তাঁর কাছে হাজির করবেন এবং বলবেন-
(قَدِ اسْتَكْثَرْتُمْ مِّنَ الْإِنْسِ)
‘তোমরা তো অনেক লোককে তোমাদের অনুগামী (পথভ্রষ্ট) করেছিলে; অর্থাৎ অনেক মানুষকে নিজেদের আনুগত্যে নিয়ে এসেছ। তারা তোমাদের ইবাদত করেছে, তোমাদের কাছে আশ্রয় চেয়েছে, তোমাদের আনুগত্য করেছে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(اَلَمْ اَعْھَدْ اِلَیْکُمْ یٰبَنِیْٓ اٰدَمَ اَنْ لَّا تَعْبُدُوا الشَّیْطٰنَﺆ اِنَّھ۫ لَکُمْ عَدُوٌّ مُّبِیْنٌﮋﺫ وَّاَنِ اعْبُدُوْنِیْﺛ ھٰذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِیْمٌﮌ وَلَقَدْ اَضَلَّ مِنْکُمْ جِبِلًّا کَثِیْرًاﺚ اَفَلَمْ تَکُوْنُوْا تَعْقِلُوْنَﮍ)
“আমি কি তোমাদেরকে নির্দেশ দেইনি হে বানী আদম! তোমরা শয়তানের ইবাদত কর না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্র“। আমারই ইবাদত কর, এটাই সরল-সঠিক পথ। আর সে (শয়তান) তো তোমাদের বহু লোককে পথভ্রষ্ট করেছে তবুও কি তোমরা বুঝবে না।”(সূরা ইয়াসীন ৩৬:৬০-৬২)
যে সব মানুষ জিন নামক শয়তানের ইবাদত করত তারা বলত: আমরা একে অপরের কাছ থেকে উপকৃত হয়েছি। এর দু’টি অর্থ হতে পারে-
১. মানুষের কাছ থেকে জিনদের উপকারিতা অর্জন করা হল: তাদেরকে নিজেদের অনুসারী বানিয়ে তৃপ্তি লাভ করা। আর জিনদের থেকে মানুষের উপকারিতা অর্জন করা হল: শয়তানের পাপকর্মসমূহকে তাদের জন্য সুন্দর আকারে পেশ করা।
২. মানুষ সেসব খবরকে বিশ্বাস করত শয়তান ও জিনদের পক্ষ হতে যা ভবিষ্যতবাণী হিসাবে প্রচার করা হত।
(أَجَلَنَا الَّذِيْٓ أَجَّلْتَ لَنَا)
‘তুমি আমাদের জন্য যে সময় নির্ধারিত করেছিলে এখন আমরা তাতে উপনীত হয়েছি।’অর্থাৎ কিয়ামত সংঘটিত হয়ে গেছে যা আমরা মানতাম না। এর উত্তরে আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: এখন জাহান্নামই হবে তোমাদের চিরন্তন ঠিকানা।
(نُوَلِّيْ بَعْضَ الظّٰلِمِيْنَ بَعْضًا)
‘আমি জালিমদের একদলকে অন্যদলের বন্ধু করে থাকি।’কাতাদাহ (রহঃ) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন: আল্লাহ তা‘আলা এমন লোকেদেরকে একে অপরের বন্ধু বানিয়ে দেন যাদের আমল একই হয়ে থাকে। যেমন মু’মিন মু’মিনের বন্ধু, যেখানেই থাকুক ও যেভাবেই থাকুক। অনুরূপ কাফির কাফিরের বন্ধু, যেখানেই থাকুক ও যেভাবেই থাকুক। সুতরাং ঈমান আশা-আকাক্সক্ষা ও বাহ্যিক চাকচিক্যের নাম নয়। (তাফসীর তাবারী. ১২/পৃঃ ১১৯, হা: ১৩৮৯৩) বরং অন্তরে বিশ্বাস, কাজে বাস্তবায়ন ও যারা ঈমান ভালবাসে তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা ও যারা ঈমান অপছন্দ করে তাদের সাথে শত্র“তা পোষণ করার নাম।
(أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنْكُمْ)
‘তোমাদের মধ্য হতে কি রাসূলগণ তোমাদের কাছে আসেনি’অর্থাৎ কাফির জিন ও মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন এ কথা জিজ্ঞেস করবেন। আল্লাহ তা‘আলা তো সবকিছু জানেন, তারপরেও জিজ্ঞেস করবেন; কারণ হচ্ছে তাদের থেকে স্বীকৃতি নেয়া। তাই তারা স্বীকৃতি দিয়ে বলবে:
(شَهِدْنَا عَلٰٓي أَنْفُسِنَا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيٰوةُ الدُّنْيَا وَشَهِدُوْا عَلٰٓي أَنْفُسِهِمْ أَنَّهُمْ كَانُوْا كٰفِرِيْنَ)
‘‘আমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলাম।’বস্তুত পার্থিব জীবন তাদেরকে প্রতারিত করেছিল, আর তারা নিজেদের বিরুদ্ধে এ সাক্ষ্যও দেবে যে, তারা কাফির ছিল।”(সূরা আন‘আম ৬:১৩০)
এ কথা সর্বজনবিদিত যে, রাসূলগণ কেবল মানুষের মধ্য হতে আগমন করেছেন, জিনদের মধ্য হতে নয়। এ ব্যাপারে কুরআনে অসংখ্য আয়াত রয়েছে। এসবের অন্যতম আয়াত হল:
(وَمَآ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًا نُّوْحِيْٓ إِلَيْهِمْ مِّنْ أَهْلِ الْقُرٰي)
“তোমার পূর্বেও জনপদবাসীর মধ্য হতে পুরুষগণকেই প্রেরণ করেছিলাম, যাদের নিকট ওয়াহী পাঠাতাম। (সূরা ইউসুফ ১২:১০৯)
ইবরাহীম (রাঃ) সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَيَعْقُوْبَ وَجَعَلْنَا فِيْ ذُرِّيَّتِهِ النُّبُوَّةَ وَالْكِتٰبَ)
“তার বংশধরদের জন্য স্থির করলাম নবুওয়াত ও কিতাব।”(সূরা আনকাবুত ২৯:২৭)
তবে হ্যাঁ, জিনদের থেকে ভীতি প্রদর্শনকারী রয়েছে যারা নাবী রাসূলদের থেকে শিখে স্বজাতিকে ভীতি প্রদর্শন করত। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَإِذْ صَرَفْنَآ إِلَيْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُوْنَ الْقُرْاٰنَ ج فَلَمَّا حَضَرُوْهُ قَالُوْآ أَنْصِتُوْا ج فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلٰي قَوْمِهِمْ مُّنْذِرِيْنَ)
“ (হে রাসূল! এ ঘটনাটাও উল্লেখ করার মত যে) আমি একদল জিনকে তোমার দিকে নিয়ে এসেছিলাম, যাতে তারা কুরআন শুনে। যখন ওরা ঐ জায়গায় পৌঁছল (যেখানে তুমি কুরআন তেলাওয়াত করছিলে) তখন একে অপরকে বলেছিল, তোমরা চুপ করে শোন। তারপর যখন কুরআন পড়া হয়ে গেল তখন তারা নিজ কাওমের নিকট সতর্ককারী হয়ে ফিরে গেল।”(সূরা আহকাফ ৪৬:২৯)
নাবী ও রাসূল প্রেরণের উদ্দেশ্য এই যে, কোন জাতি জুলুম করল আর সে সম্পর্কে অবগত না করেই ধ্বংস করেন এমনটি যাতে না হয় এবং যাতে কিয়ামতের দিন কেউ ওযর পেশ করতে না পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِيْنَ حَتّٰي نَبْعَثَ رَسُوْلًا)
“আমি রাসূল না পাঠান পর্যন্ত কাউকেও শাস্তি দেই না।”(সূরা ইসরা ১৭:১৫)
অন্যত্র তিনি বলেন:
(رُسُلاً مُّبَشِّرِيْنَ وَمُنْذِرِيْنَ لِئَلَّا يَكُوْنَ لِلنَّاسِ عَلَي اللّٰهِ حُجَّةٌۭ بَعْدَ الرُّسُلِ ط وَكَانَ اللّٰهُ عَزِيْزًا حَكِيْمًا)
“সুসংবাদদাতা ও সাবধানকারী রাসূল প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূল আসার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোন অভিযোগ না থাকে। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।”(সূরা নিসা ৩:১৬৫)
তারপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সকল মাখলুক তার মুখাপেক্ষী, তিনি দয়াময়। তাঁর ইচ্ছায় সবকিছু হয়। তিনি ইচ্ছা করলে দুনিয়ায় যারা রয়েছে এদেরকে ধ্বংস করে নতুন জাতি নিয়ে আসতে সক্ষম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(إِنْ يَّشَأْ يُذْهِبْكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ وَيَأْتِ بِاٰخَرِيْنَ ط وَكَانَ اللّٰهُ عَلٰي ذٰلِكَ قَدِيْرًا)
“হে মানুষ! তিনি (আল্লাহ) ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে অপসারিত করে অপরকে আনতে পারেন; আল্লাহ এটা করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।”(সূরা নিসা ৩:১৩৩)
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَاللّٰهُ الْغَنِيُّ وَأَنْتُمُ الْفُقَرَا۬ءُ ج وَإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ لا ثُمَّ لَا يَكُوْنُوْآ أَمْثَالَكُمْ)
“আল্লাহ অভাবমুক্ত, তোমরাই অভাবগ্রস্ত। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে রাখ তাহলে আল্লাহ তোমাদের বদলে অন্য কাওমকে নিয়ে আসবেন। আর তারা তোমাদের মত হবে না।”(সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:৩৮)
তোমাদেরকে যে ওয়াদা দেয়া হয়েছে অর্থাৎ কিয়ামত অবশ্যই হবে এবং তোমাদের পুনরুত্থান ঘটবেই। এতে তোমরা আল্লাহ তা‘আলাকে অপারগ করতে পারবে না।
(اعْمَلُوْا عَلٰي مَكَانَتِكُمْ)
‘তোমরা যেখানে যা করছ, করতে থাক; অর্থাৎ এটা কুফরী ও অবাধ্যতার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার এখতিয়ার বা অনুমতি নয় বরং এ হল কঠোর ধমক যা পরের শব্দ থেকে স্পষ্ট হয়। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَقُلْ لِّلَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ اعْمَلُوْا عَلٰي مَكَانَتِكُمْ ط إِنَّا عٰمِلُوْنَ - وَانْتَظِرُوْا ج إِنَّا مُنْتَظِرُوْنَ)
“যারা ঈমান আনে না তাদেরকে বল ‘তোমরা স্ব স্ব অবস্থানে কাজ করতে থাক, আমরাও আমাদের কাজ করছি। ‘এবং তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমরাও প্রতীক্ষা করছি।’(সূরা হূদ ১১:১২১-২২)
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. খারাপ মানুষ ও জিনরা পরস্পরকে খারাপ কাজে সহযোগিতা করে।
২. আমলের মাধ্যমে মানুষ ও জিনদের মাঝে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। ভালদের সাথে ভাল আর খারাপদের সাথে খারাপের সম্পর্ক।
৩. নাবী ও রাসূল প্রেরণের কারণ জানতে পারলাম।
৪. নাবী ও রাসূল কেবল মানব জাতির পুরুষদের মধ্য থেকে হয়।
৫. আল্লাহ তা‘আলা যা ইচ্ছা করেন তিনি তা-ই করতে সক্ষম।
৬. আল্লাহ তা‘আলার ওয়াদা সত্য।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৩৩-১৩৫ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে সম্বোধন করে বলছেন-হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তোমার প্রতিপালক সমস্ত মাখলুকাত হতে সর্ব দিক দিয়েই অমুখাপেক্ষী। সমস্ত ব্যাপারে সবাই তারই মুখাপেক্ষী। তাছাড়া তিনি মহান ও দয়ালুও বটে। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আল্লাহ লোকদের প্রতি অত্যন্ত করুণাময় ও দয়ালু।” (২:১৪৩)
ইরশাদ হচ্ছে-যদি তোমরা তাঁর আদেশ নিষেধ অমান্য কর তবে তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে ধ্বংস করে দিবেন, অতঃপর যে কওমকে চাইবেন তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, যাতে এই অন্য কওম তাঁর বাধ্য ও অনুগত হয়ে। যায়।
(আরবী) যেমন তিনি তোমাদেরকে অন্য এক জাতির বংশধর হতে সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ এই কাজের উপর তিনি পূর্ণ ক্ষমতাবান, তাঁর কাছে এটা খুবই সহজ। যেমন তিনি পূর্ব যুগকে ধ্বংস করে ওদের স্থলে অন্য কওমকে আনয়ন করতে সক্ষম। তিনি বলেনঃ হে লোকসকল! তোমরা আল্লাহর মুখাপেক্ষী এবং তার ফকীর। আর অমুখাপেক্ষী ও প্রশংসিত হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে ধ্বংস করে অন্য মাখলুক সৃষ্টি করবেন। এটা তাঁর কাছে মোটেই কঠিন কাজ নয়। তিনি বলেনঃ “যদি তোমরা তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও তবে তোমাদের পরিবর্তে তিনি অন্য কওমকে আনয়ন করবেন, অতঃপর তারা তোমাদের মত হবে না।” আবান ইবনে উসমান এই আয়াত সম্পর্কে বলেন যে, (আরবী) মূলকেও বলা হয় এবং বংশকেও বলা হয়।
আল্লাহ পাকের উক্তি-(আরবী) অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তাদেরকে তুমি জানিয়ে দাও যে, কিয়ামত সম্পর্কে তাদেরকে যে কথার ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা অবশ্য অবশ্যই পালিত হবে। তোমরা আল্লাহকে অপারগ করতে পারবে না। তিনি তো এ কাজের উপর ক্ষমতাবান যে, তোমরা মাটি হয়ে যাওয়ার পর এবং তোমাদের হাড়গুলো পচে গলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও তোমাদেরকে তিনি পুনর্জীবিত করবেন। এই আয়াতের তাফসীরে ইবনে আবি হাতিম (রঃ) হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “হে আদম সন্তান! যদি তোমরা জ্ঞানবান হও তবে নিজেদেরকে মৃতদের মধ্যে গণনা কর। কেননা, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! তোমাদেরকে যে বিষয় সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা অবশ্যম্ভাবী এবং তোমরা আল্লাহকে অক্ষম ও দুর্বল করতে পারবে না।”
ইরশাদ হচ্ছে- হে নবী (সঃ)! তুমি তাদেরকে বলে দাও, তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় আমল করতে থাক, আমিও আমল করছি। কার পরিণাম কল্যাণকর তা তোমরা শীঘই জানতে পারবে। এটা ভয়ানক ধমক ও ভীতি প্রদর্শন। অর্থাৎ যদি তোমরা ধারণা করে থাক যে, তোমরা সঠিক পথেই রয়েছে তবে ঐ পথেই চল এবং আমিও আমার পথে চলছি। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ “হে মুহাম্মাদ (সঃ)! যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না তাদেরকে বলে দাও-তোমরা তোমাদের স্থানে আমল করে যাও এবং আমরাও আমল করে যাচ্ছি, তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা করতে থাক, আমরাও তোমাদের জন্যে অপেক্ষা করতে রয়েছি। শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে যে কার পরিণাম কল্যাণকর। জেনে রেখো যে, যালিমরা কখনও মুক্তি ও সাফল্য লাভ করতে পারবে না। আল্লাহ তাআলা স্বীয় রাসূল (সঃ)-এর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, তার জন্যে বহু শহর জয় করিয়েছেন, দেশসমূহের উপর তাকে ক্ষমতা প্রদান করেছেন, বিরুদ্ধবাদীদের মাথা নীচু করিয়েছেন, মক্কার উপর তাঁকে বিজয়ী করেছেন, সারা মক্কাবাসীর উপর তাকে বিজয় দান করেছেন এবং সমস্ত আরব উপদ্বীপের উপর তার শাসন কায়েম করেছেন। অনুরূপভাবে ইয়ামন ও বাহরাইনের উপরও তার ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এ সবকিছু তাঁর জীবদ্দশাতেই সংঘটিত হয়েছে। তাঁর ইন্তেকালের পর খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে শহরসমূহ এবং বিভিন্ন ভূখণ্ডগুলো বিজিত হতে থাকে। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ “আল্লাহ লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন- আমি এবং আমার রাসূল (সঃ) অবশ্যই জয়যুক্ত হবে, আল্লাহ ক্ষমতাবান ও প্রতাপশালী ।”
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “আমি অবশ্যই স্বীয় রাসূল (সঃ) এবং মুমিনদেরকে পার্থিব জীবনেও সাহায্য করবো এবং আখেরাতেও সাহায্য করবো, যেই দিন অত্যাচারীদের ওযর তাদের কোনই উপকার করবে না, তাদের জন্যে রয়েছে অভিসম্পাত ও জঘন্য বাসস্থান।` আর এক জায়গায় তিনি বলেনঃ “যিকরের পর যায়ূরে আমি লিখে দিয়েছিলাম যে, আমার সৎ বান্দারা যমীনের উত্তরাধিকারী হবে।” আর তিনি স্বীয় রাসূলদের সম্পর্কে খবর দিতে গিয়ে বলেনঃ “আমি রাসূলদের কাছে অহী পাঠিয়েছিলাম যে, যালিমদেরকে আমি অবশ্যই ধ্বংস করে দেবো, অতঃপর তাদের পরে আমি তোমাদেরকে (মুমিনদেরকে) ভূ-পৃষ্ঠে রাজত্ব দান করবো, এটা ঐ লোকদের জন্যে যারা আমাকে ভয় করে।” অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও ভাল কাজ করেছে তাদের সাথে আল্লাহ ওয়াদা করেছেন যে, তিনি তাদেরকে যমীনে তাঁর খলিফা বানাবেন যেমন তাদের পূর্ববর্তী লোকদেরকে স্বীয় খলিফা বানিয়েছিলেন, আর যে দ্বীনকে তিনি পছন্দ করেছেন সেই দ্বীনের উপর তাদেরকে পরিচালিত করবেন এবং ভয়ের পরে তাদের জীবনকে শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে পরিবর্তন করবেন, কেননা তারা আমার ইবাদত করে এবং শির্ক করে না।” আল্লাহ তা'আলা উম্মতে মুহাম্মাদিয়াকে এই বিশেষত্ব দান করেছেন। সুতরাং প্রথম ও শেষ এবং প্রকাশ্য ও গোপনীয় সমস্ত প্রশংসা ও শুকরিয়া আল্লাহর জন্যে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।