সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 107)
হরকত ছাড়া:
ولو شاء الله ما أشركوا وما جعلناك عليهم حفيظا وما أنت عليهم بوكيل ﴿١٠٧﴾
হরকত সহ:
وَ لَوْ شَآءَ اللّٰهُ مَاۤ اَشْرَکُوْا ؕ وَ مَا جَعَلْنٰکَ عَلَیْهِمْ حَفِیْظًا ۚ وَ مَاۤ اَنْتَ عَلَیْهِمْ بِوَکِیْلٍ ﴿۱۰۷﴾
উচ্চারণ: ওয়া লাও শাআল্লা-হু মাআশরাকূ ওয়ামা-জা‘আলনা-কা ‘আলাইহিম হাফীজাওঁ ওয়ামাআনতা ‘আলাইহিম বিওয়াকীল।
আল বায়ান: আর যদি আল্লাহ চাইতেন, তারা শির্ক করত না এবং আমি তোমাকে তাদের উপর হিফাযতকারী বানাইনি। আর তুমি তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নও।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৭. আর আল্লাহ যদি ইচ্ছে করতেন তবে তারা শির্ক করত না। আর আমরা আপনাকে তাদের হিফাযতকারী বানাইনি এবং আপনি তাদের তত্ত্বাবধায়কও নন।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহ ইচ্ছে করলে তারা আল্লাহর অংশী স্থির করত না, (আসল শিক্ষা তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, এখন তারা মানুক বা না মানুক) আমি তোমাকে তাদের উপর পাহারাদার পাঠায়নি (জোর করে আল্লাহর ‘ইবাদাত করিয়ে নেয়ার জন্য), আর তুমি তাদের পক্ষ থেকে কর্মসম্পাদনকারীও নও।
আহসানুল বায়ান: (১০৭) আর যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, তাহলে তারা অংশী-স্থাপন করত না।[1] আর তোমাকে তাদের জন্য রক্ষক নিযুক্ত করিনি এবং তুমি তাদের কার্যবাহী (উকীল)ও নও। [2]
মুজিবুর রহমান: আর আল্লাহর যদি অভিপ্রায় হত তাহলে এরা শির্ক করতনা; আর আমি তোমাকে এদের রক্ষক নিযুক্ত করিনি এবং তুমি তাদের উপর ক্ষমতাপ্রাপ্ত নও।
ফযলুর রহমান: আল্লাহ যদি চাইতেন তাহলে তারা শির্ক করত না। আর আমি তোমাকে তাদের প্রহরী বানাইনি; তুমি তাদের কর্মবিধায়কও নও।
মুহিউদ্দিন খান: যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তারা শেরক করত না। আমি আপনাকে তাদের সংরক্ষক করিনি এবং আপনি তাদের কার্যনির্বাহী নন।
জহুরুল হক: আর যদি আল্লাহ্ ইচ্ছে করতেন তবে তারা শরিক করতো না। আর আমরা তোমাকে তাদের উপরে রক্ষাকারীরূপে নিযুক্ত করি নি, আর তুমি তাদের উপরে কার্যনির্বাহকও নও।
Sahih International: But if Allah had willed, they would not have associated. And We have not appointed you over them as a guardian, nor are you a manager over them.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১০৭. আর আল্লাহ যদি ইচ্ছে করতেন তবে তারা শির্ক করত না। আর আমরা আপনাকে তাদের হিফাযতকারী বানাইনি এবং আপনি তাদের তত্ত্বাবধায়কও নন।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১০৭) আর যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, তাহলে তারা অংশী-স্থাপন করত না।[1] আর তোমাকে তাদের জন্য রক্ষক নিযুক্ত করিনি এবং তুমি তাদের কার্যবাহী (উকীল)ও নও। [2]
তাফসীর:
[1] এ বিষয়টা পূর্বেও বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছা এক জিনিস এবং তাঁর সন্তুষ্টি আর এক জিনিস। তাঁর সন্তুষ্টি তো তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করার মধ্যেই। তবে তিনি এর উপর মানুষকে বাধ্য করেননি। কেননা, বাধ্য করলে মানুষকে পরীক্ষা করা যেত না। পক্ষান্তরে আল্লাহর এখতিয়ারে তো এ কথা আছে যে, তিনি ইচ্ছা করলে কোন মানুষ শিরক করার কোন ক্ষমতাই রাখত না। (আরো দেখুন, সূরা বাক্বারার ২৫৩নং আয়াতের এবং সূরা আনআমের ৩৫নং আয়াতের টীকা)
[2] এ বিষয়টাও কুরআন মাজীদের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল, নবী করীম (সাঃ)-এর কেবল আহবানকারী এবং বার্তাবাহক হওয়ার মর্যাদাটুকু পরিষ্কার করে দেওয়া; যা রিসালাতের দাবী এবং তাঁর দায়িত্ব কেবল এই পর্যন্তই ছিল। এর বাইরে কোন এখতিয়ার যদি নবী করীম (সাঃ)-এর থাকত, তাহলে তিনি তাঁর প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল চাচাকে অবশ্যই মুসলামান বানিয়ে নিতেন। যার ইসলাম গ্রহণ করার ব্যাপারে তিনি ছিলেন অতীব আগ্রহী।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১০৬-১০৭ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর প্রতি যা ওয়াহী করা হয়েছে তার অনুসরণের নির্দেশ দিচ্ছেন, সাথে সাথে মুশরিকদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদেরও আদেশ দিচ্ছেন। মূলতঃ এর মাধ্যমে সকল মু’মিনদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এটা বড়দেরকে সম্বোধন করে ছোটদেরকে শিক্ষা দেয়ার মত। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(اِتَّبِعُوْا مَآ اُنْزِلَ اِلَیْکُمْ مِّنْ رَّبِّکُمْ وَلَا تَتَّبِعُوْا مِنْ دُوْنِھ۪ٓ اَوْلِیَا۬ئَﺚ قَلِیْلًا مَّا تَذَکَّرُوْنَ)
তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তোমাদের নিকট যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ কর এবং তাঁকে ছাড়া অন্য অভিভাবকের অনুসরণ কর না। তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর। (সূরা আ‘রাফ ৭:৩)
(وَلَوْ شَا۬ءَ اللّٰهُ مَآ أَشْرَكُوْا)
‘আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন তবে তারা শির্ক করত না’ অর্থাৎ যদি আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা না করতেন তাহলে তারা শির্ক করত না। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা জানেন তারা তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করার কারণে ও তাদেরকে স্বাধীনতা দেয়ার কারণে তাদের কার্যকলাপ এরূপই হবে। যার কারণে তারা শির্কে লিপ্ত হয়েছে। (তাফসীর মুয়াসসার, পৃঃ ১৪১)
আল্লামা আবদুর রহমান আস্সা‘দী (রহঃ) বলেন, এখানে ঈমান শব্দটি উহ্য রয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা যদি তাদের ঈমান চাইতেন তাহলে তারা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শির্ক করতে পারত না। যদি তারা ঈমান বেছে নিত তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে হিদায়াত দিতেন, কিন্তু তারা শির্ক বেছে নিয়েছে ফলে আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছায় শির্কে লিপ্ত হয়েছে। (তাফসীর সা‘দী পৃঃ ২৬৩)
এখানে জানা জরুরী যে, আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা (مشيئة الله) দু’ প্রকার:
১. إرادة كونية
অর্থাৎ জাগতিক বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা। এতে আল্লাহ তা‘আলা যা ভালবাসেন আর যা ভালবাসেন না সবই শামিল।
এর উদাহরণ এ আয়াত, কেউ আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করুক এটা আল্লাহ তা‘আলা ভালবাসেন না এবং তিনি এর নির্দেশও দেননি। কিন্তু কেউ শির্কে লিপ্ত হলে তা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছার বাইরে নয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা ছাড়া পৃথিবীতে কিছুই হয় না। তবে আল্লাহ তা‘আলা এ কাজ করতে নিষেধ করেছেন, এরপরও করেছে তাই সে শাস্তি পাবে।
২. إرادة شرعية
শরীয়তের বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা। এতে তা অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ তা‘আলা ভালবাসেন এবং পালনের জন্য নির্দেশ দেন। (আক্বীদাহ ওয়াসিতিয়া, পৃঃ ১৪০, দারুল আক্বীদাহ)
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলার অবতীর্ণ করা ওয়াহীর অনুসরণ সকলের জন্য ওয়াজিব। অন্য কোন তরিকা, মাযহাব বা ব্যক্তির তৈরি রীতি-নীতি নয়। সুতরাং সবকিছু বর্জন করে ওয়াহী তথা কুরআন ও সহীহ হাদীসের পথে আসা সকলের জন্য একান্ত কর্তব্য।
২. আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করেন- এ সিফাত বা গুণের প্রমাণ পাওয়া গেল।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১০৬-১০৭ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ পাক রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও তাঁর উম্মতকে নির্দেশ দিচ্ছেন- তোমরা অহীরই অনুসরণ কর এবং ওর উপরই আমল কর। কেননা, এটাই সত্য এবং এতে কোন ভেজাল বা মিশ্রণ নেই। আর তোমরা এই মুশরিকদেরকে এড়িয়ে চল, তাদেরকে ক্ষমা কর এবং তারা যে কষ্ট দিচ্ছে তা সহ্য করে নাও যে পর্যন্ত তোমাদেরকে আল্লাহ তাদের উপর জয়যুক্ত ও সফলকাম করেন। জেনে রেখো যে, তাদেরকে পথভ্রষ্ট করার মধ্যে আল্লাহর নৈপুণ্য নিহিত রয়েছে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তো সারা দুনিয়াবাসীই হিদায়াত লাভ করতো এবং মুশরিকরা শিরকই করতো না। এর মধ্যে মহান আল্লাহর বিশেষ নিপুণতা রয়েছে। তিনি যা কিছু করেন তাতে কোন প্রতিবাদ করো না। তবে হ্যাঁ, তিনি সবারই পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিচার করতে সক্ষম। হে নবী (সঃ)! আমি তোমাকে তাদের পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করিনি। তাদের মনে যা আসে তাই তাদেরকে বলতে ও করতে দাও। আমি তোমার উপর দেখা শোনার ভার অর্পণ করিনি। তুমি তাদেরকে আহার্যও প্রদান কর না। তোমার কাজ তো শুধু প্রচার করা। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ “তুমি শুধুমাত্র উপদেশ দিতে থাক, তুমি তো একজন উপদেষ্টা মাত্র। তুমি তাদের উপর দায়গ্রস্ত অধিকারী নও।” অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ “তোমার কাজ শুধু পৌছিয়ে দেয়া, আর হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আমার।`
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।