আল কুরআন


সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 106)

সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 106)



হরকত ছাড়া:

اتبع ما أوحي إليك من ربك لا إله إلا هو وأعرض عن المشركين ﴿١٠٦﴾




হরকত সহ:

اِتَّبِعْ مَاۤ اُوْحِیَ اِلَیْکَ مِنْ رَّبِّکَ ۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ وَ اَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِکِیْنَ ﴿۱۰۶﴾




উচ্চারণ: ইত্তাবি‘ মাঊহিয়া ইলাইকা মির রাব্বিকা লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ওয়া আ‘রিদ ‘আনিল মুশরিকীন।




আল বায়ান: তুমি অনুসরণ কর তার, তোমার প্রতি যা ওহী প্রেরণ করা হয়েছে তোমার রবের পক্ষ থেকে। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। আর মুশরিকদের থেকে তুমি বিমুখ থাক।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৬. আপনার রব-এর কাছ থেকে আপনার প্রতি যা ওহী হয়েছে আপনি তারই অনুসরণ করুন, তিনি ছাড়া অন্য কোন সত্য ইলাহ নেই এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে যে ওয়াহী পাও তার অনুসরণ কর, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, তুমি মুশরিকদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।




আহসানুল বায়ান: (১০৬) তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে তোমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ হয়, তুমি তারই অনুসরণ কর, তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। আর অংশীবাদীদের থেকে বিমুখ থাক।



মুজিবুর রহমান: তোমার প্রতি তোমার রবের পক্ষ থেকে যে অহী নাযিল হয়েছে, তুমি তারই অনুসরণ করে চল, তিনি ছাড়া অন্য কেহই মা‘বূদ নেই, আর অংশীবাদীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।



ফযলুর রহমান: তোমার কাছে তোমার প্রভুর নিকট থেকে ওহীর মাধ্যমে যা পাঠানো হয় তা অনুসরণ কর। তিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। আর মুশরিকদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।



মুহিউদ্দিন খান: আপনি পথ অনুসরণ করুন, যার আদেশ পালনকর্তার পক্ষ থেকে আসে। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং মুশরিকদের তরফ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন।



জহুরুল হক: তুমি তার অনুসরণ করো যা তোমার কাছে তোমার প্রভুর কাছ থেকে প্রত্যাদেশ দেওয়া হয়েছে -- 'তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই’, আর সরে দাঁড়াও বহুখোদাবাদীদের থেকে।



Sahih International: Follow, [O Muhammad], what has been revealed to you from your Lord - there is no deity except Him - and turn away from those who associate others with Allah.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০৬. আপনার রব-এর কাছ থেকে আপনার প্রতি যা ওহী হয়েছে আপনি তারই অনুসরণ করুন, তিনি ছাড়া অন্য কোন সত্য ইলাহ নেই এবং মুশরিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০৬) তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে তোমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ হয়, তুমি তারই অনুসরণ কর, তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। আর অংশীবাদীদের থেকে বিমুখ থাক।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০৬-১০৭ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর প্রতি যা ওয়াহী করা হয়েছে তার অনুসরণের নির্দেশ দিচ্ছেন, সাথে সাথে মুশরিকদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদেরও আদেশ দিচ্ছেন। মূলতঃ এর মাধ্যমে সকল মু’মিনদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এটা বড়দেরকে সম্বোধন করে ছোটদেরকে শিক্ষা দেয়ার মত। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(اِتَّبِعُوْا مَآ اُنْزِلَ اِلَیْکُمْ مِّنْ رَّبِّکُمْ وَلَا تَتَّبِعُوْا مِنْ دُوْنِھ۪ٓ اَوْلِیَا۬ئَﺚ قَلِیْلًا مَّا تَذَکَّرُوْنَ)



তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তোমাদের নিকট যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ কর এবং তাঁকে ছাড়া অন্য অভিভাবকের অনুসরণ কর না। তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর। (সূরা আ‘রাফ ৭:৩)



(وَلَوْ شَا۬ءَ اللّٰهُ مَآ أَشْرَكُوْا)



‘আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন তবে তারা শির্ক করত না’ অর্থাৎ যদি আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা না করতেন তাহলে তারা শির্ক করত না। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা জানেন তারা তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করার কারণে ও তাদেরকে স্বাধীনতা দেয়ার কারণে তাদের কার্যকলাপ এরূপই হবে। যার কারণে তারা শির্কে লিপ্ত হয়েছে। (তাফসীর মুয়াসসার, পৃঃ ১৪১)



আল্লামা আবদুর রহমান আস্সা‘দী (রহঃ) বলেন, এখানে ঈমান শব্দটি উহ্য রয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা যদি তাদের ঈমান চাইতেন তাহলে তারা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শির্ক করতে পারত না। যদি তারা ঈমান বেছে নিত তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে হিদায়াত দিতেন, কিন্তু তারা শির্ক বেছে নিয়েছে ফলে আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছায় শির্কে লিপ্ত হয়েছে। (তাফসীর সা‘দী পৃঃ ২৬৩)



এখানে জানা জরুরী যে, আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা (مشيئة الله) দু’ প্রকার:



১. إرادة كونية



অর্থাৎ জাগতিক বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা। এতে আল্লাহ তা‘আলা যা ভালবাসেন আর যা ভালবাসেন না সবই শামিল।



এর উদাহরণ এ আয়াত, কেউ আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করুক এটা আল্লাহ তা‘আলা ভালবাসেন না এবং তিনি এর নির্দেশও দেননি। কিন্তু কেউ শির্কে লিপ্ত হলে তা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছার বাইরে নয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা ছাড়া পৃথিবীতে কিছুই হয় না। তবে আল্লাহ তা‘আলা এ কাজ করতে নিষেধ করেছেন, এরপরও করেছে তাই সে শাস্তি পাবে।



২. إرادة شرعية



শরীয়তের বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা। এতে তা অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ তা‘আলা ভালবাসেন এবং পালনের জন্য নির্দেশ দেন। (আক্বীদাহ ওয়াসিতিয়া, পৃঃ ১৪০, দারুল আক্বীদাহ)



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলার অবতীর্ণ করা ওয়াহীর অনুসরণ সকলের জন্য ওয়াজিব। অন্য কোন তরিকা, মাযহাব বা ব্যক্তির তৈরি রীতি-নীতি নয়। সুতরাং সবকিছু বর্জন করে ওয়াহী তথা কুরআন ও সহীহ হাদীসের পথে আসা সকলের জন্য একান্ত কর্তব্য।

২. আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করেন- এ সিফাত বা গুণের প্রমাণ পাওয়া গেল।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০৬-১০৭ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ পাক রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও তাঁর উম্মতকে নির্দেশ দিচ্ছেন- তোমরা অহীরই অনুসরণ কর এবং ওর উপরই আমল কর। কেননা, এটাই সত্য এবং এতে কোন ভেজাল বা মিশ্রণ নেই। আর তোমরা এই মুশরিকদেরকে এড়িয়ে চল, তাদেরকে ক্ষমা কর এবং তারা যে কষ্ট দিচ্ছে তা সহ্য করে নাও যে পর্যন্ত তোমাদেরকে আল্লাহ তাদের উপর জয়যুক্ত ও সফলকাম করেন। জেনে রেখো যে, তাদেরকে পথভ্রষ্ট করার মধ্যে আল্লাহর নৈপুণ্য নিহিত রয়েছে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তো সারা দুনিয়াবাসীই হিদায়াত লাভ করতো এবং মুশরিকরা শিরকই করতো না। এর মধ্যে মহান আল্লাহর বিশেষ নিপুণতা রয়েছে। তিনি যা কিছু করেন তাতে কোন প্রতিবাদ করো না। তবে হ্যাঁ, তিনি সবারই পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিচার করতে সক্ষম। হে নবী (সঃ)! আমি তোমাকে তাদের পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করিনি। তাদের মনে যা আসে তাই তাদেরকে বলতে ও করতে দাও। আমি তোমার উপর দেখা শোনার ভার অর্পণ করিনি। তুমি তাদেরকে আহার্যও প্রদান কর না। তোমার কাজ তো শুধু প্রচার করা। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ “তুমি শুধুমাত্র উপদেশ দিতে থাক, তুমি তো একজন উপদেষ্টা মাত্র। তুমি তাদের উপর দায়গ্রস্ত অধিকারী নও।” অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ “তোমার কাজ শুধু পৌছিয়ে দেয়া, আর হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আমার।`





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।