সূরা আল-কলম (আয়াত: 35)
হরকত ছাড়া:
أفنجعل المسلمين كالمجرمين ﴿٣٥﴾
হরকত সহ:
اَفَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِیْنَ کَالْمُجْرِمِیْنَ ﴿ؕ۳۵﴾
উচ্চারণ: আফানাজ‘আলুল মুছলিমীনা কালমুজরিমীন।
আল বায়ান: তবে কি আমি মুসলিমদেরকে (অনুগতদেরকে) অবাধ্যদের মতই গণ্য করব?
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৫. তবে কি আমরা মুসলিমদেরকে (অনুগতদেরকে) অপরাধীদের সমান গণ্য করব?
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি কি আত্মসমর্পণকারীদেরকে অপরাধীদের মত গণ্য করব?
আহসানুল বায়ান: (৩৫) আমি কি আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)দেরকে অপরাধীদের মত গণ্য করব?[1]
মুজিবুর রহমান: আমি কি আত্মসমর্পনকারীদেরকে অপরাধীদের সদৃশ গন্য করব?
ফযলুর রহমান: আমি কি মুসলিমদেরকে অপরাধীদের মত গণ্য করব?
মুহিউদ্দিন খান: আমি কি আজ্ঞাবহদেরকে অপরাধীদের ন্যায় গণ্য করব?
জহুরুল হক: কী, আমরা কি তবে মুসলিমদের বানাব অপরাধীদের মতো?
Sahih International: Then will We treat the Muslims like the criminals?
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৫. তবে কি আমরা মুসলিমদেরকে (অনুগতদেরকে) অপরাধীদের সমান গণ্য করব?
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৫) আমি কি আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)দেরকে অপরাধীদের মত গণ্য করব?[1]
তাফসীর:
[1] মক্কার মুশরিকরা বলত যে, যদি কিয়ামত হয়, তাহলে সেখানেও আমরা মুসলিমদের থেকে উত্তম অবস্থায় থাকব। যেমন, দুনিয়াতে আমরা মুসলিমদের চেয়ে বেশী সমৃদ্ধি ও স্বাচ্ছন্দ্যে আছি। আল্লাহ তাআলা তাদের উত্তরে বললেন, এটা কিভাবে সম্ভব হতে পারে যে, আমি মুসলিমদের অর্থাৎ আমার আনুগত্যশীলদেরকে পাপিষ্ঠদের, অর্থাৎ আমার অবাধ্যজনদের মত গণ্য করব? অর্থাৎ, এটা কোন দিন হতে পারে না যে, আল্লাহ তাআলা ন্যায়পরায়ণতা ও সুবিচারের বিপরীত করে উভয়কে এক সমান গণ্য করবেন।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩৪-৪১ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
দুনিয়ার বাগানের মালিকের অবস্থা বর্ণনা এবং তাদের অবাধ্যতার কারণে যে শাস্তি আপতিত হয়েছে তার বিবরণ তুলে ধরার পর আল্লাহভীরু লোকদের অবস্থা বর্ণনা করছেন। তারা আখেরাতে এমন জান্নাত লাভ করবে যার নেয়ামত শেষ হবে না এবং হ্্রাস পাবে না। আর তা নষ্টও হবে না। মুুমিন-মুসলিমকে আল্লাহ তা‘আলা অপরাধীর মত অপমানিত করবেন না।
(كِتٰبٌ فِيْهِ تَدْرُسُوْنَ)
অর্থাৎ তোমাদের নিকট কি এমন কিতাব আছে যাতে বলা হয়েছে- তোমরা যা চাইবে তাই পাবে? নাকি আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোন প্রতিশ্র“তি আছে যা কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ এ সবের কিছ্ইু নেই।
(بَالِغَةٌ إِلٰي يَوْمِ الْقِيٰمَةِ)
অর্থাৎ তোমাদের কি আল্লাহ তা‘আলার সাথে এমন কোন প্রতিশ্র“তি আছে যে, তা তোমাদেরকে জান্নাতে পৌঁছে দেবে।
زعيم অর্থাৎ তারা যে এসব দাবী করছে সেজন্য কে দায়িত্বভার নেবে? নাকি এ বিষয়ে তাদের কোন শরীক আছে? যদি থাকে তাহলে তা নিয়ে আসতে বল। না, তারা কখনো পারবে না এবং কেউ দায়িত্বও নেবে না। অতএব আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. অপরাধীরা কখনো মু’মিনদের সমান হতে পারে না।
২. মু’মিনরা এমন জান্নাত পাবে যা কখনো শেষ হবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩৪-৪১ নং আয়াতের তাফসীর
উপরে পার্থিব বাগানের মালিকদের অবস্থা বর্ণিত হয়েছে এবং তারা আল্লাহর অবাধ্যাচরণ এবং তার হুকুমের বিরোধিতা করার কারণে তাদের উপর যে বিপদ আপতিত হয়েছিল তা আল্লাহ তা’আলা বর্ণনা করেছেন। এখানে ঐ আল্লাহভীরু লোকদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে যারা আখিরাতে এমন জান্নাত লাভ করবে যার নিয়ামত শেষও হবে না এবং হ্রাসও পাবে না। আর তা পঁচে গলেও যাবে না।
এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমি কি আত্মসমর্পণকারীদেরকে অপরাধীদের সদৃশ গণ্য করবো? অর্থাৎ মুসলিম ও পাপীরা কি কখনো সমান হতে পারে? যমীন ও আসমানের শপথ! এটা কখনো হতে পারে না।
আল্লাহ পাক বলেনঃ তোমাদের কী হয়েছে? তোমাদের এ কেমন সিদ্ধান্ত? তোমাদের হাতে কি আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে অবতারিত এমন কোন কিতাব রয়েছে যা তোমাদের কাছে রক্ষিত রয়েছে এবং পূর্ববর্তীদের নিকট হতে তোমরা তা প্রাপ্ত হয়েছে? আর তাতে তা-ই রয়েছে যা তোমরা চাচ্ছ ও বলছো? অথবা তোমাদের সাথে কি আমার কোন দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে যে, তোমরা যা কিছু বলছো তা হবেই? এবং তোমাদের এই বাজে ও ঘৃণ্য বাসনা পূর্ণ হয়েই যাবে?
এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর যে, তাদের মধ্যের এই দাবীর যিম্মাদার কে? তাদের কি কোন দেব-দেবী আছে? থাকলে তারা তাদের ঐ দেব-দেবীদেরকে উপস্থিত করুক, যদি তারা সত্যবাদী হয়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।