সূরা আল-মুলক (আয়াত: 9)
হরকত ছাড়া:
قالوا بلى قد جاءنا نذير فكذبنا وقلنا ما نزل الله من شيء إن أنتم إلا في ضلال كبير ﴿٩﴾
হরকত সহ:
قَالُوْا بَلٰی قَدْ جَآءَنَا نَذِیْرٌ ۬ۙ فَکَذَّبْنَا وَ قُلْنَا مَا نَزَّلَ اللّٰهُ مِنْ شَیْءٍ ۚۖ اِنْ اَنْتُمْ اِلَّا فِیْ ضَلٰلٍ کَبِیْرٍ ﴿۹﴾
উচ্চারণ: কা- লূবালা- কাদ জাআনা- নাযীরুন ফাকাযযাবনা- ওয়া কুলনা- মানাযযালাল্লা- হু মিন শাইয়িন ইন আনতুম ইল্লা- ফী দালা- লিন কাবীর।
আল বায়ান: তারা বলবে, ‘হ্যাঁ, আমাদের নিকট সতর্ককারী এসেছিল। তখন আমরা (তাদেরকে) মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করেছিলাম এবং বলেছিলাম, ‘আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা তো ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছ’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯. তারা বলবে, হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের কাছে সতর্ককারী এসেছিল, তখন আমরা মিথ্যারোপ করেছিলাম এবং বলেছিলাম, আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি, তোমরা তো মহাবিভ্রান্তিতে রয়েছ।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা জবাব দিবে, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের কাছে সতর্ককারী এসেছিল, কিন্তু আমরা তাদেরকে অস্বীকার করেছিলাম আর আমরা বলেছিলাম, ‘আল্লাহ কোন কিছুই অবতীর্ণ করেননি, তোমরা তো ঘোর বিভ্রান্তিতে পড়ে আছ।’
আহসানুল বায়ান: (৯) তারা বলবে, ‘অবশ্যই আমাদের নিকট সতর্ককারী এসেছিল, কিন্তু আমরা তাদেরকে মিথ্যাবাদী গণ্য করেছিলাম এবং বলেছিলাম, আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি, তোমরা তো মহা বিভ্রান্তিতে রয়েছ।’[1]
মুজিবুর রহমান: তারা বলবেঃ অবশ্যই আমাদের নিকট সতর্ককারী এসেছিল, আমরা তাকে মিথ্যাবাদী গণ্য করেছিলাম এবং বলেছিলামঃ আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি, তোমরাতো মহা বিভ্রান্তিতে রয়েছ।
ফযলুর রহমান: তারা বলবে, “হ্যাঁ, আমাদের কাছে সতর্ককারী এসেছিল, কিন্তু আমরা অবিশ্বাস করেছিলাম আর বলেছিলাম: আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা বড় এক বিভ্রান্তির মধ্যে আছো।”
মুহিউদ্দিন খান: তারা বলবেঃ হ্যাঁ আমাদের কাছে সতর্ককারী আগমন করেছিল, অতঃপর আমরা মিথ্যারোপ করেছিলাম এবং বলেছিলামঃ আল্লাহ তা’আলা কোন কিছু নাজিল করেননি। তোমরা মহাবিভ্রান্তিতে পড়ে রয়েছ।
জহুরুল হক: তারা বলবে -- "হাঁ, আমাদের কাছে সতর্ককারী ইতিপূর্বে এসে গেছেন, আমরা কিন্তু অস্বীকার করেছিলাম ও বলেছিলাম -- 'আল্লাহ্ কোনো-কিছু অবতারণ করেন নি, তোমরা রয়েছ বিরাট পথভ্রান্তিতে বৈ তো নও’।"
Sahih International: They will say," Yes, a warner had come to us, but we denied and said, 'Allah has not sent down anything. You are not but in great error.'"
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৯. তারা বলবে, হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের কাছে সতর্ককারী এসেছিল, তখন আমরা মিথ্যারোপ করেছিলাম এবং বলেছিলাম, আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি, তোমরা তো মহাবিভ্রান্তিতে রয়েছ।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৯) তারা বলবে, ‘অবশ্যই আমাদের নিকট সতর্ককারী এসেছিল, কিন্তু আমরা তাদেরকে মিথ্যাবাদী গণ্য করেছিলাম এবং বলেছিলাম, আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি, তোমরা তো মহা বিভ্রান্তিতে রয়েছ।”[1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, আমরা পয়গম্বরদেরকে সত্যজ্ঞান করার পরিবর্তে তাঁদেরকে মিথ্যাজ্ঞান করেছিলাম। আসমানী কিতাবসমূহকে একেবারে অস্বীকার করেছিলাম। এমনকি আল্লাহর পয়গম্বরদেরকে আমরা বলেছিলাম যে, তোমরা বড়ই ভ্রষ্টতার মধ্যে আছ।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৬-১১ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আলোচ্য আয়াতগুলোতে কাফিরদের জন্য জাহান্নামের যে শাস্তি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে, জাহান্নামে প্রবেশকালে ফেরেশতারা তাদেরকে যে জিজ্ঞাসাবাদ করবে এবং তারা যে জবাব দেবে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
شَهِيْق বলা হয় সে শব্দকে যা গাধার মুখ থেকে সর্ব প্রথম বের হয়। গাধার আওয়াজ সবচেয়ে খারাপ আওয়াজ। (সূরা লুকমান ৩১ : ১৯) সেদিন জাহান্নামীরাও গাধার মত চিৎকার করবে এবং আগুনের ওপর রাখা ফুটন্ত হাড়ির মত উদ্বেলিত হতে থাকবে।
(تَمَيَّزُ مِنَ الْغَيْظِ)
অর্থাৎ জাহান্নামীদের ওপর রাগে জাহান্নাম বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। জাহান্নামীরা জাহান্নামে যাওয়ার সময় প্রহরীরা জিজ্ঞাসা করবে, তোমাদের কাছে কি ভীতি প্রদর্শনকারী রাসূল আসেনি? উত্তরে জাহান্নামীরা আয়াতে উল্লিখিত কথা বলবে। মূলত তাদেরকে এ অবস্থায় এ প্রশ্ন করা হচ্ছে, নিছক তাচ্ছিল্য ও অবমাননার উদ্দেশ্য। কোন শাস্তিযোগ্য অপরাধীর অবমাননা ও লাঞ্ছনার জন্য যখন এ ধরণের কথা বলা হয় তখন এর চেয়ে হৃদয়বিদারক কটু কথা ও কষ্টদায়ক কথা আর কিছুই হতে পারে না। সূরা যুমারের ৭১ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
(لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ)
‘যদি আমরা শুনতাম!’ এ কথা জাহান্নামীরা আফসোস করে বলবে। কিন্তু সে আফসোস কোন কাজে আসবে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য না করা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ।
২. দুনিয়াতেই আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহ করা উচিত, কারণ আখিরাতে আফসোস করে কাজে আসবে না।
৩. জাহান্নামে অবস্থানকারীরা জাহান্নামে সর্বদাই চিৎকার করতে থাকবে।
৪. কাফিররা আখিরাতে স্বীকার করবে যে, তারা দুনিয়াতে নাবী-রাসূলদের আনুগত্য করেনি।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৬-১১ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ যারা তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি এবং ওটা কত মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল! এটা গাধার মত উচ্চ ও অপছন্দনীয় শব্দকারী ও উত্তেজনাপূর্ণ জাহান্নাম। এই জাহান্নামের আগুনে তারা জ্বলতে পুড়তে থাকবে। যখন তারা এই জাহান্নামের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হবে তখন তারা ঐ জাহান্নামের শব্দ শুনবে, আর ওটা হবে উদ্বেলিত।
ঐ জাহান্নামীদেরকে অত্যধিক লাঞ্ছিত করা এবং তাদের উপর শেষ যুক্তি প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবেনঃ ‘ওরে হতভাগ্যের দল! আল্লাহর রাসূলগণ কি তোমাদেরকে এটা হতে ভয় প্রদর্শন করেননি?' তখন তারা হায়, হায় করতে করতে উত্তর দিবেঃ ‘অবশ্যই আমাদের নিকট আল্লাহর রাসূলগণ সতর্ককারীরূপে এসেছিলেন এবং আমাদেরকে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু বড়ই দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, আমরা তাঁদেরকে মিথ্যাবাদী রূপে গণ্য করেছিলাম এবং বলেছিলামঃ আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি, আপনারা তো মহাবিভ্রান্তিতে রয়েছেন। এখন আল্লাহর ইনসাফ পরিষ্কারভাবে সাব্যস্ত হয়ে গেছে এবং তাঁর ফরমান পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি যা বলেছিলেন তাই বাস্তবে রূপায়িত হয়েছে।’ যেমন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “আমি শাস্তি প্রদান করি না যে পর্যন্ত না আমি রাসূল প্রেরণ করি।” (১৭:১৫) আর এক জায়গায় আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “যখন তারা জাহান্নামের নিকট উপস্থিত হবে তখন ওর প্রবেশদ্বারগুলো খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবেঃ তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য হতে রাসূল আসেনি যারা তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের আয়াত আবৃত্তি করতো এবং এই দিনের সাক্ষাৎ সম্বন্ধে তোমাদেরকে সতর্ক করতো? তারা বলবেঃ অবশ্যই এসেছিল। বস্তুতঃ কাফিরদের প্রতি শাস্তির কথা বাস্তবায়িত হয়েছে।” (৩৯:৭১) এভাবে তারা নিজেরা নিজেদেরকে তিরস্কার করবে এবং বলবেঃ যদি আমরা শুনতাম অথবা বিবেক বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম তবে আমরা জাহান্নামবাসী হতাম না। অর্থাৎ আমরা বিবেক প্রয়োগ করলে প্রতারিত হতাম না এবং আমাদের মালিক ও খালিক আল্লাহকে অস্বীকার করতাম না। তাঁর রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী জানতাম না এবং তাদের আনুগত্য হতে মুখ ফিরিয়ে নিতাম না।
আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ তারা নিজেরাই তো তাদের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছে। সুতরাং তাদের জন্যে অভিশাপ!
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “মানুষ কখনো ধ্বংস হবে না যে পর্যন্ত না তারা নিজেরাই নিজেদের অকল্যাণ দেখে নিবে এবং নিজেদের অপরাধ স্বীকার করবে।” অন্য হাদীসে রয়েছেঃ “কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না যে পর্যন্ত না সে নিজেই বুঝতে পারবে যে, সে জাহান্নামে যাবারই যোগ্য জান্নাতে নয়।`
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।