আল কুরআন


সূরা আল-মুলক (আয়াত: 10)

সূরা আল-মুলক (আয়াত: 10)



হরকত ছাড়া:

وقالوا لو كنا نسمع أو نعقل ما كنا في أصحاب السعير ﴿١٠﴾




হরকত সহ:

وَ قَالُوْا لَوْ کُنَّا نَسْمَعُ اَوْ نَعْقِلُ مَا کُنَّا فِیْۤ اَصْحٰبِ السَّعِیْرِ ﴿۱۰﴾




উচ্চারণ: ওয়া কা-লূলাও কুন্না- নাছমা‘উ আও না‘কিলুমা- কুন্না-ফীআসহা-বিছছা‘ঈর।




আল বায়ান: আর তারা বলবে, ‘যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০. আর তারা বলবে, যদি আমরা শুনতাম অথবা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসী হতাম না।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা আরো বলবে, ‘আমরা যদি শুনতাম অথবা বুঝতাম তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দাদের মধ্যে শামিল হতাম না।




আহসানুল বায়ান: (১০) এবং তারা আরো বলবে, ‘যদি আমরা শুনতাম অথবা জ্ঞান করতাম, তাহলে আমরা জাহান্নামীদের দলভুক্ত হতাম না।’[1]



মুজিবুর রহমান: এবং তারা আরও বলবেঃ যদি আমরা শুনতাম অথবা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম তাহলে আমরা জাহান্নামবাসী হতামনা।



ফযলুর রহমান: তারা বলবে, “আমরা যদি শুনতাম কিংবা বুঝতাম, তাহলে জাহান্নামের অধিবাসী হতাম না।”



মুহিউদ্দিন খান: তারা আরও বলবেঃ যদি আমরা শুনতাম অথবা বুদ্ধি খাটাতাম, তবে আমরা জাহান্নামবাসীদের মধ্যে থাকতাম না।



জহুরুল হক: আর তারা বলবে -- "আমরা যদি শুনতাম অথবা বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের বাসিন্দাদের মধ্যে হতাম না।"



Sahih International: And they will say, "If only we had been listening or reasoning, we would not be among the companions of the Blaze."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০. আর তারা বলবে, যদি আমরা শুনতাম অথবা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসী হতাম না।(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ আমরা যদি সত্যানুসন্ধিৎসু হয়ে নবীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতাম অথবা নবীগণ আমাদের সামনে যা পেশ করেছেন তা আসলে কি বুদ্ধি-বিবেক খাটিয়ে তা বুঝার চেষ্টা করতাম। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ তাদের অপরাধের ব্যাপারে নিজেদের উপর দোষ স্বীকার করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা করা হবে না।” [আবু দাউদ: ৪৩৪৭, মুসনাদে আহমাদ: ৫/২৯৩]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০) এবং তারা আরো বলবে, ‘যদি আমরা শুনতাম অথবা জ্ঞান করতাম, তাহলে আমরা জাহান্নামীদের দলভুক্ত হতাম না।”[1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, যদি আমরা মনোযোগ সহকারে তাঁদের কথা শুনতাম এবং তাঁদের উপদেশ গ্রহণ করতাম, অনুরূপ আল্লাহর দেওয়া বিবেক-বুদ্ধি দিয়েও যদি চিন্তা ও বুঝার চেষ্টা করতাম, তাহলে আজ আমরা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৬-১১ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



আলোচ্য আয়াতগুলোতে কাফিরদের জন্য জাহান্নামের যে শাস্তি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে, জাহান্নামে প্রবেশকালে ফেরেশতারা তাদেরকে যে জিজ্ঞাসাবাদ করবে এবং তারা যে জবাব দেবে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।



شَهِيْق বলা হয় সে শব্দকে যা গাধার মুখ থেকে সর্ব প্রথম বের হয়। গাধার আওয়াজ সবচেয়ে খারাপ আওয়াজ। (সূরা লুকমান ৩১ : ১৯) সেদিন জাহান্নামীরাও গাধার মত চিৎকার করবে এবং আগুনের ওপর রাখা ফুটন্ত হাড়ির মত উদ্বেলিত হতে থাকবে।



(تَمَيَّزُ مِنَ الْغَيْظِ)



অর্থাৎ জাহান্নামীদের ওপর রাগে জাহান্নাম বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। জাহান্নামীরা জাহান্নামে যাওয়ার সময় প্রহরীরা জিজ্ঞাসা করবে, তোমাদের কাছে কি ভীতি প্রদর্শনকারী রাসূল আসেনি? উত্তরে জাহান্নামীরা আয়াতে উল্লিখিত কথা বলবে। মূলত তাদেরকে এ অবস্থায় এ প্রশ্ন করা হচ্ছে, নিছক তাচ্ছিল্য ও অবমাননার উদ্দেশ্য। কোন শাস্তিযোগ্য অপরাধীর অবমাননা ও লাঞ্ছনার জন্য যখন এ ধরণের কথা বলা হয় তখন এর চেয়ে হৃদয়বিদারক কটু কথা ও কষ্টদায়ক কথা আর কিছুই হতে পারে না। সূরা যুমারের ৭১ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।



(لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ)



‘যদি আমরা শুনতাম!’ এ কথা জাহান্নামীরা আফসোস করে বলবে। কিন্তু সে আফসোস কোন কাজে আসবে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য না করা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ।

২. দুনিয়াতেই আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহ করা উচিত, কারণ আখিরাতে আফসোস করে কাজে আসবে না।

৩. জাহান্নামে অবস্থানকারীরা জাহান্নামে সর্বদাই চিৎকার করতে থাকবে।

৪. কাফিররা আখিরাতে স্বীকার করবে যে, তারা দুনিয়াতে নাবী-রাসূলদের আনুগত্য করেনি।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৬-১১ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ যারা তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি এবং ওটা কত মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল! এটা গাধার মত উচ্চ ও অপছন্দনীয় শব্দকারী ও উত্তেজনাপূর্ণ জাহান্নাম। এই জাহান্নামের আগুনে তারা জ্বলতে পুড়তে থাকবে। যখন তারা এই জাহান্নামের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হবে তখন তারা ঐ জাহান্নামের শব্দ শুনবে, আর ওটা হবে উদ্বেলিত।

ঐ জাহান্নামীদেরকে অত্যধিক লাঞ্ছিত করা এবং তাদের উপর শেষ যুক্তি প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবেনঃ ‘ওরে হতভাগ্যের দল! আল্লাহর রাসূলগণ কি তোমাদেরকে এটা হতে ভয় প্রদর্শন করেননি?' তখন তারা হায়, হায় করতে করতে উত্তর দিবেঃ ‘অবশ্যই আমাদের নিকট আল্লাহর রাসূলগণ সতর্ককারীরূপে এসেছিলেন এবং আমাদেরকে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু বড়ই দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, আমরা তাঁদেরকে মিথ্যাবাদী রূপে গণ্য করেছিলাম এবং বলেছিলামঃ আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি, আপনারা তো মহাবিভ্রান্তিতে রয়েছেন। এখন আল্লাহর ইনসাফ পরিষ্কারভাবে সাব্যস্ত হয়ে গেছে এবং তাঁর ফরমান পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি যা বলেছিলেন তাই বাস্তবে রূপায়িত হয়েছে।’ যেমন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “আমি শাস্তি প্রদান করি না যে পর্যন্ত না আমি রাসূল প্রেরণ করি।” (১৭:১৫) আর এক জায়গায় আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “যখন তারা জাহান্নামের নিকট উপস্থিত হবে তখন ওর প্রবেশদ্বারগুলো খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবেঃ তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য হতে রাসূল আসেনি যারা তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের আয়াত আবৃত্তি করতো এবং এই দিনের সাক্ষাৎ সম্বন্ধে তোমাদেরকে সতর্ক করতো? তারা বলবেঃ অবশ্যই এসেছিল। বস্তুতঃ কাফিরদের প্রতি শাস্তির কথা বাস্তবায়িত হয়েছে।” (৩৯:৭১) এভাবে তারা নিজেরা নিজেদেরকে তিরস্কার করবে এবং বলবেঃ যদি আমরা শুনতাম অথবা বিবেক বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম তবে আমরা জাহান্নামবাসী হতাম না। অর্থাৎ আমরা বিবেক প্রয়োগ করলে প্রতারিত হতাম না এবং আমাদের মালিক ও খালিক আল্লাহকে অস্বীকার করতাম না। তাঁর রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী জানতাম না এবং তাদের আনুগত্য হতে মুখ ফিরিয়ে নিতাম না।

আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ তারা নিজেরাই তো তাদের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছে। সুতরাং তাদের জন্যে অভিশাপ!

মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “মানুষ কখনো ধ্বংস হবে না যে পর্যন্ত না তারা নিজেরাই নিজেদের অকল্যাণ দেখে নিবে এবং নিজেদের অপরাধ স্বীকার করবে।” অন্য হাদীসে রয়েছেঃ “কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না যে পর্যন্ত না সে নিজেই বুঝতে পারবে যে, সে জাহান্নামে যাবারই যোগ্য জান্নাতে নয়।`





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।