আল কুরআন


সূরা আল-মুলক (আয়াত: 30)

সূরা আল-মুলক (আয়াত: 30)



হরকত ছাড়া:

قل أرأيتم إن أصبح ماؤكم غورا فمن يأتيكم بماء معين ﴿٣٠﴾




হরকত সহ:

قُلْ اَرَءَیْتُمْ اِنْ اَصْبَحَ مَآؤُکُمْ غَوْرًا فَمَنْ یَّاْتِیْکُمْ بِمَآءٍ مَّعِیْنٍ ﴿۳۰﴾




উচ্চারণ: কুল আরাআইতুম ইন আসবাহা মাউকুম গাওরান ফামাইঁ ইয়া’তীকুম বিমাইম মা‘ঈন।




আল বায়ান: বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদেরকে বহমান পানি এনে দিবে’ ?




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩০. বলুন, তোমরা আমাকে জানাও, যদি পানি ভূগর্ভে তোমাদের নাগালের বাইরে চলে যায়, তখন কে তোমাদেরকে এনে দেবে প্ৰবাহমান পানি?




তাইসীরুল ক্বুরআন: বল, ‘‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের তলদেশে চলে যায়, তাহলে তোমাদেরকে কে এনে দেবে প্রবহমান পানি?’’




আহসানুল বায়ান: (৩০) বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি? যদি পানি ভূগর্ভে তোমাদের নাগালের বাইরে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদেরকে এনে দেবে প্রবহমান পানি?’ [1]



মুজিবুর রহমান: বলঃ তোমরা ভেবে দেখেছ কি, কোনো এক ভোরে যদি পানি ভূ-গর্ভে তোমাদের নাগালের বাইরে চলে যায় তাহলে কে তোমাদেরকে এনে দিবে প্রবাহমান পানি?



ফযলুর রহমান: বল, “তোমরা আমাকে বল তো, যদি তোমাদের (সব) পানি ভূগর্ভে চলে যায়, তাহলে (আল্লাহ ছাড়া) তোমাদের জন্য পানির প্রবাহ কে নিয়ে আসবে?”



মুহিউদ্দিন খান: বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের গভীরে চলে যায়, তবে কে তোমাদেরকে সরবরাহ করবে পানির স্রোতধারা?



জহুরুল হক: বলে যাও -- "তোমরা কি ভেবে দেখেছ -- যদি তোমাদের পানি সাত-সকালে ভূগর্ভে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদের জন্য নিয়ে আসবে প্রবহমান পানি?"



Sahih International: Say, "Have you considered: if your water was to become sunken [into the earth], then who could bring you flowing water?"



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩০. বলুন, তোমরা আমাকে জানাও, যদি পানি ভূগর্ভে তোমাদের নাগালের বাইরে চলে যায়, তখন কে তোমাদেরকে এনে দেবে প্ৰবাহমান পানি?


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩০) বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি? যদি পানি ভূগর্ভে তোমাদের নাগালের বাইরে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদেরকে এনে দেবে প্রবহমান পানি?” [1]


তাফসীর:

[1] غَوْرٌ শব্দের অর্থ হল শুকিয়ে যাওয়া অথবা পানির এত গভীরে চলে যাওয়া যে, সেখান হতে তা বের করা অসম্ভব হয়। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা যদি পানি শুকিয়ে দিয়ে তার অস্তিত্বই শেষ করে দেন অথবা মাটির এত গভীরে করে দেন, যেখান থেকে পানি বের করতে সর্বপ্রকার যন্ত্র ব্যর্থ সাব্যস্ত হয়, তাহলে বল, কে আছে এমন, যে তোমাদের জন্য প্রবহমান ও নির্মল পানির ব্যবস্থা করে দেবে? অর্থাৎ, কেউ নেই। এটা মহান আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহ যে, তোমাদের অবাধ্যতা সত্ত্বেও তিনি তোমাদেরকে পানি থেকে বঞ্চিত করেননি।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৮-৩০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



যারা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ধ্বংস কামনা করত আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে বলে দেওয়ার জন্য নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলছেন- বলে দাও : যদি তোমরা নিরাপদ থেকে যাও আর আল্লাহ তা‘আলা আমাকে ও আমার অনুসারীদের ধ্বংস করে দেন তাহলে এতে তোমাদের কোন উপকার হবে না। কেননা তোমরা আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনকে অস্বীকার করছো, অতএব তোমাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি থেকে কে নাজাত দেবে? হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আরো বলে দাও যে, আমি দয়াময় আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর ওপর ভরসা করি। অতএব অচিরেই জানতে পারবে কে পথভ্রষ্ট।



غَوْرًا অতল তলে চলে যাওয়া। অর্থাৎ যদি পানি জমিনের অতলতলে মানুষের ক্ষমতার বাইরে চলে যায় তাহলে এনে দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই রাখেন। এটি মানুষের জীবনে অতি ঘনিষ্ট ও অতি প্রয়োজনীয় বরং অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ। বিশেষ করে মরু অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের। কারণ তারা যেখানে কোন কূপ বা পানির নালা পেত সেখানেই বসবাস করতো। তাই আল্লাহ তা‘আলা তাদের জীবন ধারণের এ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সম্পর্কে বলছেন যদি এ পানি অতলতলে চলে যায় তাহলে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই এনে দিতে পারেন, অন্য কেউ না।



সুতরাং মানুষের মনমগজে যদি আল্লাহ তা‘আলার সার্বভৌমত্ব ও সর্বশক্তিমান হওয়ার বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে এবং বিশ্বাস করে যে, তাদের ক্ষণিকের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে অতঃপর তাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে ও সকল কর্মের হিসাব দিতে হবে তাহলে তার দ্বারা কোন প্রকার অবাধ্যতামূলক কাজ হওয়া সম্ভব নয়।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করা ওয়াজিব।

২. সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং বাতিলকে দূরীভূত করার জন্য তর্ক-বিতর্ক করা শরীয়ত সম্মত।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৮-৩০ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ হে নবী (সঃ)! যে মুশরিকরা আল্লাহ তা'আলার নিয়ামতরাজিকে অস্বীকার করছে তাদেরকে বলে দাও- তোমরা এটা কামনা করছে যে, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই, তাহলে মনে কর যে, যদি আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্তই করেন অথবা তিনি আমার উপর এবং আমার সঙ্গীদের উপর দয়াপরবশ হন তবে তোমাদের তাতে কি? এর ফলে তোমাদের মুক্তি নেই। তোমাদের মুক্তির উপায় তো এটা নয়! মুক্তি তো নির্ভর করে তাওবার উপর, তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ার উপর এবং তাঁর দ্বীনকে মেনে নেয়ার উপর। আমাদের রক্ষা বা ধ্বংসের উপর তোমাদের মুক্তি নির্ভর করে না। সুতরাং আমাদের সম্পর্কে চিন্তা পরিত্যাগ করে নিজেদের মুক্তির উপায় অনুসন্ধান কর।

এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ আমরা পরম করুণাময় আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি। আমাদের সমস্ত কাজ কারবারে আমরা তাঁরই উপর নির্ভর করি। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তোমরা তাঁরই ইবাদত কর এবং তাঁরই উপর ভরসা কর।” (১১:১২৩)

মহান আল্লাহ বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি মুশরিকদেরকে আরো বলে দাও- শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে। অর্থাৎ হে মুশরিকরা! তোমরা অচিরেই জানতে পারবে যে, দুনিয়া ও আখিরাতে কে পরিত্রাণ লাভ করে আর কে হয় ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত। হিদায়াতের উপর কে রয়েছে, আর কার উপর আল্লাহর গযব পতিত হয়েছে এবং মন্দ পথে আছে কে?

মহামহিমান্বিত আল্লাহ এরপর বলেনঃ যে পানির উপর মানুষের জীবন নির্ভরশীল এই পানি যদি যমীন শোষণ করে নেয় অর্থাৎ এই পানি যদি ভূগর্ভ হতে বেরই না হয় এবং তা বের করার জন্যে তোমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেও যদি অসমর্থ হও তবে আল্লাহ ছাড়া কেউ আছে কি যে এই প্রবহমান পানি তোমাদেরকে এনে দিতে পারে? অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কেউই তোমাদেরকে এ পানি এনে দিতে পারে না। একমাত্র আল্লাহই এর উপর ক্ষমতাবান। তিনিই আল্লাহ যিনি তাঁর ফযল ও করমে পবিত্র ও স্বচ্ছ পানি ভূ-পৃষ্ঠে প্রবাহিত করে থাকেন যা এদিক হতে ওদিকে চলাচল করে এবং বান্দাদের প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা মানুষের প্রয়োজন অনুপাতে নদী প্রবাহিত করে থাকেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।