আল কুরআন


সূরা আল-মুলক (আয়াত: 29)

সূরা আল-মুলক (আয়াত: 29)



হরকত ছাড়া:

قل هو الرحمن آمنا به وعليه توكلنا فستعلمون من هو في ضلال مبين ﴿٢٩﴾




হরকত সহ:

قُلْ هُوَ الرَّحْمٰنُ اٰمَنَّا بِهٖ وَ عَلَیْهِ تَوَکَّلْنَا ۚ فَسَتَعْلَمُوْنَ مَنْ هُوَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ ﴿۲۹﴾




উচ্চারণ: কুল হুওয়াররাহমা-নুআ-মান্না-বিহী ওয়া‘আলাইহি তাওয়াক্কালনা-, ফাছাতা‘লামূনা মান হুওয়া ফী দালা-লিম মুবীন।




আল বায়ান: বল, ‘তিনিই পরম করুণাময়। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করেছি। কাজেই তোমরা অচিরেই জানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে’?




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৯. বলুন, তিনিই রহমান, আমরা তাঁর উপর ঈমান এনেছি, এবং তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করেছি। অতঃপর অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্ৰান্তিতে রয়েছে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: বল, ‘তিনিই দয়াময়, আমরা তাঁর উপরেই ঈমান রাখি, আর তাঁর উপরেই নির্ভর করি। তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কে সুস্পষ্ট গুমরাহীতে আছে (আমরা না তোমরা)।’




আহসানুল বায়ান: (২৯) বল, ‘তিনি পরম দয়াময়, আমরা তাতে বিশ্বাস করি[1] ও তাঁরই উপর নির্ভর করি।[2] সুতরাং শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।’[3]



মুজিবুর রহমান: বলঃ তিনি দয়াময়, আমরা তাঁকে বিশ্বাস করি ও তাঁরই উপর নির্ভর করি, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।



ফযলুর রহমান: বল, “তিনি পরম করুণাময়; আমরা তাঁকে বিশ্বাস করি এবং তাঁর ওপর ভরসা করি। তোমরা অচিরেই জানবে, কে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে।”



মুহিউদ্দিন খান: বলুন, তিনি পরম করুণাময়, আমরা তাতে বিশ্বাস রাখি এবং তাঁরই উপর ভরসা করি। সত্ত্বরই তোমরা জানতে পারবে, কে প্রকাশ্য পথ-ভ্রষ্টতায় আছে।



জহুরুল হক: বলো -- "তিনি পরম করুণাময়, আমরা তাঁতে ঈমান এনেছি এবং তাঁরই উপরে আমরা আস্থা রেখেছি, সুতরাং অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কে সেইজন যে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।"



Sahih International: Say, "He is the Most Merciful; we have believed in Him, and upon Him we have relied. And you will [come to] know who it is that is in clear error."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৯. বলুন, তিনিই রহমান, আমরা তাঁর উপর ঈমান এনেছি, এবং তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করেছি। অতঃপর অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্ৰান্তিতে রয়েছে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৯) বল, ‘তিনি পরম দয়াময়, আমরা তাতে বিশ্বাস করি[1] ও তাঁরই উপর নির্ভর করি।[2] সুতরাং শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।”[3]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, তাঁর একত্ববাদের উপর। এই জন্য তাঁর সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করি না।

[2] অন্য কারোর উপর নয়। আমি আমার যাবতীয় ব্যাপার তাঁকেই সোপর্দ করি, অন্য কাউকে নয়। যেমন মুশরিকরা অন্যকে করে থাকে।

[3] তোমরা, নাকি আমরা? এতে কাফেরদের প্রতি কঠোর ধমক রয়েছে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৮-৩০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



যারা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ধ্বংস কামনা করত আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে বলে দেওয়ার জন্য নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলছেন- বলে দাও : যদি তোমরা নিরাপদ থেকে যাও আর আল্লাহ তা‘আলা আমাকে ও আমার অনুসারীদের ধ্বংস করে দেন তাহলে এতে তোমাদের কোন উপকার হবে না। কেননা তোমরা আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনকে অস্বীকার করছো, অতএব তোমাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি থেকে কে নাজাত দেবে? হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আরো বলে দাও যে, আমি দয়াময় আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর ওপর ভরসা করি। অতএব অচিরেই জানতে পারবে কে পথভ্রষ্ট।



غَوْرًا অতল তলে চলে যাওয়া। অর্থাৎ যদি পানি জমিনের অতলতলে মানুষের ক্ষমতার বাইরে চলে যায় তাহলে এনে দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই রাখেন। এটি মানুষের জীবনে অতি ঘনিষ্ট ও অতি প্রয়োজনীয় বরং অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ। বিশেষ করে মরু অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের। কারণ তারা যেখানে কোন কূপ বা পানির নালা পেত সেখানেই বসবাস করতো। তাই আল্লাহ তা‘আলা তাদের জীবন ধারণের এ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সম্পর্কে বলছেন যদি এ পানি অতলতলে চলে যায় তাহলে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই এনে দিতে পারেন, অন্য কেউ না।



সুতরাং মানুষের মনমগজে যদি আল্লাহ তা‘আলার সার্বভৌমত্ব ও সর্বশক্তিমান হওয়ার বিশ্বাস বিদ্যমান থাকে এবং বিশ্বাস করে যে, তাদের ক্ষণিকের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে অতঃপর তাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে ও সকল কর্মের হিসাব দিতে হবে তাহলে তার দ্বারা কোন প্রকার অবাধ্যতামূলক কাজ হওয়া সম্ভব নয়।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করা ওয়াজিব।

২. সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং বাতিলকে দূরীভূত করার জন্য তর্ক-বিতর্ক করা শরীয়ত সম্মত।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৮-৩০ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ হে নবী (সঃ)! যে মুশরিকরা আল্লাহ তা'আলার নিয়ামতরাজিকে অস্বীকার করছে তাদেরকে বলে দাও- তোমরা এটা কামনা করছে যে, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই, তাহলে মনে কর যে, যদি আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্তই করেন অথবা তিনি আমার উপর এবং আমার সঙ্গীদের উপর দয়াপরবশ হন তবে তোমাদের তাতে কি? এর ফলে তোমাদের মুক্তি নেই। তোমাদের মুক্তির উপায় তো এটা নয়! মুক্তি তো নির্ভর করে তাওবার উপর, তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ার উপর এবং তাঁর দ্বীনকে মেনে নেয়ার উপর। আমাদের রক্ষা বা ধ্বংসের উপর তোমাদের মুক্তি নির্ভর করে না। সুতরাং আমাদের সম্পর্কে চিন্তা পরিত্যাগ করে নিজেদের মুক্তির উপায় অনুসন্ধান কর।

এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ আমরা পরম করুণাময় আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি। আমাদের সমস্ত কাজ কারবারে আমরা তাঁরই উপর নির্ভর করি। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তোমরা তাঁরই ইবাদত কর এবং তাঁরই উপর ভরসা কর।” (১১:১২৩)

মহান আল্লাহ বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি মুশরিকদেরকে আরো বলে দাও- শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে। অর্থাৎ হে মুশরিকরা! তোমরা অচিরেই জানতে পারবে যে, দুনিয়া ও আখিরাতে কে পরিত্রাণ লাভ করে আর কে হয় ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত। হিদায়াতের উপর কে রয়েছে, আর কার উপর আল্লাহর গযব পতিত হয়েছে এবং মন্দ পথে আছে কে?

মহামহিমান্বিত আল্লাহ এরপর বলেনঃ যে পানির উপর মানুষের জীবন নির্ভরশীল এই পানি যদি যমীন শোষণ করে নেয় অর্থাৎ এই পানি যদি ভূগর্ভ হতে বেরই না হয় এবং তা বের করার জন্যে তোমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেও যদি অসমর্থ হও তবে আল্লাহ ছাড়া কেউ আছে কি যে এই প্রবহমান পানি তোমাদেরকে এনে দিতে পারে? অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কেউই তোমাদেরকে এ পানি এনে দিতে পারে না। একমাত্র আল্লাহই এর উপর ক্ষমতাবান। তিনিই আল্লাহ যিনি তাঁর ফযল ও করমে পবিত্র ও স্বচ্ছ পানি ভূ-পৃষ্ঠে প্রবাহিত করে থাকেন যা এদিক হতে ওদিকে চলাচল করে এবং বান্দাদের প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা মানুষের প্রয়োজন অনুপাতে নদী প্রবাহিত করে থাকেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।