আল কুরআন


সূরা আল-মুলক (আয়াত: 25)

সূরা আল-মুলক (আয়াত: 25)



হরকত ছাড়া:

ويقولون متى هذا الوعد إن كنتم صادقين ﴿٢٥﴾




হরকত সহ:

وَ یَقُوْلُوْنَ مَتٰی هٰذَا الْوَعْدُ اِنْ کُنْتُمْ صٰدِقِیْنَ ﴿۲۵﴾




উচ্চারণ: ওয়া ইয়াকূলূনা মাতা-হা-যাল ওয়া‘দুইন কুনতুম সা-দিকীন।




আল বায়ান: আর তারা বলে, ‘সে ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৫. আর তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, এ প্রতিশ্রুতি কখন বাস্তবায়িত হবে?




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হয়েই থাক তাহলে বল (ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়ার) ও‘য়াদা কখন (বাস্তবায়িত হবে)?




আহসানুল বায়ান: (২৫) তারা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তাহলে বল, এই প্রতিশ্রুতি কখন বাস্তবায়িত হবে?’ [1]



মুজিবুর রহমান: তারা বলেঃ তোমরা যদি সত্যবাদী হও তাহলে বল, এই প্রতিশ্রুতি কখন বাস্তবায়িত হবে?



ফযলুর রহমান: তারা বলে, “এই প্রতিশ্রুতি কবে (পূরণ) হবে? যদি তোমরা সত্যবাদী হও (তাহলে বল)।”



মুহিউদ্দিন খান: কাফেররা বলেঃ এই প্রতিশ্রুতি কবে হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?



জহুরুল হক: আর তারা বলে -- "কখন এই ওয়াদা হবে? যদি তোমরা সত্যবাদী হও।"



Sahih International: And they say, "When is this promise, if you should be truthful?"



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৫. আর তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে বল, এ প্রতিশ্রুতি কখন বাস্তবায়িত হবে?


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৫) তারা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তাহলে বল, এই প্রতিশ্রুতি কখন বাস্তবায়িত হবে?” [1]


তাফসীর:

[1] এ কথা কাফেররা ঠাট্টা ও বিদ্রূপ করে এবং কিয়ামতকে বহু দূর মনে করে বলত।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২০-২৭ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



যারা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্যদের ইবাদত করে এবং তাদের কাছে সাহায্য চায় ও রিযিক তলব করে তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের প্রতিবাদে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন : তাদের কি এমন কোন বাহিনী আছে- যে তাদেরকে সম্পদ, সন্তান প্রদান ও বিপদাপদ থেকে রক্ষা করতে পারবে? না, এরূপ কিছুই নেই, বরং আকাশ ও জমিনের সকল বাহিনী আল্লাহ তা‘আলার। বরং তারা ধোঁকায় পড়ে আছে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(وَلِلّٰهِ جُنُوْدُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ ط وَكَانَ اللّٰهُ عَزِيْزًا حَكِيْمًا)



“আসমান ও জমিনের সব সেনাবাহিনী আল্লাহরই হাতে রয়েছে। তিনি মহা শক্তিশালী ও প্রজ্ঞাময়।” (সূরা ফাতহ ৪৮ : ৭)



এরপর আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সামনে জীবিকার ব্যাপারে একটি প্রশ্ন তুলে ধরছেন এ জীবিকা সে প্রতিনিয়ত উপভোগ করছে অথচ তা কোথা থেকে এলো একটু চিন্তা করছে না, অথবা এ জীবিকা কখনো বন্ধ হয়ে যেতে পারে কিনা ইত্যাদি।



(إِنْ أَمْسَكَ رِزْقَه۪)



অর্থাৎ যদি আল্লাহ তা‘আলা কোন প্রকার রিযিক প্রদান না করেন তাহলে কে আছে যে রিযিক দেবে? অর্থাৎ কেউ নেই। মানুষ বলতে পারে, আমরাই তো কষ্ট করে ফসল ফলাই, নিজেরা কষ্ট না করলে তো রিযিক পাচ্ছিনা? তাহলে আল্লাহ তা‘আলা রিযিক কিভাবে দিল? আসলে আমরা যদি একটু চিন্তা করি যে, আমরা যে ফসল ফলাই তার জন্য সূর্যের আলো, পানি, উর্বর জমি, ঋতুর পরিবর্তন ইত্যাদি প্রয়োজন হয়। আল্লাহ তা‘আলা এসব না দিলে আমরা কি ফসল ফলাতে পারব? কখনোই না। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা আমাদের জন্য এসব দিয়ে দিয়েছেন।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(أَفَرَأَيْتُمْ مَّا تَحْرُثُوْنَ أَأَنْتُمْ تَزْرَعُوْنَهٓ۫ أَمْ نَحْنُ الزّٰرِعُوْنَ لَوْ نَشَا۬ءُ لَجَعَلْنٰهُ حُطَامًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُوْنَ)



“তোমরা যে বীজ বপন কর সে বিষয়ে চিন্তা করেছ কি? তোমরা কি ওকে অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি? আমি ইচ্ছা করলে একে খড়কুটোয় পরিণত করতে পারি, তখন তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে” (সূরা ওয়াকিয়া ৫৬ : ৬৪)



(عُتُوٍّ وَّنُفُوْرٍ) অর্থাৎ তারা তাদের অবাধ্যতা ও ভ্রষ্টতার মধ্যে অবিচল রয়েছে। তারপর আল্লাহ তা‘আলা মু’মিন ও কাফিরদের একটি উদাহরণ দিচ্ছেন। কাফিরদের উদাহরণ সে ব্যক্তির মত যে মুখে ভর দিয়ে চলে ও ডান-বামে কিছুই দেখতে পায় না। যে ব্যক্তি মুখে ভর দিয়ে চলে সে যেমন গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না তেমন কাফিররাও গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না।



(يَّمْشِيْ سَوِيًّا)



অর্থাৎ যে ব্যক্তি সরল-সঠিক পথে চলে। এটা হল মু’মিনদের বৈশিষ্ট্য। মু’মিনরা সরল সঠিক পথে চলে যা তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। আর কাফিরদেরকে চেহারার ওপর দিয়ে হাঁকিয়ে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(اُحْشُرُوا الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا وَاَزْوَاجَھُمْ وَمَا کَانُوْا یَعْبُدُوْنَﭥﺫ مِنْ دُوْنِ اللہِ فَاھْدُوْھُمْ اِلٰی صِرَاطِ الْجَحِیْمِﭦ وَقِفُوْھُمْ اِنَّھُمْ مَّسْئُوْلُوْنَﭧﺫ مَا لَکُمْ لَا تَنَاصَرُوْنَﭨ بَلْ ھُمُ الْیَوْمَ مُسْتَسْلِمُوْنَﭩ)



“(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে :) একত্র কর জালিমদেরকে এবং তাদের সাথীদেরকে আর তাদেরকে যাদের তারা ‘ইবাদত করত আল্লাহ ব্যতীত। অতএব তাদেরকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাও জাহান্নামের পথে। আর তাদেরকে একটু থামাও, অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞাস করা হবে। তোমাদের কী হল যে, একে অন্যের সাহায্য করছ না। বরং সেদিন তারা সবাই হবে আত্মসমর্পণকারী।” ( সূরা সফফাত ৩৭ : ২২-২৬)



আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে যে সকল নেয়ামত দান করেছেন, এখানে তার মধ্যে অন্যতম কয়েকটির কথা উল্লেখ করেছেন। মানব দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল কান ও চোখ। কান ও চোখ না থাকলে সে বাহ্যিকভাবে সম্পূর্ণ অচল, সে চলতে পারবে না, কিছু দেখতে পাবে না এবং শুনতেও পাবে না। আর অন্তরশক্তি না থাকলে ভাল-মন্দ ও সত্য-মিথ্যা কিছুই পার্থক্য করতে পারবে না। অথচ এসব নেয়ামত পাওয়ার পরেও অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ তা‘আলার অকৃতজ্ঞ হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(وَقَلِيْلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُوْرُ)



“আমার বান্দাদের মধ্যে খুব অল্পই কৃতজ্ঞ।” (সূরা সাবা ৩৪ : ১২)



অতঃপর মক্কার মুশরিকরা কিয়ামতকে অস্বীকার করে বলত : কিয়ামত কখন হবে? কিয়ামত কখন হবে-আল্লাহ তা‘আলা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে বললেন যে, তুমি বলে দাও : এ জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার কাছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিবরীল কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন : জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে বেশি জানেনা। (সহীহ বুখারী হা. ৪৭৭৭, সহীহ মুসলিম হা. ৮)



অর্থাৎ কিয়ামতকে অস্বীকার করার কারণে কাফিররা কিয়ামতের দিন দিশেহারা হয়ে যাবে, চেহারা মলিন হয়ে যাবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. কাফিররা বাস্তবেই ধোঁকায় আছে।

২. আল্লাহ তা‘আলা রিযিক বন্ধ করে দিলে তা পুনরায় দেওয়ার কেউ নেই। অতএব তাঁর কাছেই সকল প্রকার রিযিক চাওয়া উচিত।

৩. আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত।

৪. পুনরুত্থান দিবসের সময় সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহই জানেন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২০-২৭ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের বিশ্বাসকে খণ্ডন করছেন যারা ধারণা করতো যে, তারা যে বুযুর্গদের ইবাদত করছে তারা তাদেরকে সাহায্য করতে পারে এবং তাদেরকে আহার্য দান করতে তারা সক্ষম। তাই আল্লাহ পাক বলেনঃ আল্লাহ ছাড়া না কেউ সাহায্য করতে পারে, না আহার্য দান করতে পারে। কাফিরদের বিশ্বাস প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়। তারা বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে।

মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ এমন কে আছে, যে তোমাদেরকে জীবনোপকরণ দান করবে, তিনি যদি জীবনোপকরণ বন্ধ করে দেন? অর্থাৎ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তোমাদের জীবনোপকরণ বন্ধ করে দিলে কেউ তা চালু করতে পারে না। দেয়া-নেয়ার উপর, সৃষ্টি করার উপর, ধ্বংস করার উপর, জীবিকা দানের উপর এবং সাহায্য দানের উপর একমাত্র এক ও লা-শাতরীক আল্লাহই ক্ষমতাবান। এ লোকগুলো নিজেরাও এটা জানে, তথাপি কাজকর্মে তার সাথে অন্যদেরকে শরীক করে থাকে। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, এই কাফিররা নিজেদের ভ্রান্তি, পাপ এবং ঔদ্ধত্যের মধ্যে ভেসে চলেছে। তাদের স্বভাবের মধ্যে হঠকারিতা, অহংকার, সত্যের অস্বীকৃতি এবং হকের বিরুদ্ধাচরণ বাসা বেঁধেছে। এমন কি ভাল কথা শুনতেও তাদের মনে চায় না, আমল করা তো দূরের কথা। এরপর আল্লাহ পাক মুমিন ও কাফিরদের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করছেন যে, কাফিরদের দৃষ্টান্ত এমন যেমন কোন লোক মাথা ঝুঁকিয়ে, দৃষ্টি নিম্নমুখী করে চলতে রয়েছে, না সে পথ দেখছে, না তার জানা আছে যে, সে কোথায় চলছে, বরং উদ্বিগ্ন অবস্থায় পথ ভুলে হতভম্ব হয়ে গেছে। আর মুমিনের দৃষ্টান্ত এমন যেমন কোন লোক সরল সোজা পথে চলতে রয়েছে। রাস্তা খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং একেবারে সোজা, ওতে কোন বক্রতা নেই। ঐ লোকটির কাছে ওটা খুবই পরিচিত পথ। সে বরাবর সঠিকভাবে উত্তম চলনে চলতে আছে। কিয়ামতের দিন তাদের এই অবস্থাই হবে। কাফিরদেরকে উল্টোমুখে জাহান্নামে একত্রিত করা হবে। আর মুসলমানরা সসম্মানে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “ফেরেশতাদেরকে বলা হবেঃ একত্রিত কর যালিম ও তাদের সহচরদেরকে এবং তাদেরকে যাদের ইবাদত করতো তারা আল্লাহর পরিবর্তে এবং তাদেরকে পরিচালিত কর জাহান্নামের পথে।” (৩৭:২২-২৩)

মুসনাদে আহমাদে হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়ঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! কিভাবে লোকদেরকে মুখের ভরে চালিত করা হবে?` উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “যিনি পায়ের ভরে চালিত করেছেন তিনি মুখের ভরে চালিত করতেও সক্ষম।” (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমেও এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে)

মহান আল্লাহ বলেনঃ তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, অর্থাৎ তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন যখন তোমরা উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিলে না। আর তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ। অর্থাৎ তোমাদেরকে দিয়েছেন জ্ঞান, বুদ্ধি ও অনুভূতি শক্তি। কিন্তু তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো। অর্থাৎ আল্লাহ প্রদত্ত তোমাদের এ শক্তিগুলোকে তাঁর নির্দেশ পালনে এবং তাঁর অবাধ্যাচরণ হতে বেঁচে থাকার কাজে তোমরা অল্পই ব্যয় করে থাকো।

তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তোমাদের ভাষা করেছেন পৃথক, বর্ণ ও আকৃতি করেছেন পৃথক পৃথক এবং তোমাদেরকে ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এরপর তাঁরই নিকট তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। অর্থাৎ তোমাদের এই বিভিন্নতা ও বিচ্ছিন্নতার পর তোমাদেরকে আল্লাহ তা'আলার নিকট একত্রিত করা হবে। তিনি যেভাবে তোমাদেরকে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে দিয়েছেন ঐ ভাবেই তিনি একদিকে গুটিয়ে নিবেন। আর যেভাবে তিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন সেভাবেই তিনি তোমাদের পুনরুত্থান ঘটাবেন।

এরপর আল্লাহ পাক বলেন যে, কাফিররা পুনরুত্থানকে বিশ্বাস করে না বলে এই পুনর্জীবন ও পুনরুত্থানের বর্ণনা শুনে প্রতিবাদ করে বলেঃ এই প্রতিশ্রুতি কখন বাস্তবায়িত হবে? অর্থাৎ আমাদেরকে যে পুনরুত্থানের সংবাদ দেয়া হচ্ছে তা যদি সত্য হয় তবে হে মুহাম্মাদ (সঃ)! আমাদেরকে বলে দাও, এটা কখন সংঘটিত হবে?

তাদের এই প্রশ্নের উত্তরে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি তাদেরকে বলে দাওঃ কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে এ জ্ঞান আমার নেই। এর জ্ঞান তো একমাত্র আল্লাহ তা'আলারই রয়েছে। হ্যাঁ, আমাকে শুধু এটুকু জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, অবশ্যই ঐ সময় আসবে। আমি তো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র। আমি তোমাদেরকে ঐ দিনের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করছি। আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য শুধু তোমাদের নিকট এসব খবর পৌঁছিয়ে দেয়া, যা আমি পালন করেছি। সুতরাং আল্লাহ পাকেরই জন্যে সমস্ত প্রশংসা।

এরপর ইরশাদ হচ্ছেঃ যখন কিয়ামত সংঘটিত হতে শুরু করবে এবং কাফিররা তা স্বচক্ষে দেখে নিবে এবং জেনে নিবে যে, ওটা এখন নিকটবর্তী হয়ে গেছে, কেননা আগমনকারী প্রত্যেক জিনিসের আগমন ঘটবেই, তা সত্বরই হোক অথবা বিলম্বেই হোক, যখন তারা এটাকে সংঘটিত অবস্থায় পেয়ে নিবে যেটাকে তারা এ পর্যন্ত মিথ্যা মনে করছিল, তখন এটা তাদের কাছে খুবই অপ্রীতিকর মনে হবে। কেননা তারা নিজেদের উদাসীনতার প্রতিফল সামনে দেখতে পাবে। তখন তাদেরকে ধমকের সুরে এবং লাঞ্ছিত করার লক্ষ্যে বলা হবেঃ এটাই তো তোমরা চাচ্ছিলে!





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।