আল কুরআন


সূরা আল-মুনাফিকূন (আয়াত: 10)

সূরা আল-মুনাফিকূন (আয়াত: 10)



হরকত ছাড়া:

وأنفقوا من ما رزقناكم من قبل أن يأتي أحدكم الموت فيقول رب لولا أخرتني إلى أجل قريب فأصدق وأكن من الصالحين ﴿١٠﴾




হরকত সহ:

وَ اَنْفِقُوْا مِنْ مَّا رَزَقْنٰکُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ یَّاْتِیَ اَحَدَکُمُ الْمَوْتُ فَیَقُوْلَ رَبِّ لَوْ لَاۤ اَخَّرْتَنِیْۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیْبٍ ۙ فَاَصَّدَّقَ وَ اَکُنْ مِّنَ الصّٰلِحِیْنَ ﴿۱۰﴾




উচ্চারণ: ওয়া আনফিকূমিম্মা-রাযাকনা-কুম মিন কাবলি আইঁ ইয়া’তিয়া আহাদাকুমুল মাওতু ফাইয়াকূলা রাব্বি লাওলা আখখারতানী ইলা আজালিন কারীবিন ফাআসসাদ্দাকা ওয়া আকুম মিনাসসা-লিহীন।




আল বায়ান: আর আমি তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় কর, তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে। কেননা তখন সে বলবে, হে আমার রব, যদি আপনি আমাকে আরো কিছু কাল পর্যন্ত অবকাশ দিতেন, তাহলে আমি দান-সদাকা করতাম। আর সৎ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০. আর আমরা তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তোমরা তা থেকে ব্যয় করবে তোমাদের কারও মৃত্যু আসার আগে। (অন্যথায় মৃত্যু আসলে সে বলবে,) হে আমার রব! আমাকে আরো কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সাদাকাহ দিতাম ও সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম!(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: যে রিযক আমি তোমাদেরকে দিয়েছি তাত্থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় কর তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে। নচেৎ (মৃত্যু এসে গেলে) সে বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে আরো কিছুকালের অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদাক্বাহ করতাম আর সৎকর্মশীলদের মধ্যে শামিল হয়ে যেতাম।’




আহসানুল বায়ান: (১০) আমি তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছি, তোমরা তা হতে ব্যয় কর[1] তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে (অন্যথা মৃত্যু আসলে সে বলবে,) ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আরো কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে না কেন? [2] তাহলে আমি সাদাকা করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’



মুজিবুর রহমান: আমি তোমাদেরকে যে রিয্ক দিয়েছি তোমরা তা হতে ব্যয় করবে তোমাদের কারও মৃত্যু আসার পূর্বে; অন্যথায় সে বলবেঃ হে আমার রাব্ব! আমাকে আরও কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সাদাকাহ করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।



ফযলুর রহমান: আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো, তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে। মৃত্যু এসে পড়লে তো সে বলবে, “প্রভু! আমাকে আরো কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদ্‌কা করতাম এবং সৎ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।”



মুহিউদ্দিন খান: আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় কর। অন্যথায় সে বলবেঃ হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।



জহুরুল হক: আর আমরা তোমাদের যা জীবনোপকরণ দিয়েছি তা থেকে তোমরা খরচ করো তোমাদের কোনো একজনের কাছে মৃত্যু এসে পড়ার আগেই, পাছে তাকে বলতে হয় -- "আমার প্রভু! কেন তুমি আমাকে এক আসন্নকাল পর্যন্ত অবকাশ দাও নি, তাহলে তো আমি দান-খয়রাত করতাম এবং আমি সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারতাম।"



Sahih International: And spend [in the way of Allah] from what We have provided you before death approaches one of you and he says, "My Lord, if only You would delay me for a brief term so I would give charity and be among the righteous."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০. আর আমরা তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তোমরা তা থেকে ব্যয় করবে তোমাদের কারও মৃত্যু আসার আগে। (অন্যথায় মৃত্যু আসলে সে বলবে,) হে আমার রব! আমাকে আরো কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে আমি সাদাকাহ দিতাম ও সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত হতাম!(১)


তাফসীর:

(১) এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করল, কোন সদকায় সর্বাধিক সওয়াব পাওয়া যায়? তিনি বললেনঃ “যে সদকা সুস্থ অবস্থায় এবং ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য করে- অর্থ ব্যয় করে ফেললে নিজেই দরিদ্র হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকা অবস্থায় করা হয়।” তিনি আরও বললেনঃ “আল্লাহর পথে ব্যয় করাকে সেই সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করো না। যখন আত্মা তোমার কণ্ঠনালীতে এসে যায় এবং তুমি মরতে থাক আর বলঃ এই পরিমাণ অর্থ অমুককে দিয়ে দাও, এই পরিমাণ অর্থ অমুক কাজে ব্যয় করা।” [বুখারী: ১৩৫৩, মুসলিম: ১০৩২, মুসনাদে আহমাদ: ১/৩৯৬]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০) আমি তোমাদেরকে যে রুযী দিয়েছি, তোমরা তা হতে ব্যয় কর[1] তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বে (অন্যথা মৃত্যু আসলে সে বলবে,) ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আরো কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে না কেন? [2] তাহলে আমি সাদাকা করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।”


তাফসীর:

[1] ব্যয় করার অর্থ, যাকাত আদায় করা এবং অন্যান্য কল্যাণকর পথে দান করা।

[2] এ থেকে জানা গেল যে, যাকাত আদায়, আল্লাহর পথে ব্যয় এবং হজ্জ করার সামর্থ্য হলে তা সম্পাদন করার ব্যাপারে বিলম্ব করা কোনমতেই ঠিক নয়। কারণ, মৃত্যু কখন এসে পড়বে, তার কোন ঠিক নেই? ফলে এই ফরয কাজগুলো আদায় করতে না পারলে তার উপর তা অনাদায় রয়ে যাবে। আর মৃত্যুর সময় তা আদায়ের আশা করায় কোন লাভ হবে না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯-১১ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



অত্র আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে বেশি বেশি তাঁর যিকির করার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং সম্পদ, সন্তান-সন্ততির ভালবাসায় যেন আল্লাহ তা‘আলাকে ভুলে না যায় সে সম্পর্কে সতর্ক করছেন আর মৃত্যুর পূর্বেই বেশি থেকে বেশি তাঁর আনুগত্যপূর্ণ কাজে ব্যয় করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করছেন।



(وَأَنْفِقُوْا مِنْ مَّا رَزَقْنٰكُمْ)



‘আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তোমরা তা হতে ব্যয় কর’ এখানে ব্যয় এর মাঝে সকল প্রকার ব্যয় শামিল। যাকাত, কাফফারা, স্ত্রীদের ভরণ-পোষণ ও নফল সদকাহ ইত্যাদি। (তাফসীর সা‘দী) এ আয়াত আরো প্রমাণ করছে, যাকাতসহ সকল প্রকার ইবাদতের সময় হয়ে গেলে যথাসময়ে আদায় করে নিতে হবে বিলম্ব করা বৈধ নয়।



আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন : জনৈক সাহাবী বললেন- হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! কোন্ সদকায় সওয়াব বেশি পাওয়া যায়? তিনি বললেন : সুস্থ ও কৃপণ অবস্থায় তোমার সদকাহ করা যখন তুমি দরিদ্রতার আশংকা কর ও ধনী হওয়ার আশা রাখ। সদকাহ করতে এ পর্যন্ত দেরী করবে না যখন প্রাণ বায়ু কণ্ঠাগত হবে আর তুমি বলবে অমুকের জন্য এতটুকু অমুকের জন্য এতটুকু অথচ তা অমুকের জন্য হয়ে গেছে। (সহীহ বুখারী হা. ১৪১৯ মুসলিম হা. ১০৩২)



সুতরাং সময় থাকতে সম্পদের সৎব্যবহার করা উচিত। সারা জীবন আল্লাহ তা‘আলার পথে সম্পদ ব্যয় করলাম না কিন্তু মুমূর্ষু অবস্থায় সব দান করে দিলাম এমন দান কবূল হবে না এবং কোন কাজে আসবে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. ফরয, ওয়াজিব ইত্যাদি ইবাদত নষ্ট করে সন্তান ও সম্পদ নিয়ে ব্যস্ত থাকা হারাম।

২. সুস্থ ও কৃপণ অবস্থায় আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় ব্যয় করা উত্তম।

৩. মুমূর্ষু অবস্থায় ব্যয় করা অনর্থক।

৪. মৃত্যুর সময় হলে একটুও বিলম্ব করা হবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯-১১ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় মুমিন বান্দাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তারা যেন খুব বেশী বেশী করে আল্লাহর যিক্‌র করে এবং তাদেরকে সতর্ক করছেন যে, তারা যেন ধন-দৌলত ও সন্তান-সন্ততির প্রেমে পড়ে আল্লাহকে ভুলে না যায়। এরপর বলেনঃ যারা আল্লাহর স্মরণে উদাসীন হবে তারা হবে ক্ষতিগ্রস্ত।

অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাঁর আনুগত্যের কাজে মাল খরচ করার নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তারা যেন মৃত্যুর পূর্বেই তাদেরকে প্রদত্ত মাল হতে খরচ করে। মৃত্যুর সময়ের নিরুপায় অবস্থা দেখে মাল খরচ করতঃ শান্তি লাভের আশা করা বৃথা হবে। ঐ সময় তারা চাইবে যে, যদি অল্প সময়ের জন্যেও ছেড়ে দেয়া হতো তবে যা কিছু ভাল কাজ আছে সবই তারা করতো এবং মন খুলে আল্লাহর পথে দান-খয়রাত করতো। কিন্তু তখন সময় কোথায়? যে বিপদ আসার তা এসেই গেছে। এটা কখনো টলবার নয়। বিপদ মাথার উপর এসেই পড়েছে। অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “যেদিন তাদের শাস্তি আসবে সেই দিন সম্পর্কে তুমি মানুষকে সতর্ক কর, তখন যালিমরা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে কিছু কালের জন্যে অবকাশ দিন, আমরা আপনার আহ্বানে সাড়া দিবো এবং রাসূলদেরকে অনুসরণ করবো! তোমরা কি পূর্বে শপথ করে বলতে না যে, তোমাদের পতন নেই?` (১৪:৪৪) আল্লাহ তা'আলা আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “শেষ পর্যন্ত তাদের কারো যখন মৃত্যু এসে যাবে তখন বলবে- হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ফিরিয়ে দিন, যেন আমি ভাল কাজ করতে পারি যা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম, কখনো নয়।” (২৩:৯৯-১০০)

এখানে মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ নির্ধারিত সময়কাল যখন উপস্থিত হয়ে যাবে, আল্লাহ কখনো কাউকেও অবকাশ দিবেন না। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত। এ লোকগুলোকে যদি ফিরিয়ে দেয়া হয় তবে এসব কথা তারা ভুলে যাবে এবং পূর্বে যে কাজ করতো পুনরায় ঐ কাজই করতে থাকবে।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ “ঐ মালদার ব্যক্তি যে হজ্ব করেনি ও যাকাত দেয়নি সে মৃত্যুর সময় দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা করবে।` একটি লোক তখন বললোঃ “জনাব! আল্লাহকে ভয় করুন। দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাক্ষা তো করবে কাফির।” তখন তিনি বললেনঃ “তাড়াতাড়ি করছো কেন? আমি তোমাকে কুরআন থেকে এটা পাঠ করে শুনাচ্ছি।” অতঃপর তিনি (আরবি) হতে পূর্ণ রুকূটি পাঠ করে শুনালেন। লোকটি জিজ্ঞেস করলোঃ “কি পরিমাণ সম্পদে যাকাত ওয়াজিব হয়?” জবাবে তিনি বলেনঃ “দুই শত এবং এর চেয়ে বেশী হলে।” সে প্রশ্ন করলোঃ “হজ্ব কখন ফরয হয়?” তিনি উত্তর দিলেনঃ “যখন পথ খরচ ও সওয়ারীর শক্তি থাকে। একটি মারফূ’ রিওয়াইয়াতেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। কিন্তু এর মাওকুফটাই সঠিকতর। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হযরত যহ্‌হাক (রঃ)-এর রিওয়াইয়াতে ইনকিতা' রয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।

মুসনাদে ইবনে আবি হাতিমে হযরত আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। যে, একদা সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সামনে বেশী বয়সের আলোচনা করেন। তখন তিনি বলেনঃ “নির্ধারিত কাল যখন উপস্থিত হবে, আল্লাহ কখনো অবকাশ দিবেন না। বয়সের আধিক্য এই ভাবে হয় যে, আল্লাহ তা’আলা কোন বান্দাকে সুসন্তান দান করেন এবং ঐ সন্তানরা তাদের পিতার মৃত্যুর পর তার জন্যে দু'আ করতে থাকে। ঐ দু'আ তার কবরে পৌঁছে থাকে।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।