সূরা আল-জুমু‘আ (আয়াত: 8)
হরকত ছাড়া:
قل إن الموت الذي تفرون منه فإنه ملاقيكم ثم تردون إلى عالم الغيب والشهادة فينبئكم بما كنتم تعملون ﴿٨﴾
হরকত সহ:
قُلْ اِنَّ الْمَوْتَ الَّذِیْ تَفِرُّوْنَ مِنْهُ فَاِنَّهٗ مُلٰقِیْکُمْ ثُمَّ تُرَدُّوْنَ اِلٰی عٰلِمِ الْغَیْبِ وَ الشَّهَادَۃِ فَیُنَبِّئُکُمْ بِمَا کُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ﴿۸﴾
উচ্চারণ: কুল ইন্নাল মাওতাল্লাযী তাফিররূনা মিনহু ফাইন্নাহূমুলা-কীকুম ছু ম্মা তুরাদ্দূনা ইলা-‘আলিমিল গাইবি ওয়াশ শাহা-দাতি ফাইউনাব্বিউকুম বিমা-কুনতুম তা‘মালূন।
আল বায়ান: বল যে মৃত্যু হতে তোমরা পলায়ন করছ তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। তারপর তোমাদেরকে অদৃশ্য ও দৃশ্য সম্পর্কে পরিজ্ঞাত আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে। তারপর তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন যা তোমরা করতে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮. বলুন, তোমরা যে মৃত্যু হতে পলায়ন কর সে মৃত্যু তোমাদের সাথে অবশ্যই সাক্ষাত করবে। তারপর তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে গায়েব ও প্রকাশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে অতঃপর তোমরা যা আমল করতে সে সম্পর্কে তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন।
তাইসীরুল ক্বুরআন: বল- ‘তোমরা যে মৃত্যু থেকে পালাচ্ছ তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। অতঃপর তোমাদেরকে দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারী (আল্লাহ)’র নিকট ফিরিয়ে নেয়া হবে; অতঃপর তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে যা তোমরা করতে।
আহসানুল বায়ান: (৮) বল, তোমরা যে মৃত্যু হতে পলায়ন কর, সেই মৃত্যুর সাথে তোমাদের অবশ্যই সাক্ষাৎ হবে। অতঃপর তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা (আল্লাহ)র নিকট এবং তোমাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হবে, যা তোমরা করতে।
মুজিবুর রহমান: বলঃ তোমরা যে মৃত্যু হতে পলায়ন কর সেই মৃত্যুর সাথে তোমাদের সাক্ষাৎ হবেই। অতঃপর তোমরা উপস্থিত হবে অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহর নিকট এবং তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে যা তোমরা করতে।
ফযলুর রহমান: বল, “তোমরা যে মৃত্যু থেকে পালিয়ে থাকতে চাচ্ছ, তার সাথে তোমাদের সাক্ষাৎ হবেই। অতঃপর তোমাদেরকে অদৃশ্য ও দৃশ্যমান বস্তু সম্পর্কে অবগত সত্তার (সর্বজ্ঞ আল্লাহর) কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তখন তোমরা (দুনিয়ায়) যা কিছু করতে, তিনি তোমাদেরকে তা জানিয়ে দেবেন।”
মুহিউদ্দিন খান: বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়নপর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখামুখি হবে, অতঃপর তোমরা অদৃশ্য, দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন সেসব কর্ম, যা তোমরা করতে।
জহুরুল হক: বলো -- "আলবৎ মৃত্যু, যা থেকে তোমরা পালাতে চাও, তা কিন্ত তোমাদের সাক্ষাৎ করবেই, তারপর তোমাদের পাঠানো হবে অদৃশ্যের ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতার কাছে, তখন তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন কি তোমরা করতে।"
Sahih International: Say, "Indeed, the death from which you flee - indeed, it will meet you. Then you will be returned to the Knower of the unseen and the witnessed, and He will inform you about what you used to do."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৮. বলুন, তোমরা যে মৃত্যু হতে পলায়ন কর সে মৃত্যু তোমাদের সাথে অবশ্যই সাক্ষাত করবে। তারপর তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে গায়েব ও প্রকাশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে অতঃপর তোমরা যা আমল করতে সে সম্পর্কে তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৮) বল, তোমরা যে মৃত্যু হতে পলায়ন কর, সেই মৃত্যুর সাথে তোমাদের অবশ্যই সাক্ষাৎ হবে। অতঃপর তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা (আল্লাহ)র নিকট এবং তোমাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হবে, যা তোমরা করতে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫-৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আলোচ্য আয়াতেগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদের নিন্দা করছেন। তাদেরকে তাওরাত প্রদান করা হয়েছিল তারা আমল করার জন্য তাওরাতকে গ্রহণ করে নিয়েছিল কিন্তু আমল করেনি। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন তাদের উপমা হল গাধার মত, যে গাধা তার পিঠে পুস্তক বহন করে কিন্তু সে জানে না তাতে কী মূল্যবান জিনিস আছে এবং তা থেকে কোন উপকারও নিতে পারে না। অনুরূপভাবে এ ইয়াহূদীরা বাহ্যিকভাবে তাওরাতের শব্দগুলো মুখে উচ্চারণ করছে কিন্তু তা বুঝে না ও আমল করে না। বরং পরিবর্তন পরিবর্ধন করেছে। সুতরাং তারা নির্বোধ গাধার চেয়েও নিকৃষ্ট। যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেছেন :
(أُولٰ۬ئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ ط أُولٰ۬ئِكَ هُمُ الْغٰفِلُوْنَ)
“তারাই পশুর ন্যায়, বরং তারা অধিক বিভ্রান্ত তারাই গাফিল।” (সূরা আ‘রাফ ৭ : ১৭৯)
তাই আল্লাহ তা‘আলা এরূপ জালিম জাতির দৃষ্টান্ত উল্লেখ করার পর বলেন :
(بِئْسَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِيْنَ كَذَّبُوْا بِاٰيٰتِ وَاللّٰهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظّٰلِمِيْنَ)
“কত নিকৃষ্ট সেই সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।”
পূর্বের আয়াতগুলোতে উম্মাতে মুহাম্মাদীর প্রতি নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণ ও আসমানী কিতাব কুরআন দ্বারা যে অনুগ্রহ করেছেন সে আলোচনা করার পর এ আয়াতগুলোতে ইয়াহূদীরা আল্লাহ তা‘আলার কিতাব তাওরাতের সাথে যে আচরণ করেছে সে সম্পর্কে আলোচনা নিয়ে আসার উদ্দেশ্য হল আমরা উম্মাতে মুহাম্মাদীও যেন ইয়াহূদীদের মত আচরণ না করি। ইয়াহূদীদের মত কিতাবে বিকৃতি এবং কোনরূপ পরিবর্তন ও পরিবর্ধন না করি।
ইয়াহূদীদের অন্যতম জুলুম ছিল তারা জানত যে, আমরা বাতিলের ওপর আছি তারপরেও দাবী করত আমরা হকের ওপর আছি এবং অন্যদের বাদে আমরা আল্লাহ তা‘আলার ওলী। যেমন তারা বলত “আমরা আল্লাহর সন্তান ও প্রিয় পাত্র” (সূরা মায়িদা ৫ : ১৮)
আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলে দিতে বলছেন, যদি তাই হয় তাহলে তারা যেন মৃত্যু কামনা করে, তখন জেনে নেবে প্রকৃত ব্যাপার কী? আল্লাহ তা‘আলা বলছেন তারা যে কুফরী করেছে ও যে জুলুম করেছে তা তাদের জ্ঞাত, তাই তারা কখনো মৃত্যু কামনা করবে না। এ সম্পর্কে সূরা বাকারার ৯৪-৯৬ নম্বর আয়াতে আলোচনা করা হযেছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন : আবূ জাহল বলল : আমি যদি মুহাম্মাদকে কাবার নিকট দেখতে পাই তাহলে তার গর্দান পিষে দেব। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : যদি সে এরূপ করত তাহলে ফেরেশতারা তাকে জনগণের সামনেই পাকড়াও করত। ইয়াহূদীরা যদি মৃত্যু কামনা করত তাহলে তারা মারা যেত এবং জাহান্নামে তাদের ঠিকানা দেখতে পেত। (সহীহ বুখারী হা. ৪৯৫৮)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. ইয়াহূদীদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার লা‘নত, কারণ তারা তাওরাতের ওপর আমল করেনি।
২. যারা সঠিক জ্ঞান পাওয়ার পরেও আমল করে না তাদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার তিরস্কার।
৩. ইয়াহূদীদের মিথ্যা দাবীর কথা জানতে পারলাম।
৪. মৃত্যু নামক পেয়ালা অবশ্যই সবাইকে পান করতে হবে। অতঃপর দুনিয়ার কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে।
৫. জেনে শুনে আল্লাহ তা‘আলার কিতাবের শাব্দিক ও আর্থিক পরিবর্তন করা ইয়াহূদীদের চরিত্র।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫-৮ নং আয়াতের তাফসীর:
এই আয়াতগুলোতে ইয়াহূদীদেরকে নিন্দে করা হচ্ছে যে, তাদেরকে তাওরাত। প্রদান করা হয় এবং আমল করার জন্যে তারা তা গ্রহণ করে, কিন্তু আমল করেনি। ঘোষিত হচ্ছে যে, তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে পুস্তক বহনকারী গর্দভ। যদি গর্দভের উপর কিতাবের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয় তবে সে তো এটা বুঝতে পারবে যে, তার উপর বোঝা রয়েছে, কিন্তু কি বোঝা রয়েছে তা সে মোটেই বুঝতে পারবে না। অনুরূপভাবে এই ইয়াহূদীরা বাহ্যিকভাবে তো তাওরাতের শব্দগুলো মুখে উচ্চারণ করছে, কিন্তু মতলব কিছুই বুঝে না। এর উপর তারা আমল তো করেই না, এমন কি একে পরিবর্তন পরিবর্ধন করে ফেলছে। সুতরাং প্রকতপক্ষে তারা এ নির্বোধ ও অবুঝ জন্তুর চেয়েও নিকৃষ্ট। কেননা, মহান আল্লাহ এদেরকে বোধশক্তিই দান করেননি। কিন্তু এ লোকগুলোকে তো তিনি বোধশক্তি দিয়েছেন, অথচ তারা তা ব্যবহার করে না ও কাজে লাগায় না। এ জন্যেই অন্য আয়াতে বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত, বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্ট! তারাই গাফিল।” (৭:১৭৯)
এখানে বলা হচ্ছে যে, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করে ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তাদের দৃষ্টান্ত কতই না নিকৃষ্ট। তারা অত্যাচারী এবং আল্লাহ তা'আলা অত্যাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি জুমআর দিন ইমামের খুৎবাহ দান অবস্থায় কথা বলে সে পুস্তক বহনকারী গর্দভের মত এবং যে ব্যক্তি তাকে বলেঃ চুপ কর তার জুমআ'হ্ হয় না।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ “হে ইয়াহুদীগণ! যদি তোমরা মনে কর যে, তোমরাই আল্লাহর বন্ধু, অন্য কোন মানব গোষ্ঠী নয়, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও।' অর্থাৎ হে ইয়াহূদীদের দল! যদি তোমাদের দাবী এই হয় যে, তোমরা সত্যের উপর রয়েছে আর হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এবং তাঁর সহচরবৃন্দ অসত্যের উপর রয়েছেন তবে তোমর প্রার্থনা করঃ আমাদের দুই দলের মধ্যে যারা অসত্যের উপর রয়েছে তাকে যেন আল্লাহ মৃত্যু দান করেন।
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “কিন্তু তাদের হস্ত যা অগ্রে প্রেরণ করেছে তার কারণে কখনো মত্য কামনা করবে না। অর্থাৎ যারা যে কুফরী, যুলম ও পাপের কাজ করেছে সেই কারণে তারা কখনো মৃত্যু কামনা করবে না।
আল্লাহ তা'আলা যালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবগত।
সূরায়ে বাকারার নিম্নের আয়াতগুলোর তাফসীরে ইয়াহুদীদের সাথে। মুবাহালার পূর্ণ বর্ণনা গত হয়েছেঃ “বলঃ যদি আল্লাহর নিকট পরকালের বাসস্থান অন্য লোকে ব্যতীত বিশেষভাবে শুধু তোমাদের জন্যেই হয় তবে তোমরা মুত্যু কামনা কর- যদি সত্যবাদী হও। কিন্তু তাদের কৃতকর্মের জন্যে তারা কখনো ওটা কামনা করবে না এবং আল্লাহ যালিমদের সম্বন্ধে অবহিত। তুমি অবশ্যই তাদেরকে জীবনের প্রতি সমস্ত মানুষ, এমনকি মুশরিকদের অপেক্ষা অধিক লোভী দেখতে পাবে। তাদের প্রত্যেকে সহস্র বছর বাঁচার আকাঙ্ক্ষা করে। কিন্তু দীর্ঘায়ু তাদেরকে শাস্তি হতে দূরে রাখতে পারবে না। তারা যা করে আল্লাহ ওর দ্রষ্টা।” সূরায়ে আলে ইমরানের নিম্নের আয়াতে খৃষ্টানদের সাথে মুবাহালার বর্ণনা রয়েছেঃ
“তোমার নিকট জ্ঞান আসার পর যে কেউ এ বিষয়ে তোমার সাথে তর্ক করে তাকে বলঃ এসো, আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রদেরকে ও তোমাদের পুত্রদেরকে, আমাদের নারীদেরকে ও তোমাদের নারীদেরকে, আমাদের নিজেদেরকে ও তোমাদের নিজেদেরকে; অতঃপর আমরা বিনীত আবেদন করি এবং মিথ্যাবাদীদের উপর দিই আল্লাহর লানত।” আর মুশরিকদের সাথে মুবাহালার বর্ণনা রয়েছে সূরায়ে মারইয়ামের নিম্নের আয়াতে “বলঃ যারা বিভ্রান্তিতে রয়েছে, দয়াময় তাদেরকে প্রচুর ঢিল দিবেন।”
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আবু জেহেল (আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি লা'নত বর্ষণ করুন!) বলেঃ “আমি যদি মুহাম্মাদ (সঃ)-কে কা’বার নিকট দেখতে পাই তবে অবশ্যই তার গর্দান পরিমাপ করবে।” রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি বলেনঃ “যদি সে এরূপ করতো তবে অবশ্যই ফেরেশতাগণ জনগণের চোখের সামনে তাকে পাকড়াও করতেন। আর যদি ইয়াহূদীরা মৃত্যু কামনা করতো তবে অবশ্যই তারা মরে যেতো এবং জাহান্নামে তাদের জায়গা দেখে নিতো। আর আল্লাহর সাথে যারা মুবাহালা করতে চেয়েছিল তারা যদি মুবাহালার জন্যে বের হতো তবে অবশ্যই তারা এমন অবস্থায় ফিরে আসতো যে, তাদের পরিবারবর্গ এবং মাল-ধন তারা। পেতো না।” (এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম বুখারী (রঃ), ইমাম তিরমিযী (রঃ) এবং ইমাম নাসাঈও (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার উক্তিঃ বলঃ (হে মুহাম্মাদ সঃ)! তোমরা যে মৃত্যু হতে পলায়ন কর সেই মৃত্যুর সাথে তোমাদের সাক্ষাৎ হবেই। অতঃপর তোমরা প্রত্যানীত হবে অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহর নিকট এবং তোমাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে যা তোমরা করতে। যেমন সূরায়ে নিসার মধ্যে আল্লাহ তা'আলার উক্তি রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা যেখানেই থাকো না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, সুউচ্চ ও সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করলেও।”
তিবরানী (রঃ)-এর মু’জাম গ্রন্থে হযরত সমরা' (রাঃ) হতে একটি মারফ হাদীস বর্ণিত আছে যে, যে ব্যক্তি মৃত্যু হতে পলায়ন করে তার দৃষ্টান্ত হলো ঐ খেকশিয়াল যার কাছে ভূমি তার প্রদত্ত ঋণ চায়। তখন সে দ্রুত বেগে পালাতে শুরু করে। শেষে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তার গর্তে ঢুকে পড়ে। তখন ভূমি তাকে বলেঃ “হে খেকশিয়াল! আমাকে আমার ঋণ দিয়ে দাও।” একথা শুনে সে পুনরায় লেজগুটিয়ে ভীষণ বেগে দৌড়াতে শুরু করে। অবশেষে তার গর্দান ভেঙ্গে যায় এবং সে মৃত্যুমুখে পতিত হয়।”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।