আল কুরআন


সূরা আল-জুমু‘আ (আয়াত: 10)

সূরা আল-জুমু‘আ (আয়াত: 10)



হরকত ছাড়া:

فإذا قضيت الصلاة فانتشروا في الأرض وابتغوا من فضل الله واذكروا الله كثيرا لعلكم تفلحون ﴿١٠﴾




হরকত সহ:

فَاِذَا قُضِیَتِ الصَّلٰوۃُ فَانْتَشِرُوْا فِی الْاَرْضِ وَ ابْتَغُوْا مِنْ فَضْلِ اللّٰهِ وَ اذْکُرُوا اللّٰهَ کَثِیْرًا لَّعَلَّکُمْ تُفْلِحُوْنَ ﴿۱۰﴾




উচ্চারণ: ফাইযা- কুদিয়াতিসসালা-তুফানতাশিরূ ফিল আরদি ওয়াবতাগূমিন ফাদলিল্লা -হি ওয়াযকুরুল্লা-হা কাছীরাল লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন।




আল বায়ান: অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় আর আল্লাহর অনুগ্রহ হতে অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০. অতঃপর সালাত শেষ হলে তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর ও আল্লাহকে খুব বেশী স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।




তাইসীরুল ক্বুরআন: অতঃপর যখন নামায সমাপ্ত হয়, তখন যমীনে ছড়িয়ে পড়, আর আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করতে থাক- যাতে তোমরা সাফল্য লাভ করতে পার।




আহসানুল বায়ান: (১০) অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর[1] ও আল্লাহকে অধিকরূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও।



মুজিবুর রহমান: সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে যাতে তোমরা সফলকাম হও।



ফযলুর রহমান: অতঃপর যখন নামায সমাপ্ত হবে, তখন জমিনে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) সন্ধান করবে ও বেশি করে আল্লাহকে স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও।



মুহিউদ্দিন খান: অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।



জহুরুল হক: তারপর যখন নামায শেষ হয়ে যায় তখন তোমরা দেশে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহ্‌র করুণাভান্ডার থেকে অণ্বেষণ করো, আর আল্লাহ্‌কে প্রচুরভাবে স্মরণ করো, যাতে তোমাদের সফলতা প্রদান করা হয়।



Sahih International: And when the prayer has been concluded, disperse within the land and seek from the bounty of Allah, and remember Allah often that you may succeed.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০. অতঃপর সালাত শেষ হলে তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর ও আল্লাহকে খুব বেশী স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০) অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর[1] ও আল্লাহকে অধিকরূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও।


তাফসীর:

[1] এর অর্থ বৈষয়িক কাজ-কর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্য। অর্থাৎ, জুমআর নামায শেষ করার পর তোমরা পুনরায় নিজ নিজ কাজে-কামে এবং দুনিয়ার ব্যস্ততায় লেগে যাও। এ থেকে উদ্দেশ্য হল এই ব্যাপারটা পরিষ্কার করে দেওয়া যে, জুমআর দিন কাজ-কর্ম বন্ধ রাখা জরুরী নয়। কেবল নামাযের জন্য তা বন্ধ রাখা জরুরী।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯-১১ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



অত্র আয়াতগুলোতে জুমু‘আর দিনে একজন মুসলিম ব্যক্তির করণীয় ও বর্জণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।



(إِذَا نُوْدِيَ لِلصَّلٰوةِ)



জুমু‘আর সালাতের জন্য যখন আযান দেওয়া হবে তখন সবকিছু বর্জন করে সালাতের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এখানে النداء বা আযান বলতে খতিব সাহেব মিম্বারে বসার পর যে আযান প্রদান করা হয় তা বুঝানো হয়েছে। এটাকে দ্বিতীয় আযান বলা হয়। প্রথম আযান হল উসমান (রাঃ) মানুষের সংখ্যাধিক্যতার কারণে যে আযান চালু করেছিলেন। সায়েব বিন ইয়াজিদ বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বকর ও উমার (রাঃ)-এর যুগে আযান ছিল যখন খতিব সাহেব মিম্বারে বসতেন তখন। যখন উসমান (রাঃ) খলিফা হলেন আর মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেল তখন জাওরাতে দ্বিতীয় আরেকটি আযান বৃদ্ধি করলেন। জাওরা হল الزوراء মদীনার একটি বাড়ি যা খুব উঁচু ছিল এবং মাসজিদের নিকটে ছিল। (ইবনু কাসীর, সহীহ বুখারী হা. ৯১২)



(فَاسْعَوْا إِلٰي ذِكْر)



অর্থাৎ জুমু‘আর সালাত আদায় করার জন্য মনোনিবেশ কর, সালাতের গুরুত্ব দাও। السعي দ্বারা দৌড়ানো উদ্দেশ্য নয়। কারণ সালাতের জন্য তাড়াহুড়া করা বা দৌড়ানো নিষেধ করা হয়েছে। (সহীহ বুখারী হা. ৬৩৬)



উমার (রাঃ) বলেন :



فامضوا الي ذكر الله



অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার যিকির বা সালাতের দিকে অগ্রসর হও। (ইবনু কাসীর)



ذكر الله আল্লাহ তা‘আলার স্মরণে বলতে জুমু‘আর সালাত ও উভয় খুৎবাকে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীর সা‘দী)।



(وَذَرُوا الْبَيْعَ)



অর্থাৎ যখন আযান দেওয়া হয় তখন সকল কাজকর্ম এমনকি ব্যবসায়-বাণিজ্য বর্জন করে সালাত আদায় করতে চলো। এজন্য সকল আলেমগণ একমত যে, দ্বিতীয় আযানের পর সকল প্রকার ক্রয়-বিক্রয় হারাম। (ইবনু কাসীর)



(ذٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ)



অর্থাৎ ব্যবসায় বাণিজ্যসহ সবকিছু বর্জন করে সালাত আদায়ের দিকে ধাবিত হওয়া উভয় জগতের জন্য কল্যাণকর। অতত্রব আল্লাহ তা‘আলা মু’মিন বান্দাদেরকে সালাত শেষে দুনিয়াতে তিনি যে فَضْلِ বা রিযিক রেখে দিয়েছেন তা অন্বেষণ করার নির্দেশ প্রদান করছেন।



বি : দ্র : এ নির্দেশ (তথা সালাত শেষে রিযিক অন্বেষণ কর) পালন করা ওয়াজিব না। কেউ সালাত শেষে রিযিক অন্বেষণে বের না হলে গুনাহগার হবে না। মূলত এখানে নির্দেশমূলক শব্দ ব্যবহার করার কারণ হল আযানের পর ব্যবসায়-বাণিজ্য নিষেধ করা হয়েছিল নির্দেশমূলক শব্দ দ্বারা তাই বৈধ হওয়ার জন্যও নির্দেশমূলক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।



আরাক বিন মালেক (রাঃ) জুমু‘আর সালাত আদায় শেষে মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে বলতেন : হে আল্লাহ! আমি আপনার ডাকে সাড়া দিয়েছি ফরয সালাত আদায় করছি, এখন আপনার নির্দেশ মতে জমিনে ছড়িয়ে পড়ছি। অতএব আপনি আমাকে আপনার উত্তম রিযিক দান করুন, আপনি তো উত্তম রিযিকদাতা। কতক সালাফ থেকে বর্ণনা এসেছে : যে ব্যক্তি জুমু‘আর সালাতের পর ক্রয়-বিক্রয় করবে আল্লাহ তা‘আলা তাতে সত্তরবার বরকত দেবেন। (ইবনু কাসীর)।



(وَاذْكُرُوا اللّٰهَ كَثِيْرًا)



অর্থাৎ ব্যবসায় বাণিজ্য লেনদেন ওঠাবসাসহ সর্বাবস্থায় বেশি বেশি আল্লাহ তা‘আলার যিকির কর। কোন অবস্থাতেই যেন তাঁর স্মরণ থেকে গাফেল না হও। এজন্য হাদীসে এসেছে : যে ব্যক্তি কোন এক বাজারে প্রবেশ করল এবং বলল :



لَا اِلٰهَ اِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَاشَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰي كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٍ



অর্থাৎ ‘আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার কোন মা‘বূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই ও তার জন্য যাবতীয় প্রশংসা এবং তিনি সবকিছুর উপরে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী’-তাহলে তার জন্য এক লক্ষ নেকী লেখা হবে এবং এক লক্ষ গুনাহ মোচন করা হবে। )তিরমিযী হা. ৩৪২৮, ইবনু মাযাহ হা. ২২৩৫ হাসান)।



জুমু‘আর দিনে করণীয় :



জুমু‘আর দিন মাসজিদে আসার পূর্বে গোসল করা মুস্তাহাব। এটা অধিকাংশ আলেমদের অভিমত। (সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ)।



অতঃপর জুমু‘আর সালাত আদায়ের জন্য সামর্থ্যানুযায়ী পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরিধান করবে। (আবূ দাঊদ হা. ১০৭৮, সনদ সহীহ)। তারপর যথাসম্ভব সুগন্ধি ব্যবহার করবে। অতঃপর আগেভাগে মাসজিদের দিকে রওনা দেবে। হাদীসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন ফরয গোসলের মত গোসল করে মাসজিদে রওনা দেবে সে যেন একটি উট কুরবানী করল। তারপর যে যাবে সে ব্যক্তি গরু কুরবানী করল....। (সহীহ বুখারী হা. ৮৮১)



তারপর যথাসম্ভব সালাত আদায় করে খতীব সাহেবের খুৎবা মনযোগসহকারে শুনবে, কোন প্রকার কথাবার্তা বলবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : যে ব্যক্তি ইমাম সাহেবের খুৎবা চলাকালীন তার পার্শ্ববর্তী ভাইকে বলল : চুপ করুন, সে ব্যক্তি অনর্থক কাজ করল। (সহীহ বুখারী হা. ৮৯২)।



এভাবে যদি কেউ জুমু‘আর সালাত আদায় করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার ফযীলত সম্পর্কে বলেন : এক জুমু‘আহ থেকে অপর জুমু‘আহ পর্যন্ত যে সকল অপরাধ হয়েছে তার জন্য তা কাফফারা হয়ে যাবে, তবে কবীরাহ গুনাহ থেকে বেঁেচ থাকতে হবে। (সহীহ বুখারী হা. ২৩৩)



(وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً) শানে নুযূল :



জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন : একটি (বাণিজ্যিক) কাফেলা জুমু‘আর দিন আগমন করল। আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। মানুষেরা ১২ জন ব্যতীত সবাই চলে গেল। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (সহীহ বুখারী হা. ৪৮৯৯) তিরমিযীর বর্ণনামতে জাবের (রাঃ) বলছেন : একদা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমু‘আর দিন খুৎবা প্রদান করছিলেন। এমন সময় মদীনাতে একটি (বাণিজ্যিক) কাফেলা আগমন করল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ১২ জন সাহাবী ব্যতীত সবাই সেদিকে দৌড়ালো। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছেন : ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! যদি তোমরাও তাদের মতো চলে যেতে, একজনও যদি না থাকতে তাহলে উপত্যকা আগুন হয়ে তোমাদের ওপর পতিত হতো। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (তিরমিযী হা. ৩৩১১ সহীহ।) জাবের (রাঃ) বলছেন, ১২ জনের মধ্যে আবূ বকর ও উমার (রাঃ)-ও ছিলেন।



ঘটনাটি হচ্ছে : মদীনাতে তখন খুব অভাব-অনটন ছিল। বাইরের এলাকা থেকে কেউ কিছু আমদানী করে নিয়ে আসে না। দীর্ঘদিন পর এ কাফেলাটি আসছিল জুমু‘আর দিন খুৎবার সময়। তখন একজন ঘোষণা দিল অমুকের কাফেলা পণ্য নিয়ে এসেছে। যার কারণে সাহাবীগণ ছুটে গিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমু‘আর দিন আগে সালাত আদায় করতেন পরে খুৎবা দিতেন ঈদের সালাতের মত। যখন এরূপ একদিন সালাত আদায় করে খুৎবা দিচ্ছিলেন আর একজন লোক প্রবেশ করে বলল : দাহইয়া বিন খলিফা তার বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে আগমন করেছে। তখন কয়েকজন সাহাবী ব্যতীত সবাই চলে গেল। (আবূ দাঊদ তার মারাসিল গ্রন্থে জুমু‘আর খুৎবা অধ্যায়, বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য)।



(وَتَرَكُوْكَ قَآئِمًا)



এ আয়াত প্রমাণ করছে খতিব সাহেব দাঁড়িয়ে খুৎবা প্রদান করবেন। সহীহ মুসলিমের হাদীস : নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খুৎবা দুটি ছিল। দু খুৎবার মাঝে বসতেন। (সহীহ মুসলিম, মিশকাত হা. ১৪০৫)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. জুমু‘আহ প্রত্যেক সুস্থ ও বাড়িতে অবস্থানকারী প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ ব্যক্তির ওপর ফরয।

২. জুমু‘আর খুতবার আযানের পর সকল প্রকার ব্যবসায় বাণিজ্য হারাম।

৩. জুমু‘আর দিনের ফযীলত জানতে পারলাম।

৪. জুমু‘আর দিন দ্বিতীয় আযান দেওয়া বৈধ হবে উসমান (রাঃ) যে কারণে চালু করেছেন যদি সে কারণ পাওয়া যায়।

৫. জুমু‘আর দিনের করণীয় ও বর্জণীয় সম্পর্কে জানলাম।

৬. জুমু‘আর খুতবা হবে দু’টি এবং তা হবে দাঁড়িয়ে ও প্রয়োজনে মাতৃভাষায়।

৭. জুমু‘আর সালাত আদায় করা যেমন ওয়াজিব তেমন খুৎবা শোনাও ওয়াজিব। খুৎবা চলাকালে কথা বলা ও কোন কাজ করা নিষেধ।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯-১০ নং আয়াতের তাফসীর:

(আরবী) শব্দটি (আরবী) শব্দ হতে বের করা হয়েছে, কারণ এই যে, এই দিনে মুসলমানরা বড় বড় মসজিদে ইবাদতের জন্যে জমা বা একত্রিত হয়ে থাকে। আর এটিও একটি কারণ যে, এই দিনে সমস্ত মাখলুকের সৃষ্টি-কার্য পূর্ণ হয়েছিল। ছয় দিনে সারা জগত বানানো হয়। ষষ্ঠ দিন ছিল জুমআর দিন। এই দিনেই হযরত আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়। এই দিনেই জান্নাতে তাঁর অবস্থান ঘটে এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাত হতে বের করে দেয়া হয়। এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। এই দিনের মধ্যে এমন একটি সময় রয়েছে যে, ঐ সময়ে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট যা যা করা হয় তা-ই তিনি দান করে থাকেন।

হযরত সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তাঁকে বলেনঃ “হে সালমান (রাঃ)! জুমআর দিন কি?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলই (সঃ) ভাল জানেন।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “জমুআহর দিন এমন এক দিন যে, এ দিনে তোমাদের পিতা-মাতাকে (হযরত আদম আঃ ও হযরত হাওয়া আঃ কে) আল্লাহ একত্রিত করেন। অথবা বলেনঃ “তোমাদের পিতাকে (হযরত আদমকে আঃ) জমা করেন।” (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে (মাওকুফরূপেও) অনুরূপ বর্ণিত আছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।

প্রাচীন অভিধানে এটাকে ইয়াওমুল আরূবাহ বলা হতো। পূর্ববর্তী উম্মতদেরকেও প্রতি সাতদিনে একটি দিন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু জুমআর দিনের হিদায়াত তারা লাভ করেনি। ইয়াহূদীরা শনিবারকে পছন্দ করে যেদিন মাখলুকের সৃষ্টি কার্য শুরুই হয়নি। নাসারাগণ রবিবারকে পছন্দ করে যেই দিন মাখলুক সৃষ্টির সূচনা হয়। আর এই উম্মতের জন্যে আল্লাহ তা'আলা জুমআ'হূকে পছন্দ করেছেন যেই দিন তিনি মাখলুকের সৃষ্টিকার্য পরিপূর্ণ করেছেন। যেমন সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমরা (দুনিয়ায়) সর্বশেষে আগমনকারী, আর কিয়ামতের দিন আমরা সর্বাগ্রে হবো। যাদেরকে আমাদের পূর্বে (আসমানী) কিতাব দেয়া হয় তারা এ দিনের ব্যাপারে মতভেদ করে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারেও তারা আমাদের পিছনে রয়েছে। ইয়াহূদীরা আগামী কাল এবং খৃষ্টানরা আগামী কালের পরের দিন।” এটা সহীহ বুখারীর শব্দ আর সহীহ মুসলিমের শব্দ হলোঃ আল্লাহ তা'আলা জুমআহ্ হতে ভ্রষ্ট করেছেন আমাদের পূর্ববর্তীদেরকে। ইয়াহুদীদের জন্যে ছিল শনিবার এবং খৃষ্টানদের জন্যে ছিল রবিবার। অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা আমাদেরকে আনয়ন করেন এবং জুমআ’হর জন্যে আমাদেরকে হিদায়াত দান করেন। সুতরাং তিনি রেখেছেন শুক্রবার, শনিবার ও রবিবার। এভাবে ইয়াহুদী ও খৃষ্টানরা কিয়ামতের দিন আমাদের পিছনে থাকবে। দুনিয়াবাসীর হিসেবে আমরা শেষে রয়েছি। কিন্তু কিয়ামতের দিন সমস্ত মাখলুকের মধ্যে সর্বপ্রথম আমাদের ব্যাপারে ফায়সালা করা হবে।”

এখানে আল্লাহ তা'আলা জুমআর দিন স্বীয় মুসলিম বান্দাদেরকে তাঁর ইবাদতের জন্যে একত্রিত হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। (আরবী) দ্বারা এখানে দৌড়ানো উদ্দেশ্য নয়, বরং ভাবার্থ হচ্ছেঃ তোমরা আল্লাহর যিকর অর্থাৎ নামাযের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়, কাজ-কর্ম ছেড়ে দিয়ে মসজিদ পানে অগ্রসর হও। যেমন মহান আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “মুমিন অবস্থায় যে আখিরাতের কামনা করে এবং ওর জন্যে চেষ্টা সাধনা করে।” (১৭:১৯)

হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর কিরআত (আরবী) এর স্থলে (আরবী) রয়েছে। এটা স্মরণ রাখার বিষয় যে, নামাযের জন্যে দৌড়িয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ।

সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা ইকামত শুনলে নামাযের জন্যে ধীরে সুস্থে যাবে, দৌড়াবে না। নামাযের যে অংশ (জামাআতের সাথে) পাবে তা পড়ে নিবে এবং যা ছুটে যাবে তা পুরো করবে।” অন্য একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, একবার রাসূলুল্লাহ (সঃ) নামাযে ছিলেন এমতাবস্থায় তিনি দরযার কাছে জনগণের পায়ের জোর শব্দ শুনতে পান। নামায শেষে তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ “ব্যাপার কি?” সাহাবীগণ উত্তরে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমরা তাড়াতাড়ি করে নামাযে শরীক হয়েছি।” তখন তিনি বললেনঃ “না, না, এরূপ করো না। ধীরে সুস্থে নামাযে আসবে। যা পাবে পড়বে এবং যা ছুটে যাবে তা পুরো করে নিবে।` হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেনঃ “আল্লাহর শপথ! এখানে এ হুকুম কখনো নয় যে, মানুষ নামাযের জন্যে দৌড়িয়ে আসবে। এটা তো নিষেধ। বরং এখানে উদ্দেশ্য হলো অত্যন্ত আগ্রহ, মনোযোগ ও বিনয়ের সাথে নামায পড়া। হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ স্বীয় মন ও আমল দ্বারা চেষ্টা কর। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “যখন তিনি (হযরত ইসমাঈল আঃ) এমন বয়সে পদার্পণ করলেন যে, তাঁর সাথে (হযরত ইবরাহীম আঃ এর সাথে) চলাফেরা করতে সক্ষম হলেন।” (৩৭:১০২) জুমআর নামাযের জন্যে আগমনকারীর জুমআ’হর পূর্বে গোসল করা উচিত।

সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের কেউ যখন জুমআ’হর জন্যে আসবে তখন যেন সে গোসল করে নেয়। এ দু' গ্রন্থেই হযরত আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “জুমআর দিন প্রত্যেক মুসলমানের উপর গোসল ওয়াজিব।

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলমানের উপর আল্লাহর হক এই যে, সে প্রতি সাত দিনে এক দিন গোসল করবে, যাতে সে তার মাথা ও শরীর ধৌত করবে।” (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

হযরত জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “প্রত্যেক মুসলিমের জন্যে প্রতি সাত দিনে একদিন গোসল রয়েছে এবং তা হলো জুমআর দিন।” (ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম নাসাঈ (রঃ) এবং ইমাম হিব্বান (রঃ) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)

হযরত আউস ইবনে আউস সাকাফী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ “যে ব্যক্তি জুমআ'র দিন ভালভাবে গোসল করে এবং সকালেই মসজিদ পানে রওয়ানা হয়ে যায়, পায়ে হেঁটে যায়, সওয়ার হয় না, ইমামের নিকটবর্তী হয়ে বসে মনোযোগের সাথে খুৎবাহ শুনে এবং বাজে কথা বলে না, সে প্রতি পদক্ষেপের বিনিময়ে সারা বছরের রোযা ও সারা বছরের কিয়ামের (রাত্রে দাঁড়িয়ে ইবাদত করার) পুণ্য লাভ করে।” (এ হাদীসটি আহলে সুনানে আরবাআহ ও ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে খুবই উত্তম বলেছেন)

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “জুমআর দিন যে ব্যক্তি নাপাক অবস্থার গোসলের ন্যায় গোসল করে আওয়াল বা প্রথম সময়ে মসজিদে গেল সে যেন একটা উট কুরবানী করলো, যে দ্বিতীয় সময়ে হাযির হলো সে যেন একটা গরু কুরবানী করলো, যে তৃতীয় সময়ে পৌঁছলো সে একটা মেষ কুরবানী করার সওয়াব পেলো, যে হাযির হলো চতুর্থ ওয়াক্তে সে যেন সাদকাহ করলো একটা মোরগ এবং যে হাযির হলো পঞ্চম ওয়াক্তে, একটা ডিম আল্লাহর পথে সাদকাহ করার মত পুণ্য সে লাভ করলো। অতঃপর যখন ইমাম (খুত্বাহ দেয়ার উদ্দেশ্যে) বের হয় তখন ফেরেশতামণ্ডলী। হাযির হয়ে যিক্র শুনতে থাকেন।` (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

জুমআ'র দিন স্বীয় সাধ্য অনুযায়ী ভাল পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, মিসওয়াক করা এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও পাক-পবিত্র হয়ে জুমআর নামাযের জন্যে আসা উচিত। একটি হাদীসে গোসলের বর্ণনার সাথে সাথেই মিসওয়াক করা ও সুগন্ধি ব্যবহারের বর্ণনাও রয়েছে।

হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ “যে ব্যক্তি জুমআর দিন গোসল করে ও স্বীয় পরিবারের লোকদেরকে সুগন্ধি মাখায় যদি থাকে, অতঃপর ভাল কাপড় পরিধান করে মসজিদে আসে ও ইচ্ছা হলে কিছু নফল নামায পড়ে নেয় এবং কাউকেও কষ্ট দেয় না (অর্থাৎ কারো ঘাড়ের উপর দিয়ে যায় না ও কোন উপবিষ্ট লোককে উঠায় না), অতঃপর ইমাম এসে খুৎবাহ শুরু করলে নীরবে তা শুনতে থাকে, তার এই জুমআহ্ হতে পরবর্তী জুমআ’হ্ পর্যন্ত যত পাপ হয় সবই কাফফারা বা মাফ হয়ে যায়।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

সুনানে আবু দাউদে ও সুনানে ইবনে মাজা হতে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে। সালাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি মিম্বরে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ “তোমাদের মধ্যে কেউ যদি দৈনন্দিনের পরিশ্রমের কাপড় ছাড়া দু'টি কাপড় ক্রয় করে নিয়ে জুমআর নামাযের জন্যে খাস বা নির্দিষ্টি করে রাখে তবে ক্ষতি কি?” একথা তিনি ঐ সময় বলেন যখন দেখেন যে, জনগণ সাধারণ কাপড় পরিধান করে রয়েছে। তাই তিনি বলেন যে, শক্তি থাকলে কেন এরূপ করবে না?

এ আয়াতে যে আযানের বর্ণনা রয়েছে ওর দ্বারা ঐ আযান উদ্দেশ্য যা ইমামের মিম্বরের উপর বসার পর দেয়া হয়। নবী (সঃ)-এর যুগে এ আযান ছিল। যখন নবী (সঃ) বাড়ী হতে বেরিয়ে এসে মিম্বরে উপবেশন করতেন তখন তাঁর সামনে এই আযান দেয়া হতো। এর পূর্ববর্তী আযান নবী (সঃ)-এর যুগে ছিল না। আমীরুল মুমিনীন হযরত উসমান (রাঃ) শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এই আযান চালু করেন। সহীহ বুখারী শরীফে রয়েছে যে, নবী (সঃ), হযরত আবু বকর (রাঃ) এবং হযরত উমার (রাঃ)-এর যুগে জুমুআহর আযান শুধু ঐ সময় হতো যখন ইমাম খুৎবাহ দেয়ার জন্যে মিম্বরে বসতেন। হযরত উসমান। (রাঃ)-এর যুগে যখন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলো তখন তিনি এই দ্বিতীয় আযান একটি পৃথক স্থানের উপর বলিয়ে নেন। ঐ স্থানটির নাম ছিল যাওরা, মসজিদের নিকটবর্তী সর্বাপেক্ষা উঁচু জায়গা এটাই ছিল।

হযরত মাকল (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, যখন ইমাম জুমআর খুত্বার জন্যে বেরিয়ে আসতেন তখনই শুধু মুআযযিন আযান দিতেন। এর পর শুধু তাকবীর দেয়া হতো এবং মুসল্লীগণ নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন। এই সময়েই ক্রয়-বিক্রয় হারাম হয়ে যায়। হযরত উসমান (রাঃ) শুধু লোক জমা করবার জন্যেই প্রথম আযান চালু করেন।

জুমআ'হয় হাযির হওয়ার হুকুম শুধু আযাদ-পুরুষদের উপর রয়েছে। নারী, গোলাম ও শিশুদের উপর এ হুকুম নেই। রুগ্ন, মুসাফির এবং অন্যান্য মাযুর ব্যক্তিদের উপরও এ হুকুম প্রযোজ্য নয়। যেমন ফুরূর কিতাব সমূহের মধ্যে এর প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে।

মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তোমরা ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। অর্থাৎ বেচা-কেনা ত্যাগ করে তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও।

উলামায়ে কিরাম এই ব্যাপারে একমত যে, জুমআর দিন যখন আযান হয়ে যাবে তখন এর পরে বেচা-কেনা সম্পূর্ণরূপে হারাম হয়ে যাবে। তবে দাতা যখন দিবে তখন সেটাও শুদ্ধ হবে কি-না এই ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। প্রকাশ্য আয়াত দ্বারা তো এটাই বুঝা যাচ্ছে যে, ওটাও শুদ্ধ হবে না। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।

এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ বেচা-কেনা ছেড়ে আল্লাহর যিকর ও নামাযের দিকে তোমাদের গমন তোমাদের জন্যে শ্রেয় যদি তোমরা উপলব্ধি কর। হ্যাঁ, তবে যখন তোমাদের নামায পড়া হয়ে যাবে তখন সেখান হতে চলে যাওয়া এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধানে লেগে পড়া তোমাদের জন্যে বৈধ।

আরাক ইবনে মালিক (রাঃ) জুমআর নামায হতে ফারেগ হয়ে মসজিদের দরযার উপর দাঁড়িয়ে যেতেন এবং নিম্নের দু'আটি পাঠ করতেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমি আপনার আহ্বানে সাড়া দিয়েছি ও আপনার হুকুম অনুযায়ী এই সমাবেশ হতে উঠে এসেছি (ও পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে যাচ্ছি), সুতরাং আপনি আমাকে আপনার অনুগ্রহ দান করুন, আপনি তো সর্বোত্তম রিযকদাতা।” (এটা ইমাম ইবনু আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

এই আয়াতকে সামনে রেখে পূর্বযুগীয় কয়েকজন মনীষী বলেছেন যে, যে ব্যক্তি জুমআর দিন নামাযের পরে ক্রয়-বিক্রয় করে আল্লাহ তা'আলা তাকে সত্তর গুণ বেশী বরকত দান করবেন।

মহান আল্লাহর উক্তিঃ নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে, আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে। অর্থাৎ ক্রয়-বিক্রয়ের অবস্থাতে আল্লাহকে স্মরণ করবে। দুনিয়ার লাভের মধ্যে এমনভাবে নিমগ্ন হয়ে পড়বে না যে, পরকালের লাভের কথা একেবারে ভুলে যাবে। এজন্যেই হাদীসে এসেছেঃ “যে ব্যক্তি কোন বাজারে গিয়ে পাঠ করেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশীদার নেই, রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি প্রত্যেক জিনিসের উপর ক্ষমতাবান।” আল্লাহ তা'আলা তার জন্যে এক লক্ষ পুণ্য লিখে নেন এবং এক লক্ষ পাপ ক্ষমা করে থাকেন।

হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, বান্দা তখনই আল্লাহর অধিক যিকরকারী হতে পারে যখন সে দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে সর্বাবস্থাতেই আল্লাহর যিকর করে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।