আল কুরআন


সূরা আল-মুমতাহিনা (আয়াত: 5)

সূরা আল-মুমতাহিনা (আয়াত: 5)



হরকত ছাড়া:

ربنا لا تجعلنا فتنة للذين كفروا واغفر لنا ربنا إنك أنت العزيز الحكيم ﴿٥﴾




হরকত সহ:

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَۃً لِّلَّذِیْنَ کَفَرُوْا وَ اغْفِرْ لَنَا رَبَّنَا ۚ اِنَّکَ اَنْتَ الْعَزِیْزُ الْحَکِیْمُ ﴿۵﴾




উচ্চারণ: রাব্বানা-লা-তাজ‘আলনা-ফিতনাতালিলল্লাযীনা কাফারূওয়াগফিরলানা-রাব্বানা- ইন্নাকা আনতাল ‘আযীযুল হাকীম।




আল বায়ান: হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে কাফিরদের উৎপীড়নের পাত্র বানাবেন না। হে আমাদের রব, আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫. হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে কাফিরদের ফিতনার পাত্র করবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।




তাইসীরুল ক্বুরআন: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে কাফিরদের উৎপীড়নের পাত্র করো না, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর, তুমি মহা পরাক্রান্ত, মহা বিজ্ঞানী।




আহসানুল বায়ান: (৫) হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে অবিশ্বাসীদের জন্য ফিতনার কারণ করো না,[1] হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’



মুজিবুর রহমান: হে আমাদের রাব্ব আপনি আমাদেরকে কাফিরদের পীড়নের পাত্র করবেননা, হে আমাদের রাব্ব! আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন! আপনিতো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।



ফযলুর রহমান: “হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে কাফেরদের জন্য পরীক্ষার পাত্র করো না। হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে ক্ষমা কর। তুমিই তো মহাপরাক্রমশালী, অসীম প্রজ্ঞাবান।”



মুহিউদ্দিন খান: হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি আমাদেরকে কাফেরদের জন্য পরীক্ষার পাত্র করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।



জহুরুল হক: আমাদের প্রভু! আমাদের তাদের শিকার বানিয়ো না যারা অবিশ্বাস পোষণ করে, আর, আমাদের প্রভু! আমাদের পরিত্রাণ করো, নিঃসন্দেহ তুমি, তুমিই তো মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।



Sahih International: Our Lord, make us not [objects of] torment for the disbelievers and forgive us, our Lord. Indeed, it is You who is the Exalted in Might, the Wise."



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫. হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে কাফিরদের ফিতনার পাত্র করবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫) হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে অবিশ্বাসীদের জন্য ফিতনার কারণ করো না,[1] হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।”


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ কাফেরদেরকে আমাদের উপর বিজয় ও কর্তৃত্ব দান করো না। এতে তারা মনে করবে যে, তারাই সত্যের উপর আছে। এইভাবে আমরা কাফেরদের জন্য ফিতনা ও পরীক্ষার কারণ হয়ে যাব। অথবা অর্থ হল, তাদের হাতে কিংবা তোমার পক্ষ হতে আমাদেরকে কোন শাস্তির মধ্যে ফেলো না। এতেও আমাদের অস্তিত্ব তাদের জন্য ফিতনার কারণ হবে। কারণ তারা বলবে যে, যদি এরা হকপন্থী হত, তাহলে তাদের উপর এই কষ্ট কি আসত?


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪-৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মু’মিন বান্দা যাদেরকে আদেশ করেছিলেন কাফির ও তাদের শত্রুদের সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করতে এবং কোন প্রকার বন্ধুত্ব গড়ে না তুলতে তাদেরকে বলছেন : ইবরাহীম (আঃ) ও তাঁর সাথে ঈমান আনয়নকারীদের কথা ও কাজে তোমাদের জন্য উত্তম আর্দশ নিহিত। যেমন তারা কাফির-মুশরিকদেরকে বলেছিল : তোমাদের সাথে এবং তোমরা যাদের ইবাদত কর তাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আর যতদিন পর্যন্ত ঈমান না আনবে ততদিন পর্যন্ত তোমাদের সাথে আমাদের শত্রুতা থাকবে। একজন মু’মিনের আদর্শ এরূপই হবে। সে কখনো শিরক ও মূর্তিপূজা এবং তাদের অনুসারীদের সাথে একত্বতা ঘোষণা করবে না।



(إِلَّا قَوْلَ إِبْرَاهِيْمَ لِأَبِيْهِ)



‘তবে ব্যতিক্রম তাঁর পিতার প্রতি ইবরাহীমের উক্তি’ অর্থাৎ ইবরাহীম (আঃ) তাঁর পিতার জন্য যে ক্ষমা প্রার্থনার কথা বলেছিলেন- এ কথা তোমাদের আদর্শ নয়। কারণ ইবরাহীম (আঃ) তাঁর পিতাকে ওয়াদা দিয়েছিলেন তার জন্য ক্ষমা চাইবে, তাই তিনি এরূপ করেছিলেন। কিন্তু যখন প্রমাণিত হল যে, তাঁর পিতা আল্লাহ তা‘আলার শত্রু তখন তিনি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। তাই একজন মু’মিন কোনদিন মুশরিকদের জন্য দু‘আ করতে পারে না, যদিও সে তার নিকটাত্মীয় হয়। সূরা তাওবার ১১৩, ১১৪ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।



(رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلَّذِيْنَ كَفَرُوْا)



‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে কাফিরদের জন্য পরীক্ষার বস্তুতে পরিণত করো না’ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : কাফিরদেরকে আমাদের ওপর বিজয় ও কর্তৃত্ব দান করো না। কাতাদাহ (রহঃ) একটু বৃদ্ধি করে বলেন : ফলে তারা মনে করবে, আমরা হকের ওপর আছি তাই জয়ী হয়েছি। মুজাহিদ (রহঃ) ও যহহাক (রহঃ) বলেন : কাফিরদের হাতে ও তোমার পক্ষ থেকে আমাদেরকে শাস্তি প্রদান করো না। তারা বলবে : যদি তারা সত্যের ওপর থাকত তাহলে এরূপ বিপদ আসত না। পরের আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা আবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, যারা আখেরাতের সফলতা চাও তাদের জন্য ইবরাহীম (আঃ) ও তাঁর অনুসারীদের মাঝে যে আদর্শ রয়েছে সে আদর্শে আদর্শবান হও। আর যারা মুখ ফিরিয়ে নেবে জেনে রেখ, আল্লাহ তা‘আলা কারো মুখাপেক্ষী নয়। তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে তাঁর কিছু আসে যায় না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. শিরক ও মুর্তিপূজা এবং তাদের অনুসারীদের সাথে মুসলিমদের কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না।

২. কাফির-মুশরিকরা ঈমান না আনা পর্যন্ত মুসলিমদের সঙ্গে শত্রুতা বিদ্যমান থাকবে।

৩. মুসলিমরা কোন মুশরিকের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারবে না।

৪. সৎপথের অনুসারী ব্যক্তিরা আল্লাহ তা‘আলার কাছে সমাদৃত।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪-৬ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় মুমিন বান্দাদেরকে কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব না করার হিদায়াত দানের পর তাদের জন্যে তাঁর খলীল হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও তার অনুসারীদের (রাঃ) নমুনা বা আদর্শ পেশ করছেন যে, তাঁরা স্পষ্টভাবে তাদের আত্মীয়-স্বজন ও জ্ঞাতি-গোষ্ঠীকে বলে দেনঃ তোমাদের সঙ্গে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদত কর তার সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। তোমাদের দ্বীন ও পন্থাকে আমরা ঘৃণা করি। তোমরা আমাদেরকে শত্রু মনে করতে থাকো যে পর্যন্ত তোমরা এই পন্থা ও মাযহাবের উপর রয়েছে। ভ্রাতৃত্বের কারণে যে আমরা তোমাদের কুফরী সত্ত্বেও তোমাদের সাথে ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক কায়েম রাখবো এটা অসম্ভব। হ্যাঁ, তবে যদি আল্লাহ তোমাদের কে হিদায়াত দান করেন এবং তোমরা এক ও শরীক বিহীন আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন কর ও তাঁর একত্ববদিকে মেনে নিয়ে তাঁর ইবাদত করতে শুরু করে দাও এবং যাদেরকে তোমরা আল্লাহর শরীক মনে করে রেখেছে ও তাদের উপাসনায় লেগে রয়েছে তাদের সবকেই পরিত্যাগ করে দাও ও নিজেদের কুফরীর নীতি ও শিরকের পন্থা হতে সরে পড় তাহলে সেটা স্বতন্ত্র কথা! এ অবস্থায় তোমরা অবশ্যই আমাদের ভাই ও বন্ধু হয়ে যাবে। অন্যথায় আমাদের ও তোমাদের মধ্যে ইত্তেহাদ ও ইত্তেফাক নেই। আমরা তোমাদের হতে ও তোমরা আমাদের হতে পৃথক। তবে হ্যাঁ, এটা স্মরণ রাখার বিষয় যে, হযরত ইবরাহীম (আঃ) তার পিতার জন্যে যে ক্ষমা প্রার্থনা করার অঙ্গীকার করেছিলেন এবং তা পূর্ণ করেছিলেন, এতে তাঁর অনুসরণ করা চলবে না। কেননা, এই ক্ষমা প্রার্থনা ঐ সময় পর্যন্ত অব্যাহত ছিল যে পর্যন্ত তিনি তাঁর পিতার আল্লাহ্ তা'আলার শত্রু হওয়ার কথা পরিষ্কারভাবে জানতে পারেননি। যখন তিনি নিশ্চিতরূপে জানতে পারলেন যে, তাঁর পিতা আল্লাহর শত্রু তখন তিনি স্পষ্টভাবে তার প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন। কোন কোন মুমিন নিজের মুশরিক মাতা-পিতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন এবং দলীল হিসেবে হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর তাঁর পিতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার ঘটনাটি পেশ করতেন। তখন আল্লাহ্ তা'আলা নিম্নের আয়াত দুটি অবতীর্ণ করেনঃ (আরবী)

অর্থাৎ “আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মুমিনদের জন্যে সংগত নয় যখন এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামী। ইবরাহীম (আঃ) তার পিতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল, তাকে এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে। অতঃপর যখন এটা তার নিকট সুস্পষ্ট হলো যে, সে আল্লাহর শত্রু তখন ইবরাহীম (আঃ) ওর সম্পর্ক ছিন্ন করলো। ইবরাহীম (আঃ) তো কোমল হৃদয় ও সহনশীল।” (৯:১১৩-১১৪) আর এই সূরায় আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন যে, উম্মতে মুহাম্মাদী (সঃ)-এর জন্যে ইবরাহীম (আঃ) ও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। তবে ব্যতিক্রম তার পিতার প্রতি ইবরাহীম (আঃ)-এর উক্তিঃ আমি নিশ্চয়ই তোমার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং তোমার ব্যাপারে আল্লাহর নিকট আমি কোন অধিকার রাখি না। অর্থাৎ মুশরিকদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার মধ্যে আদর্শ নেই। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), মুজাহিদ (রঃ), কাতাদাহ্ (রঃ), মুকাতিল ইবনে হাইয়ান (রঃ), যহ্হাক। (রঃ) প্রমুখ শুরুজনও এই ভাবার্থই বর্ণনা করেছেন।

এরপর ইরশাদ হচ্ছে যে, কওমের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে হযরত ইবরাহীম (আঃ) আল্লাহর নিকট আশ্রয় গ্রহণ করছেন। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলার নিকট আরয করছেনঃ হে আল্লাহ! সমস্ত কাজে-কর্মে আমাদের ভরসা আপনার পবিত্র সত্তার উপরই রয়েছে। আমরা আমাদের সমস্ত কার্য আপনার কাছেই সমর্পণ করছি। আমাদের প্রত্যাবর্তন তো আপনারই নিকট।

এরপর হযরত ইবরাহীম (আঃ) মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছেনঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে কাফিরদের পীড়নের পাত্র করবেন না। অর্থাৎ যেন এমন না হয় যে, তারা আমাদের উপর বিজয় লাভ করে আমাদেরকে বিপদগ্রস্ত করে ফেলে। অনুরূপভাবে যেন এরূপও না হয় যে, আপনার পক্ষ হতে আমাদের উপর কোন বিপদ আপতিত হয় এবং ওটা তাদের বিভ্রান্তির কারণ হয় যে, যদি আমরা সত্যের উপর থেকে থাকি তবে আমাদের উপর আল্লাহর আযাব আসলো কেন? দ্রুপ এও যেন না হয় যে, তারা আমাদের উপর বিজয়ী হয়ে আমাদেরকে কষ্ট দিতে দিতে আপনার দ্বীন হতে আমাদেরকে ফিরিয়ে দেয়।

অতঃপর হযরত ইবরাহীম (আঃ) প্রার্থনা করছেনঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে আপনি ক্ষমা করে দিন, আমাদের অপরাধ মার্জনা করুন! আপনি তো পরাক্রমশালী। আপনার নিকট আশ্রয়প্রার্থী কখনো বিফল মনোরথ হয়ে ফিরে আসে না। আপনার দ্বারে করাঘাতকারী কখনো শূন্য হস্তে ফিরে না। আপনি আপনার কথায়, কাজে, শরীয়ত ও ভাগ্য নির্ধারণে প্রজ্ঞাময়। আপনার কোন কাজই হিকমত শূন্য নয়।

এরপর গুরুত্ব হিসেবে মহান আল্লাহ্ পূর্ব কথারই পুনরাবৃত্তি করে বলেনঃ তাদের মধ্যে তোমাদের জন্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। যে কেউই আল্লাহ তাআলার উপর, কিয়ামত সংঘটনের সত্যতার উপর ঈমান রাখে তার তাদের অনুসরণে আগে বেড়ে পা রাখা উচিত। আর যে কেউই আল্লাহর আহ্কাম হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় তার জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ্ তো অভাবমুক্ত। তিনি কারো কোন পরোয়া করেন না। তিনি প্রশংসাৰ্য। মাখলুক সৃষ্টিকর্তার প্রশংসায় নিমগ্ন রয়েছে। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যদি তোমরা এবং ভূ-পৃষ্ঠের সবাই কুফরী কর বা অবাধ্য হয়ে যাও তবে জেনে রেখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ অভাবমুক্ত ও প্রশংসার্হ।।” (১৪:৮)

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, তাকেই বলা হয় যিনি তাঁর অভাবহীনতায় পরিপূর্ণ। একমাত্র আল্লাহরই মধ্যে এই বিশেষণ রয়েছে যে, তিনি সর্বপ্রকারের অভাবমুক্ত এবং সম্পূর্ণরূপে বেপরোয়া। অন্য কারো সত্তা এরূপ নয়। তাঁর সমকক্ষ কেউই নেই। কেউই তার সাথে তুলনীয় হতে পারে না। তিনি পবিত্র ও একক। তিনি সবারই উপর হাকিম, সবারই উপর বিজয়ী এবং সবারই বাদশাহ্। তিনি প্রশংসাৰ্হ। সমস্ত সৃষ্টজীব সদা তাঁর প্রশংসায় রত রয়েছে। অর্থাৎ তিনি তাঁর সমস্ত কথায় ও কাজে প্রশংসনীয়। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং তিনি ছাড়া কোন প্রতিপালকও নেই।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।