আল কুরআন


সূরা আল-মায়েদা (আয়াত: 84)

সূরা আল-মায়েদা (আয়াত: 84)



হরকত ছাড়া:

وما لنا لا نؤمن بالله وما جاءنا من الحق ونطمع أن يدخلنا ربنا مع القوم الصالحين ﴿٨٤﴾




হরকত সহ:

وَ مَا لَنَا لَا نُؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَ مَا جَآءَنَا مِنَ الْحَقِّ ۙ وَ نَطْمَعُ اَنْ یُّدْخِلَنَا رَبُّنَا مَعَ الْقَوْمِ الصّٰلِحِیْنَ ﴿۸۴﴾




উচ্চারণ: ওয়ামা-লানা-লা-নু’মিনুবিল্লা-হি ওয়ামা-জাআনা-মিনাল হাক্কি ওয়া নাতমা‘উ আইঁ ইউদখিলানা-রাব্বুনা-মা‘আল কাওমিসসা-লিহীন।




আল বায়ান: আর আমাদের কী হয়েছে যে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং যে সত্য আমাদের কাছে এসেছে তার প্রতি ঈমান আনব না? আর আমরা আশা করব না যে, আমাদের রব আমাদেরকে প্রবেশ করাবেন নেককার সম্প্রদায়ের সাথে’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৪. আর আল্লাহর প্রতি ও আমাদের কাছে আসা সত্যের প্রতি ঈমান না আনার কি কারণ থাকতে পারে যখন আমরা প্রত্যাশা করি যে, আমাদের রব আমাদেরকে নেককার সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেন?




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমাদের কী হয়েছে যে, আমরা আল্লাহ্তে এবং যে সত্যবিধান আমাদের নিকট এসেছে তাতে ঈমান আনব না, আর আমরা প্রত্যাশা করি যে, আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করবেন।




আহসানুল বায়ান: (৮৪) আর আমরা যখন প্রত্যাশা করি যে, আল্লাহ আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করবেন, তখন আল্লাহতে ও আমাদের নিকট আগত সত্যে আমাদের বিশ্বাস স্থাপন না করার কি কারণ থাকতে পারে?’ [1]



মুজিবুর রহমান: আর আমাদের কি এমন ওযর আছে, যে জন্য আমরা ঈমান আনবনা আল্লাহর প্রতি এবং সেই সত্যের প্রতি যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে; অথচ এ আশা রাখবো যে, আমাদের রাব্ব নেককারদের সাথে আমাদেরকে শামিল করবেন?



ফযলুর রহমান: “কেন আমরা আল্লাহকে ও আমাদের কাছে আগত সত্যকে বিশ্বাস করব না এবং আশা করব না যে, আমাদের প্রভু আমাদেরকে ভাল লোকদের সঙ্গে (জান্নাতে) প্রবেশ করান?”



মুহিউদ্দিন খান: আমাদের কি ওযর থাকতে পারে যে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং যে সত্য আমাদের কাছে এসেছে, তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব না এবং এ আশা করবো না যে, আমদের প্রতিপালক আমাদেরকে সৎ লোকদের সাথে প্রবিষ্ট করবেন?



জহুরুল হক: আর কি কারণ আমাদের থাকতে পারে যার জন্য আমরা বিশ্বাস করবো না আল্লাহ্‌তে আর যে সত্য আমাদের কাছে এসেছে তাতে, যখন আমরা আকুল আকাঙ্খা করি যে আমাদের প্রভু যেন সৎকর্মশীল লোকদের সঙ্গে আমাদের অন্তর্ভুক্ত করেন?



Sahih International: And why should we not believe in Allah and what has come to us of the truth? And we aspire that our Lord will admit us [to Paradise] with the righteous people."



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৮৪. আর আল্লাহর প্রতি ও আমাদের কাছে আসা সত্যের প্রতি ঈমান না আনার কি কারণ থাকতে পারে যখন আমরা প্রত্যাশা করি যে, আমাদের রব আমাদেরকে নেককার সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেন?


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৮৪) আর আমরা যখন প্রত্যাশা করি যে, আল্লাহ আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করবেন, তখন আল্লাহতে ও আমাদের নিকট আগত সত্যে আমাদের বিশ্বাস স্থাপন না করার কি কারণ থাকতে পারে?’ [1]


তাফসীর:

[1] হাবশা নামক স্থানে, যেখানে মুসলিমগণ মক্কী জীবনে দুইবার হিজরত করেছিলেন, যেখানে আসহামা নাজাশীর শাসন ছিল। এটি খ্রিষ্টান-রাষ্ট্র বলে পরিচিত ছিল। এই আয়াত হাবশায় অবস্থানরত খ্রিষ্টানদের শানেই অবতীর্ণ হয়। যেমন হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম (সাঃ) আমর বিন উমায়ইয়াহ যামরী (রাঃ)-কে লিখিত পত্র সহ নাজাশীর নিকট প্রেরণ করেন এবং তিনি পত্র বহন করে নিয়ে গিয়ে নাজাশীকে পাঠ করে শুনান। নাজাশী উক্ত পত্র শোনার পর হাবশায় অবস্থানরত মুহাজিরগণ ও জা’ফর ইবনে আবু তালেব (রাঃ)-কে ডেকে পাঠান। আর সাথে সাথে তাঁর স্বধর্মীয় আলেম, আবেদ ও পন্ডিতগণকেও একত্রিত করেন। অতঃপর জা’ফর (রাঃ)-কে কুরআন পাঠ করার নির্দেশ দেন এবং তিনি সূরা মারয়্যাম পাঠ করেন; যাতে ঈসা (আঃ)-এর অলৌকিক জন্ম-বৃত্তান্ত ও আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল হওয়ার কথা উল্লেখ হয়েছে। তারা সকলেই তেলাওয়াত শুনে বড় প্রভাবিত হন। তাঁদের চক্ষু দিয়ে অশ্রুধারা প্রবাহিত হয় এবং তাঁরা সকলেই ঈমান আনয়ন করেন। আবার কেউ বলেন, নাজাশী তাঁর কিছু সংখ্যক উলামাকে রসূল (সাঃ)-এর নিকট প্রেরণ করেন। যখন রসূল (সাঃ) তাঁদের সামনে কুরআন পাঠ করে শুনান, তখন তাঁদের চক্ষু দিয়ে অনায়াসে অশ্রুধারা প্রবাহিত হয় এবং তাঁরা সকলেই ঈমান আনয়ন করেন। (ফাতহুল ক্বাদীর) কুরআন শুনে যেভাবে তাঁরা প্রভাবিত হয়েছিলেন, উল্লিখিত আয়াতে তার চিত্রাঙ্কন করা হয়েছে। এই শ্রেণীর খ্রিষ্টানদের ঈমান আনয়নের কথা কুরআনের বেশ কিছু জায়গায় উল্লিখিত রয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন,{وَإِنَّ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَمَن يُؤْمِنُ بِاللّهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْكُمْ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْهِمْ خَاشِعِينَ لِلّهِ} অর্থাৎ, নিশ্চয় গ্রন্থধারীদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছে যারা আল্লাহতে, তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তাতে আল্লাহর নিকট বিনয়াবনত হয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে---। (সূরা আলে ইমরান ১৯৯) আর হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন নবী করীম (সাঃ) নাজাশী বাদশাহর মৃত্যুর সংবাদ পেলেন, তখন তিনি সাহাবা কেরাম (রাঃ)-কে বললেন, হাবশাতে তোমাদের ভাই নাজাশীর ইন্তেকাল হয়েছে, তাঁর জানাযার নামায আদায় কর। সুতরাং নবী করীম (সাঃ) মুসাল্লায় তাঁর গায়েবী জানাযার নামায আদায় করলেন। (বুখারী, মুসলিম) অন্য এক হাদীসে আহলে কিতাবদের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাঃ)-এর নবুঅতের প্রতি যে ঈমান আনয়ন করবে, তাকে দ্বিগুণ সওয়াবের অধিকারী করা হবে। (বুখারীঃ ইলম অধ্যায় ও নিকাহ অধ্যায়)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮৩-৮৬ নং আয়াতের তাফসীর:



(وَإِذَا سَمِعُوْا مَآ أُنْزِلَ إِلَي الرَّسُوْلِ)



‘রাসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যখন তারা শ্রবণ করে’মুসলিমদের প্রতি খ্রিস্টানদের সৌহার্দ্য, ঘনিষ্ঠতা ও বন্ধুত্বের এটি আরেকটি কারণ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য জেনে তাদের চোখ দিয়ে অশ্র“ ঝরে এবং ঈমান আনে। তারা বলে:



(وَمَا لَنَا لَا نُؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَمَا جَا۬ءَنَا مِنَ الْحَقِّ لا وَنَطْمَعُ أَنْ يُّدْخِلَنَا رَبُّنَا مَعَ الْقَوْمِ الصّٰلِحِيْنَ)‏



“আমাদের কী হল যে, আমরা ‘আল্লাহ এবং আমাদের নিকট যে সত্য এসেছে তার ওপর ঈমান আনব না অথচ আমরা প্রত্যাশা করি, আল্লাহ আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করবেন।’এগুলো হল অধিকাংশ খ্রিস্টানদের গুণ, কারণ তারা সত্য গ্রহণে হিংসা করে না যেমন হিংসা ও অহংকার করে থাকে ইয়াহূদীরা। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِنَّ مِنْ أَهْلِ الْكِتٰبِ لَمَنْ يُّؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَمَآ أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ وَمَآ أُنْزِلَ إِلَيْهِمْ خَاشِعِيْنَ لِلّٰهِ)



“আর নিশ্চয়ই আহলে কিতাবের মধ্যে এরূপ লোকও রয়েছে যারা আল্লাহর প্রতি এবং তোমাদের প্রতি ও তাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে আল্লাহর ভয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে।”(সূরা আলি-ইমরান ৩:১৯৯)



এদের ব্যাপারে আরো বলেন:



(اَلَّذِيْنَ اٰتَيْنٰهُمُ الْكِتٰبَ مِنْ قَبْلِه۪ هُمْ بِه۪ يُؤْمِنُوْنَ)



“তার পূর্বে আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছিলাম, তারা তাতে বিশ্বাস করে।”(সূরা কাসাস ২৮:৫২) মহান আল্লাহ তা‘আলা এসব সৎ ব্যক্তিদের জন্য প্রতিদানস্বরূপ তৈরি করে রেখেছেন জান্নাত। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম।



সুতরাং ইসলাম ও মুসলিমদের প্রধান শত্র“ ইয়াহূদী ও মুশরিকদের ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকা উচিত। কেননা ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে হত্যা করার চক্রান্ত করেছে, মুসলিমদের ওপর নির্যাতন করেছে। বারংবার বিশ্বাস ঘাতকতা ও ষড়যন্ত্র করার অপরাধে ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা উমার (রাঃ) তাদেরকে মদীনাহ থেকে বহিষ্কার করলেন। এরপর থেকে তারা ভবঘুরের মত বিশ্বের দ্বারে দ্বারে উ™£ান্তের ন্যায় একটু নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য জনে জনে ঘুরে বেড়ায়। ইতিহাস খ্যাত বিশ্বাসঘাতক জাতি হওয়ায় কোথাও তাদের ঠাঁই হলনা। হিটলারের ধ্বংসযজ্ঞে পড়ে নিজেদের অস্তিত্ব যখন বিলীনের দ্বার প্রান্তে তখন দয়ার পরশ হয়ে ফিলিস্তীনের মুসলিমগণ তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু আজ সেই আশ্রয়দানকারীরাই ভিটে-মাটি হারিয়ে আপন দেশেই মুসাফির। রক্তের বন্যা বইছে পবিত্র নগরীতে। হায়, বিশ্বাসঘাতক জাতি!!! মুসলিমদের বোধদয় হবে কি?



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মুসলিমদের এক নম্বর শত্র“ ইয়াহূদী ও অন্যান্য ধর্মালম্বী মুশরিক।

২. মুসলিমদের প্রতি সৌহার্দ্য ও ঈমান আনয়নের দিক দিয়ে ইসলামের নিকটবর্তী খ্রিস্টানগণ।

৩. ঈমানদার খ্রিস্টানদের একাধিক গুণাবলীর অন্যতম হচ্ছে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনা।

৪. সৎ ও অসৎ ব্যক্তির পরকালীন ফলাফল জান্নাত ও জাহান্নাম।

৫. আল্লাহ তা‘আলার লা‘নতপ্রাপ্ত ও পৃথিবীর সবচেয়ে ঘৃণিত ইয়াহূদী জাতি থেকে সাবধান হতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮৩-৮৬ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ পাক বলছেন-যখন তারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উপর অবতারিত অহী শ্রবণ করে তখন হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তুমি তাদেরকে দেখতে পাও যে, তাদের চক্ষু অশ্রুসিক্ত হয়েছে। কেননা, তারা সেই ভবিষ্যত সুসংবাদ সম্পর্কে অবহিত হয়ে গেছে যা (তারা মুহাম্মাদ সঃ -এর প্রেরিতত্ব সম্পর্কীয় সংবাদ) তাদের কিতাব তাওরাত ও ইঞ্জীলে দেখেছিল। তাই তারা বলতে শুরু করে- হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা মুহাম্মাদ (সঃ)-এর উপর ঈমান এনেছি। সুতরাং আপনি আমাদের ঐ দলের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা সাক্ষ্য দান করেছে ও ঈমান এনেছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, (আরবী) দ্বারা হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) ও তাঁর উম্মতকে বুঝানো হয়েছে, যারা তাদের নবী (সঃ)-এর জন্যে সাক্ষ্য দান করেছিলেন যে, নবী (সঃ) প্রচারের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অন্যান্য রাসূলদের জন্যেও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তাঁরাও তাবলীগের দায়িত্ব পালন করেছেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) আরও বলেন যে, লোকদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, যারা কৃষক শ্রেণীর লোক ছিলেন এবং হযরত জাফর ইবনে আবি তালিব (রাঃ)-এর সাথে আবিসিনিয়া হতে এসেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন তাদেরকে কুরআন মাজীদ পাঠ করে শুনান তখন তারা ঈমান আনেন। ঐ সময় তাঁদের চোখে অশ্রু দেখা দেয়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদেরকে বলেনঃ “যখন তোমরা স্বদেশে ফিরে যাবে তখন তোমাদের পূর্ব মাযহাবে ফিরে যাবে না তো?” তাঁরা উত্তরে বলেনঃ ‘আমরা আমাদের এ দ্বীন হতে কখনও ফিরে যাবো না। মহান আল্লাহ তাঁদের উক্তিকে এভাবে নকল করেছেন- (আরবী) অর্থাৎ “আমাদের এমন কি ওযর আছে যে, আমরা ঈমান আনবো না আল্লাহর প্রতি এবং সেই সত্যের প্রতি যা আমাদের কাছে এসেছে? অথচ আমরা এ আশা রাখবো যে, আমাদের প্রভু সৎ লোকদের সাথে আমাদেরকে শামিল করবেন।” ঐ লোকগুলো ছিলেন নাসারা যাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেনঃ “আহলে কিতাবের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে এবং বিশ্বাস রাখে ঐ কিতাবের উপর যা তোমাদের উপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা তাদের উপর অবতীর্ণ করা হয়েছিল, আর আল্লাহর সামনে তারা বিনয় প্রকাশ করে।” অন্য জায়গায় তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “যখন তাদের সামনে (কুরআন) পাঠ করা হয় তখন তারা বলে-আমরা এর উপর ঈমান এনেছি, এটা আমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে সত্য, আমরা তো ইতিপূর্বেই মুসলমান ছিলাম।” এ জন্যেই আল্লাহ তাআলা এখানে বলেনঃ “এ স্বীকারোক্তির কারণে আল্লাহ তাদেরকে এমন জান্নাতসমূহ প্রদান করবেন যেগুলোর নিম্নদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনীসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে, তারা তথায় চিরকাল অবস্থান করবে। এক মুহূর্তের জন্যেও তাদেরকে সেখান থেকে সরানো হবে না, সৎকর্মশীলদের প্রতিদান এটাই।” অতঃপর তিনি দুষ্ট লোকদের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ যারা কুফরী করলো এবং আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো, তারা জাহান্নামের অধিবাসী।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।