সূরা আল-মায়েদা (আয়াত: 76)
হরকত ছাড়া:
قل أتعبدون من دون الله ما لا يملك لكم ضرا ولا نفعا والله هو السميع العليم ﴿٧٦﴾
হরকত সহ:
قُلْ اَتَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَا لَا یَمْلِکُ لَکُمْ ضَرًّا وَّ لَا نَفْعًا ؕ وَ اللّٰهُ هُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ ﴿۷۶﴾
উচ্চারণ: কুল আতা‘বুদূ না মিন দূ নিল্লা-হি মা-লা-ইয়ামলিকুলাকুম দাররাওঁ ওয়ালা-নাফ‘আওঁ ওয়াল্লা-হু হুওয়াছ ছামী‘উল ‘আলীম।
আল বায়ান: বল, ‘তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ইবাদাত করবে, যা তোমাদের জন্য কোন ক্ষতি ও উপকারের ক্ষমতা রাখে না? আর আল্লাহ, তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৬. বলুন, ‘তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ইবাদত কর যার কোন ক্ষমতা নেই তোমাদের ক্ষতি বা উপকার করার? আর আল্লাহ তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
তাইসীরুল ক্বুরআন: বল, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে কি এমন কিছুর ‘ইবাদাত করছ যাদের না আছে কোন ক্ষতি করার ক্ষমতা, আর না আছে উপকার করার। আর আল্লাহ তিনি হলেন সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
আহসানুল বায়ান: (৭৬) বল, ‘তোমরা কি আল্লাহ ভিন্ন এমন কিছুর উপাসনা কর, যার তোমাদের ক্ষতি ও উপকার করার কোন ক্ষমতা নেই? বস্তুতঃ আল্লাহ সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ।’ [1]
মুজিবুর রহমান: তুমি বলে দাওঃ তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন বস্তুর ইবাদাত কর যা তোমাদের না কোন অপকার করার ক্ষমতা রাখে, আর না কোন উপকার করার? অথচ আল্লাহই সব শুনেন, জানেন।
ফযলুর রহমান: বল, “তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন কিছুর ইবাদত করো যা তোমাদের কোন ক্ষতি কিংবা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না? বরং আল্লাহই সবকিছু শোনেন, সবকিছু জানেন।”
মুহিউদ্দিন খান: বলে দিনঃ তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত এমন বস্তুর এবাদত কর যে, তোমাদের অপকার বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না? অথচ আল্লাহ সব শুনেন ও জানেন।
জহুরুল হক: বলো -- "তোমরা আল্লাহ্কে ছেড়ে দিয়ে কি তার এবাদত করো যার কোনো ক্ষমতা নেই তোমাদের জন্য অপকারের, না কোনো উপকারের? আর আল্লাহ্, -- তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।"
Sahih International: Say, "Do you worship besides Allah that which holds for you no [power of] harm or benefit while it is Allah who is the Hearing, the Knowing?"
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭৬. বলুন, ‘তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ইবাদত কর যার কোন ক্ষমতা নেই তোমাদের ক্ষতি বা উপকার করার? আর আল্লাহ তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭৬) বল, ‘তোমরা কি আল্লাহ ভিন্ন এমন কিছুর উপাসনা কর, যার তোমাদের ক্ষতি ও উপকার করার কোন ক্ষমতা নেই? বস্তুতঃ আল্লাহ সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ।’ [1]
তাফসীর:
[1] এটাই মুশরিকদের নির্বোধ হওয়ার পরিচয় যে, তারা তাদেরই মধ্য হতে একজনকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে, যে কারো কোন উপকার বা অপকার সাধন করতে পারে না। আর কারো উপকার বা অপকার সাধন করা তো দূরের কথা, সে না কারো কথা শুনতে পায়, আর না কারো অবস্থা সর্ম্পকে অবগত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। বরং এই শক্তি কেবলমাত্র আল্লাহর মধ্যেই আছে। আর এই জন্যই তিনি হচ্ছেন একমাত্র বিপত্তারণ ও ফরিয়াদ শ্রবণকারী।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৭৬-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর:
যারা আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত নিজেদের তৈরি মূর্তি ও প্রতিমার ইবাদত করে আল্লাহ তা‘আলা সেসব মুশরিকদেরকে ভর্ৎসনা করে বলেন যে, তোমরা এমন সব বাতিল মা‘বূদের ইবাদত কর যারা তোমাদের কোন উপকার বা অপকারের ক্ষমতা রাখে না। তারা তো তোমাদের কোন অভিযোগও শুনতে পায় না। বরং আল্লাহ তা‘আলা সত্যিকার মা‘বূদ যিনি সবকিছু শুনেন এবং জানেন।
পরের আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা আহলে কিতাবদেরকে অন্যায়ভাবে তাদের দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন। তারা নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে ঈসা (আঃ)-এর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে তাকে আল্লাহ তা‘আলার মর্যাদায় পৌঁছে দিয়েছে।
আল্লাহ তা‘আলা সৎ লোকেদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে কবরগুলোকে ইবাদাতের স্থান বানিয়ে নিয়েছে। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
لَا تُطْرُونِي، كَمَا أَطْرَتْ النَّصَارَي ابْنَ مَرْيَمَ، فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُهُ، فَقُولُوا عَبْدُ اللّٰهِ، وَرَسُولُهُ
তোমরা আমার সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করো না, যেমন খ্রিস্টানগণ ঈসা (আঃ)-কে নিয়ে করেছে। আমি একজন আল্লাহর বান্দা। অতএব আমাকে আল্লাহ তা‘আলার বান্দা ও রাসূল বলে সম্বোধন কর। (সহীহ বুখারী হা: ৩৪৪৫)
দীন ও সৎ লোকেদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে অধিকাংশ লোক শির্কে লিপ্ত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা বাড়াবাড়ি করা থেকে দূরে থাক, কেননা বাড়াবাড়ি তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে। (ইবনু মাযাহ হা: ৩০২৯, সহীহ) তাই সৎ লোকেদের নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে তাদের উপযুক্ত মর্যাদা দিয়ে দীনের ব্যাপারে তাদের থেকে শিক্ষা নিয়ে এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে হবে।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত যাদের ইবাদত করা হয় তারা সব বাতিল মা‘বূদ। তারা মানুষের কোন ভাল-মন্দের মালিক নয়।
২. দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘন করা নিষেধ।
৩. যারা নিজে পথভ্রষ্ট ও অন্যদেরকে পথভ্রষ্ট করে তাদের অনুসরণ করা যাবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৭৬-৭৭ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে আল্লাহকে ছেড়ে বাতিল মা’রূদগুলোর ইবাদত করতে নিষেধ করা হচ্ছে। আল্লাহ তা'আলা নবী (সঃ)-কে বলছেন- এসব লোককে বলে দাও–যারা তোমাদের কোন ক্ষতি করার এবং উপকার করার কোনই ক্ষমতা রাখে না, তাদের তোমরা কেন পূজা করছো? যিনি সবকিছু শুনেন ও সবকিছুর খবর রাখেন, সেই আল্লাহকে ছেড়ে দিয়ে যাদের শুনবার, দেখবার এবং উপকার ও অপকার করবার কোনই ক্ষমতা নেই, তাদের অনুসরণ করা কতই না নির্বুদ্ধিতার কাজ! হে আহলে কিতাব! তোমরা হক ও সত্যের সীমা ছাড়িয়ে যেয়ো না। যার যতটুকু সম্মান করার নির্দেশ রয়েছে তার ততটুকুই সম্মান কর। মানুষের মধ্যে যাদেরকে আল্লাহ নবুওয়াত দান করেছেন তাদেরকে নবুওয়াতের মর্যাদা থেকে বাড়িয়ে আল্লাহর মর্যাদায় পৌছিয়ে দিয়ো না। যেমন তোমরা মাসীহ (আঃ)-এর ব্যাপার ভুল করছে। এর একমাত্র কারণ এটাই যে, তোমরা তোমাদের পীর, মুরশিদ, উস্তাদ এবং ইমামদের পিছনে লেগে পড়েছে। তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট এবং অনুসারীদেরকেও করেছে পথভ্রষ্ট। বহু দিন হতে সরল ও ন্যায়ের পথকে ছেড়ে দিয়েছে এবং ভ্রান্তি ও বিদআতের মধ্যে জড়িত হয়ে পড়েছে। ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তাদের মধ্যে একটি লোক ধর্মের খুবই পাবন্দ ছিল। কিছুদিন পর শয়তান তাকে পথভ্রষ্ট করে দেয়। সে তাকে বলে, “আগের লোকেরা যা করে গেছে তুমিও তো তাই করছে। এতে কি হবে? এর দ্বারা না জনগণের মধ্যে তোমার কোন মর্যাদা লাভ হবে, না তোমার কোন খ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে। বরং একটা নতুন কিছু আবিষ্কার কর এবং জনগণের মধ্যে তা ছড়িয়ে দাও। তাহলে দেখতে পাবে যে, তোমার খ্যাতি কিরূপে ছড়িয়ে পড়ছে এবং কিভাবে স্থানে স্থানে তোমার সম্পর্কে আলোচনা চলছে।” সুতরাং সে তার কথা মত তা-ই করলো। তার ঐ বিদআতগুলো জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লো এবং বহু যুগ পর্যন্ত লোকেরা তার অন্ধ অনুকরণ করতে থাকলো। এখন হতে সে খুবই লজ্জিত হলো এবং সালতানাত ও রাজত্ব পরিত্যাগ করলো। তারপর নির্জনে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হয়ে পড়লো। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাকে জানিয়ে দিলেন-“তুমি যদি শুধু আমারই ব্যাপারে ভুল ও অপরাধ করতে তবে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিতাম। কিন্তু তুমি সাধারণ লোকের আমল নষ্ট করে দিয়েছে এবং তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে ভ্রান্তির পথে লাগিয়ে দিয়েছে। সেই পথে চলতে চলতে তারা মৃত্যুবরণ করেছে। তাদের পাপের বোঝা তোমার উপর থেকে কিরূপে সরতে পারে? সুতরাং তোমার তাওবা কবুল করা হবে না।” এ ধরনের লোকদের ব্যাপারে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।