আল কুরআন


সূরা আল-মায়েদা (আয়াত: 58)

সূরা আল-মায়েদা (আয়াত: 58)



হরকত ছাড়া:

وإذا ناديتم إلى الصلاة اتخذوها هزوا ولعبا ذلك بأنهم قوم لا يعقلون ﴿٥٨﴾




হরকত সহ:

وَ اِذَا نَادَیْتُمْ اِلَی الصَّلٰوۃِ اتَّخَذُوْهَا هُزُوًا وَّ لَعِبًا ؕ ذٰلِکَ بِاَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا یَعْقِلُوْنَ ﴿۵۸﴾




উচ্চারণ: ওয়া ইযা-না-দাইতুম ইলাস সালা-তিত তাখাযূহা-হুযুওয়াওঁ ওয়া লা‘ইবান যা-লিকা বিআন্নাহুম কাওমুল লা-ইয়া‘কিলূন।




আল বায়ান: আর যখন তোমরা সালাতের দিকে ডাক, তখন তারা একে উপহাস ও খেল-তামাশারূপে গ্রহণ করে। তা এই কারণে যে, তারা এমন কওম, যারা বুঝে না।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৮. আর যখন তোমরা সালাতের প্রতি আহ্বান কর তখন তারা সেটাকে হাসি-তামাশা ও খেলার বস্তুরূপে গ্রহণ করে- এটা এ জন্যে যে, তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা বোঝে না।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমরা যখন সলাতের জন্য আহবান জানাও তখন তারা সেটিকে তামাশা ও খেলার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে। এটা এজন্য যে, তারা হল নির্বোধ সম্প্রদায়।




আহসানুল বায়ান: (৫৮) আর তোমরা যখন নামাযের জন্য আহবান কর, তখন তারা ওকে হাসি-তামাসা ও ক্রীড়ার বস্তুরূপে গ্রহণ করে।[1] কেননা তারা এক নির্বোধ জাতি।



মুজিবুর রহমান: আর যখন তোমরা সালাতের (আযান দ্বারা) আহবান কর তখন তারা ওর সাথে উপহাস করে; এর কারণ এই যে, তারা এরূপ লোক যারা মোটেই জ্ঞান রাখেনা।



ফযলুর রহমান: তোমরা যখন নামাযের ডাক দাও তখন তারা একে ঠাট্টা ও খেলার বস্তু মনে করে। এর কারণ, তারা নির্বোধ।



মুহিউদ্দিন খান: আর যখন তোমরা নামাযের জন্যে আহবান কর, তখন তারা একে উপহাস ও খেলা বলে মনে করে। কারণ, তারা নিবোর্ধ।



জহুরুল হক: আর যখন তোমরা নামাযের জন্য আহ্বান করো, তারা তাকে বিদ্রূপের ও খেলার জিনিসরূপে গ্রহণ করে। সেটি এই জন্য যে তারা এমন একটি দল যারা বুঝে না।



Sahih International: And when you call to prayer, they take it in ridicule and amusement. That is because they are a people who do not use reason.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৮. আর যখন তোমরা সালাতের প্রতি আহ্বান কর তখন তারা সেটাকে হাসি-তামাশা ও খেলার বস্তুরূপে গ্রহণ করে- এটা এ জন্যে যে, তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা বোঝে না।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৮) আর তোমরা যখন নামাযের জন্য আহবান কর, তখন তারা ওকে হাসি-তামাসা ও ক্রীড়ার বস্তুরূপে গ্রহণ করে।[1] কেননা তারা এক নির্বোধ জাতি।


তাফসীর:

[1] হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, শয়তান আযানের শব্দ শোনামাত্রই পাদতে পাদতে পলায়ন করে। তারপর আযান শেষ হওয়ার পর পুনরায় আসে এবং তাকবীর শুনে আবার পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে। আর তাকবীর শেষে পুনরায় এসে যায় এবং নামাযীদের অন্তরে কুমন্ত্রণা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। (বুখারীঃ আযান অধ্যায় ও মুসলিমঃ নামায অধ্যায়) অনুরূপভাবে শয়তানের অনুসারীদেরকেও আযানের শব্দাবলী শুনতে ভালো লাগে না। যার জন্য তারা এ ব্যাপারে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এই আয়াত হতে এটাও প্রমাণিত হয় যে, রসূল (সাঃ)-এর হাদীসও দ্বীনের মূল উৎস এবং অকাট্যপ্রমাণ স্বরূপ। কেননা কুরআনে নামাযের জন্য আযানের কথা উল্লেখ হয়েছে কিন্তু এই আযান কেমন করে দেওয়া হবে? তার শব্দাবলী কি হবে? এটা কুরআনে কোথাও উল্লেখ হয়নি বরং এটা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, যা তার দ্বীনের মূল উৎস হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য প্রমাণ। হাদীস দ্বীনের অকাট্য প্রমাণ, মূল উৎস ও শরয়ী বিধান হওয়ার ভাবার্থ হচ্ছে, যেরূপে কুরআনের উক্তি দ্বারা প্রমাণিত বিধান ও ফরযসমূহ পালন করা জরুরী ও অপরিহার্য এবং তা পরিত্যাগ করা কুফরী, অনুরূপ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত বিধান ও ফরযসমূহ পালন করা জরুরী ও অপরিহার্য এবং তা পরিত্যাগ করা কুফরী। কিন্তু শর্ত হচ্ছে, হাদীসকে সহীহ সনদে, নবী (সাঃ) থেকে অবিছিন্ন সূত্রে বর্ণিত হওয়া জরুরী। আর সহীহ হাদীস চাহে তা খবরে ওয়াহেদ (একটি মাত্র বর্ণনাকারী দ্বারা বর্ণিত) হোক অথবা মুতাওয়াতির (বহু বর্ণনাকারী দ্বারা বর্ণিত) হোক, নবী (সাঃ)-এর কথা হোক অথবা কর্ম অথবা মৌনসম্মতি হোক, সকল শ্রেণীর হাদীসের উপর আমল করা অপরিহার্য। হাদীসকে ‘খবরে ওয়াহেদ’ আখ্যা দিয়ে কিংবা কুরআনের উপর অতিরিক্ত মনে করে কিংবা উলামাদের ইজতিহাদ ও কিয়াসকে প্রাধান্য দিয়ে কিংবা বর্ণনাকারী ফকীহ নয় দাবী করে কিংবা হাদীসের বক্তব্য জ্ঞান ও বিবেকের প্রতিকূল মনে করে কিংবা আরো অন্য রকম কিছু মনে করে আমল না করা ও প্রত্যাখ্যান করা অবশ্যই ঠিক নয়; বরং এ সব হাদীস অমান্য করার বিভিন্ন ধরণ বা পদ্ধতি।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৭-৫৮ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা সেসব পূর্ববর্তী কিতাবধারী ও কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন যারা আমাদের দীন ইসলামকে নিয়ে ঠাট্টা ও খেল-তামাশা করে।



এ বিধান শুধু পূর্ববর্তী কিতাবধারী ও কাফিরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদেরকে তো সাধারণভাবেই কোনক্রমে বন্ধু বানানো যাবে না, এ কাজ করুক আর না করুক। বরং এ আচরণ যাদের মধ্যেই বিদ্যমান থাকবে বা প্রকাশ পাবে সে নামধারী মুসলিম হলেও তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। কেননা এরা সবাই শয়তানের দলে, আল্লাহ তা‘আলার দলে নয়। এমনিভাবে যারা ইসলামের বিধান ও মুসলিমদের নিয়ে ঠাট্টা করে তারাও ঐ সব শয়তানের দল। এরা ইসলাম ও মুসলিমদের শত্র“।



সুতরাং সে সকল মু’মিনের ঈমানের ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ হয়- যারা মুখে ঈমানের দাবী করে যারা ইসলাম নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করে, মুসলিমদের প্রিয় নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ব্যঙ্গ করে এবং ইসলামের বিধি-বিধানকে কুদৃষ্টিতে দেখে তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখে। যদি সত্যিই তারা ইসলামকে ভালবাসে তাহলে ইসলামকে যারা খারাপ জানে তাদেরকে ভাল জানতে পারে না। অবশ্যই তাদেরকে খারাপ জানবে। এটাই ঈমানের দাবী।



(وَإِذَا نَادَيْتُمْ إِلَي الصَّلٰوةِ)



‘তোমরা যখন সালাতের জন্য আহ্বান কর’ তোমরা সালাতের জন্য আহ্বান কর বা আযান দাও তখনও তারা এটাকে ঠাট্টা ও খেলার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে।



হাদীসে এসেছে; যখন আযান দেয়া হয় তখন শয়তান পিছনদ্বার দিয়ে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে এতদূর চলে যায় যেখানে আযান শোনা যায় না। আযান শেে সে আবার ফিরে আসে। (সহীহ বুখারী হা: ৬০৮, সহীহ মুসলিম হা: ৩৮৯)



অনুরূপভাবে শয়তানের অনুসারীদেরকেও আযান শুনতে ভাল লাগে না। যার কারণে আযান নিয়ে বিভিন্ন জন বিভিন্ন মন্তব্য করে। এরা ইসলামের শত্র“ ও শয়তানের দল।



এ আয়াত থেকে বুঝা যায়, হাদীসও শরীয়তের মূল উৎস ও অকাট্য প্রমাণ। কারণ কুরআনে সালাতের জন্য আযানের কথা উল্লেখ আছে কিন্তু আযান কিভাবে দিতে হবে তার ধরণ-করণ ইত্যাদি কিছ্্ুই উল্লেখ নেই। এর বিস্তারিত বর্ণনা হাদীসে এসেছে। সুতরাং হাদীস দীনের অকাট্য দলীল। তবে হাদীস হতে হবে সহীহ, কারণ ইসলামের শত্র“রা ইসলাম ও মুসলিমদের ক্ষতি করার জন্য অনেক বানোয়াট কথা হাদীসের নামে চালিয়ে দিয়েছে। সুতরাং কোন সহীহ হাদীস যদি একটি মাত্র বর্ণনাকারী দ্বারাও বর্ণিত হয় তাহলেও তা অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। চাই আমার মত, দল ও চিন্তার সাথে মিলুক আর নাই মিলুক।



ইসলামের কোন বিধি-বিধান ও প্রতীক নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করলে তার বিধান সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُوْلُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوْضُ وَنَلْعَبُ ط قُلْ أَبِاللّٰهِ وَاٰيٰتِه۪ وَرَسُوْلِه۪ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُوْنَ - لَا تَعْتَذِرُوْا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيْمَانِكُمْ)



“এবং তুমি তাদেরকে প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে: ‘আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম।’ বল:‎ ‘তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর নিদর্শন ও তাঁর রাসূলকে নিয়ে বিদ্রƒপ করছিলে? ‘তোমরা ওযর পেশের চেষ্টা কর না। তোমরা ঈমান আনার পর কাফের হয়ে গেছ।”(সূরা তাওবাহ ৯:৬৫)



তাই আমাদের উচিত ইসলামের প্রতিটি বিধান ও প্রতীককে সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করা।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কাফির মুশরিকরা আমাদের দীন নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করে, অতএব কিভাবে আমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব বজায় রাখব?

২. যারা ইসলামের কোন বিধান ও নিদর্শন নিয়ে ঠাট্টা করবে তারা মুসলিম থাকতে পারে না।

৩. হাদীসও কুরআনের মত ইসলামী শরীয়তের অকাট্য প্রমাণ। হাদীস ছাড়া ইসলাম পূর্ণঙ্গভাবে পালন করা সম্ভব নয়।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৭-৫৮ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে আল্লাহ তা'আলা মুসলমানদের মনে অমুসলিমদের বন্ধুত্ব ও ভালবাসার প্রতি ঘৃণা জন্মিয়ে দিয়ে বলছেন- তোমরা কি এমন লোকদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, যারা তোমাদের পবিত্র ধর্মের সাথে হাসি তামাশা করছে? (আরবী) শব্দটি (আরবী) -এর জন্যে এসেছে, যেমন (আরবী) -এর মধ্যে। কেউ কেউ অল কুফফারে পড়েছেন এবং (আরবী) করেছেন। আবার কেউ কেউ অল কুফফারা পড়েছেন এবং (আরবী) -এর। বানিয়েছেন। তখন (আরবী) হবে অলাল কুফফারা আউলিয়ায়া এরূপ। এখানে দ্বারা মুশরিকদেরকে বুঝানো হয়েছে। ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর কিরআতে ওয়া মিনাল্লাযিনা আশরাকু এরূপ রয়েছে।

ঘোষিত হচ্ছে-যদি তোমরা ঈমানদার হও তবে আল্লাহকে ভয় কর। এরা তো তোমাদের দ্বীনের সাথে, আল্লাহর সাথে এবং শরীয়তের সাথে শত্রুতা করছে। যেমন অন্য স্থানে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন (আরবী) অর্থাৎ “মুসলমানদের উচিত কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করা মুসলমানদের (বন্ধুত্ব) অতিক্রম করে, আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে বন্ধুত্ব রাখার কোন হিসেবে নয়, অবশ্য এমন অবস্থায় (বাহ্যিক বন্ধুত্বের অনুমতি আছে) যখন তোমরা তাদের থেকে কোন প্রকার আংশকা কর, আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর সত্তার ভয় দেখাচ্ছেন, আর আল্লাহরই কাছে ফিরে যেতে হবে।” (৩:২৮) অনুরূপভাবে আহলে কিতাবের এ কাফিররাও এবং মুশরিকরাও এ সময়েও ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে থাকে যখন তোমরা নামাযের জন্যে আযান দাও। অথচ এটাই আল্লাহ তা'আলার সবচেয়ে প্রিয় ইবাদত। কিন্তু এ নির্বোধরা এটুকুও জানে না। তাই তারা শয়তানের অনুসারী। আর শয়তানের অবস্থা এই যে, আযান শোনামাত্রই সে গুহ্যদ্বার দিয়ে বায়ু বের করতঃ লেজ গুটিয়ে পলায়ন করে এবং সেখানে গিয়ে থেমে যায় যেখানে আযানের শব্দ পৌছে না। তারপর আবার আসে এবং তাকবীর শুনে পালিয়ে যায়। তাকবীর দেয়া শেষ হলেই সে পুনরায় এসে পড়ে এবং নামাযীকে বিভ্রান্ত করার কাজে লেগে যায়। তাকে সে এদিক ওদিকের বিস্মরণ হয়ে যাওয়া কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, এমনকি কত রাকআত নামায় হয়েছে তাও তার আর স্মরণ থাকে না। যখন এরূপ অবস্থা ঘটবে দু'টো সহু সিজদা করতে হবে। (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম) ইমাম যুহরী (রঃ) বলেন যে, কুরআন কারীমে আযানের উল্লেখ রয়েছে। অতঃপর তিনি এ আয়াতটিই পাঠ করেন।

মদীনায় একজন খ্রীষ্টান ছিল। আযানে যখন “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ” শুনতো তখন সে বলতোঃ “এই মিথ্যাবাদী জ্বলে পুড়ে যাক।” একদা রাত্রে তার চাকরাণী ঘরে আগুন নিয়ে আসে। কোন পতঙ্গ উড়ে আসে, ফলে তার ঘরে আগুন লেগে যায় এবং ঐ ব্যক্তি ও তার ঘরবাড়ী পুড়ে ভস্ম হয়ে যায়।

মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত বিলাল (রাঃ)-কে কা'বা ঘরে আযান দেয়ার নির্দেশ দেন। নিকটেই আবু সুফিয়ান ইবনে হারব, আত্তাব ইবনে উসায়েদ এবং হারিস ইবনে হিশাম বসে ছিল। আত্তাব তো আযান শুনে বলেই ফেললোঃ “আমার পিতার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ বর্ষিত হয়েছে যে, তিনি এ ক্রোধ উদ্রেককারী শব্দ শোনার পূর্বেই দুনিয়া হতে বিদায় গ্রহণ করেছেন।” হারিস বললোঃ “আমি যদি একে সত্য জানতাম তবে তো মেনেই নিতাম।” আবু সুফিয়ান বললোঃ “ভয়ে তো আমার মুখ দিয়ে কোন কথাই বের হচ্ছে না, না জানি এ কংকরগুলো তাঁকে এ খবর জানিয়ে দেয়। তাদের কথাগুলো বলা শেষ হওয়া মাত্রই রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদের কাছে এসে পড়েন এবং তাদেরকে বললেনঃ “তোমরা এই সময় এই এই কথা বলেছে। তার এ কথা শোনামাত্রই আত্তাব এবং হারিস তো বলেই ফেলেঃ “আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর সত্য রাসূল! এখানে তো চতুর্থ কেউ ছিল না। তাহলে আমরা ধারণা করতে পারতাম যে, সেই হয়তো গিয়ে আপনকে এসব কথা বলে দিয়েছে।” (সীরাতে মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক)।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাজরী যখন সিরিয়ার সফরে বের হন তখন যাত্রার প্রাক্কালে হযরত আবু মাহযুরাকে বলেন, যার ক্রোড়ে তিনি পিতৃহীন হিসেবে লালিত পালিত হয়েছিলেন-“তথাকার লোকেরা অবশ্যই আমাকে আপনার আযানের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। সুতরাং আপনি আপনার আযান সম্পর্কীয় ঘটনাগুলো আমার নিকট বর্ণনা করুর।” তখন আবু মাহযুরা (রাঃ) বলেনঃ তাহলে শুন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন হুনায়েনের যুদ্ধক্ষেত্র হতে প্রত্যাবর্তন করছিলেন। সেই সময় আমরা পথে এক জায়গায় অবস্থান করছিলাম। নামাযের। সময় হলে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মুআযযিন আযান দেন। আমরা তখন আযানের সাথে সাথে হাসি তামাসা শুরু করি (অর্থাৎ বিদ্রুপ করে আযানের শব্দগুলো উচ্চারণ করতে থাকি)। কেমন করে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কর্ণকুহরে আমাদের শব্দগুলো পৌছে যায়। তখন একজন সৈনিক এসে আমাদেরকে তার কাছে নিয়ে যান। তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ “তোমাদের মধ্যে কার শব্দ সবচেয়ে উচ্চ ছিল?” সবাই তখন আমার দিকে ইশারা করে। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) সবকে ছেড়ে দিয়ে শুধুমাত্র আমাকেই ধরে রাখেন এবং বলেনঃ “দাড়িয়ে আযান বল।” আল্লাহর কসম! সেই সময় আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর আদেশ মান্য করা অপেক্ষা অপ্রীতিকর বিষয় আমার কাছে আর কিছুই ছিল না। কিন্তু কি করি? আমি নিরুপায় ছিলাম। সুতরাং দাড়িয়ে গেলাম। তিনি স্বয়ং আমাকে আযান শিখাতে থাকেন এবং আমি তা বলতে থাকি। (অতঃপর তিনি পূর্ণভাবে আযানের বাক্যগুলো বলেন) আযান দেয়া শেষ হলে তিনি আমাকে একটি থলে দেন, যার মধ্যে কিছু চাদি বা রৌপ্য ছিল। অতঃপর তিনি তাঁর পবিত্র হাতখানা আমার মাথায় রাখেন এবং তা পিঠ পর্যন্ত নিয়ে যান। তারপর তিনি বলেনঃ “আল্লাহ তোমার ভেতরে ও তোমার উপরে বরকত দান করুন। আল্লাহর কসম! তখন তো আমার অন্তর হতে আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর শত্রুতা সম্পূর্ণরূপে বিদূরিত হয় এবং ওর স্থলে অন্তরে ঐরূপই মুহব্বত সৃষ্টি হয়। আমি অনুরোধ জানিয়ে বলিঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)। আমাকে মক্কার মুআযযিন বানিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ “আমি তোমার আবেদন মঞ্জুর করলাম।` আমি মক্কা চলে গেলাম এবং তথাকার শাসনকর্তা হযরত আত্তাব ইবনে উসাইদ (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করে তাঁর নির্দেশক্রমে মুআযযিন পদে নিযুক্ত হয়ে গেলাম। হযরত আবু মাহযুরা (রাঃ)-এর নাম ছিল সুমরা ইবনে মুগীরা ইবনে লাওযান। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর চারজন মুআযযিনের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। তিনি বহুদিন পর্যন্ত মক্কাবাসীদের মুআযযিন ছিলেন। (ইমাম আহমাদ (রঃ) এরূপই বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম মুসলিম (রঃ) তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং সুনানে আরবাআর সংকলকগণ এটা তাখরীজ করেছেন)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।