আল কুরআন


সূরা আল-মায়েদা (আয়াত: 57)

সূরা আল-মায়েদা (আয়াত: 57)



হরকত ছাড়া:

ياأيها الذين آمنوا لا تتخذوا الذين اتخذوا دينكم هزوا ولعبا من الذين أوتوا الكتاب من قبلكم والكفار أولياء واتقوا الله إن كنتم مؤمنين ﴿٥٧﴾




হরকত সহ:

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوا الَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا دِیْنَکُمْ هُزُوًا وَّ لَعِبًا مِّنَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْکِتٰبَ مِنْ قَبْلِکُمْ وَ الْکُفَّارَ اَوْلِیَآءَ ۚ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ اِنْ کُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ﴿۵۷﴾




উচ্চারণ: ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তাত্তাখিযুল্লাযীনাত্তাখাযূদীনাকুম হুযুওয়াওঁ ওয়া লা‘ইবাম মিনাল্লাযীনা ঊতুল কিতা-বা মিন কাবলিকুম ওয়াল কুফফা-রা আওলিয়াআ ওয়াত্তাকুল্লা-হা ইন কুনতুম মু‘মিনীন।




আল বায়ান: হে মুমিনগণ, তোমরা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যারা তোমাদের দীনকে উপহাস ও খেল-তামাশারূপে গ্রহণ করেছে, তাদের মধ্য থেকে তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে ও কাফিরদেরকে। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৭. হে মুমিনগণ! তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দ্বীনকে হাসি-তামাশা ও খেলার বস্তুরূপে গ্রহণ করে তাদেরকে ও কাফেরদেরকে তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: হে ঈমানদারগণ! তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দ্বীনকে হাসি-তামাসা ও খেলার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে তাদেরকে এবং কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না আর আল্লাহকে ভয় কর যদি তোমরা মু’মিন হও।




আহসানুল বায়ান: (৫৭) হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে যারা তোমাদের ধর্মকে হাসি-তামাসা ও ক্রীড়ার বস্তুরূপে গ্রহণ করে, তাদেরকে ও অবিশ্বাসীদেরকে তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না।[1] যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, তাহলে আল্লাহকে ভয় কর।



মুজিবুর রহমান: হে মু’মিনগণ! যারা তোমাদের পূর্বে কিতাব প্রাপ্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে যারা তোমাদের ধর্মকে হাসি-তামাশার বস্তু মনে করে তাদেরকে এবং অন্যান্য কাফিরদেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করনা, এবং আল্লাহকে ভয় কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক।



ফযলুর রহমান: হে ঈমানদারগণ! তোমাদের পূর্ববর্তী কিতাবধারীদের মধ্যে যারা তোমাদের দ্বীনকে ঠাট্টা ও খেলার বস্তু মনে করে তাদেরকে এবং কাফেরদেরকে তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো, যদি তোমরা (যথার্থ) ঈমানদার হও।



মুহিউদ্দিন খান: হে মুমিনগণ, আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের ধর্মকে উপহাস ও খেলা মনে করে, তাদেরকে এবং অন্যান্য কাফেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। আল্লাহকে ভয় কর, যদি তোমরা ঈমানদার হও।



জহুরুল হক: ওহে যারা ঈমান এনেছ! যারা তোমাদের ধর্মকে উপহাসের ও খেলার সামগ্রীরূপে গ্রহণ করেছে -- তোমাদের পূর্বে যাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছে ও অবিশ্বাসকারীরা, -- তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। আর আল্লাহ্‌কে ভয়-শ্রদ্ধা করো যদি তোমরা মুমিন হও।



Sahih International: O you who have believed, take not those who have taken your religion in ridicule and amusement among the ones who were given the Scripture before you nor the disbelievers as allies. And fear Allah, if you should [truly] be believers.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৭. হে মুমিনগণ! তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দ্বীনকে হাসি-তামাশা ও খেলার বস্তুরূপে গ্রহণ করে তাদেরকে ও কাফেরদেরকে তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ, তোমরা তাদেরকে সাথী অথবা ঘনিষ্ঠ বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যারা তোমাদের দ্বীনকে উপহাস ও খেলা মনে করে। এরা দুই দলে বিভক্ত এক. আহলে কিতাব সম্প্রদায়। দুই. মুশরিক সম্প্রদায়। আয়াতে বলা হচ্ছে যে, তোমাদের কাছে যে ঈমান আছে তার চাহিদা হচ্ছে, তোমরা তাদেরকে অন্তরঙ্গ বন্ধু বানাবে না। তাদের কাছে গোপন ভেদ প্রকাশ করবে না। তাদের সাথে বৈরীভাব রাখবে। তোমাদের কাছে যে তাকওয়া আছে তাও তোমাদেরকে তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে নিষেধ করে। [সা'দী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৭) হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে যারা তোমাদের ধর্মকে হাসি-তামাসা ও ক্রীড়ার বস্তুরূপে গ্রহণ করে, তাদেরকে ও অবিশ্বাসীদেরকে তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না।[1] যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, তাহলে আল্লাহকে ভয় কর।


তাফসীর:

[1] আহলে কিতাব বা ‘পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে’ বলতে ইয়াহুদ, খ্রিষ্টান এবং অবিশ্বাসী বা কাফের বলতে মুশরিক উদ্দিষ্ট। এখানেও তাদের সাথে বন্ধুত্ব না করার জন্য তাকীদ করা হয়েছে। যারা ইসলাম ধর্মকে হাসি-তামাসা ও ক্রীড়ার বস্তুরূপে গ্রহণ করেছে। যেহেতু তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের শত্রু, সেহেতু তাদের সাথে মু’মিনদের বন্ধুত্ব হতে পারে না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৭-৫৮ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা সেসব পূর্ববর্তী কিতাবধারী ও কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন যারা আমাদের দীন ইসলামকে নিয়ে ঠাট্টা ও খেল-তামাশা করে।



এ বিধান শুধু পূর্ববর্তী কিতাবধারী ও কাফিরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদেরকে তো সাধারণভাবেই কোনক্রমে বন্ধু বানানো যাবে না, এ কাজ করুক আর না করুক। বরং এ আচরণ যাদের মধ্যেই বিদ্যমান থাকবে বা প্রকাশ পাবে সে নামধারী মুসলিম হলেও তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। কেননা এরা সবাই শয়তানের দলে, আল্লাহ তা‘আলার দলে নয়। এমনিভাবে যারা ইসলামের বিধান ও মুসলিমদের নিয়ে ঠাট্টা করে তারাও ঐ সব শয়তানের দল। এরা ইসলাম ও মুসলিমদের শত্র“।



সুতরাং সে সকল মু’মিনের ঈমানের ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ হয়- যারা মুখে ঈমানের দাবী করে যারা ইসলাম নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করে, মুসলিমদের প্রিয় নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ব্যঙ্গ করে এবং ইসলামের বিধি-বিধানকে কুদৃষ্টিতে দেখে তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখে। যদি সত্যিই তারা ইসলামকে ভালবাসে তাহলে ইসলামকে যারা খারাপ জানে তাদেরকে ভাল জানতে পারে না। অবশ্যই তাদেরকে খারাপ জানবে। এটাই ঈমানের দাবী।



(وَإِذَا نَادَيْتُمْ إِلَي الصَّلٰوةِ)



‘তোমরা যখন সালাতের জন্য আহ্বান কর’ তোমরা সালাতের জন্য আহ্বান কর বা আযান দাও তখনও তারা এটাকে ঠাট্টা ও খেলার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে।



হাদীসে এসেছে; যখন আযান দেয়া হয় তখন শয়তান পিছনদ্বার দিয়ে বায়ু ছাড়তে ছাড়তে এতদূর চলে যায় যেখানে আযান শোনা যায় না। আযান শেে সে আবার ফিরে আসে। (সহীহ বুখারী হা: ৬০৮, সহীহ মুসলিম হা: ৩৮৯)



অনুরূপভাবে শয়তানের অনুসারীদেরকেও আযান শুনতে ভাল লাগে না। যার কারণে আযান নিয়ে বিভিন্ন জন বিভিন্ন মন্তব্য করে। এরা ইসলামের শত্র“ ও শয়তানের দল।



এ আয়াত থেকে বুঝা যায়, হাদীসও শরীয়তের মূল উৎস ও অকাট্য প্রমাণ। কারণ কুরআনে সালাতের জন্য আযানের কথা উল্লেখ আছে কিন্তু আযান কিভাবে দিতে হবে তার ধরণ-করণ ইত্যাদি কিছ্্ুই উল্লেখ নেই। এর বিস্তারিত বর্ণনা হাদীসে এসেছে। সুতরাং হাদীস দীনের অকাট্য দলীল। তবে হাদীস হতে হবে সহীহ, কারণ ইসলামের শত্র“রা ইসলাম ও মুসলিমদের ক্ষতি করার জন্য অনেক বানোয়াট কথা হাদীসের নামে চালিয়ে দিয়েছে। সুতরাং কোন সহীহ হাদীস যদি একটি মাত্র বর্ণনাকারী দ্বারাও বর্ণিত হয় তাহলেও তা অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। চাই আমার মত, দল ও চিন্তার সাথে মিলুক আর নাই মিলুক।



ইসলামের কোন বিধি-বিধান ও প্রতীক নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করলে তার বিধান সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُوْلُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوْضُ وَنَلْعَبُ ط قُلْ أَبِاللّٰهِ وَاٰيٰتِه۪ وَرَسُوْلِه۪ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُوْنَ - لَا تَعْتَذِرُوْا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيْمَانِكُمْ)



“এবং তুমি তাদেরকে প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে: ‘আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতুক করছিলাম।’ বল:‎ ‘তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর নিদর্শন ও তাঁর রাসূলকে নিয়ে বিদ্রƒপ করছিলে? ‘তোমরা ওযর পেশের চেষ্টা কর না। তোমরা ঈমান আনার পর কাফের হয়ে গেছ।”(সূরা তাওবাহ ৯:৬৫)



তাই আমাদের উচিত ইসলামের প্রতিটি বিধান ও প্রতীককে সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করা।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কাফির মুশরিকরা আমাদের দীন নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করে, অতএব কিভাবে আমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব বজায় রাখব?

২. যারা ইসলামের কোন বিধান ও নিদর্শন নিয়ে ঠাট্টা করবে তারা মুসলিম থাকতে পারে না।

৩. হাদীসও কুরআনের মত ইসলামী শরীয়তের অকাট্য প্রমাণ। হাদীস ছাড়া ইসলাম পূর্ণঙ্গভাবে পালন করা সম্ভব নয়।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৭-৫৮ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে আল্লাহ তা'আলা মুসলমানদের মনে অমুসলিমদের বন্ধুত্ব ও ভালবাসার প্রতি ঘৃণা জন্মিয়ে দিয়ে বলছেন- তোমরা কি এমন লোকদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, যারা তোমাদের পবিত্র ধর্মের সাথে হাসি তামাশা করছে? (আরবী) শব্দটি (আরবী) -এর জন্যে এসেছে, যেমন (আরবী) -এর মধ্যে। কেউ কেউ অল কুফফারে পড়েছেন এবং (আরবী) করেছেন। আবার কেউ কেউ অল কুফফারা পড়েছেন এবং (আরবী) -এর। বানিয়েছেন। তখন (আরবী) হবে অলাল কুফফারা আউলিয়ায়া এরূপ। এখানে দ্বারা মুশরিকদেরকে বুঝানো হয়েছে। ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর কিরআতে ওয়া মিনাল্লাযিনা আশরাকু এরূপ রয়েছে।

ঘোষিত হচ্ছে-যদি তোমরা ঈমানদার হও তবে আল্লাহকে ভয় কর। এরা তো তোমাদের দ্বীনের সাথে, আল্লাহর সাথে এবং শরীয়তের সাথে শত্রুতা করছে। যেমন অন্য স্থানে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন (আরবী) অর্থাৎ “মুসলমানদের উচিত কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করা মুসলমানদের (বন্ধুত্ব) অতিক্রম করে, আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে বন্ধুত্ব রাখার কোন হিসেবে নয়, অবশ্য এমন অবস্থায় (বাহ্যিক বন্ধুত্বের অনুমতি আছে) যখন তোমরা তাদের থেকে কোন প্রকার আংশকা কর, আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর সত্তার ভয় দেখাচ্ছেন, আর আল্লাহরই কাছে ফিরে যেতে হবে।” (৩:২৮) অনুরূপভাবে আহলে কিতাবের এ কাফিররাও এবং মুশরিকরাও এ সময়েও ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে থাকে যখন তোমরা নামাযের জন্যে আযান দাও। অথচ এটাই আল্লাহ তা'আলার সবচেয়ে প্রিয় ইবাদত। কিন্তু এ নির্বোধরা এটুকুও জানে না। তাই তারা শয়তানের অনুসারী। আর শয়তানের অবস্থা এই যে, আযান শোনামাত্রই সে গুহ্যদ্বার দিয়ে বায়ু বের করতঃ লেজ গুটিয়ে পলায়ন করে এবং সেখানে গিয়ে থেমে যায় যেখানে আযানের শব্দ পৌছে না। তারপর আবার আসে এবং তাকবীর শুনে পালিয়ে যায়। তাকবীর দেয়া শেষ হলেই সে পুনরায় এসে পড়ে এবং নামাযীকে বিভ্রান্ত করার কাজে লেগে যায়। তাকে সে এদিক ওদিকের বিস্মরণ হয়ে যাওয়া কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, এমনকি কত রাকআত নামায় হয়েছে তাও তার আর স্মরণ থাকে না। যখন এরূপ অবস্থা ঘটবে দু'টো সহু সিজদা করতে হবে। (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম) ইমাম যুহরী (রঃ) বলেন যে, কুরআন কারীমে আযানের উল্লেখ রয়েছে। অতঃপর তিনি এ আয়াতটিই পাঠ করেন।

মদীনায় একজন খ্রীষ্টান ছিল। আযানে যখন “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ” শুনতো তখন সে বলতোঃ “এই মিথ্যাবাদী জ্বলে পুড়ে যাক।” একদা রাত্রে তার চাকরাণী ঘরে আগুন নিয়ে আসে। কোন পতঙ্গ উড়ে আসে, ফলে তার ঘরে আগুন লেগে যায় এবং ঐ ব্যক্তি ও তার ঘরবাড়ী পুড়ে ভস্ম হয়ে যায়।

মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত বিলাল (রাঃ)-কে কা'বা ঘরে আযান দেয়ার নির্দেশ দেন। নিকটেই আবু সুফিয়ান ইবনে হারব, আত্তাব ইবনে উসায়েদ এবং হারিস ইবনে হিশাম বসে ছিল। আত্তাব তো আযান শুনে বলেই ফেললোঃ “আমার পিতার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ বর্ষিত হয়েছে যে, তিনি এ ক্রোধ উদ্রেককারী শব্দ শোনার পূর্বেই দুনিয়া হতে বিদায় গ্রহণ করেছেন।” হারিস বললোঃ “আমি যদি একে সত্য জানতাম তবে তো মেনেই নিতাম।” আবু সুফিয়ান বললোঃ “ভয়ে তো আমার মুখ দিয়ে কোন কথাই বের হচ্ছে না, না জানি এ কংকরগুলো তাঁকে এ খবর জানিয়ে দেয়। তাদের কথাগুলো বলা শেষ হওয়া মাত্রই রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদের কাছে এসে পড়েন এবং তাদেরকে বললেনঃ “তোমরা এই সময় এই এই কথা বলেছে। তার এ কথা শোনামাত্রই আত্তাব এবং হারিস তো বলেই ফেলেঃ “আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর সত্য রাসূল! এখানে তো চতুর্থ কেউ ছিল না। তাহলে আমরা ধারণা করতে পারতাম যে, সেই হয়তো গিয়ে আপনকে এসব কথা বলে দিয়েছে।” (সীরাতে মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক)।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাজরী যখন সিরিয়ার সফরে বের হন তখন যাত্রার প্রাক্কালে হযরত আবু মাহযুরাকে বলেন, যার ক্রোড়ে তিনি পিতৃহীন হিসেবে লালিত পালিত হয়েছিলেন-“তথাকার লোকেরা অবশ্যই আমাকে আপনার আযানের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। সুতরাং আপনি আপনার আযান সম্পর্কীয় ঘটনাগুলো আমার নিকট বর্ণনা করুর।” তখন আবু মাহযুরা (রাঃ) বলেনঃ তাহলে শুন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন হুনায়েনের যুদ্ধক্ষেত্র হতে প্রত্যাবর্তন করছিলেন। সেই সময় আমরা পথে এক জায়গায় অবস্থান করছিলাম। নামাযের। সময় হলে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মুআযযিন আযান দেন। আমরা তখন আযানের সাথে সাথে হাসি তামাসা শুরু করি (অর্থাৎ বিদ্রুপ করে আযানের শব্দগুলো উচ্চারণ করতে থাকি)। কেমন করে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কর্ণকুহরে আমাদের শব্দগুলো পৌছে যায়। তখন একজন সৈনিক এসে আমাদেরকে তার কাছে নিয়ে যান। তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ “তোমাদের মধ্যে কার শব্দ সবচেয়ে উচ্চ ছিল?” সবাই তখন আমার দিকে ইশারা করে। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) সবকে ছেড়ে দিয়ে শুধুমাত্র আমাকেই ধরে রাখেন এবং বলেনঃ “দাড়িয়ে আযান বল।” আল্লাহর কসম! সেই সময় আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর আদেশ মান্য করা অপেক্ষা অপ্রীতিকর বিষয় আমার কাছে আর কিছুই ছিল না। কিন্তু কি করি? আমি নিরুপায় ছিলাম। সুতরাং দাড়িয়ে গেলাম। তিনি স্বয়ং আমাকে আযান শিখাতে থাকেন এবং আমি তা বলতে থাকি। (অতঃপর তিনি পূর্ণভাবে আযানের বাক্যগুলো বলেন) আযান দেয়া শেষ হলে তিনি আমাকে একটি থলে দেন, যার মধ্যে কিছু চাদি বা রৌপ্য ছিল। অতঃপর তিনি তাঁর পবিত্র হাতখানা আমার মাথায় রাখেন এবং তা পিঠ পর্যন্ত নিয়ে যান। তারপর তিনি বলেনঃ “আল্লাহ তোমার ভেতরে ও তোমার উপরে বরকত দান করুন। আল্লাহর কসম! তখন তো আমার অন্তর হতে আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর শত্রুতা সম্পূর্ণরূপে বিদূরিত হয় এবং ওর স্থলে অন্তরে ঐরূপই মুহব্বত সৃষ্টি হয়। আমি অনুরোধ জানিয়ে বলিঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)। আমাকে মক্কার মুআযযিন বানিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ “আমি তোমার আবেদন মঞ্জুর করলাম।` আমি মক্কা চলে গেলাম এবং তথাকার শাসনকর্তা হযরত আত্তাব ইবনে উসাইদ (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করে তাঁর নির্দেশক্রমে মুআযযিন পদে নিযুক্ত হয়ে গেলাম। হযরত আবু মাহযুরা (রাঃ)-এর নাম ছিল সুমরা ইবনে মুগীরা ইবনে লাওযান। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর চারজন মুআযযিনের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। তিনি বহুদিন পর্যন্ত মক্কাবাসীদের মুআযযিন ছিলেন। (ইমাম আহমাদ (রঃ) এরূপই বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম মুসলিম (রঃ) তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং সুনানে আরবাআর সংকলকগণ এটা তাখরীজ করেছেন)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।