সূরা আল-মুজাদালা (আয়াত: 18)
হরকত ছাড়া:
يوم يبعثهم الله جميعا فيحلفون له كما يحلفون لكم ويحسبون أنهم على شيء ألا إنهم هم الكاذبون ﴿١٨﴾
হরকত সহ:
یَوْمَ یَبْعَثُهُمُ اللّٰهُ جَمِیْعًا فَیَحْلِفُوْنَ لَهٗ کَمَا یَحْلِفُوْنَ لَکُمْ وَ یَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ عَلٰی شَیْءٍ ؕ اَلَاۤ اِنَّهُمْ هُمُ الْکٰذِبُوْنَ ﴿۱۸﴾
উচ্চারণ: ইয়াওমা ইয়াব‘আছুহুমুল্লা-হু জামী‘আন ফাইয়াহলিফূনা লাহূকামা-ইয়াহলিফূনা লাকুম ওয়া ইয়াহছাবূনা আন্নাহুম ‘আলা-শাইয়িন আলাইন্নাহুম হুমুল কা-যিবূন।
আল বায়ান: সেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন, তখন তারা আল্লাহর নিকট এমন কসম করবে যেমন কসম তোমাদের নিকট করে থাকে এবং তারা মনে করে যে, তারা কোন কিছুর উপর আছে। জেনে রাখ, নিশ্চয় এরা মিথ্যাবাদী।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৮. যে দিন আল্লাহ পুনরুত্থিত করবেন তাদের সবাইকে, তখন তারা আল্লাহর কাছে সেরূপ শপথ করবে যেরূপ শপথ তোমাদের কাছে করে এবং তারা মনে করে যে, এতে তারা ভাল কিছুর উপর রয়েছে। সাবধান! তারাই তো প্রকৃত মিথ্যাবাদী।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহ যেদিন তাদের সবাইকে আবার জীবিত করে উঠাবেন, তখন তারা আল্লাহর কাছে ঠিক সে রকম শপথই করবে, যেমন শপথ তারা তোমাদের নিকট করে, আর তারা মনে করে যে, তাদের কিছু (কোন ভিত্তি) আছে। জেনে রেখ, তারা খুবই মিথ্যেবাদী।
আহসানুল বায়ান: (১৮) যেদিন আল্লাহ পুনরুত্থিত করবেন তাদের সকলকে, সেদিন তারা তাঁর নিকট সেইরূপ শপথ করবে, যেরূপ শপথ তোমাদের নিকট করে[1] এবং তারা মনে করবে যে, তারা কোন (দলীলের) উপর প্রতিষ্ঠিত।[2] জেনে রেখো যে, নিশ্চয় তারাই হল মিথ্যাবাদী।
মুজিবুর রহমান: যেদিন আল্লাহ পুনরুত্থিত করবেন তাদের সকলকে, তখন তারা তাঁর (আল্লাহর) নিকট সেরূপ শপথ করবে যেরূপ শপথ তোমাদের নিকট করে এবং তারা মনে করে যে, এতে তারা উপকৃত হবে। সাবধান! তারাইতো মিথ্যাবাদী।
ফযলুর রহমান: (সেদিনের কথা স্মরণ করো) যেদিন আল্লাহ তাদের সবাইকে পুনরায় (কবর থেকে) উঠাবেন। তখন তারা তাঁর কাছে শপথ করবে, যেমন (এখন) তোমাদের কাছে শপথ করছে। তারা মনে করে যে, তারা একটা কিছুর ওপরে আছে (ভাল কিছু করছে)। জেনে রাখ, তারাই মিথ্যাবাদী।
মুহিউদ্দিন খান: যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন। অতঃপর তারা আল্লাহর সামনে শপথ করবে, যেমন তোমাদের সামনে শপথ করে। তারা মনে করবে যে, তারা কিছু সৎপথে আছে। সাবধান, তারাই তো আসল মিথ্যাবাদী।
জহুরুল হক: সেইদিন আল্লাহ্ তাদের সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন, তখন তারা তাঁর কাছে হলফ করবে যেমন তারা তোমাদের কাছে হলফ করছে, আর তারা হিসেব করছে যে তারা নিশ্চয় একটা কিছুতে রয়েছে। তারাই কি স্বয়ং মিথ্যাবাদী নয়?
Sahih International: On the Day Allah will resurrect them all, and they will swear to Him as they swear to you and think that they are [standing] on something. Unquestionably, it is they who are the liars.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৮. যে দিন আল্লাহ পুনরুত্থিত করবেন তাদের সবাইকে, তখন তারা আল্লাহর কাছে সেরূপ শপথ করবে যেরূপ শপথ তোমাদের কাছে করে এবং তারা মনে করে যে, এতে তারা ভাল কিছুর উপর রয়েছে। সাবধান! তারাই তো প্রকৃত মিথ্যাবাদী।(১)
তাফসীর:
(১) কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, এই আয়াত এক মুনাফিক সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের সাথে বসা ছিলেন, এমন সময় তিনি বললেনঃ এখন তোমাদের কাছে এক ব্যক্তি আগমন করবে। তার অন্তর নিষ্ঠুর এবং সে শয়তানের চোখে দেখে। এর কিছুক্ষণ পরই এক মুনাফিক আগমন করল। তার চক্ষু ছিল নীলাভ; দেহাবয়ব বেঁটে গোধুম বৰ্ণ এবং সে ছিল হালকা শ্মশ্ৰূমণ্ডিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি এবং তোমার সঙ্গীরা আমাকে গালি দেয় কেন? সে শপথ করে বললঃ আমি এরূপ করিনি। এরপর সে তার সঙ্গীদেরকেই ডেকে আনল এবং তারাও মিছেমিছি শপথ করল। আল্লাহ তা’আলা এই আয়াতে তাদের মিথ্যাচার প্রকাশ করে দিয়েছেন। [মুসনাদে আহমাদ: ১/২৪০, ২৬৭, ৩৫০]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৮) যেদিন আল্লাহ পুনরুত্থিত করবেন তাদের সকলকে, সেদিন তারা তাঁর নিকট সেইরূপ শপথ করবে, যেরূপ শপথ তোমাদের নিকট করে[1] এবং তারা মনে করবে যে, তারা কোন (দলীলের) উপর প্রতিষ্ঠিত।[2] জেনে রেখো যে, নিশ্চয় তারাই হল মিথ্যাবাদী।
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, তারা এত বড় হতভাগা ও কঠোর-হৃদয় যে, কিয়ামতের দিন যেখানে কোন জিনিস গুপ্ত থাকবে না, সেখানেও আল্লাহর সামনে মিথ্যা কসম খাওয়ার লজ্জাহীন দুঃসাহস প্রদর্শন করবে।
[2] অর্থাৎ, যেভাবে তারা মিথ্যা কসম খেয়ে দুনিয়াতে সাময়িকভাবে কিছু উপকৃত হয়েছে, সেখানেও মনে করবে যে, তাদের এই মিথ্যা কসমগুলো তাদের জন্য ফলপ্রসূ হবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৪-১৯ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আলোচ্য আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা মদীনার মুনাফিকদের কথা উল্লেখ করছেন যারা ইয়াহূদীদের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য। এ-কথা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আল্লাহ তা‘আলা জিজ্ঞাসাসূচক শব্দে বলছেন। যারা আল্লাহ তা‘আলার শত্রুদের সাথে সম্পর্ক রাখে তারা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত নয়, তারা মুনাফিক।
(قَوْمًا غَضِبَ اللّٰهُ)
এমন সম্প্রদায় যাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার ক্রোধ রয়েছে; তারা হল ইয়াহূদী জাতি। এ সকল মুনাফিকরা ওপরে ওপরে ঈমানের কথা বললেও প্রকৃত পক্ষে তারা মু’মিনদের মধ্যে শামিল নয় এবং ইয়াহূদীদের মধ্যেও শামিল নয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(مُّذَبْذَبِيْنَ بَيْنَ ذٰلِكَ لَآ إِلٰي هٰٓؤُلَا۬ءِ وَلَآ إِلٰي هٰٓؤُلَا۬ءِ ط وَمَنْ يُّضْلِلِ اللّٰهُ فَلَنْ تَجِدَ لَه۫ سَبِيْلًا)
“দোটানায় দোদুল্যমান-না এদের দিকে, না ওদের দিকে! এবং আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তুমি তার জন্য কখনও কোন পথ পাবে না। (সূরা নিসা ৪ : ১৪৩)
(وَيَحْلِفُوْنَ عَلَي الْكَذِبِ)
অর্থাৎ এ সকল মুনাফিকরা জেনেশুনে মিথ্যা শপথ করে। এ শপথকে বলা হয় اليمين الغموس। তারা মু’মিনদের সাথে দেখা হলে বলে, আল্লাহ তা‘আলার শপথ! আমরাও ঈমান এনেছি, আবার ইয়াহূদীদের সাথে একত্রিত হলে বলে, আরে আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি। আমরা কেবল তাদের সাথে ঠাট্টা করি। এদের জন্যই আল্লাহ কঠিন শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।
(اِتَّخَذُوْآ أَيْمَانَهُمْ جُنَّةً)
তারা তাদের শপথকে ঢালস্বরূপ গ্রহণ করে নিয়েছে। অর্থাৎ মু’মিনদের সাথে শপথ করে ঈমানের কথা বলে মু’মিনদের তিরস্কার থেকে বাঁচার জন্য, আবার ইয়াহূদীদের সাথে শপথ করে তাদের তিরস্কার থেকে বাঁচার জন্য।
(فَيَحْلِفُوْنَ لَه۫ كَمَا يَحْلِفُوْنَ لَكُمْ) শানে নুযূল :
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কোন এক কক্ষের ছায়ায় বসেছিলেন এবং কতক সাহাবীও তাঁর সাথে ছিলেন। ছায়াযুক্ত স্থান কম ছিল। কষ্ট করে তাঁরা সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : দেখ, এখানে অচিরেই এমন একজন লোক আসবে যে শয়তানী দৃষ্টিতে তাকাবে। সে আসলে তোমরা কেউই তার সাথে কথা বলবে না। অল্পক্ষণের মধ্যেই টেরা চোখবিশিষ্ট একজন লোক আসল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ডেকে নিয়ে বললেন : তুমি এবং অমুক অমুক লোক আমাকে গালি গালাজ কর কেন? এ কথা শুনেই লোকটি চলে গেল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে কয়জনের নাম নিয়েছিলেন তাদের সবাইকে সে ডেকে নিয়ে আসল এবং সবাই শপথ করে বলল : তাদের কেউই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বেয়াদবীমূলক কথা বলেনি। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (আহমাদ হা. ২৪০৭, হাকেম ২/২৮৪ সনদ সহীহ)
(اِسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ) اِسْتَحْوَ ذَ শব্দের অর্থ হল :
ঘিরে নিয়েছে, বেষ্টন করে নিয়েছে, প্রভুত্ব বিস্তার করে নিয়েছে। শয়তান তাদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছে; ফলে তারা আল্লাহ তা‘আলার স্মরণ হতে গাফেল হয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : যে গ্রামে বা জঙ্গলে তিনজন আছে এবং তাদের মধ্যে সালাত প্রতিষ্ঠা করা হয় না তাদের ওপর শয়তান প্রভুত্ব বিস্তার করে। সুতরাং তোমরা জামা‘আতকে আঁকড়ে ধরে থাক। কেননা বাঘ দল বিচ্ছিন্ন ছাগলকেই ধরে খেয়ে ফেলে। (আবূ দাঊদ হা. ৫৪৭, সনদ হাসান)
সুতরাং মু’মিনদের উচিত হবে অমুসলিমদের সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে মু’মিনদের সাথে জামা‘আতবদ্ধ হয়ে বসবাস করা, তাহলে দুনিয়াতে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যাবে এবং আখিরাতে জাহান্নাম থেকে নাজাত পাওয়া যাবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. মুনাফিকদের দ্বিমুখী আচরণের কথা জানাতে পেলাম।
২. গযবপ্রাপ্ত জাতির কথা জানতে পারলাম।
৩. কাফিরদের সাথে সম্পর্ক গড়া হারাম।
৪. কারো প্রকৃত ইমান না থাকলে ধন-সম্পদ কোন কাজে আসবে না।
৫. মিথ্যা শপথ করা হারাম।
৬. শয়তানের দলের পরিচয় জানলাম।
৭. মুসলিমের জামা‘আত বর্জন করার কুফল জানতে পারলাম।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৪-১৯ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে আল্লাহ্ তা'আলা মুনাফিকদের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তারা অন্তরে ইয়াহুদীদের প্রতি ভালবাসা পোষণ করে, কিন্তু প্রকৃত তারা এ ইয়াহদীদেরও দলভুক্ত নয় এবং মুমিনদেরও দলভুক্ত নয়। তারা এদিকেরও নয়, ওদিকেরও নয়। তারা প্রকাশ্যভাবে মিথ্যা শপথ করে থাকে। মুমিনদের কাছে এসে তারা তাদের পক্ষেই কথা বলে। রাসূল (সঃ)-এর কাছে এসে কসম খেয়ে তারা নিজেদেরকে ঈমানদার হিসেবে প্রমাণ করতে চেষ্টা করে এবং বলে যে, তারা নিশ্চিতরূপে মুসলমান। অথচ অন্তরে তারা সম্পূর্ণ বিপরীত মত পোষণ করে। তারা যে মিথ্যাবাদী এটা জেনে শুনেও মিথ্যা শপথ করতে মোটেই দ্বিধা বোধ করে না। তাদের এই দুস্কার্যের কারণে আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন কঠিন শাস্তি। এই প্রতারণার জন্যে তাদেরকে মন্দ প্রতিদান দেয়া হবে। তারা তো তাদের শপথগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এবং মানুষকে তারা আল্লাহর পথ হতে নিবৃত্ত করে। মুখে তারা ঈমান প্রকাশ করে এবং অন্তরে কুফরী গোপন রাখে। কসমের মাধ্যমে তারা নিজেদের ভিতরের দুস্কৃতিকে গোপন করে। অভিজ্ঞ লোকদের উপর তারা কসমের দ্বারা নিজেদেরকে সত্যবাদী রূপে পেশ করে এবং তাদেরকে তাদের প্রশংসাকারী বানিয়ে নেয়। ধীরে ধীরে তারা তাদেরকে নিজেদের রঙে রঞ্জিত করে এবং এই ভাবে তাদেরকে আল্লাহর পথ হতে ফিরিয়ে রাখে। মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেন যে, এই মুনাফিকদের জন্যে রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহর শাস্তির মুকাবিলায় তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাদের কোনই কাজে আসবে না, তারা জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে, কখনই তাদেরকে সেখান হতে বের করা হবে না।
কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ তাদের সকলকেই এক ময়দানে একত্রিত করবেন, কাউকেও বাদ রাখবেন না তখন দুনিয়ায় যেমন তাদের অভ্যাস ছিল যে, নিজেদের মিথ্যা কথাকে তারা শপথ করে সত্যরূপে দেখাতো, অনুরূপভাবে ঐ দিনও তারা আল্লাহর সামনে নিজেদের হিদায়াত ও সঠিক পথের অনুসারী হওয়ার উপর বড় বড় কসম খাবে এবং মনে করবে যে, সেখানেও বুঝি তাদের চালাকী ধরা পড়বে না। কিন্তু মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহর কাছে কি তাদের এই ফাকিবাজি ধরা না পড়ে থাকতে পারে? তিনি তো তাদের মিথ্যাবাদী হওয়ার কথা এ দুনিয়াতেও মুমিনদের নিকট বর্ণনা করে দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেছেনঃ সাবধান! তারাই তো মিথ্যাবাদী।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, (একদা) নবী (সঃ) তাঁর কোন এক কক্ষের ছায়ায় বসেছিলেন এবং কিছু সাহাবায়ে কিরামও (রাঃ) তাঁর নিকট ছিলেন। ছায়াযুক্ত স্থান কম ছিল। কষ্ট করে তারা সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সাহাবীদেরকে সম্বোধন করে বলেনঃ “দেখো, এখানে এখনই এমন একজন লোক আসবে যে শয়তানী দৃষ্টিতে তাকাবে। সে আসলে তোমরা কেউই তার সাথে কথা বলবে না।” অল্পক্ষণের মধ্যেই একজন কয়বা চক্ষু বিশিষ্ট লোক আসলো। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) তাকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেনঃ “তুমি এবং অমুক অমুক লোক আমাকে গালি দাও কেন?” একথা শুনেই লোকটি চলে গেল এবং রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) যে কয়েকজনের নাম করেছিলেন তাদের সবাইকে সে ডেকে নিয়ে আসলো এবং সবাই শপথ করে করে বললো যে, তাদের কেউই রাসূলুল্লাহ্ (সঃ)-কে বেয়াদবী মূলক কথা বলেনি। তখন মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ নিম্নের আয়াতটি অবতীর্ণ করলেনঃ (আরবী)
অর্থাৎ “তারা (আল্লাহর নিকট) সেই রূপ শপথ করবে যেই রূপ শপথ তোমাদের নিকট করে এবং তারা মনে করে যে, তাতে তারা উপকৃত হবে। সাবধান! তারাই তো মিথ্যাবাদী।” এই একই অবস্থা, আল্লাহর দরবারে মুশরিকদেরও হবে যে, তারা বলবেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর শপথ! আমরা মুশরিক ছিলাম না।” (৬:২৩)
এরপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ শয়তান তাদের উপর প্রভুত্ব বিস্তার করেছে এবং তাদের অন্তরকে নিজের মুষ্টির মধ্যে নিয়ে ফেলেছে, ফলে তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে।
হযরত আবু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ “যে গ্রামে বা জঙ্গলে তিনজন রয়েছে এবং তাদের মধ্যে নামায প্রতিষ্ঠিত করা হয় না, তাদের উপর শয়তান প্রভুত্ব বিস্তার করে ফেলে। সুতরাং তুমি জামাআতকে অপরিহার্য রূপে ধরে নাও। বাঘ ঐ বকরীকে খেয়ে ফেলে যে দল হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।” (এ হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
হযরত সায়েব (রঃ) বলেন যে, এখানে জামাআত দ্বারা নামাযের জামাআতকে বুঝানো হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ “তারা শয়তানেরই দল' অর্থাৎ যাদের উপর শয়তান প্রভুত্ব বিস্তার করেছে এবং এর ফলে তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে।
এরপর আল্লাহ্ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ 'সাবধান! শয়তানের দল অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।