সূরা আল-হাদীদ (আয়াত: 18)
হরকত ছাড়া:
إن المصدقين والمصدقات وأقرضوا الله قرضا حسنا يضاعف لهم ولهم أجر كريم ﴿١٨﴾
হরকত সহ:
اِنَّ الْمُصَّدِّقِیْنَ وَ الْمُصَّدِّقٰتِ وَ اَقْرَضُوا اللّٰهَ قَرْضًا حَسَنًا یُّضٰعَفُ لَهُمْ وَ لَهُمْ اَجْرٌ کَرِیْمٌ ﴿۱۸﴾
উচ্চারণ: ইন্নাল মুসসাদ্দিকীনা ওয়াল মুসসাদ্দিকা-তি ওয়া আকরাদুল্লা-হা কারদান হাছানাইঁ ইউদা-‘আফুলাহুম ওয়া লাহুম আজরুন কারীম।
আল বায়ান: নিশ্চয় দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী এবং যারা আল্লাহকে উত্তম করয দেয়, তাদের জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৮. নিশ্চয় দানশীল পুরুষগণ ও দানশীল নারীগণ এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে তাদেরকে দেয়া হবে বহু গুণ বেশী এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।
তাইসীরুল ক্বুরআন: দানশীল পুরুষরা আর দানশীলা নারীরা আর যারা আল্লাহকে ঋণ দেয়- উত্তম ঋণ, তাদের জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া হবে, আর তাদের জন্য আছে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিদান।
আহসানুল বায়ান: (১৮) দানশীল পুরুষগণ ও দানশীল নারিগণ এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে, তাদেরকে দেওয়া হবে বহুগুণ বেশী[1] এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। [2]
মুজিবুর রহমান: দানশীল পুরুষ ও দানশীলা নারী এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে তাদেরকে দেয়া হবে বহুগুণ বেশি এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার।
ফযলুর রহমান: সদ্কা দানকারী পুরুষ ও নারীদেরকে এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে তাদেরকে (প্রতিদানে) বহুগুণ বেশি দেওয়া হবে। উপরন্তু, তাদের জন্য রয়েছে এক সম্মানজনক পুরস্কার (জান্নাত)।
মুহিউদ্দিন খান: নিশ্চয় দানশীল ব্যক্তি ও দানশীলা নারী, যারা আল্লাহকে উত্তমরূপে ধার দেয়, তাদেরকে দেয়া হবে বহুগুণ এবং তাদের জন্যে রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।
জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ দানশীল পুরুষ ও দানশীলা নারীরা আর যারা আল্লাহ্কে উত্তম ঋণ দান করে -- তাদের জন্য তা বহুগুণিত করা হবে, আর তাদের জন্য রয়েছে সম্মানিত পুরস্কার।
Sahih International: Indeed, the men who practice charity and the women who practice charity and [they who] have loaned Allah a goodly loan - it will be multiplied for them, and they will have a noble reward.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৮. নিশ্চয় দানশীল পুরুষগণ ও দানশীল নারীগণ এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে তাদেরকে দেয়া হবে বহু গুণ বেশী এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৮) দানশীল পুরুষগণ ও দানশীল নারিগণ এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে, তাদেরকে দেওয়া হবে বহুগুণ বেশী[1] এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। [2]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, একের পরিবর্তে কমপক্ষে দশগুণ এবং তার চাইতেও বেশী সাতশতগুণ বরং তার থেকেও অধিক মাত্রায়। এই বর্ধন নিয়তের ঐকান্তিকতা, প্রয়োজন এবং স্থান-কালের ভিত্তিতে হতে পারে। যেমন, পূর্বে আলোচনা হল যে, মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয়কারীদের পুণ্য ও সওয়াব তার পরে ব্যয়কারীদের তুলনায় বেশী হবে।
[2] অর্থাৎ, জান্নাত ও তার নিয়ামতসমূহ; যা কখনো শেষ ও ধ্বংস হবার নয়। আয়াতে مُصِّدِّقِيْنَ শব্দটি আসলে مُتَصَدِّقِيْنَ ছিল। ‘তা’ হরফটিকে স্বাদ এর মধ্যে সন্ধি ঘটানো হয়েছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৬-১৯ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
পূর্বের আয়াতে মু’মিন ও মুনাফিকদের পারলৌকিক অবস্থা বর্ণনা করার পর এখানে মু’মিনদেরকে তাঁর স্মরণে আরো বেশি মনোযোগী হওয়া ও কুরআন থেকে নিদের্শনা গ্রহণের প্রেরণা দিচ্ছেন।
خشوع অর্থ : নরম অন্তরে আল্লাহ তা‘আলার দিকে ঝুঁকে পড়া। حق (সত্য) হলো কুরআনুল কারীম। এ আয়াত থেকে একশ্রেণির দরবেশ, ফকীর ও পীর বুজুর্গরা দলীল গ্রহণ করে সালাত, সিয়াম, খাবার, পোশাক পরিচ্ছেদ ও সংসার সব বর্জন করে আল্লাহ তা‘আলার যিকিরের নামে নিজেদের তৈরি করা ভণ্ডামী হৈ-হুল্লায় মগ্ন থাকে যা ইসলামী শরীয়ত সমর্থিত নয়। মূলত আয়াতে এরূপ কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়নি, কারণ আয়াতগুলো নাযিল হয়েছে মূসা ও ঈসা (আঃ)-এর অনুসারী মু’মিনদের ব্যাপারে যারা তাদের নাবীদের ওপর ঈমান এনেছে কিন্তু নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনেনি। এ আয়াতটি (وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا بِاللّٰهِ وَرُسُلِه۪) ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনে’ এ আয়াতের পরে এসেছে। অর্থাৎ যারা তাওরাত ও ইঞ্জিলের প্রতি ঈমান এনেছে তাদের কি এখনো সময় হয়নি যে, তাদের অন্তর কুরআনের জন্য নম্র হবে (কুরতুবী)।
তারপর মু’মিনদেরকে ইয়াহূদ ও খ্রিস্টানদের মত হতে নিষেধ করছেন যাদের ওপর দিয়ে বহুকাল অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পর স্বহস্তে আল্লাহ তা‘আলার কিতাব পরিবর্তন করেছে এবং তা পেছনে নিক্ষেপ করে ধর্ম যাজকদেরকে মা‘বূদ বানিয়ে নিয়েছে। ফলে তাদের অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছিল। কোন ওয়াজ নসিহত তাদের কাজে আসেনি।
(يُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا)
‘আল্লাহই পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর জীবন দান করেন’ এ অংশ প্রমাণ করছে আল্লাহ যেমন মৃত জমিনকে বৃষ্টির পানি দ্বারা পুনরায় জীবিত করতে পারেন তেমনি মানুষকে পথভ্রষ্টের পর হিদায়াত দিতে পারেন, দুঃখের পর সুখ দিতে পারেন, কঠিন অন্তরকেও নরম করে দিতে পারেন এবং মানুষের মুত্যৃর পর পুনঃজীবিত করতে পারেন। মৃত্যুর পর হিসাব-নিকাশ করে মু’মিনদেরকে জান্নাত আর কাফিরদেরকে জাহান্নাম দেওয়ার জন্য অবশ্যই সকলকে পুনরুত্থিত করবেন।
(يُّضَاعَفُ لَهُمْ)
অর্থাৎ এক-এর বদলে কমপক্ষে দশগুণ এবং তার চেয়েও বেশি সাতশত গুণ বরং তার থেকেও অধিক মাত্রায়। যেমন আল্লাহ বলেন :
(مَثَلُ الَّذِیْنَ یُنْفِقُوْنَ اَمْوَالَھُمْ فِیْ سَبِیْلِ اللہِ کَمَثَلِ حَبَّةٍ اَنْۭبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِیْ کُلِّ سُنْۭبُلَةٍ مِّائَةُ حَبَّةٍﺚ وَاللہُ یُضٰعِفُ لِمَنْ یَّشَا۬ئُﺚ وَاللہُ وَاسِعٌ عَلِیْمٌ)
“যারা আল্লাহর পথে তাদের মাল খরচ করে তাদের উদাহরণ হচ্ছে একটি শস্যদানা যা সাতটি শীষ উৎপন্ন করে। প্রত্যেক শীষে এক শত শস্যদানা থাকে আর আল্লাহ যাকে চান তাকে বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ প্রশস্তকারী, মহাজ্ঞানী।”
(هُمُ الصِّدِّيْقُوْنَ)
এ আয়াতের তাফসীর মুফাসসিরে কেরাম দু’ভাবে করেছেন :
১. আল্লামা ইবনু কাসীর ও সা‘দী (রহঃ)-সহ অনেকে বলেছেন : আয়াতটি
(هُمُ الصِّدِّيْقُوْنَ)
এখানে পরিপূর্ণ। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-ও এ কথা বলেছেন। অর্থ হল : যারা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের প্রতি সত্যিকার ঈমান এনেছে তারা সিদ্দীক। আর শহীদরা তাদের প্রতিপালকের নিকট শহীদের মর্যাদায় রয়েছে শহীদের মর্যাদা সম্পর্কে যেভাবে হাদীসে বলা হয়েছে।
২. আল্লামা ইবনু জারীর (রহঃ) বলেন : আয়াতটি
(لَهُمْ أَجْرُهُمْ وَنُوْرُهُمْ)
এখানে পরিপূর্ণ। অর্থ হল : যারা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের প্রতি সত্যিকার ঈমান এনেছে তারা সিদ্দিক ও শহীদ। তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রাপ্য পুরস্কার ও জ্যোতি। যেমন হাদীসে এসেছে : জান্নাতে একশতটির মত মর্তবা রয়েছে। এক মর্তবা থেকে অন্য মর্তবার দূরত্ব হল আকাশ-জমিনের মত দূরত্ব। এসব আল্লাহ তা‘আলা তাঁর পথে জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। প্রথমটি অধিক সঠিক, কারণ প্রত্যেক সত্যিকার মু’মিন সিদ্দিক হতে পারে কিন্তু শহীদ হতে পারে না। (আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. বেশি বেশি আল্লাহ তা‘আলার যিকির করা উচিত।
২. আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় দান করার ফযীলত জানলাম।
৩. যারা প্রকৃত ঈমানদার তারাই সিদ্দিক। যেহেতু তারা আল্লাহ তা‘আলা, রাসূল ও দীনের সব কিছু সত্য বলে স্বীকার করে নিয়েছে।
৪. শহীদদের মর্যাদা জানতে পারলাম।
৫. শরীয়ত গর্হিত পন্থায় ইবাদত করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৮-১৯ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, ফকীর, মিসকীন ইত্যাদি অভাবগ্রস্তদেরকে যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে স্বীয় হালাল ধন-সম্পদ থেকে সৎ নিয়তে দান করে, আল্লাহ বিনিময় হিসেবে তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে তাদেরকে প্রদান করবেন। তিনি তাদেরকে ঐ দান দশ গুণ হতে সাতশ গুণ পর্যন্ত এবং তারও বেশী বদ্ধি করবেন। তাদের জন্যে রয়েছে বেহিসাব সওয়াব ও মহাপুরস্কার।
আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সঃ)-এর উপর বিশ্বাস স্থাপনকারীরাই সিদ্দীক ও শহীদ। এই দুই গুণের অধিকারী শুধুমাত্র এই ঈমানদার ললাকেরাই। কোন কোন গুরুজন কে পৃথক বাক্য বলেছেন। মোটকথা, তিন শ্রেণী হলো। (এক) (আরবী) (দানশীল), (দুই) (আরবী) (সত্যনিষ্ঠ) এবং (তিন) (আরবী)-(শহীদগণ)। যেমন আল্লাহ পাক অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আর যে আল্লাহ এবং রাসূল (সঃ)-এর আনুগত্য করবে সে নবী, সত্যনিষ্ঠ, শহীদ ও সঙ্কর্মপরায়ণ যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, তাদের সঙ্গী হবে।” (৪:৬৯) এখানেও সিদ্দীক ও শহীদের মধ্যে পার্থক্য সূচিত করা হয়েছে, যার দ্বারা জানা যাচ্ছে যে, এঁরা দুই শ্রেণীর লোক। সিদ্দীকের মর্যাদা নিঃসন্দেহে শহীদ অপেক্ষা বেশী।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীরা তাদের উপরের প্রাসাদের জান্নাতীদেরকে এভাবেই দেখবে, যেমন তোমরা পূর্ব দিকের ও পশ্চিম দিকের উজ্জ্বল নক্ষত্রকে আকাশ প্রান্তে দেখে থাকো।” সাহাবীগণ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! এ মর্যাদা তো শুধু নবীদের, তাঁরা ছাড়া তো এ মর্যাদায় অন্য কেউ পৌছতে পারবে না?” জবাবে তিনি বললেনঃ “হ্যাঁ, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তার শপথ! এরা হলো ঐ সব লোক যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে এবং রাসূলদের (আঃ) সত্যতা স্বীকার করেছে।” (এ হাদীসটি ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রঃ), ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
একটি গারীব হাদীস দ্বারা এটাও জানা যায় যে, এই আয়াতে শহীদ ও সিদ্দীক এ দুটো এই মুমিনেরই বিশেষণ।
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “আমার উম্মতের মুমিন ব্যক্তি শহীদ।” অতঃপর তিনি এ আয়াতটিই তিলাওয়াত করেন।
হযরত আমর ইবনে মায়মূন (রঃ) বলেনঃ “এ দু’জন কিয়ামতের দিন দুটি অঙ্গুলীর মত হয়ে আসবে।
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, শহীদদের রূহ সবুজ রঙ এর পাখীর দেহের মধ্যে থাকবে। জান্নাতের মধ্যে যথেচ্ছা পানাহার করে ঘুরে বেড়াবে। রাত্রে লণ্ঠনের মধ্যে আশ্রয় নিবে। তাদের প্রতিপালক তাদের উপর প্রকাশিত হয়ে বলবেনঃ “তোমরা কি চাও?” উত্তরে তারা বলবেঃ “আমাদেরকে পুনরায় দুনিয়ায় পাঠিয়ে দিন, যাতে আমরা আবার আপনার পথে জিহাদ করে শহীদ হতে পারি।` আল্লাহ তা'আলা জবাব দিবেনঃ “আমি তো এই ফায়সালা করেই দিয়েছি যে, দুনিয়ায় কেউ পুনরায় ফিরে যাবে না।”
মহান আল্লাহ বলেনঃ তাদের জন্যে রয়েছে তাদের প্রাপ্য পুরস্কার ও জ্যোতি। ঐ নূর বা জ্যোতি তাদের সামনে থাকবে এবং তা তাদের আমল অনুযায়ী হবে।
হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “শহীদগণ চার প্রকার। (এক) ঐ পাকা ঈমানদার যে শত্রুর মুখোমুখি হয়েছে এবং প্রাণপণে যুদ্ধ করেছে, অবশেষে শহীদ হয়েছে। সে এমনই ব্যক্তি যে, (তার মর্যাদা দেখে) লোকেরা তার দিকে এই ভাবে তাকাবে।` ঐ সময় রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর মস্তক এমনভাবে উঠান যে, তাঁর টুপিটি মাথা হতে নীচে পড়ে যায়। আর এ হাদীসটি বর্ণনা করার সময় হযরত উমার (রাঃ)-এরও মাথার টুপি নীচে পড়ে যায়। (দুই) ঐ ব্যক্তি যে ঈমানদার বটে এবং জিহাদের জন্যে বেরও হয়েছে। কিন্তু অন্তরে সাহস কম আছে। হঠাৎ একটি তীর এসে তার দেহে বিদ্ধ হয় এবং দেহ হতে রূহ বেরিয়ে যায়। এ ব্যক্তি হলো দ্বিতীয় শ্রেণীর শহীদ। (তিন) ঐ ব্যক্তি যার ভাল মন্দ আমল রয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তাকে পছন্দ করেছেন। সে জিহাদের মাঠে নেমেছে এবং কাফিরদের হাতে নিহত হয়েছে। এ ব্যক্তি তৃতীয় শ্রেণীর শহীদ। (চার) ঐ ব্যক্তি যার গুনাহ খুব বেশী আছে। সে জিহাদে অবতীর্ণ হয়েছে এবং শক্রর হাতে নিহত হয়েছে। এ হলো চতুর্থ শ্রেণীর শহীদ।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) ও ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে হাসান গারীব বলেছেন)
এই সৎ লোকেদের পরিণাম বর্ণনা করার পর আল্লাহ তা'আলা অসৎ লোকদের পরিণাম বর্ণনা করছেন যে, যারা কুফরী করেছে ও আল্লাহর নিদর্শন অস্বীকার করেছে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।