সূরা আল-ওয়াকিয়া (আয়াত: 84)
হরকত ছাড়া:
وأنتم حينئذ تنظرون ﴿٨٤﴾
হরকত সহ:
وَ اَنْتُمْ حِیْنَئِذٍ تَنْظُرُوْنَ ﴿ۙ۸۴﴾
উচ্চারণ: ওয়া আনতুম হীনাইযিন তানজু রূন।
আল বায়ান: আর তখন তোমরা কেবল চেয়ে থাক।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৪. এবং তখন তোমরা তাকিয়ে থাক,
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর তোমরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখ,
আহসানুল বায়ান: (৮৪) এবং তখন তোমরা তাকিয়ে থাক।[1]
মুজিবুর রহমান: এবং তখন তোমরা তাকিয়ে থাক,
ফযলুর রহমান: এবং তোমরা তখন তাকিয়ে থাক,
মুহিউদ্দিন খান: এবং তোমরা তাকিয়ে থাক,
জহুরুল হক: এবং তোমরা যে-সময়ে তাকিয়ে থাকো,
Sahih International: And you are at that time looking on -
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৮৪. এবং তখন তোমরা তাকিয়ে থাক,
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৮৪) এবং তখন তোমরা তাকিয়ে থাক।[1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, আত্মাকে বের হতে দেখ, কিন্তু তা রোধ করার অথবা কোন উপকার করার ক্ষমতা রাখ না।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৮৩-৮৭ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
(بَلَغَتِ الْحُلْقُوْمَ)
অর্থাৎ যখন ফেরেশতাগণ রূহ বের করে নিয়ে যাবে তখন তোমরা দেখতে পাবে কিন্তু কিছু করতে পারবে না।
(وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ)
অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর জ্ঞান ও দর্শন দ্বারা মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট অবস্থানকারী ফেরেশতাদের চেয়েও অধিক নিকটে। কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা।
(مَدِيْنِيْنَ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : এর অর্থ হলো محاسبين হিসাব নিকাশকারী, অডিটর। ইকরিমা, হাসান বাসরীসহ অনেক প্রসিদ্ধ মুফাসসির বলেন : এর অর্থ হলো عير صٰدِقِيْنَ অর্থাৎ যদি পুনরুত্থান ও প্রতিদানের প্রতি বিশ্বাসী না হও তাহলে এসব আত্মাগুলো ফিনিয়ে নিয়ে আস।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৮৩-৮৭ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ যখন রূহ কণ্ঠাগত হয় অর্থাৎ যখন মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হয়, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যখন প্রাণ ওষ্ঠাগত হবে এবং বলা হবেঃ কে তাকে রক্ষা করবে? তখন তার প্রত্যয় হবে যে, এটা বিদায়ক্ষণ। আর পায়ের সাথে পা জড়িয়ে যাবে।
সেই দিন আল্লাহর নিকট সব কিছু প্রত্যানীত হবে।” (৭৫:২৬-৩০) এ জন্যেই এখানে বলেনঃ তখন তোমরা তাকিয়ে থাকো। অর্থাৎ একটি লোক বিদায়ক্ষণে উপস্থিত। সে মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করছে, রূহ বিদায় হতে চলেছে। তোমরা সবাই তার পার্শ্বে বসে তার দিকে তাকাতে থাকো। কিন্তু তোমাদের কেউ কিছু করতে পারে কি? না, কেউই কিছু করতে সক্ষম নয়। আমার ফেরেশতারা ঐ মৃত্যুমুখী ব্যক্তির তোমাদের চেয়েও বেশী নিকটে রয়েছে যাদেরকে তোমরা দেখতে পাও। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী)
অর্থাৎ “এবং তিনি তাঁর বান্দাদের উপর জয়যুক্ত, তিনি তোমাদের উপর রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রেরণ করেন। যখন তোমাদের মধ্যে কারো মৃত্যুর সময় এসে পড়ে তখন আমার প্রেরিতরা সঠিকভাবে তার মৃত্যু ঘটিয়ে থাকে। তারপর তারা সবাই তাদের সত্য মাওলার নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে যিনি ন্যায় বিচারক এবং সত্ত্বর হিসাব গ্রহণকারী।” (৬:৬১-৬২)
আর এখানে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তোমরা যদি কর্তৃত্বাধীন না হও তবে তোমরা ওটা অর্থাৎ প্রাণ ফিরাও না কেন? যদি তোমরা সত্যবাদী হও। অর্থাৎ যদি এটা সত্য হয় যে, তোমরা পুনরুজ্জীবিত হবে না এবং তোমাদেরকে হাশরের ময়দানে হাযির করা হবে না, যদি তোমরা হাশর-নশরে বিশ্বাসী না হও এবং তোমাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে না ইত্যাদি, তবে আমি বলি যে, তোমরা তাহলে ঐ রূহকে যেতে দিচ্ছ কেন? আটকিয়ে রাখো! যদি রূহ তোমাদের আয়ত্তাধীন হয়ে থাকে তবে কণ্ঠাগত প্রাণ বা রূহকে ওর আসল জায়গায় পৌঁছিয়ে দাও না? কিন্তু তোমরা তা কখনো পারবে না। সুতরাং জেনে রেখো যে, যেমন এই রূহকে আমি দেহে নিক্ষেপ করতে সক্ষম ছিলাম এবং তা তোমরা স্বচক্ষে দেখেছো, তেমনই বিশ্বাস রেখো যে, দ্বিতীয়বার ঐ রূহকে দেহে নিক্ষেপ করে নতুনভাবে জীবন দানেও আমি সক্ষম হবো। না তোমাদের নিজেদের জীবন সৃষ্টিতে কোন দখল আছে, না মৃত্যুতে কোন কর্তৃত্ব আছে, তাহলে পুনরুত্থানে তোমাদের দখল কোথা হতে আসলো? যেমন তোমরা বলছো যে, তোমরা মৃত্যুর পরে পুনরুজ্জীবিত হবে না? তোমাদের ধারণা ও বিশ্বাস সম্পূর্ণ অমূলক।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।