আল কুরআন


সূরা আল-ওয়াকিয়া (আয়াত: 59)

সূরা আল-ওয়াকিয়া (আয়াত: 59)



হরকত ছাড়া:

أأنتم تخلقونه أم نحن الخالقون ﴿٥٩﴾




হরকত সহ:

ءَاَنْتُمْ تَخْلُقُوْنَهٗۤ اَمْ نَحْنُ الْخٰلِقُوْنَ ﴿۵۹﴾




উচ্চারণ: আ আনতুম তাখলুকূনাহূআম নাহনুল খা-লিকূন।




আল বায়ান: তা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমিই তার স্রষ্টা?




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৯. সেটা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমরা সৃষ্টি করি?(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না তার সৃষ্টিকর্তা আমিই।




আহসানুল বায়ান: (৫৯) ওটা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি? [1]



মুজিবুর রহমান: ওটা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?



ফযলুর রহমান: তোমরা তা (দিয়ে মানুষ) সৃষ্টি করো, না আমিই সৃষ্টিকর্তা?



মুহিউদ্দিন খান: তোমরা তাকে সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?



জহুরুল হক: তোমরা বুঝি ওকে সৃষ্টি করেছ, না আমরা সৃষ্টিকর্তা?



Sahih International: Is it you who creates it, or are We the Creator?



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৯. সেটা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমরা সৃষ্টি করি?(১)


তাফসীর:

(১) ছোট্ট এ বাক্যে মানুষের সামনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন রাখা হয়েছে। মানুষের জন্ম পদ্ধতি তো এছাড়া আর কিছুই নয় যে, পুরুষ তার শুক্র নারীর গর্ভাশয়ে পৌছে দেয় মাত্র। কিন্তু ঐ শুক্রের মধ্যে কি সন্তান সৃষ্টি করার এবং নিশ্চিত রূপে মানুষের সন্তান সৃষ্টি করার যোগ্যতা আপনা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে? অথবা মানুষ নিজে সৃষ্টি করেছে? না আল্লাহ সৃষ্টি করেছে? এ যুক্তির সঙ্গত জওয়াব একটিই। তা হচ্ছে, মানুষ পুরোপুরি আল্লাহর সৃষ্টি। [তাবারী, আদওয়াউল-বায়ান]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৯) ওটা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি? [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, স্ত্রীদের সাথে সহবাসের ফলে তোমাদের বীর্যের যে ফোঁটাগুলো তাদের গর্ভে যায়, সেগুলো থেকে মানব আকৃতি আমি বানাই, না তোমরা?


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৭-৬২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



যারা বস্তুবাদীতে বিশ্বাসী, পরকালে অবিশ্বাসী তাদের এরূপ চিন্তাকে খণ্ডন করে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন : আমিই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি অথচ তোমরা কিছুই ছিলে না, এরপরেও কি তোমরা পুনরুত্থানে বিশ্বাস করবে না। তারপর আল্লাহ তা‘আলা বলছেন : হে মানবমণ্ডলী! তোমরা কি ভেবে দেখেছ? স্ত্রী সহবাসের সময় তোমাদের যে বীর্য স্ত্রীগর্ভে যায় তা থেকে মানুষের আকৃতি দিয়ে কে দুনিয়াতে আগমন ঘটায়? নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ তা‘আলাই তা করি। সামান্য পানি থেকে যদি আমি তোমাদের সৃষ্টি করতে পারি তাহলে কি পুনরায় সৃষ্টি করে পুনরুত্থান করাতে পারব না? অবশ্যই পারব। বরং এটা আরো অতি সহজ।



(نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ)



অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা মৃত্যুর সময় নির্ধারিত করে রেখেছেন। অতএব যখন নির্ধারিত সময় এসে যাবে তখন কোন অগ্রও বিলম্ব হবে না।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ ج فَإِذَا جَا۬ءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُوْنَ سَاعَةً وَّلَا يَسْتَقْدِمُوْنَ)‏



“প্রত্যেক জাতির এক নির্দিষ্ট সময় আছে। যখন তাদের সময় আসবে তখন তারা মুহূর্তকাল দেরী করতে পারে না এবং জলদীও করতে পারবে না।” (সূরা আ‘রাফ ৭ : ৩৪)



(وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوْقِيْنَ)



এ অংশটুকুর সম্পর্ক পরের আয়াতের সাথে। অর্থাৎ তোমাদের স্থলে তোমাদের মত অনুরূপ জাতি আনয়ন করতে এবং তোমাদের আকৃতি বিকৃত করতে তিনি সক্ষম।



(وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ النَّشْأَةَ الْأُوْلٰي)



অর্থাৎ তোমরা জান যে, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন অথচ তোমরা কিছুই ছিলে না। তাহলে কেন তোমরা এটা অনুধাবন করছ না যে, তিনি পুনরায় তোমাদের সৃষ্টি করতে সক্ষম। সুতরাং এতে কোন সংশয় নেই আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক আত্মাকে দুনিয়ার কর্মের প্রতিদান দেয়ার জন্য পুনরুত্থিত করবেন। তাই আমাদের এমন কর্মই করা উচিত যা পরকালে উপকারে আসবে এবং জাহান্নামে যেতে প্রতিবন্ধক হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৭-৬২ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা কিয়ামত অস্বীকারকারীদেরকে নিরুত্তর করে দেয়ার জন্যে কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার এবং লোকদের পুনরুজ্জীবিত হওয়ার দলীল পেশ করতে গিয়ে বলেনঃ প্রথমবার যখন আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি যখন তোমরা কিছুই ছিলে না, তখন তোমাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করা আমার পক্ষে মোটেই কঠিন নয়। কারণ তোমাদের তখন তো কিছু না কিছু থাকবে?” যখন তোমরা তোমাদের প্রথম সৃষ্টিকে বিশ্বাস ও স্বীকার করছে তখন দ্বিতীয়বার সৃষ্ট হওয়াকে কেন অস্বীকার করছো? দেখো, মানুষের বিশেষ পানির বিন্দু তো স্ত্রীর গর্ভাশয়ে পৌঁছে থাকে। এটুকু কাজ তো তোমাদের। কিন্তু ঐ বিন্দুকে মানবাকৃতিতে রূপান্তরিত করা কার কাজ? এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে, এতে তোমাদের কোনই দখল নেই, কোন হাত নেই, কোন ক্ষমতা নেই এবং কোন চেষ্টা-তদবীর নেই। এ কাজ তো শুধুমাত্র সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা রাম্বুল ইযযত আল্লাহর। ঠিক তদ্রুপ মৃত্যু ঘটাতেও তিনিই সক্ষম। আকাশ ও পৃথিবীবাসী সকলেরই মৃত্যুর ব্যবস্থাপক একমাত্র আল্লাহ। তাহলে যিনি এতো বড় ক্ষমতার অধিকারী তিনি এ ক্ষমতা রাখেন না যে, কিয়ামতের দিন তোমাদের মৃত্যুকে সৃষ্টিতে পরিবর্তিত করে যে বিশেষণে ও যে অবস্থায় ইচ্ছা তোমাদেরকে নতুনভাবে সৃষ্টি করবেন? প্রথম সৃষ্টি তিনিই করেছেন, আর এটা বিবেক সম্মত ব্যাপার যে, প্রথমবারের সৃষ্টি দ্বিতীয়বারের সৃষ্টি হতে কঠিনতর। সুতরাং কি করে তোমরা দ্বিতীয়বারের সৃষ্টিকে অস্বীকার করতে পার? এটাকেই অন্য জায়গায় বর্ণনা করা হয়েছেঃ (আরবী)

অর্থাৎ “তিনিই আল্লাহ যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই দ্বিতীয় বার ওকে ফিরাবেন (পুনর্বার সৃষ্টি করবেন) এবং এটা তাঁর কাছে খুবই সহজ।” (৩০:২৭) অন্য এক জায়গায় বলেনঃ
(আরবী) অর্থাৎ “মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে প্রথমে সৃষ্টি করেছি যখন সে কিছুই ছিল না?` (১৯:৬৭) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী)

অর্থাৎ “মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু হতে? অথচ পরে সে হয়ে পড়ে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী। আর সে আমার সম্বন্ধে উপমা রচনা করে, অথচ সে নিজের সৃষ্টির কথা ভুলে যায়; বলে অস্থিতে প্রাণ সঞ্চার করবে কে যখন ওটা পচে গলে যাবে? বলঃ ওর মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করবেন তিনিই যিনি এটা প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত।” (৩৬:৭৭-৭৯) আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ (আরবী)

অর্থাৎ “মানুষ কি মনে করে যে, তাকে নিরর্থক ছেড়ে দেয়া হবে? সে কি স্থলিত শুক্রবিন্দু ছিল না?” অতঃপর সে রক্তপিণ্ডে পরিণত হয়। তারপর আল্লাহ তাকে আকৃতি দান করেন ও সুঠাম করেন। অতঃপর তিনি তা হতে সৃষ্টি করেন যুগল নর ও নারী। তবুও কি সেই স্রষ্টা মৃতকে পুনর্জীবিত করতে সক্ষম নন?” (৭৫:৩৬-৪০)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।