সূরা আল-ওয়াকিয়া (আয়াত: 46)
হরকত ছাড়া:
وكانوا يصرون على الحنث العظيم ﴿٤٦﴾
হরকত সহ:
وَ کَانُوْا یُصِرُّوْنَ عَلَی الْحِنْثِ الْعَظِیْمِ ﴿ۚ۴۶﴾
উচ্চারণ: ওয়াকা-নূইউসিররূনা ‘আলাল হিনছিল ‘আজীম।
আল বায়ান: আর তারা জঘন্য পাপে লেগে থাকত।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৬. আর তারা অবিরাম লিপ্ত ছিল ঘোরতর পাপকাজে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর অবিরাম ক’রে যেত বড় বড় পাপের কাজ,
আহসানুল বায়ান: (৪৬) এবং অবিরাম লিপ্ত ছিল ঘোরতর পাপকর্মে।
মুজিবুর রহমান: এবং তারা অবিরাম লিপ্ত ছিল ঘোরতর পাপ কর্মে।
ফযলুর রহমান: তারা বড় পাপে অনড় থাকত।
মুহিউদ্দিন খান: তারা সদাসর্বদা ঘোরতর পাপকর্মে ডুবে থাকত।
জহুরুল হক: আর তারা ঘোরতর পাপাচারে জেদ ধরে থাকত,
Sahih International: And they used to persist in the great violation,
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৬. আর তারা অবিরাম লিপ্ত ছিল ঘোরতর পাপকাজে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৬) এবং অবিরাম লিপ্ত ছিল ঘোরতর পাপকর্মে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪১-৫৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
যারা কিয়ামত দিবসে বাম হাতে আমলনামা পাবে তারা জাহান্নামে যে দুঃখ-কষ্টে থাকবে তার বিবরণ এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
سَمُوْمٍ হল উত্তপ্ত বায়ু, আর حَمِيْمٍ হল উত্তপ্ত পানি। يَّحْمُوْمٍ হল কালো ধোঁয়া। অর্থাৎ বাম হাতে আমলনামাপ্রাপ্ত জাহান্নামীরা জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য কালো ধোঁয়াকে ছায়া মনে করে সে দিকে যাবে কিন্তু আসলে তা ঠাণ্ডা ছায়া নয় এবং তা দেখতেও ভাল দেখাবে না।
(إِنَّهُمْ كَانُوْا قَبْلَ ذٰلِكَ)
অর্থাৎ এসকল জাহান্নামীরা দুনিয়াতে হারাম কাজে সবর্দা লিপ্ত ছিল, রাসূলগণ যা কিছু নিয়ে এসেছিলেন তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করত না।
(عَلَي الْحِنْثِ الْعَظِيْمِ)
অর্থাৎ তারা সবর্দা কুফরী, শিরক ও আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য কাজে লিপ্ত থাকত; তাওবা করার পরওয়া করত না।
(أَإِنَّا لَمَبْعُوْثُوْنَ)
অর্থাৎ আমরা মারা গেলে হাড় ও মাটিতে পরিণত হয়ে যাব তারপরেও কি পুনরুত্থিত হব? কাফিররা পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে এ কথা বলত। আল্লাহ তা‘আলা তাদের জবাবে বলেন : হে নাবী! তুমি বলে দাও : আদম থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত যারা আসবে সবাই পুনরুত্থিত হবে। এ পুনরুত্থান হবে এক নির্ধারিত দিনের নির্ধারিত সময়ে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(ذٰلِکَ یَوْمٌ مَّجْمُوْعٌﺫ لَّھُ النَّاسُ وَذٰلِکَ یَوْمٌ مَّشْھُوْدٌ﮶ وَمَا نُؤَخِّرُھ۫ٓ اِلَّا لِاَجَلٍ مَّعْدُوْدٍ﮷ یَوْمَ یَاْتِ لَا تَکَلَّمُ نَفْسٌ اِلَّا بِاِذْنِھ۪ﺆ فَمِنْھُمْ شَقِیٌّ وَّسَعِیْدٌ)
“এটা সেদিন, যেদিন সমস্ত মানুষকে একত্র করা হবে; এটা সেদিন যেদিন সকলকে উপস্থিত করা হবে; এবং আমি নির্দিষ্ট কিছু কালের জন্য সেটা স্থগিত রাখি মাত্র। যখন সেদিন আসবে তখন আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কেউ কথা বলতে পারবে না; তাদের মধ্যে কেউ হবে হতভাগ্য ও কেউ ভাগ্যবান।” (সূরা হূদ১১ : ১০৩-১০৫)
(لَاٰکِلُوْنَ مِنْ شَجَرٍ مِّنْ زَقُّوْمٍ)
‘তোমরা অবশ্যই যাক্কূম বৃক্ষ হতে আহার করবে’ যাক্কুম জাহান্নামের একটি নিকৃষ্ট গাছ। যা অতি বিস্বাদ ও তিক্ত। খেতে ভাল না লাগলেও ক্ষুধার তাড়নায় তা খেয়েই তাদের উদর পূর্ণ করবে।
هِيْمِ হল أهيم এর বহুবচন। সেই পিপাসিত উটকে বলা হয়, যে বিশেষ এক ভোগের কারণে পানির ওপর পানি পান করেই যায়, কিন্তু তাতে পিপাসা নিবৃত্ত হয় না।
(هٰذَا نُزُلُهُمْ يَوْمَ الدِّيْنِ)
‘কিয়ামতের দিন এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন’ মহান আল্লাহ ঠাট্টা করে কাফিরদেরকে এ কথা বলছেন। কারণ কষ্টদায়ক খাবার ও পাণীয় দ্বারা কি আপ্যায়ন করা হয়।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. বাম হাতে আমলনামা যারা পাবে তারা জাহান্নামী।
২. জাহান্নামীরা জাহান্নামে যে দুঃখ-কষ্টে থাকবে তার বিবরণ জানলাম।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪১-৫৬ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা আসহাবুল ইয়ামীন বা ডান দিকের লোকদের বর্ণনা দেয়ার পর এখন আসহাবুশ শিমাল বা বাম দিকের লোকদের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, কত হতভাগা বাম দিকের দল! তারা কতই না কঠিন শাস্তি ভোগ করবে! অতঃপর তাদের শাস্তির বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তারা থাকবে অত্যন্ত উষ্ণ বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে এবং কৃষ্ণবর্ণ ধূম্রের ছায়ায়। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী)
অর্থাৎ “তোমরা যাকে অস্বীকার করতে, চল তারই দিকে। চল তিন শাখা বিশিষ্ট ছায়ার দিকে, যে ছায়া শীতল নয় এবং যা রক্ষা করে না অগ্নিশিখা হতে। এটা উৎক্ষেপণ করবে বৃহৎ স্ফুলিঙ্গ অট্টালিকা তুল্য, ওটা পীতবর্ণ উষ্ট্ৰশ্রেণী সদৃশ। সেই দিন দুর্ভোগ মিথ্যা আরোপকারীদের জন্যে।” (৭৭:২৯-৩৪) এজন্যেই এখানে বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তারা থাকবে কৃষ্ণ বর্ণ ধূম্র ছায়ায়। যা শীতল নয়, আরামদায়কও নয়। এটা আরবদের বাক পদ্ধতি যে, তারা যখন কোন জিনিসের মন্দ গুণ অধিক রূপে বর্ণনা করে তখন ওর সর্বপ্রকারের খারাপ গুণ বর্ণনা করার পর (আরবী) বলে থাকে।
অতঃপর আল্লাহ তা'আলা এ লোকেদেরকে শাস্তির যোগ্য বলার কারণ বর্ণনা করছেন যে, দুনিয়ায় তাদেরকে যে নিয়ামতের অধিকারী করা হয়েছিল তার মধ্যে তারা মত্ত ছিল। রাসূলদের (আঃ) কথায় তারা মোটেই ভ্রুক্ষেপ করেনি। তারা ভোগ-বিলাসে সম্পূর্ণরূপে মগ্ন ছিল এবং অবিরাম ঘোরতর পাপকর্মে লিপ্ত ছিল।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর উক্তি এই যে, (আরবী) দ্বারা কুফরী ও শিরক উদ্দেশ্য। কেউ কেউ বলেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মিথ্যা কসম।
এরপর তাদের আর একটি দোষের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, তারা কিয়ামত সংঘটিত হওয়াকেও অসম্ভব মনে করে। তারা এটাকে মিথ্যা মনে করে এবং জ্ঞান সম্পর্কীয় দলীল পেশ করে যে, মৃত্যুর পরে মাটিতে মিশে গিয়ে পুনরায় জীবিত হওয়া কি কখনো সম্ভব হতে পারে? তাদেরকে উত্তর দেয়া হচ্ছে যে, কিয়ামতের দিন সমস্ত আদম সন্তানকে পুনরায় নতুনভাবে সৃষ্টি করা হবে এবং সবাই এক মাঠে একত্রিত হবে। একজন লোকও এমন থাকবে না যে দুনিয়ায় এসেছে এবং সেখানে থাকবে না। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী)
অর্থাৎ “এটা সেই দিন যেদিন সমস্ত মানুষকে একত্রিত করা হবে, এটা সেই দিন যেদিন সকলকে উপস্থিত করা হবে। আর আমি নির্দিষ্ট কিছুকালের জন্যে ওটা স্থগিত রাখি মাত্র। যখন সেদিন আসবে তখন আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত। কেউ কথা বলতে পারবে না। তাদের মধ্যে কেউ হবে হতভাগ্য এবং কেউ হবে ভাগ্যবান।” (১১:১০৩-১০৫) এ জন্যেই আল্লাহ তাআলা এখানে বলেনঃ “সকলকে একত্রিত করা হবে এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে।” কিয়ামতের দিন এবং সময় নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত রয়েছে। কম বেশী এবং আগে পরে হবে না।
প্রবল প্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ অতঃপর হে বিভ্রান্ত মিথ্যা আরোপকারীরা! তোমরা অবশ্যই আহার করবে যাকূম বৃক্ষ হতে এবং ওটা দ্বারা তোমরা উদর পূর্ণ করবে। কেননা, ওটা জোরপূর্বক তোমাদের কণ্ঠনালীতে ঢুকিয়ে দেয়া হবে। তারপর তোমরা পান করবে অত্যুষ্ণ পানি এবং ঐ পানি তোমরা পান করবে তৃষ্ণার্ত উষ্ট্রের ন্যায়।
(আরবী) শব্দটি বহুবচন, এর একবচন হলো (আরবী) এবং স্ত্রীলিঙ্গ (আরবী) হবে। এটাকে (আরবী) এবং (আরবী) ও বলা হয়। কঠিন তৃষ্ণার্ত উষ্ট্রকে (আরবী) বলা হয়, যার পিপাসাযুক্ত রোগ রয়েছে। সে পানি চুষে নেয় কিন্তু পিপাসা দূর হয় না। এই রোগেই সে শেষে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। অনুরূপভাবে জাহান্নামীকে গরম পানি পান করাবো, যা নিজেই একটা জঘন্যতম শাস্তি হবে। সুতরাং এর দ্বারা পিপাসা কিরূপে নিবারণ হতে পারে?
হযরত খালিদ ইবনে মাদান (রাঃ) বলেন যে, একই নিঃশ্বাসে পানি পান করাও পিপাসার্ত উষ্ট্রের পানের সাথে তুলনীয়। এ জন্যে এভাবে পানি পান করা মাকরূহ!
এরপর মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বলেনঃ “কিয়ামতের দিন এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন। যেমন মুমিনদের সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের আপ্যায়নের জন্যে আছে ফিরদাউসের উদ্যান।” (১৮:১০৭) অর্থাৎ সম্মানিত আপ্যায়ন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।