আল কুরআন


সূরা আল-কামার (আয়াত: 28)

সূরা আল-কামার (আয়াত: 28)



হরকত ছাড়া:

ونبئهم أن الماء قسمة بينهم كل شرب محتضر ﴿٢٨﴾




হরকত সহ:

وَ نَبِّئْهُمْ اَنَّ الْمَآءَ قِسْمَۃٌۢ بَیْنَهُمْ ۚ کُلُّ شِرْبٍ مُّحْتَضَرٌ ﴿۲۸﴾




উচ্চারণ: ওয়া নাব্বি’হুম আন্নাল মাআ কিছমাতুম বাইনাহুম কুল্লুশিরবিম মুহতাদার।




আল বায়ান: আর তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের মধ্যে পানি বণ্টন সুনির্দিষ্ট। প্রত্যেকেই (পালাক্রমে) পানির অংশে উপস্থিত হবে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৮. আর তাদেরকে জানিয়ে দিন যে, তাদের মধ্যে পানি বন্টন নির্ধারিত এবং পানির অংশের জন্য প্রত্যেকে উপস্থিত হবে পালাক্রমে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের মধ্যে (ও উষ্ট্রীর মধ্যে) পানি বণ্টিত হবে, প্রত্যেকের পানি পানের পালা আসবে।




আহসানুল বায়ান: (২৮) আর তুমি তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের মধ্যে পানি বণ্টন নির্ধারিত[1] এবং পানির অংশের জন্য প্রত্যেকে হাজির হবে পালাক্রমে। [2]



মুজিবুর রহমান: আর তুমি তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের মধ্যে পানি বন্টন নির্ধারিত এবং পানির অংশের জন্য প্রত্যেকে হাযির হবে পালাক্রমে।



ফযলুর রহমান: আর তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের (ও উষ্ট্রীর) মধ্যে পানির হিস্‌সা ভাগ করে নিতে হবে এবং (পালাক্রমে) প্রত্যেকের পান করার সময় নির্ধারিত থাকবে।



মুহিউদ্দিন খান: এবং তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের মধ্যে পানির পালা নির্ধারিত হয়েছে এবং পালাক্রমে উপস্থিত হতে হবে।



জহুরুল হক: আর তাদের জানিয়ে দাও যে পানির ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে ভাগাভাগি রয়েছে, প্রত্যেক জলপানে হাজিরা থাকবে।



Sahih International: And inform them that the water is shared between them, each [day of] drink attended [by turn].



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৮. আর তাদেরকে জানিয়ে দিন যে, তাদের মধ্যে পানি বন্টন নির্ধারিত এবং পানির অংশের জন্য প্রত্যেকে উপস্থিত হবে পালাক্রমে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৮) আর তুমি তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের মধ্যে পানি বণ্টন নির্ধারিত[1] এবং পানির অংশের জন্য প্রত্যেকে হাজির হবে পালাক্রমে। [2]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, একদিন উটনীর পানি পানের জন্য এবং একদিন লোকেদের পানি পানের জন্য।

[2] অর্থাৎ, প্রত্যেকের পানির অংশ তার সাথে নির্দিষ্ট। সে নিজের পালির দিনে উপস্থিত হয়ে তা সংগ্রহ করবে। অপরজন সে দিন আসবে না। شُرْبٌ মানে পানির অংশ।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৩-৩২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



আলোচ্য আয়াতগুলোতে সালেহ (আঃ)-এর অবাধ্য সামূদ জাতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে যারা সালেহ (আঃ)-কে পথভ্রষ্ট, পাগল ও মিথ্যাবাদী ইত্যাদি বলত। তারা বলল আমরা এত দল বল, সবাই এক মত ও পথের অনুসারী আর সে অন্য এক পথের দিকে আহ্বান করে, আমরা এ একজন মাত্র মানুষের অনুসরণ করব? আমাদের মধ্য হতে কি কেবল তাকেই ওয়াহী করা হল? অথচ আমাদের মাঝে অনেক ধনবান ও উচ্চ বংশের মানুষ রয়েছে। সুতরাং তার কথা কখনো অনুসরণ করার মত নয়। ফলে আল্লাহ তা‘আলা বিকট আওয়াজ দ্বারা তাদেরকে ধ্বংস করে দেন।



سُعُرٍ শব্দটি سعير-এর বহুবচন। যার অর্থ আগুনের শিখা। এখানে তা পাগলামি বা শাস্তি ও কঠোরতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।



أَشِرٌ -এর অর্থ : متكبر বা অহংকারী। অথবা এর অর্থ : মিথ্যার সীমা অতিক্রমকারী। অর্থাৎ তারা বলে : আমাদের মধ্যে কেবল তারই কাছে কি ওয়াহী আসার ছিল? নাকি এর মাধ্যমে আমাদের ওপর স্বীয় বড়ত্ব দেখানো তার উদ্দেশ্য?



(سَيَعْلَمُوْنَ غَدًا)



‘আগামীকাল (কিয়ামতের দিন) তারা জানবে’ আগামীকাল বলতে কিয়ামত দিবস। অর্থাৎ কিয়ামতের দিন জানতে পারবে প্রকৃতপক্ষে কে মিথ্যাবাদী। তারা, নাকি সালেহ (আঃ)।



(إِنَّا مُرْسِلُوا الْنَّاقَةِ فِتْنَةً)



‘নিশ্চয়ই আমি তাদের পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি এক উষ্ট্রী' অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য তাদের দাবী মতে দশ মাসের গর্ভবর্তী একটি উটনী প্রদান করলেন এবং সালেহ (আঃ)-কে নির্দেশ দিলেন, তারা সে উটনীর সাথে কী আচরণ করে তা খেয়াল রাখার জন্য ও তাদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত কষ্টে ধৈর্য ধারণ করতে। এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত আলোচনা সূরা আ‘রাফের ৭৩ নম্বর আয়াতে করা হয়েছে।



(أَنَّ الْمَا۬ءَ قِسْمَةٌمبَيْنَهُمْ)



‘আর তুমি তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের মধ্যে পানি বন্টন নির্ধারিত’ অর্থাৎ ঘাটে পানি পান করার পালা বণ্টন করা ছিল। একদিন তারা পান করবে, অন্য দিন উটনী পান করবে। যেদিন উটনী পান করবে সেদিন তারা যেতে পারবে না।



যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন :



(قَالَ هٰذِه۪ نَاقَةٌ لَّهَا شِرْبٌ وَّلَكُمْ شِرْبُ يَوْمٍ مَّعْلُوْمٍ )



“সালিহ্ বলল : ‎ ‘এ একটি উষ্ট্রী, এর জন্য আছে পানি পানের পালা এবং তোমাদের জন্য আছে নির্ধারিত দিনে পানি পানের পালা; (সূরা শু‘আরা- ২৬ : ১৫৫)



(فَتَعَاطٰي فَعَقَرَ) “সে ওটাকে (উষ্ট্রীকে) ধরে হত্যা করল” অর্থাৎ তারা তাদের দলবলকে আহ্বান করে একত্রিত হয়ে তরবারী দ্বারা উটনীর পা কেটে দিয়ে হত্যা করল।



صَاحِبَهُمْ “তাদের সঙ্গী” তার নাম ছিল قدار بن سالف (কুদ্দার ইবনু সালেফ) সে সামুদ জাতির নিকৃষ্ট লোক ছিল। الحظيرة -এর অর্থ الحظورة খোঁয়াড়, যা কাটাযুক্ত শুকনো ডালপালা বা কাষ্ঠ খণ্ড দিয়ে পশুর সংরক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়। আর الْمُحْتَظِرِ -এর অর্থ صاحب الحظيرة (খোয়াড়ওয়ালা)



আর هشيم হলো শুকনো ঘাস বা কর্তিত শুকনো ফসলাদি। এভাবেই আল্লাহ তা‘আলা অবাধ্য জাতিসমূহকে ধ্বংস করে থাকেন। আল্লাহ তা‘আলার আমাদের কাছে পূর্ববর্তী অবাধ্য জাতি ও তাদের ওপর আপতিত শাস্তির কথা বর্ণনা করার অন্যতম একটি উদ্দেশ্য- আমরা যেন জেনেশুনে তাদের মত অবাধ্যতাপূর্ণ কাজে লিপ্ত না হই।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. নাবীদের মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদেরকে আল্লাহ তা‘আলা ধ্বংস করে দেন, এটাই তাঁর রীতি।

২. বড় বড় নিদর্শন দেখার পরেও অনেকে ঈমান নাও আনতে পারে।

৩. পূর্ববর্তী মিথ্যুক জাতিসমূহের ওপর আপতিত শাস্তি থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৩-৩২ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে খবর দেয়া হচ্ছে যে, সামূদ সম্প্রদায় আল্লাহর রাসূল হযরত সালিহ (রাঃ)-কে মিথ্যাবাদী বলে এবং তার নবী হওয়াকে অসম্ভব মনে করে বিস্মিত হয়ে বলেঃ “এটা কি হতে পারে যে, আমরা আমাদেরই একটি লোকের অনুগত হয়ে যাবো? তার এতো বড় মর্যাদা লাভের কারণই বা কি?` এর চেয়ে আরো বেড়ে গিয়ে বলেঃ “আমরা এটা মেনে নিতে পারি না যে, আমাদের সবারই মধ্য হতে শুধুমাত্র এই লোকটিরই উপর আল্লাহর কালাম নাযিল হয়েছে।` তারপর এরও আগে পা বাড়িয়ে গিয়ে আল্লাহর নবী (আঃ)-কে প্রকাশ্যভাবে ও স্পষ্ট ভাষায় চরম মিথ্যাবাদী বলতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ধমকের সুরে বলেন, এখন তোমরা যা চাও তাই বল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মিথ্যাবাদী এবং মিথ্যায় সীমালংঘনকারী কে তা কালই প্রকাশিত হয়ে যাবে।

মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমি তাদের পরীক্ষার জন্যে পাঠিয়েছি এক উষ্ট্ৰী। ঐ লোকদের চাহিদা অনুযায়ী পাথরের এক কঠিন পাহাড় হতে এক বিরাট গর্ভবতী উস্ত্রী বের হয় এবং আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (আঃ)-কে বলেনঃ তাদের পরিণাম কি হয় তা তুমি দেখে নিয়ে এবং তাদের কষ্টদায়ক কথার উপর ধৈর্য ধারণ করো। দুনিয়া ও আখিরাতে বিজয় তোমারই হবে। তুমি তাদেরকে বলে দাওঃ পানি এক দিন তোমাদের এবং এক দিন উষ্ট্ৰীর। যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “সালেহ বললোঃ এই যে উষ্ট্ৰী, এর জন্যে আছে পানি পানের পালা এবং তোমাদের জন্যে আছে পানি পানের পালা, নির্ধারিত এক এক দিনে।” (২৬:১৫৫)

(আরবী)-এর তাফসীরে মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, যখন উষ্ট্ৰীটি অনুপস্থিত থার্কতো তখন তারা পানি পেতো, আর যখন উষ্ট্ৰীটি হাযির থাকতো তখন তারা ওর দুধ পেতো।

এরপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ অতঃপর তারা তাদের এক সঙ্গীকে আহ্বান করলো, সে ওকে ধরে হত্যা করলো। তাফসীরকারগণ বলেন যে, হত্যকারী লোকটির নাম ছিল কিদার ইবনে সালিফ। সে ছিল তার কওমের মধ্যে সর্বাধিক হতভাগ্য। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের মধ্যে যে সর্বাধিক হতভাগ্য, সে যখন তৎপর হয়ে উঠলো।” (৯১:১২)

মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বলেনঃ “কি কঠোর ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী! আমি তাদেরকে আঘাত হেনেছিলাম এক মহানাদ দ্বারা; ফলে তারা হয়ে গেল খোয়াড় প্রস্তুতকারীর বিখণ্ডিত শুষ্ক শাখা-প্রশাখার ন্যায়।' অর্থাৎ যেভাবে জমির কর্তিত শুষ্ক পাতা উড়ে গিয়ে হারিয়ে যায় সেই ভাবে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকেও নিশ্চিহ্ন করে দেন। শুষ্ক চারা ভুষি যেমনভাবে জঙ্গলে উড়ে উড়ে ফিরে, ঠিক তেমনিভাবে তাদেরকেও ধ্বংস করে দেয়া হয়। অথবা ভাবার্থ হচ্ছেঃ আরবের প্রথা ছিল যে, উটগুলোকে শুষ্ক কাঁটাযুক্ত বেড়ার মধ্যে রেখে দেয়া হতো। যখন ঐ বেড়াকে পদদলিত করা হতো তখন উটগুলোর যে অবস্থা হতো ঐ অবস্থা তাদেরও হয়ে যায়। তাদের একজনও রক্ষা পায়নি। দেয়াল হতে যেমন মাটি ঝরে পড়ে তেমনই তাদেরও মূলোৎপাটন ঘটে। এসব উক্তি হলো তাফসীরকারদের এই বাক্যটির তাফসীর। কিন্তু প্রথম উক্তিটিই প্রবলতম। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।