আল কুরআন


সূরা আন-নাজম (আয়াত: 27)

সূরা আন-নাজম (আয়াত: 27)



হরকত ছাড়া:

إن الذين لا يؤمنون بالآخرة ليسمون الملائكة تسمية الأنثى ﴿٢٧﴾




হরকত সহ:

اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَۃِ لَیُسَمُّوْنَ الْمَلٰٓئِکَۃَ تَسْمِیَۃَ الْاُنْثٰی ﴿۲۷﴾




উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযীনা লা- ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি লাইউছাম্মূনাল মালাইকাতা তাছমিয়াতাল উনছা-।




আল বায়ান: নিশ্চয় যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তারাই ফেরেশতাদেরকে নারীবাচক নামে নামকরণ করে থাকে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৭. নিশ্চয় যারা আখিরাতের উপর ঈমান আনে না তারাই নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে ফিরিশতাদেরকে(১);




তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তারাই ফেরেশতাদের স্ত্রীবাচক নামে নামকরণ করে থাকে।




আহসানুল বায়ান: (২৭) যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারাই ফিরিশতাদেরকে নারী-বাচক নাম দিয়ে থাকে।



মুজিবুর রহমান: যারা আখিরাতে বিশ্বাস করেনা তারাই নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে মালাইকাদেরকে।



ফযলুর রহমান: যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তারাই নারীদের নামে ফেরেশতাদের নাম দিয়ে থাকে।



মুহিউদ্দিন খান: যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারাই ফেরেশতাকে নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে।



জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তারা ফিরিশ্‌তাদের নাম দেয় মেয়েদের নামে।



Sahih International: Indeed, those who do not believe in the Hereafter name the angels female names,



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৭. নিশ্চয় যারা আখিরাতের উপর ঈমান আনে না তারাই নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে ফিরিশতাদেরকে(১);


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ তাদের একটি নির্বুদ্ধিতা হচ্ছে, তারা ফেরেশতাদের উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে যারা আল্লাহ তা’আলার কাছে সুপারিশ পর্যন্ত করার সামর্থ ও সাহস রাখে না। তাছাড়া আরো নির্বুদ্ধিতা হচ্ছে এই যে, তারা তাদেরকে নারী বলে মনে করে এবং আল্লাহর কন্যা বলে আখ্যায়িত করে। এসব অজ্ঞতায় নিমজ্জিত হওয়ার মৌলিক কারণ হলো, তারা আখেরাতকে বিশ্বাস করে না। তারা যদি আখেরাতে বিশ্বাস করতো তাহলে এ ধরনের দায়িত্বহীন কথাবার্তা বলতে পারত না। [ফাতহুল কাদীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৭) যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারাই ফিরিশতাদেরকে নারী-বাচক নাম দিয়ে থাকে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৭-৩০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



ফেরেশতাদের সম্পর্কে মুশরিকদের ধারণা যে, তারা আল্লাহর কন্যা। তাদের এরূপ বিশ্বাসকে খণ্ডন করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন : যারা আখিরাতে বিশ্বাসী না কেবলমাত্র তারাই ফেরেশতাদেরকে নারীদের নামে নামকরণ করে এবং আল্লাহ তা‘আলার কন্যা বলে আখ্যায়িত করে থাকে।



আল্লাহ অন্যত্র বলেন :



(وَجَعَلُوا الْمَلٰ۬ئِكَةَ الَّذِيْنَ هُمْ عِبَادُ الرَّحْمٰنِ إِنَاثًا ط أَشَهِدُوْا خَلْقَهُمْ سَتُكْتَبُ شَهَادَتُهُمْ وَيُسْأَلُوْنَ) ‏



“তারা দয়াময় আল্লাহর বান্দা ফেরেশতাদেরকে নারী গণ্য করে; এদের সৃষ্টির সময় কি তারা উপস্থিত ছিল? অচিরেই তাদের সাক্ষী লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে।” (সূরা যুখরুফ ৪৩ : ১৯)



এজন্য আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, তাদের কোন সঠিক জ্ঞান নেই। তারা যা বলে থাকে সব মিথ্যা এবং অপবাদ। তারা মূলত ধারণার অনুসরণ করে চলে। আর ধারণা সত্যের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :



إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الحَدِيثِ



তোমরা ধারণা থেকে বিরত থাকো। কেননা অধিকাংশ ধারণা মিথ্যা। (সহীহ বুখারী হা. ৪৮৪৯)



(ذٰلِكَ مَبْلَغُهُمْ مِّنَ الْعِلْمِ)



অর্থাৎ দুনিয়া অšে¦ষণ ও তার জন্য প্রচেষ্টার মধ্যেই তাদের জ্ঞানের দৌড়। যেমন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : দুনিয়া ঐ ব্যক্তির ঘর যার (পরকালে) কোন ঘর নেই, দুনিয়া ঐ ব্যক্তির মাল যার (পরকালে) মাল নেই, আর এ দুনিয়াকে জমা করাতে ঐ ব্যক্তিই প্রচেষ্টা চালায় যার জ্ঞান নেই। (মুসনাদ আহমাদ ৬/৭১, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ ১০/২৮৮, বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।



রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু‘আ করে বলতেন- হে আল্লাহ! আপনি আমাদের চিন্তা-চেতনা ও চেষ্টার বিষয় এবং আমাদের জ্ঞানের উদ্দেশ্য ও সীমা শুধুমাত্র দুনিয়াকেই করবেন না। (তিরমিযী হা. ৩৫০২, নাসায়ী দিনয়াতের আমল অধ্যায়, সহীহ) সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে ধারণাপ্রসূত কোন কথা বলা যাবে না। বরং আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিজের সম্পর্কে এবং রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন কেবল সে-সব গুণে গুণান্বিত করতে হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. যারা আখিরাতে বিশ্বাসী নয় কেবল তারাই অন্তরের ব্যাধিতে আক্রান্ত।

২. অধিকাংশ ফাসাদের কারণ হচ্ছে অজ্ঞতা।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৭-৩০ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের এই উক্তি খণ্ডন করছেন যে, আল্লাহর। ফেরেশতারা তাঁর কন্যা। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “রহমানের (আল্লাহর) বান্দা (এবং তার আজ্ঞাবহ) ফেরেশতাদেরকে তারা নারীরূপে স্থাপন করেছে, তাদের সৃষ্টির সময় তারা কি হাযির ছিল, তাদের সাক্ষ্য লিখে রাখা হবে এবং তারা (এ ব্যাপারে) জিজ্ঞাসিত হবে।” (৪৩:১৯) আর এখানে মহান আল্লাহ বলেনঃ তারাই ফেরেশতাদেরকে নারীবাচক নাম দিয়ে থাকে। এটা তাদের অজ্ঞতারই ফল। তাদের এটা মিথ্যা, অপবাদ এবং স্পষ্ট শিরক ছাড়া কিছুই নয়। এটা তাদের অনুমান মাত্র। আর এটা প্রকাশ্য ব্যাপার যে, সত্যের মুকাবিলায় অনুমানের কোন মূল্য নেই। সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা অনুমান ও ধারণা করা হতে বেঁচে থাকো, কেননা ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা।”

এরপর আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেনঃ হে নবী (সঃ)! যে আমার স্মরণে বিমুখ তাকে তুমি উপেক্ষা করে চল। সে তো শুধু পার্থিব জীবনই কামনা করে। আর যে শুধু পার্থিব জীবনই কামনা করে তার পরিণাম কখনো ভাল হতে পারে না। তার জ্ঞানের সীমাও এটাই যে, দুনিয়া সন্ধানেই সে সদা ডুবে থাকে।

উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “দুনিয়া ঐ ব্যক্তির ঘর যার (আখিরাতে) ঘর নেই এবং দুনিয়া ঐ ব্যক্তির মাল যার (আখিরাতে) মাল নেই। আর ওটাকে জমা করার চেষ্টায় ঐ ব্যক্তি লেগে থাকে যার বিবেক-বুদ্ধি নেই। (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন) একটি দুআয়ে মাসূরায় নবী (সঃ)-এর নিম্নলিখিত ভাষাও এসেছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আপনি আমাদের বড় চিন্তা ও চেষ্টার বিষয় এবং আমাদের জ্ঞানের উদ্দেশ্য ও সীমা শুধুমাত্র দুনিয়াকেই করবেন না।”

এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ হে নবী (সঃ)! নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকই ভাল জানেন কে তাঁর পথ হতে বিচ্যুত, তিনিই ভাল জানেন কে সৎপথ প্রাপ্ত। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলাই তাঁর বান্দাদের উপযোগিতা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান রাখেন। যাকে ইচ্ছা তিনি হিদায়াত দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। সবকিছু তারই ক্ষমতা, জ্ঞান ও নৈপুণ্য দ্বারা হচ্ছে। তিনি ন্যায় বিচারক। স্বীয় শরীয়তে এবং পরিমাপ নির্ধারণে অন্যায় ও যুলুম কখনো করেন না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।