আল কুরআন


সূরা কাফ (আয়াত: 28)

সূরা কাফ (আয়াত: 28)



হরকত ছাড়া:

قال لا تختصموا لدي وقد قدمت إليكم بالوعيد ﴿٢٨﴾




হরকত সহ:

قَالَ لَا تَخْتَصِمُوْا لَدَیَّ وَ قَدْ قَدَّمْتُ اِلَیْکُمْ بِالْوَعِیْدِ ﴿۲۸﴾




উচ্চারণ: কা-লা লা-তাখতাছিমূলাদাইয়া ওয়া কাদ কাদ্দামতুইলাইকুম বিলওয়া‘ঈদ।




আল বায়ান: আল্লাহ বলবেন, ‘তোমরা আমার কাছে বাক-বিতন্ডা করো না। অবশ্যই আমি পূর্বেই তোমাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৮. আল্লাহ বলবেন, তোমরা আমার সামনে বাক-বিতণ্ডা করো না; আমি তো তোমাদেরকে আগেই সতর্ক করেছিলাম।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহ বলবেন, ‘আমার সামনে বাদানুবাদ করো না, আমি আগেই তোমাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম।




আহসানুল বায়ান: (২৮) আল্লাহ বলবেন, ‘আমার সামনে বাক্-বিতন্ডা করো না; তোমাদেরকে তো আমি পূর্বেই শাস্তির প্রতিশ্রুতি প্রেরণ করেছি।[1]



মুজিবুর রহমান: আল্লাহ বলবেনঃ আমার সামনে বাক-বিতন্ডা করনা; তোমাদেরকে আমিতো পূবেই সতর্ক করেছি।



ফযলুর রহমান: আল্লাহ বলবেন, “তোমরা আমার সামনে ঝগড়া করো না। আমি তো আগেই তোমাদেরকে ভয় দেখিয়েছিলাম।”



মুহিউদ্দিন খান: আল্লাহ বলবেনঃ আমার সামনে বাকবিতন্ডা করো না আমি তো পূর্বেই তোমাদেরকে আযাব দ্বারা ভয় প্রদর্শন করেছিলাম।



জহুরুল হক: তিনি বলবেন -- "আমার সামনে তোমরা তর্কাতর্কি করো না, আর আমি তো তোমাদের কাছে ইতিপূর্বেই আমার ওয়াদা আগবাড়িয়েছি।



Sahih International: [Allah] will say, "Do not dispute before Me, while I had already presented to you the warning.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৮. আল্লাহ বলবেন, তোমরা আমার সামনে বাক-বিতণ্ডা করো না; আমি তো তোমাদেরকে আগেই সতর্ক করেছিলাম।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৮) আল্লাহ বলবেন, ‘আমার সামনে বাক্-বিতন্ডা করো না; তোমাদেরকে তো আমি পূর্বেই শাস্তির প্রতিশ্রুতি প্রেরণ করেছি।[1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, মহান আল্লাহ কাফের ও তাদের সহচর শয়তানদেরকে বলবেন, এই হিসাব-স্থলে অথবা ন্যায়পরায়ণ আদালতে বাদানুবাদের কোন প্রয়োজন নেই এবং তাতে কোন লাভও নেই। আমি তো রসূলগণ ও গ্রন্থসমূহের মাধ্যমে এ সব শাস্তি থেকে তোমাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৩-২৯ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



প্রত্যেক মানুষের সাথে নিযুক্ত ফেরেশতা কিয়ামতের দিন আমল সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে। বলবে এই দেখো তুমি যা কিছু করেছ সব কিছু আমি লিখে রেখেছি। অপরাধিরা আমলনামা পেয়ে যা বলবে : আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(وَوُضِعَ الْكِتٰبُ فَتَرَي الْمُجْرِمِيْنَ مُشْفِقِيْنَ مِمَّا فِيْهِ وَيَقُوْلُوْنَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هٰذَا الْكِتٰبِ لَا يُغَادِرُ صَغِيْرَةً وَّلَا كَبِيْرَةً إِلَّآ أَحْصَاهَا)



“এবং উপস্থিত করা হবে ‘আমালনামা এবং তাতে যা লিপিবদ্ধ আছে, তার কারণে তুমি অপরাধিদের দেখবে আতঙ্কগ্রস্ত‎ এবং তারা বলবে, ‘হায়, দুর্ভাগ্য আমাদের! এটা কেমন গ্রন্থ! যে ছোট-বড় কিছুই বাদ দেয়া হয়নি; বরং সমস্ত‎ই হিসেব রেখেছে।’ (সূরা কাহফ ১৮ :৪৯) আল্লাহ তা‘আলা তখন ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দেবেন ঐ পাপাচারীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে।



আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : কিয়ামতের দিন জাহান্নাম তার গর্দান বের করে দিয়ে বলবে, আজ আমি তিন শ্রেণির মানুষের জন্য নিযুক্ত হয়েছি- (১) উদ্ধত ও সত্যের বিরুদ্ধাচরণকারীদের জন্য, (২) আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্যদের শরীক স্থাপনকারীদের জন্য, (৩) অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যাকারীর জন্য। জাহান্নাম এসব লোকদেরকে জড়িয়ে ধরবে অতঃপর তার তলদেশে নিক্ষেপ করবে। (মুয়াত্তা মালেক ৩/২৪০, সহীহ)



عنيد অর্থ সত্যবিমুখ, এটা কাফিরের প্রথম অপরাধ, দ্বিতীয় অপরাধ হল নিজে তো ভাল কাজ করেই না অপরকেও ভাল কাজে প্রবল বাধা দেয়। তৃতীয় অপরাধ হল তারা সীমালঙ্ঘনকারী, চতুর্থ অপরাধ হল তাওহীদের ব্যাপারে সন্দিহান। যার ফলে আল্লাহ তা‘আলার সাথে অংশী স্থাপন করে। এ সমস্ত কাফিরদেরকে আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে বলবেন।



(وَقَالَ قَرِيْنُهُ)



‘তার সহচর (শয়তান) বলবে’ এখানে সহচর হলো শয়তান, সে বলবে : হে আল্লাহ! আমি তাকে পথভ্রষ্ট করিনি, বরং সে নিজেই পথভ্রষ্ট ছিল। এ-কথা বলে সে দায়মুক্ত হয়ে যাবে। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “যখন বিচারকার্য সম্পন্ন হবে তখন শয়তান বলবে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সত্য প্রতিশ্রুতি, আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছি। আমার তো তোমাদের ওপর কোন আধিপত্য ছিল না, আমি কেবল তোমাদেরকে আহ্বান করেছিলাম এবং তোমরা আমার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলে। সুতরাং তোমরা আমার প্রতি দোষারোপ কর না, তোমরা নিজেদেরই প্রতি দোষারোপ কর‎। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নই এবং তোমরাও আমাকে উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নও। তোমরা যে পূর্বে আমাকে আল্লাহর শরীক করেছিলে আমি তা অস্বীকার করছি, নিশ্চয়ই‎ জালিমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি‎।” (সূরা ইব্রাহীম ১৪ :২২)



আল্লাহ তা‘আলা বলবেন : আমার কাছে ঝগড়া করো না, আমি পূর্বেই সতর্কবাণী প্রেরণ করেছিলাম। আমার কথার রদ-বদল হয় না। আমি বান্দার প্রতি জালিমও না। সুতরাং কিয়ামতের দিন শয়তানের দোষ দিয়ে রক্ষা পাওয়া যাবে না। সেদিন শয়তান উপযুক্ত প্রমাণ পেশ করে কেটে পড়বে। তাই আমাদের এখনই সতর্ক হওয়া উচিত, যে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে দিন রাত এত অপরাধ করছি সে শয়তান আমাদেরকে জাহান্নামে পৌঁছে দিয়ে চলে যাবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. কিয়ামত দিবসে মানুষের সাথে নিযুক্ত ফেরেশতাদের সাক্ষীর কথা জানতে পারলাম।

২. আয়াতে বর্ণিত খারাপ গুণাবলী থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।

৩. শয়তান ও জাহান্নামবাসীদের ঝগড়ার কথা জানতে পারলাম।

৪. শয়তানের প্রতিশ্রুতি মিথ্যা, সে প্রতিশ্রুতির নামে ধোঁকা দিয়ে থাকে।

৫. আল্লাহ তা‘আলা কারো প্রতি জুলুম করেন না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৩-২৯ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, যে ফেরেশতা আদম সন্তানের আমলের উপর নিযুক্ত রয়েছে সে কিয়ামতের দিন তার আমলের সাক্ষ্যদান করবে। সে বলবেঃ এই তো আমার নিকট আমলনামা প্রস্তুত। এতে একটুও কম-বেশী করা হয়নি।

হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এটা ঐ ফেরেশতার কথা হবে যাকে (আরবী) বলা হয়েছে, যিনি তাকে হাশরের ময়দানের দিকে নিয়ে যাবেন। ইমাম ইবনে জারীর (রাঃ) বলেনঃ “আমার নিকট পছন্দনীয় উক্তি এটাই যে, এটা অন্তর্ভুক্ত করে এই ফেরেশতাকেও এবং সাক্ষ্যদানকারী ফেরেশতাকেও।

আল্লাহ তা'আলা আদল ও ইনসাফের সাথে মাখলুকের মধ্যে ফায়সালা করবেন।

(আরবী) শব্দটি দ্বিবচনের রূপ। কোন কোন নাহভী বলেন যে, কোন কোন আরব একবচনকে দ্বিবচন করে থাকে। যেমন হাজ্জাজের উক্তি প্রসিদ্ধ হয়ে রয়েছে। তিনি তাঁর জল্লাদকে বলতেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা দু'জন তার গর্দান মেরে দাও।” অথচ জল্লাদ তো একজনই ছিল। কেউ কেউ বলেন যে, প্রকৃতপক্ষে এটা নূনে তাকীদ, যার তাসহীল আলিফের দিকে করা হয়েছে। কিন্তু এটা খুব দূরের কথা। কেননা, এরূপ তো ওয়াকফ-এর অবস্থায় হয়ে থাকে।

বাহ্যতঃ এটাও জানা যাচ্ছে যে, এই সম্বোধন উপরোক্তে দু’জন ফেরেশতার প্রতি হবে। হাঁকিয়ে আনয়নকারী ফেরেশতা তাকে হিসাবের জন্যে পেশ করবেন এবং সাক্ষ্যদানকারী ফেরেশতা সাক্ষ্য দিয়ে দিবেন। তখন আল্লাহ তাআলা দু’জনকেই নির্দেশ দিবেনঃ “তোমরা দু'জন তাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ কর।” যা অত্যন্ত জঘন্য স্থান। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে রক্ষা করুন!

আল্লাহ তা'আলা এরপর বলেনঃ কল্যাণকর কাজে প্রবল বাধাদানকারী, সীমালংঘনকারী, সন্দেহ পোষণকারী এবং আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপনকারী লোককে কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ কর।

হাদীস গত হয়েছে যে, এই লোকদেরকে লক্ষ্য করে কিয়ামতের দিন জাহান্নাম স্বীয় গর্দান উঁচু করে হাশরের ময়দানের সমস্ত লোককে শুনিয়ে বলবেঃ “আমি তিন প্রকারের লোকের জন্যে নিযুক্ত হয়েছি। (এক) উদ্ধত ও সত্যের বিরুদ্ধাচরণকারীর জন্যে, (দুই) আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপনকারীর জন্যে এবং (তিন) ছবি তৈরীকারীর জন্যে।” অতঃপর জাহান্নাম এসব লোককে জড়িয়ে ধরবে। মুসনাদে আহমাদের হাদীসে তৃতীয় প্রকারের লোক ওদেরকে বলা হয়েছে যারা অন্যায়ভাবে হত্যাকারী।

অতঃপর আল্লাহ পাক বলেনঃ তার সহচর অর্থাৎ শয়তান বলবে- হে আল্লাহ! আমি তাকে পথভ্রষ্ট করিনি, বরং সে নিজেই পথভ্রষ্ট হয়েছিল। বাতিলকে সে স্বয়ং গ্রহণ করে নিয়েছিল। সে নিজেই সত্যের বিরোধী ছিল। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “যখন সব কিছুর মীমাংসা হয়ে যাবে তখন শয়তান বলবেঃ আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সত্য প্রতিশ্রুতি, আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করিনি। আমার তো তোমাদের উপর কোন আধিপত্য ছিল না, আমি শুধু তোমাদেরকে আহ্বান করেছিলাম এবং তোমরা আমার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলে। সুতরাং তোমরা আমার প্রতি দোষারোপ করো না, তোমরা নিজেদেরই প্রতি দোষারোপ কর। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নই এবং তোমরাও আমার উদ্ধারে সাহায্য করতে সক্ষম নও। তোমরা যে পূর্বে আমাকে আল্লাহর শরীক করেছিলে তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। যালিমদের জন্যে তো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আছেই।” (১৪:২২)।

অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেন যে, তিনি মানুষ ও তার সঙ্গী শয়তানকে বলবেনঃ তোমরা আমার সামনে বাক-বিতণ্ডা করো না, কেননা আমি তো তোমাদেরকে পূর্বেই সতর্ক করেছি। অর্থাৎ আমি রাসূলদের মাধ্যমে তোমাদেরকে সতর্ক করেছিলাম এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছিলাম। আর তোমাদের উপর দলীল-প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অতএব, জেনে রেখো যে, আমার কথার রদবদল হয় না এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি কোন অবিচার করি না যে, একজনের পাপের কারণে অন্যজনকে পাকড়াও করবে। প্রত্যেকের উপর হুজ্জত পুরো হয়ে গেছে এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ পাপের যিম্মাদার।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।