আল কুরআন


সূরা আন-নিসা (আয়াত: 32)

সূরা আন-নিসা (আয়াত: 32)



হরকত ছাড়া:

ولا تتمنوا ما فضل الله به بعضكم على بعض للرجال نصيب مما اكتسبوا وللنساء نصيب مما اكتسبن واسألوا الله من فضله إن الله كان بكل شيء عليما ﴿٣٢﴾




হরকত সহ:

وَ لَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللّٰهُ بِهٖ بَعْضَکُمْ عَلٰی بَعْضٍ ؕ لِلرِّجَالِ نَصِیْبٌ مِّمَّا اکْتَسَبُوْا ؕ وَ لِلنِّسَآءِ نَصِیْبٌ مِّمَّا اکْتَسَبْنَ ؕ وَ سْئَلُوا اللّٰهَ مِنْ فَضْلِهٖ ؕ اِنَّ اللّٰهَ کَانَ بِکُلِّ شَیْءٍ عَلِیْمًا ﴿۳۲﴾




উচ্চারণ: ওয়ালা-তাতামান্নাওঁমা-ফাদ্দালাল্লা-হু বিহী বা‘দাকুম ‘আলা বা‘দিন লিররিজা-লি নাসীবুম মিম্মাকতাছাবূ ওয়ালিন নিছাই নাসীবুম মিম্মাক তাছাবনা ওয়াছ আলুল্লা-হা মিন ফাদলিহী ইন্নাল্লাহা কা-না বিকুল্লি শাইইন ‘আলীমা-।




আল বায়ান: আর তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না সে সবের, যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের এক জনকে অন্য জনের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। পুরুষদের জন্য রয়েছে অংশ, তারা যা উপার্জন করে তা থেকে এবং নারীদের জন্য রয়েছে অংশ, যা তারা উপার্জন করে তা থেকে। আর তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ চাও। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩২. আর যা দ্বারা আল্লাহ তোমাদের কাউকে কারো উপর শ্ৰেষ্ঠত্ব দিয়েছেন তোমরা তার লালসা করো না। পুরুষ যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য অংশ এবং নারী যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য অংশ(১)। আর আল্লাহর কাছে তার অনুগ্রহ প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমরা তা কামনা করো না যা দ্বারা আল্লাহ তোমাদের কাউকে কারো উপর মর্যাদা প্রদান করেছেন। পুরুষেরা তাদের কৃতকার্যের অংশ পাবে, নারীরাও তাদের কৃতকর্মের অংশ পাবে এবং তোমরা আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ কামনা কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।




আহসানুল বায়ান: (৩২) যা দিয়ে আল্লাহ তোমাদের কাউকেও কারোর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তোমরা তার লালসা করো না। পুরুষগণ যা অর্জন করে, তা তাদের প্রাপ্য অংশ এবং নারীগণ যা অর্জন করে, তা তাদের প্রাপ্য অংশ। তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। [1] নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।



মুজিবুর রহমান: এবং তোমরা ওর আকাংখা করনা যদ্বারা আল্লাহ একের উপর অপরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন; পুরুষেরা যা উপার্জন করেছে তাতে তাদের অংশ রয়েছে এবং নারীরা যা উপার্জন করেছে তাতে তাদের অংশ রয়েছে এবং তোমরা আল্লাহরই নিকট অনুগ্রহ প্রার্থনা কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী।



ফযলুর রহমান: যে সব জিনিস দ্বারা আল্লাহ তোমাদের একজনকে আরেকজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন তোমরা সে রকম জিনিস পেতে চেয়ো না। পুরুষ যা কামাই করে সে তার অংশ (ফল) পাবে এবং নারী যা কামাই করে সেও তার অংশ পাবে। তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর দান প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু অবগত আছেন।



মুহিউদ্দিন খান: আর তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না এমন সব বিষয়ে যাতে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের একের উপর অপরের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত।



জহুরুল হক: আর ঈর্ষা করো না যে বিষয়দ্বারা আল্লাহ্ তোমাদের কাউকে অপরের উপরে শ্রেষ্ঠতা দিয়েছেন। পুরুষদের জন্য ভাগ রয়েছে যা তারা অর্জন করে, আর নারীদের জন্যেও ভাগ রয়েছে যা তারা অর্জন করে। কাজেই আল্লাহ্‌র কাছে চাও তাঁর করুণাভান্ডার থেকে। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ সব-কিছু সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।



Sahih International: And do not wish for that by which Allah has made some of you exceed others. For men is a share of what they have earned, and for women is a share of what they have earned. And ask Allah of his bounty. Indeed Allah is ever, of all things, Knowing.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩২. আর যা দ্বারা আল্লাহ তোমাদের কাউকে কারো উপর শ্ৰেষ্ঠত্ব দিয়েছেন তোমরা তার লালসা করো না। পুরুষ যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য অংশ এবং নারী যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য অংশ(১)। আর আল্লাহর কাছে তার অনুগ্রহ প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।


তাফসীর:

(১) কুরআনের কোন কোন আয়াত এবং একাধিক হাদীসের বর্ণনায় সৎকর্মে প্রতিযোগিতা অর্থাৎ অন্যের চাইতে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় অগ্রণী হওয়ার নির্দেশ দেখতে পাওয়া যায়। অনুরূপ অন্যের মধ্যে যে গুণ-গরিমা রয়েছে, তা অর্জন করার জন্য সচেষ্ট হওয়ার প্রতিও উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে লক্ষণীয় এই যে, আল্লাহ এবং তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু ঐ সমস্ত গুণ-বৈশিষ্টের ক্ষেত্রেই অন্যের সাথে প্রতিযেগিতামূলকভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন, যেগুলো মানুষের সাধ্যায়ত্ত, যেগুলো চেষ্টা-সাধনার মাধ্যমে মানুষ অর্জন করতে পারে। যেমন, কারো গভীর জ্ঞান বা চারিত্রিক মহত্ত্ব দেখে তার কাছ থেকে তা অর্জন করার জন্য চেষ্টাসাধনা করা প্রশংসনীয় কাজ। তাই আয়াতের শেষাংশে সেরূপ চেষ্টায় আত্মনিয়োগ করতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ পুরুষরা যা কিছু সাধনার মাধ্যমে অর্জন করবে তারা তার অংশ পাবে এবং নারীরা যা কিছু অর্জন করবে তার অংশও তারা পাবে। এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, গুণ-বৈশিষ্ট্য এবং কর্মে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্য লাভ করার চেষ্টা ব্যর্থ হবে না। প্রত্যেকেই তার প্রচেষ্টার ফল অবশ্যই পাবে। উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি অভিযোগের সুরে বলেছিলেনঃ পুরুষরা যুদ্ধ করে, আমরা মহিলারা যুদ্ধ করতে পারি না তদুপরি আমাদের জন্য মীরাসের অর্ধেক। তখন আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেন। [মুসনাদে আহমাদঃ ৬/৩২২, তিরমিযীঃ ৩০২২]

অন্য এক বর্ণনায় আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললঃ হে আল্লাহ রাসূল, একজন পুরুষ দুই মহিলার সমান মীরাস পায়, একজন পুরুষের সাক্ষী দুইজন মহিলার সাক্ষীর সমান। আমরা যখন কোন নেক কাজ করব, তখনও কি অর্ধেক সওয়াব হবে? তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেন। যাতে বলা হয়েছে যে, এটা আমার ইনসাফ এবং এটা আমিই করেছি। [আল আহাদীসুল মুখতারাহঃ ১০/১১৬-১১৭, নং- ১১৫]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩২) যা দিয়ে আল্লাহ তোমাদের কাউকেও কারোর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তোমরা তার লালসা করো না। পুরুষগণ যা অর্জন করে, তা তাদের প্রাপ্য অংশ এবং নারীগণ যা অর্জন করে, তা তাদের প্রাপ্য অংশ। তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। [1] নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।


তাফসীর:

[1] এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, উম্মে সালামা (রাঃ)  আরজি পেশ করলেন যে, পুরুষরা জিহাদে অংশ গ্রহণ করে শাহাদাত লাভে ধন্য হন, কিন্তু আমরা মহিলারা এই ফযীলতপূর্ণ কাজ থেকে বঞ্চিতা। আমাদের মীরাসও পুরুষদের অর্ধেক। এই কথার ভিত্তিতে এই আয়াত নাযিল হয়। (মুসনাদ আহমাদ ৬/৩২২) মহান আল্লাহর এই উক্তির অর্থ হল, তিনি তাঁর কৌশল অনুযায়ী পুরুষদেরকে শারীরিক যে শক্তি দান করেছেন এবং যে শক্তির ভিত্তিতে তারা জিহাদে অংশ গ্রহণ করে, এটা তাদের জন্য আল্লাহর বিশেষ দান। এগুলো দেখে নারীদেরকে পুরুষদের যোগ্যতাধীনের কাজ করার আশা করা উচিত নয়। অবশ্যই তাদের আল্লাহর আনুগত্য ও নেকীর কাজে বড়ই আগ্রহের সাথে অংশ গ্রহণ করা উচিত। তারা ভাল কাজ যা কিছু করবে পুরুষের ন্যায় তার পুরো পুরো প্রতিদান তারাও পাবে। এ ছাড়া তাদের উচিত, আল্লাহ নিকট তাঁর অনুগ্রহ কামনা করা। কারণ, নারী-পুরুষের মধ্যে কর্মদক্ষতা, যোগ্যতা এবং শক্তিমত্তার যে ব্যবধান, তা হল মহাশক্তিমান আল্লাহর এমন অটল ফায়সালা, যা কেবল কামনা করলেই পরিবর্তন হয়ে যায় না। তবে তাঁর অনুগ্রহে শ্রম ও উপার্জনের যে ঘাটতি, তা দূর হয়ে যেতে পারে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩২ ও ৩৩ নং আয়াতের তাফসীর:



শানে নুযূল:



উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! পুরুষেরা যুদ্ধ করে, আমরা যুদ্ধ করতে পারি না। অন্য বর্ণনায় রয়েছে যুদ্ধ করতে পারি না তাই শহীদও হতে পারি না। আবার আমরা মীরাস পুরুষের অর্ধেক পাই। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়



(وَلَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللّٰهُ بِه۪ بَعْضَكُمْ عَلٰي بَعْضٍ) ।



(তিরমিযী হা: ৩০২২, সহীহ)



আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর অর্থ হল: তিনি তার হিকমাত অনুযায়ী পুরুষদেরকে শারীরিক যে শক্তি দান করেছেন এবং যে শক্তির ভিত্তিতে তারা জিহাদে অংশ গ্রহণ করে এটা আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ দান। এগুলো দেখে নারীদেরকে পুরুষের যোগ্যতাধীনের কাজ করার আশা করা উচিত না। বরং আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য ও নেকীর কাজ আগ্রহের সাথে করা উচিত। পুরুষরা ভাল কাজ করে যে প্রতিদান পাবে নারীরা ভাল কাজ করে সেই প্রতিদান পাবে। এ ছাড়া নারীদের উচিত আল্লাহ তা‘আলার নিকট অনুগ্রহ কামনা করা। এখানে আল্লাহ তা‘আলা একজনকে অন্যজনের ওপর যে মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তা এজন্য কামনা করতে নিষেধ করেছেন যে, সে আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক তাকদীরের ওপর সস্তুষ্ট না। এছাড়াও এখানে হিংসা রয়েছে।



রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: দু’টি জিনিস ছাড়া হিংসা করা বৈধ না।



১. যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা কুরআনের জ্ঞান দান করেছেন ফলে সে দিনে রাতে কুরআন তেলাওয়াত ও চর্চা করে।



২. যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা সম্পদ দিয়েছেন ফলে সম্পদ থেকে আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় ব্যয় করে। এ দু’ শ্রেণি ব্যক্তির সাথে হিংসা করা বৈধ। (সহীহ বুখারী হা: ৭৫২৮)



আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক নারী পুরুষকে তার মাতা-পিতা ও আত্মীয়-স্বজনের ওয়ারিশ বানিয়েছেন।



ইবনু আব্বাস (রাঃ)‎ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলার বাণী موالي অর্থাৎ ওয়ারিশ বানিয়েছি।



(وَالَّذِيْنَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ)



‘যাদের সঙ্গে তোমরা অঙ্গীকারে আবদ্ধ’মুহাজির মুসলিমরা যখন মদীনায় আগমন করল তখন আনসারদের থেকে আত্মীয়তা সম্পর্ক ছাড়াই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর গড়ে দেয়া ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতেই ওয়ারিশ পেত। যখন এ আয়াত নাযিল হয়



(وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ)



তখন ঐ সব ভ্রাতৃত্বের ওয়ারিশ পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। অতঃপর বলেছেন, (وَالَّذِيْنَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ) যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছে তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা কর। ওয়ারিশ পাবে না কিন্তু অসীয়ত করতে পারে। (সহীহ বুখারী হা: ৪৫৮০)



হাফিয ইবনে কাসীর (রহঃ) দীর্ঘ আলোচনার পর বললেন, সঠিক কথা হল জমহুরদের কথা, আর তা হল, ওয়ারিশদার ব্যক্তিগণই মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশ পাবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,



أَلْحِقُوا الفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا، فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلٰي رَجُلٍ ذَكَرٍ



ওয়ারিশ তার প্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রদান কর যা অবশিষ্ট থাকবে তার বেশি হকদার হল পুরুষ ব্যক্তি। (বুখারী হা: ২৭৩২, ইবনে কাসীর, ২/৩২২)



অতএব কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির সাথে যদি অঙ্গীকারাবদ্ধ হয় এ শর্তে যে, আমি মারা গেলে আপনি আমার সম্পদ থেকে অংশ নেবেন তাহলে তা গ্রহণ্যযোগ্য হবে না। এরূপ অঙ্গীকার এ



(وَأُولُو الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلٰي بِبَعْضٍ)



আয়াত দ্বারা মানসূখ হয়ে গেছে। (ইবনে কাসীর, ২/৩২৩)



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আমল বর্জন করে শুধু আকাক্সক্ষা করা নিন্দনীয়।

২. হিংসা করা হারাম। কেবল দু’শ্রেণির ব্যক্তির সাথে তা বৈধ।

৩. যে ব্যক্তি শরীয়ত পরিপন্থী কোন অঙ্গীকারাবদ্ধ হয় তা প্রত্যাখ্যাত।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) একবার রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলেছিলেন- “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! পুরুষ লোকেরা জিহাদে অংশগ্রহণ করে থাকে, আর আমরা নারীরা এ পুণ্য হতে বঞ্চিত থাকি। অনুরূপভাবে মীরাসও আমরা পুরুষদের তুলনায় অর্ধেক পেয়ে থাকি। সে সময় এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (জামেউত তিরমিযী) অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, এর পরে আবার (৩:১৯৫) (আরবী)-এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। অন্য একটি বর্ণনায় আছে যে, নারীরা নিম্নরূপ আকাঙ্খ পোষণ করেছিলঃ ‘আমরা যদি পুরুষ হতাম তবে তো আমরাও জিহাদে অংশগ্রহণ করতাম।' আরও একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, একটি স্ত্রীলোক নবী (সঃ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলেছিলেন, “দেখুনতো একজন পুরুষ দু'জন স্ত্রীর সমান অংশ পেয়ে থাকে, দু’জন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সমান মনে করা হয়, তাছাড়া আমলের ব্যাপারেও এরূপ যে, পুরুষের জন্যে একটি পুণ্য এবং নারীর জন্যে অর্ধপুণ্য।' তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।

সুদ্দী (রঃ) বলেন, পুরুষ লোকেরা বলেছিল, আমরা যখন দ্বিগুণ অংশের মালিক তখন আমরা দ্বিগুণ পুণ্যের অধিকারী হবো না কেন? আর ঐ দিকে স্ত্রীলোকেরা বলেছিল, “আমাদের উপর তো জিহাদ ফরযই নয় তবে আমরা শাহাদাতের পুণ্য লাভ করবো না কেন?' এতে আল্লাহ তা'আলা উভয়কেই বাধা দেন এবং বলেন-“তোমরা আমার অনুগ্রহ যাঞা করতে থাক।

হযরত ইবনে আববাস (রাঃ) এর ভাবার্থ বর্ণনা করেছেন-“মানুষ যেন এ আশা পোষণ না করে যে, যদি অমুক ব্যক্তির মাল ও সন্তান আমার হতো। এর উপর এ হাদীস দ্বারা কোন অসুবিধা সৃষ্টি হতে পারে না যাতে রয়েছে যে, ঈর্ষার যোগ্য মাত্র দু’জন। এক ঐ ধনী ব্যক্তি যে স্বীয় মাল আল্লাহর পথে বিলিয়ে দেয়, আর অন্য ব্যক্তি বলে, 'যদি আমারও মাল থাকতো তবে আমিও এরূপ ভাবে তা আল্লাহ তা'আলার পথে খরচ করতে থাকতাম। অতএব দু' ব্যক্তিই পুণ্য লাভের ব্যাপারে সমান। কেননা এটা নিষিদ্ধ নয়। অর্থাৎ এরূপ পুণ্য লাভের লোভ দুষণীয় নয়। এখানে এরূপ জিনিস এরূপ পুণ্য লাভের উদ্দেশ্যে লাভ করার আকাঙ্খা রয়েছে যা প্রশংসনীয়। আর ওখানে অপরের জিনিস নিজের অধিকারে নিয়ে নেয়ার নিয়ত রয়েছে যা সব সময়ই নিন্দনীয়। সুতরাং এরূপভাবে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক অনুগ্রহ যাঞা করা নিষিদ্ধ।

অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেন, প্রত্যেককেই তার কার্যের প্রতিদান দেয়া হবে। ভাল কার্যের প্রতিদান ভাল এবং মন্দ কার্যের প্রতিদান মন্দ হবে। আবার ভাবার্থ এও হতে পারে যে, সকলকেই তাদের হক অনুযায়ী উত্তরাধিকার প্রদান করা হবে।

অতঃপর ইরশাদ হচ্ছে-‘আমার নিকট আমার অনুগ্রহ যাজ্ঞা করতে থাক, পরস্পর একে অপরের ফযীলত চাওয়া অনর্থক হবে। হ্যা, তবে আমার নিকট যদি আমার অনুগ্রহ যাজ্ঞা কর তবে আমি কৃপণ নই, বরং আমি দাতা, সুতরাং আমি দান করবো এবং অনেক কিছুই দান করবো।'

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “হে জনমণ্ডলী! আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর অনুগ্রহ যাজ্ঞা কর। তার নিকট চাওয়া তিনি খুব পছন্দ করেন। জেনে রেখো যে, সবচেয়ে বড় ইবাদত হচ্ছে প্রশস্ততা ও করুণার জন্যে অপেক্ষা করা এবং তার প্রতি আশা রাখা।

অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, এরূপ আশা পোষণকারীকে আল্লাহ তা'আলা পছন্দ করেন। আল্লাহ হচ্ছেন মহাজ্ঞানী। কে পাওয়ার যোগ্য এবং কে দারিদ্রের যোগ্য, কে পারলৌকিক নিআমতের দাবীদার, আর কে তথায় লাঞ্ছিত হওয়ার যোগ্য তা তিনিই খুব ভাল জানেন। তাকে তিনি তার আসবাব ও মাধ্যম জোগাড় করে দেন এবং তার জন্যে তা সহজ করে দেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।