আল কুরআন


সূরা আন-নিসা (আয়াত: 167)

সূরা আন-নিসা (আয়াত: 167)



হরকত ছাড়া:

إن الذين كفروا وصدوا عن سبيل الله قد ضلوا ضلالا بعيدا ﴿١٦٧﴾




হরকত সহ:

اِنَّ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا وَ صَدُّوْا عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ قَدْ ضَلُّوْا ضَلٰلًۢا بَعِیْدًا ﴿۱۶۷﴾




উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযীনা কাফারু ওযা সাদ্দূ‘আন ছাবীলিল্লা-হি কাদ দাললূদালা-লাম বা‘ঈদা-।




আল বায়ান: নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিয়েছে,তারা অবশ্যই চূড়ান্তভাবে পথভ্রষ্ট হয়েছে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৬৭. নিশ্চয় যারা কুফর করেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিয়েছে তারা অবশ্যই ভীষনভাবে পথভ্রষ্ট হয়েছে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা কুফরী করে আর লোকেদেরকে আল্লাহর পথ হতে ফিরিয়ে রাখে তারা চরম পথভ্রষ্টতায় পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে।




আহসানুল বায়ান: (১৬৭) নিশ্চয় যারা অবিশ্বাস করেছে ও আল্লাহর পথে বাধা দিয়েছে, তারা ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়েছে।



মুজিবুর রহমান: নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাস করেছে এবং অপরকে আল্লাহর পথ হতে প্রতিরোধ করেছে, অবশ্যই তারা সুদূর বিপথে বিভ্রান্ত হয়েছে।



ফযলুর রহমান: যারা (সত্যকে) অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) ফিরিয়ে রাখে তারা দারুণভাবে বিপথগামী হয়েছে।



মুহিউদ্দিন খান: যারা কুফরী অবলম্বন করেছে, এবং আল্লাহর পথে বাধার সৃষ্টি করেছে, তারা বিভ্রান্তিতে সুদূরে পতিত হয়েছে।



জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ যারা অবিশ্বাস পোষণ করে আর অন্যায় করে, তাদের পরিত্রাণের জন্য আল্লাহ্ দায় নিচ্ছেন না, আর তাদের কোনো গতিপথে পরিচালিত করার জন্যেও না, --



Sahih International: Indeed, those who disbelieve and avert [people] from the way of Allah have certainly gone far astray.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৬৭. নিশ্চয় যারা কুফর করেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিয়েছে তারা অবশ্যই ভীষনভাবে পথভ্রষ্ট হয়েছে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৬৭) নিশ্চয় যারা অবিশ্বাস করেছে ও আল্লাহর পথে বাধা দিয়েছে, তারা ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়েছে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৬৬-১৭০ নং আয়াতের তাফসীর:



পূর্ববর্তী আয়াতসমূহে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতের সত্যতা প্রমাণ করা হয়েছে এবং যারা তাঁর নবুওয়াত অস্বীকার করে তাদের দাবী খণ্ডন করা হয়েছে। এ জন্যই আল্লাহ তা‘আলা এখানে বললেন: যদিও কিছু লোক তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে এবং তোমার রিসালাতকে প্রত্যাখ্যান করছে (তাতে চিন্তা কিসের) স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলাই তো তোমার রিসালাতকে সত্যায়িত করেছেন এবং তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। যার সম্মুখ ও পিছন কোন দিক থেকেই বাতিল আসতে পারবে না।



(أَنْزَلَه بِعِلْمِه)



‘তিনি তা নিজ জ্ঞানে নাযিল করেছেন’ হাফিয ইবনু কাসীর (আঃ) বলেন: কুরআনে আল্লাহ তা‘আলার জ্ঞান বিদ্যমান, যা বান্দাদেরকে তিনি অবগত করাতে চান। যেমন ভাল-মন্দের পার্থক্য, আল্লাহ তা‘আলা যা ভালবাসেন এবং যার ওপর সন্তুষ্ট, তিনি যা অপছন্দ করেন, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সংবাদসমূহ এবং আল্লাহ তা‘আলার পবিত্র গুণাবলী। স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা অবহিত না করা পর্যন্ত কোন রাসূল বা নৈকট্যলাভকারী ফেরেশতাও জানতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَلَا يُحِيْطُوْنَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِه۪ٓ إِلَّا بِمَا شَا۬ٓءَ)



“তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন ততটুকু ছাড়া তাঁর জ্ঞানসমূদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ব করতে পারে না।”(সূরা বাকারাহ ২:২৫৫, ইবনে কাসীর, ২/ ৫৩১)



আল্লামা সা’দী (রহঃ) বলেন, সম্ভবত এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ তা‘আলা এ কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, এতে তার জ্ঞান শামিল রয়েছে। অর্থাৎ এতে ইলমে এলাহী, শরীয়তের আহকাম ও গায়েবের খবর বিদ্যমান।



এটারও সম্ভাবনা রয়েছে যে, এ কুরআন আল্লাহ তা‘আলার জ্ঞান থেকে আগত। (তাফসীরে সা‘দী, পৃঃ ২০২)



তারপর আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদের অবস্থা ও পরিণতি সম্পর্কে অবগত করেছেন। যারা সত্য জানার পরেও কুফরী করে, আল্লাহ তা‘আলার পথে মানুষকে বাধা প্রদান করে ও জুলুম করে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে হিদায়াত দেবেন না এবং ক্ষমাও করবেন না। তাদের জন্য জাহান্নাম ছাড়া কোন পথ নেই।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা সকল মানব জাতিকে সম্বোধন করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ প্রদান করেছেন। প্রথম কারণ তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য। দ্বিতীয় কারণ ঈমান আনলে মানব জাতি কল্যাণপ্রাপ্ত হবে।



আর যদি কুফরী করে তাহলে আল্লাহ তা‘আলার কোন ক্ষতি হবে না। যেমন মূসা (আঃ) তার স্বজাতিকে বলেছিলেন:



(وَقَالَ مُوْسٰٓي إِنْ تَكْفُرُوْآ أَنْتُمْ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ جَمِيْعًا فَإِنَّ اللّٰهَ لَغَنِيٌّ حَمِيْدٌ)



“মূসা বলেছিল, ‘তোমরা এবং পৃথিবীর সকলেই যদি অকৃতজ্ঞ হও (তাতে আল্লাহর কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না) তথাপি আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং প্রশংসিত।” (সূরা ইবরাহীম ১৪:৮)



আল্লাহ তা‘আলা হাদীসে কুদসীতে বলেন, হে আমার বান্দা সকল! তোমরা আদি ও অন্ত সমস্ত মানুষ ও জীন যদি এমন একটি মানুষের অন্তরের মত হয়ে যাও, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবাধ্য, তাহলেও আমার সাম্রাজ্যে কোন হ্রাস বা ঘাটতি হবে না। (সহীহ মুসলিম, সদাচরণ অধ্যায়)



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কুফরীর খারাপ পরিণতি সম্পর্কে জানলাম।

২. যারা সুদূর গোমরাহীতে নিমজ্জিত এবং ফেতনা ফাসাদ নিয়ে ব্যস্ত তারা তাওবাহ করার সুযোগ পায় না। ফলে সে অবস্থাতেই মারা যায়।

৩. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সকল মানব জাতির রাসূল।

৪. আল্লাহ তা‘আলার জ্ঞান ও হিকমাত গুণ দুটি প্রমাণিত।

৫. মানুষ সৎ আমল করলে তার নিজের উপকারে আসবে, আর অসৎ আমল করলে নিজের ওপর বর্তাবে। এতে আল্লাহ তা‘আলার কোন লাভ বা ক্ষতি হবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৬৬-১৭০ নং আয়াতের তাফসীর:

পূর্ববর্তী আয়াতসমূহে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নবুওয়াত প্রমাণ করা হয়েছে এবং তাঁর নবুওয়াত অস্বীকারকারীদের দাবী খণ্ডন করা হয়েছে। এজন্যেই এখানে বলা হচ্ছে-‘হে নবী (সঃ)! গুটিকতক লোক তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে এবং তোমার বিরুদ্ধাচরণ করছে বটে কিন্তু স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা তোমার রিসালাতের সাক্ষ্য প্রদান করছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন-আল্লাহ তোমার উপর কুরআন মাজীদ ও ফুরকান-ই-হামীদ অবতীর্ণ করেছেন, যার কাছে বাতিল টিকতে পারে না। এর মধ্যে ঐ সমুদয় জিনিসের জ্ঞান রয়েছে। যার উপর তিনি স্বীয় বান্দাদেরকে অবহিত করতে চান। অর্থাৎ প্রমাণাদি, হিদায়াত, ফুরকান, আল্লাহর সন্তুষ্টির ও অসন্তুষ্টির আহকাম, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সংবাদসমূহ এবং আল্লাহ তা'আলার পবিত্র গুণাবলী। যেগুলো স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা অবহিত না করা পর্যন্ত কোন রাসূল বা কোন নৈকট্য লাভকারী ফেরেশতাও জানতে পারেন না! যেমন ইরশাদ হচ্ছে (আরবী) অর্থাৎ তিনি যা ইচ্ছে করেন তদ্ব্যতীত কেউই তার অনন্ত জ্ঞানের কোন বিষয়ই ধারণা করতে পারে না। (২:২৫৫) অন্য জায়গায় বলা হয়েছে (আরবী) অর্থাৎ “তারা তাঁর জ্ঞান আবেষ্টনীর মধ্যে আনতে পারে না।” (আরবী) হযরত আতা ইবনে সায়েব (রঃ) যখন হযরত আবু আবদুর রহমান (রঃ)-এর নিকট কুরআন কারীম পাঠ শেষ করেন তখন তিনি তাকে বলেনঃ “যে আমলে তোমার চেয়ে বেড়ে যাবে সে ছাড়া আজ তোমার চেয়ে উত্তম আর কেউ নেই।” অতঃপর তিনি (আরবী) এ আয়াতটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আল্লাহর সাক্ষ্যের সাথে সাথে ফেরেশতাগণেরও সাক্ষ্য রয়েছে যে, যা তোমার নিকট এসেছে এবং যে অহী তোমারা উপর অবতীর্ণ হয়েছে তা সম্পূর্ণ সত্য।

ইয়াহূদীদের একটি দল রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি তাদেরকে বলেনঃ “আল্লাহর শপথ! আমার নিশ্চিত রূপে জানা রয়েছে যে, আমার রিসালাতের অবগতি তোমাদের রয়েছে।” ঐ লোকগুলো ঐ কথা অস্বীকার করে। তখন মহাসম্মানিত আল্লাহ তাআলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন। এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ যেসব লোক কুফরী করতঃ সত্যের অনুসরণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, এমনকি অন্য লোকদেরকেও সত্য পথে আসতে বাধা দিয়েছে তারা সঠিক পথ হতে সরে পড়েছে এবং প্রকৃত জিনিস থেকে পৃথক হয়ে গেছে। তারা সুপথকে হারিয়ে ফেলেছে। এসব লোক, যারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করেছে, আমার কিতাবকে অমান্য করেছে, আমার পথে আসতে মানুষকে বাধা দিয়েছে, আমার নিষিদ্ধ কার্যাবলী করতে রয়েছে এবং আমার নির্দেশাবলী অমান্য করেছে, আমি তাদেরকে ক্ষমা করবো না এবং তাদেরকে সুপথ প্রদর্শনও করবো না, বরং তাদেরকে জাহান্নামের পথ প্রদর্শন করবো। তথায় তারা চিরকাল অবস্থান করবে।

হে লোক সকল! তোমাদের নিকট তোমাদের প্রভুর পক্ষ হতে সত্য নিয়ে তাঁর রাসূল আগমন করেছেন। তোমরা তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতঃ তার আনুগত্য স্বীকার কর। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর যদি তোমরা অস্বীকার কর তবে জেনে রেখো যে, আল্লাহ তাআলা তোমাদের মোটেই মুখাপেক্ষী নন। তোমাদের ঈমান আনয়নে তাঁর কোন লাভও নেই এবং তোমাদের অস্বীকার করাতে তাঁর কোন ক্ষতিও নেই। নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সমুদয় জিনিস তারই অধিকারে রয়েছে। একথাই হযরত মূসা (আঃ) তাঁর কওমকে বলেছিলেনঃ “যদি তোমরা এবং সারা জগতের সমস্ত লোকও কাফির হয়ে যায় তবুও মহান আল্লাহর কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না। তিনি সারা বিশ্ব হতে অমুখাপেক্ষী; তিনি সর্বজ্ঞ। তিনিই জানেন কে সুপথ প্রাপ্তির যোগ্য এবং কে পথভ্রষ্ট হওয়ার যোগ্য। তিনি বিজ্ঞানময়। তাঁর কথা, তাঁর কাজ, তাঁর শরীয়ত এবং তার বিধান সবকিছুই নিপুণতাপূর্ণ।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।