সূরা আন-নিসা (আয়াত: 144)
হরকত ছাড়া:
يا أيها الذين آمنوا لا تتخذوا الكافرين أولياء من دون المؤمنين أتريدون أن تجعلوا لله عليكم سلطانا مبينا ﴿١٤٤﴾
হরকত সহ:
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوا الْکٰفِرِیْنَ اَوْلِیَآءَ مِنْ دُوْنِ الْمُؤْمِنِیْنَؕ اَتُرِیْدُوْنَ اَنْ تَجْعَلُوْا لِلّٰهِ عَلَیْکُمْ سُلْطٰنًا مُّبِیْنًا ﴿۱۴۴﴾
উচ্চারণ: ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তাত্তাখিযুল কা-ফিরীনা আওলিয়াআ মিন দুনিল মু’মিনীনা আতুরীদূ না আন তাজ‘আলূলিল্লা-হি ‘আলাইকুম ছুলতা-নাম মুবীনা-।
আল বায়ান: হে মুমিনগণ, তোমরা মুমিনগণ ছাড়া কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি আল্লাহর জন্য তোমাদের বিপক্ষে কোন স্পষ্ট দলীল সাব্যস্ত করতে চাও?
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৪৪. হে মুমিনগণ! মুমিনগণ ছাড়া কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি নিজেদের উপর আল্লাহর প্রকাশ্য অভিযোগ কায়েম করতে চাও?(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: হে ঈমানদারগণ! তোমরা মু’মিনদের পরিবর্তে কাফিরদেরকে তোমাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তোমরা কি তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ পেশ করতে চাও?
আহসানুল বায়ান: (১৪৪) হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা বিশ্বাসিগণের পরিবর্তে অবিশ্বাসীদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি আল্লাহকে তোমাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিতে চাও? [1]
মুজিবুর রহমান: হে মু’মিনগণ! তোমরা মু’মিনদেরকে ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করনা, তোমরা কি আল্লাহর জন্য তোমাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রমাণ দিতে চাও?
ফযলুর রহমান: হে ঈমানদারগণ! তোমরা ঈমানদারদের বাদ দিয়ে কাফেরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তোমরা কি আল্লাহর জন্য নিজেদের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট প্রমাণ যোগাড় করে দিতে চাও?
মুহিউদ্দিন খান: হে ঈমানদারগণ! তোমরা কাফেরদেরকে বন্ধু বানিও না মুসলমানদের বাদ দিয়ে। তোমরা কি এমনটি করে নিজের উপর আল্লাহর প্রকাশ্য দলীল কায়েম করে দেবে?
জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ মুনাফিকরা আগুনের নিন্মতম গহবরে থাকবে, আর তুমি তাদের জন্য কখনো পাবে না কোনো সহায় --
Sahih International: O you who have believed, do not take the disbelievers as allies instead of the believers. Do you wish to give Allah against yourselves a clear case?
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৪৪. হে মুমিনগণ! মুমিনগণ ছাড়া কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি নিজেদের উপর আল্লাহর প্রকাশ্য অভিযোগ কায়েম করতে চাও?(১)
তাফসীর:
(১) এ আয়াতের তাফসীরে পূর্ববর্তী ১৩৯ নং আয়াতের তাফসীর ও সূরা আলে ইমরানের ২৮ নং আয়াতের তাফসীর দেখা যেতে পারে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৪৪) হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা বিশ্বাসিগণের পরিবর্তে অবিশ্বাসীদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা কি আল্লাহকে তোমাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিতে চাও? [1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, মহান আল্লাহ তোমাদেরকে কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন। এখন যদি তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন কর, তাহলে তার অর্থ হবে তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে আল্লাহর দলীল কায়েম করছ; যাতে তিনি তোমাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন। (অর্থাৎ, আল্লাহর অবাধ্যতা এবং তাঁর নির্দেশ অমান্য করার কারণে।)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৪৪-১৪৭ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতের শুরুতেই মহান আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে মু’মিন ছাড়া অন্য কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।
মু’মিন মু’মিন ছাড়া কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে না। এ সম্পর্কে সূরা বাকারাহ ও আলি ইমরানে আলোচনা করা হয়েছে। যদি মু’মিনরা আল্লাহ তা‘আলার এ আদেশ ভঙ্গ করে অন্য কোন বিধর্মীদের সাথে সম্পর্ক করে তাহলে মু’মিনদের নিজেদের বিরুদ্ধে আল্লাহ তা‘আলার দলীল কায়েম হয়ে যাবে, ফলে তিনি তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন।
তারপর সকল বিশ্বাসগত মুনাফিকদের ঠিকানার কথা বলছেন, তারা জাহান্নামের অতল তলে থাকবে। তবে যারা নিফাকী বর্জন করে তাওবাহ করে নিজেদেরকে সংশোধন করে নিয়েছে, আল্লাহ তা‘আলাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করেছে এবং আমল সংশোধন করে নিয়েছে তারা মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে মহা প্রতিদান দেবেন।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বান্দার প্রতি নিজের দয়া ও সহানুভূতি প্রকাশ করে বলছেন, তিনি তোমাদেরকে শাস্তি দিয়ে কী করবেন যদি তোমরা ঈমান আন ও শুকরিয়া আদায় কর। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা চান না কোন বান্দাকে জাহান্নামে দিতে। কিন্তু বান্দারাই নিজেদের কর্মের কারণে জাহান্নামে যাবে।
যে ব্যক্তির মাঝে চারটি জিনিস আছে সে চারটি জিনিস তার উপকারে আসবে। চারটি জিনিস হল: শুকরিয়া আদায় করা, ঈমান আনা, দু’আ করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর তিনটি জিনিস কোন ব্যক্তির মাঝে থাকলে সে তিনটি জিনিস তার ক্ষতির কারণ হবে। তিনটি জিনিস হল: চক্রান্ত করা, ফাসাদ সৃষ্টি করা এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করা। (তাফসীর কুরতুবী ৫/৩২১)
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মু’মিন ব্যতীত অন্যদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা হারাম।
২. কাফিরদের আচার-আচরণ, বেশ-ভূষা ও সংস্কৃতি গ্রহণ করা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার নামান্তর।
৩. তাওবাহ পূর্বের সকল অপরাধ ক্ষমা করে দেয়।
৪. আল্লাহ তা‘আলার ন্যায়পরায়ণতা জানতে পারলাম যে, তিনি কারো বিরুদ্ধে দলীল প্রমাণিত না হলে শাস্তি দেবেন না।
৫. আল্লাহ তা‘আলার দয়ার প্রশস্ততার কথা জানতে পারলাম।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৪৪-১৪৭ নং আয়াতের তাফসীর:
কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে, তাদের প্রতি আন্তরিক ভালবাসা রাখতে, তাদের সাথে সর্বদা উঠাবসা করতে, মুসলমানদের গুপ্তকথা তাদের নিকট প্রকাশ করতে এবং তাদের সাথে গোপন সম্পর্ক বজায় রাখতে আল্লাহ তা'আলা মুসলমানদেরকে নিষেধ করছেন। অন্য আয়াতে আছে (আরবী) অর্থাৎ 'মুমিনগণ যেন মুমিনদেরকে ছেড়ে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে, আর যে ব্যক্তি এরূপ করে সে আল্লাহ তা'আলার নিকট কোন মঙ্গলের অধিকারী নয়। হঁ্যা, তবে যদি আত্মরক্ষার জন্যে বাহ্যিক ভালবাসা রাখ সেটা অন্য কথা এবং আল্লাহ তোমাদেরকে নিজ হতে ভয় প্রদর্শন করছেন।' (৩:২৮) অর্থাৎ তোমরা যদি তাঁর অবাধ্য হও তবে তোমাদের তাঁর হতে ভীত হওয়া উচিত। মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতিমে' হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ কুরআন কারীমের মধ্যে যেখানেই এরূপ ইবাদতের মধ্যে (আরবী) শব্দ রয়েছে তথায় তার ভাবার্থ হচ্ছে দলীল। অর্থাৎ তোমরা যদি মুমিনদেরকে ছেড়ে কাফিরদেরকে তোমাদের অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ কর তবে তোমাদের ঐ কাজ তোমাদের উপর ঐ বিষয়ের দলীল হয়ে যাবে যে আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন। পূর্বযুগীয় কয়েকজন মুফাসৃসির এ আয়াতের এ তাফসীরই করেছেন।
এরপর আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকদের পরিণাম বর্ণনা করেছেন যে, তারা তাদের কঠিন কুফরীর কারণে জাহান্নামের একেবারে নিম্নস্তরে প্রবেশ করবে। (আরবী) শব্দটি হচ্ছে (আরবী) শব্দের বিপরীত। জান্নাতের দরজা রয়েছে একটির উপর আরেকটি। পক্ষান্তরে জাহান্নামের দারক’ রয়েছে একটির নীচে অপরটি। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন যে, মুনাফিকদেরকে আগুনের বাক্সে পুরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং তারা ওর মধ্যে জ্বলতে পুড়তে থাকবে। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, এ বাক্সটি হবে লোহার, যাতে আগুন দেয়া মাত্রই আগুন হয়ে যাবে এবং তার চার দিক সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। কেউ এমন হবে না যে তাকে কোন প্রকারের সাহায্য করতে পারে বা তাকে জাহান্নাম হতে বের করতে পারে অথবা শাস্তি কিছু কম করাতে পারে। তবে হ্যা, তাদের মধ্যে যারা তাওবা করবে, লজ্জিত হবে এবং ঐ পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, অতঃপর সংশোধিত হয়ে যাবে, একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সকার্য সম্পাদন করবে, রিয়াকে আন্তরিকতার সাথে পরিহার করবে এবং আল্লাহ তা'আলার দ্বীনকে দৃঢ়রূপে ধারণ করবে, তিনি তাদের তাওবা কবুল করবেন, তাদেরকে খাঁটি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং উত্তম পুণ্যের অধিকারী করবেন। মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতিমে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা তোমাদের দ্বীনকে খাটি কর তবে অল্প আমলই তোমাদের জন্যে যথেষ্ট হবে।
এরপর ইরশাদ হচ্ছে-‘আল্লাহ তা'আলা হচ্ছেন বেনিয়ায, তিনি বান্দাদেরকে শাস্তি দিতে চান না। হ্যাঁ, তবে যদি সে সম্পূর্ণ নির্ভয়ে পাপ কার্য করতে থাকে তবে অবশ্যই শাস্তি প্রাপ্ত হবে। তাই আল্লাহ তা'আলা বলেন-“যদি তোমরা তোমাদের আমল সুন্দর করে নাও এবং আল্লাহর উপর ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর উপর অন্তরের সাথে বিশ্বাস স্থাপন কর তবে কোন কারণ নেই যে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন। তিনিতো ছোট ছোট পুণ্যের বেশ মর্যাদা দিয়ে থাকেন। যে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি তাকে সম্মান দিয়ে থাকেন। তিনি পূর্ণ ও সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। কার আমল যে খাটি ও গ্রহণযোগ্য তা তিনি ভালই জানেন। কার অন্তরে যে দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে এবং কার অন্তর যে ঈমান শূন্য তিনি সেটাও জানেন। সুতরাং তিনি তাদেরকে পূর্ণ প্রতিদান প্রদান করবেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।