আল কুরআন


সূরা আন-নিসা (আয়াত: 132)

সূরা আন-নিসা (আয়াত: 132)



হরকত ছাড়া:

ولله ما في السماوات وما في الأرض وكفى بالله وكيلا ﴿١٣٢﴾




হরকত সহ:

وَ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ ؕ وَ کَفٰی بِاللّٰهِ وَکِیْلًا ﴿۱۳۲﴾




উচ্চারণ: ওয়া লিল্লা-হি মা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি ওয়া কাফা-বিল্লা-হি ওয়াকীলা-।




আল বায়ান: আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে, যা আছে আসমানসমূহে এবং যা আছে যমীনে। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৩২. আসমানে যা আছে ও যমীনে যা আছে সব আল্লাহরই এবং কার্যোদ্ধারে আল্লাহই যথেষ্ট।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আসমানে যা আছে আর যমীনে যা আছে সব আল্লাহরই, কার্যনির্বাহক হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট।




আহসানুল বায়ান: (১৩২) আর আকাশমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই এবং কর্ম-বিধায়ক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।



মুজিবুর রহমান: এবং আকাশসমূহে যা কিছু রয়েছে ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা আল্লাহরই; এবং কর্মবিধানে (ওয়াকিল) আল্লাহই যথেষ্ট।



ফযলুর রহমান: আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহর। কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।



মুহিউদ্দিন খান: আর আল্লাহরই জন্যে সে সবকিছু যা কিছু রয়েছে আসমান সমূহে ও যমীনে। আল্লাহই যথেষ্ট কর্মবিধায়ক।



জহুরুল হক: হে লোকগণ! যদি তিনি ইচ্ছা করেন তবে তিনি তোমাদের সরিয়ে দিতে পারেন, আর অন্যদের নিয়ে আসতে পারেন। আর আল্লাহ্ এই ব্যাপরে হচ্ছেন অসীম ক্ষমতাশালী।



Sahih International: And to Allah belongs whatever is in the heavens and whatever is on the earth. And sufficient is Allah as Disposer of affairs.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৩২. আসমানে যা আছে ও যমীনে যা আছে সব আল্লাহরই এবং কার্যোদ্ধারে আল্লাহই যথেষ্ট।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৩২) আর আকাশমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই এবং কর্ম-বিধায়ক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৩১-১৩৪ নং আয়াতের তাফসীর:



অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রুবুবিয়্যার বিষয়ে বলেন যে, তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর একচ্ছত্র মালিক, সবকিছুর কর্তৃত্ব তাঁর হাতে। তিনি ছাড়া অন্য কেউ সকল সৃষ্টির ক্ষেত্রে অংশীদার নেই। তারপর আল্লাহ তা‘আলা পূর্ববর্তী সকল আসমানী কিতাবধারীদেরকে যেরূপ তাকওয়া অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন আমাদেরকেও সে নির্দেশ প্রদান করছেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কাউকে ওসিয়ত করতেন তখন তাকওয়ার ওসিয়ত করতেন এবং যখন যুদ্ধে কোন বাহিনী প্রেরণ করতেন তখন প্রথমে তাকওয়ার ওসিয়ত করতেন। আবূ যার (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: আমি তোমাকে তোমার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল বিষয়ে তাকওয়ার ওসিয়ত করছি। (মুসনাদ আহমাদ হা:২১৫৭৩) এভাবে চার খলীফারাও ওসিয়ত করতেন। সুতরাং প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সকল বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে চলা উচিত।



(إِنْ يَّشَأْ يُذْهِبْكُمْ)



‘তিনি (আল্লাহ) ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে অপসারিত করে অপরকে আনতে পারেন’ আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় না করে তাঁর সাথে কুফরী করলে আল্লাহ তা‘আলা এদেরকে পরিবর্তন করে অন্য জাতি নিয়ে আসবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَرَبُّکَ الْغَنِیُّ ذُو الرَّحْمَةِﺚ اِنْ یَّشَاْ یُذْھِبْکُمْ وَیَسْتَخْلِفْ مِنْۭ بَعْدِکُمْ مَّا یَشَا۬ئُ کَمَآ اَنْشَاَکُمْ مِّنْ ذُرِّیَّةِ قَوْمٍ اٰخَرِیْنَﯔﺚ)‏



“তোমার প্রতিপালক অভাবমুক্ত, দয়াশীল। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে অপসারিত করতে এবং তোমাদের পরে যাকে ইচ্ছা তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন, যেমন তোমাদেরকে তিনি অন্য এক সম্প্রদায়ের বংশ হতে সৃষ্টি করেছেন।”(সূরা আন‘আম ৬:১৩৩)



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(ھٰٓاَنْتُمْ ھٰٓؤُلَا۬ئِ تُدْعَوْنَ لِتُنْفِقُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللہِﺆ فَمِنْکُمْ مَّنْ یَّبْخَلُﺆ وَمَنْ یَّبْخَلْ فَاِنَّمَا یَبْخَلُ عَنْ نَّفْسِھ۪ﺚ وَاللہُ الْغَنِیُّ وَاَنْتُمُ الْفُقَرَا۬ئُﺆ وَاِنْ تَتَوَلَّوْا یَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَیْرَکُمْﺫ ثُمَّ لَا یَکُوْنُوْٓا اَمْثَالَکُمْﭵ)‏



“দেখ, তোমাদেরকে বলা হচ্ছে যে, আল্লাহর পথে মাল খরচ কর। তখন তোমাদের মধ্যে কতক লোক কার্পণ্য করেছে। অথচ যে কার্পণ্য করেছে সে আসলে নিজের সাথে নিজেই কৃপণতা করছে। আল্লাহ অভাবমুক্ত আর তোমরাই অভাবগ্রস্ত । যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে রাখ তাহলে আল্লাহ তোমাদের বদলে অন্য কাওমকে নিয়ে আসবেন। আর তারা তোমাদের মত হবে না।”(সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:৩৮)



তারপর আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীবাসীকে অবগত করেছেন, যে ব্যক্তি তার কৃত আমল দ্বারা কেবল দুনিয়াই কামনা করবে- জেনে রাখা দরকার যে, আল্লাহ তা‘আলার নিকট দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের প্রতিদান রয়েছে। তাই সকল আমলের প্রতিদান উভয় জগতের জন্য কামনা করা উচিত।



আর যারা দুনিয়া কামনা করবে আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা দুনিয়াতে যতটুকু পরিমাণ প্রদান করবেন। কিন্তু আখিরাতে তার জাহান্নাম ছাড়া কোন উপায় নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَکَمْ اَھْلَکْنَا مِنَ الْقُرُوْنِ مِنْۭ بَعْدِ نُوْحٍﺚ وَکَفٰی بِرَبِّکَ بِذُنُوْبِ عِبَادِھ۪ خَبِیْرًۭا بَصِیْرًا)



“নূহের পর আমি কত মানবগোষ্ঠী ধ্বংস করেছি! তোমার প্রতিপালক তাঁর বান্দাদের পাপাচরণের সংবাদ রাখা ও পর্যবেক্ষণের জন্য যথেষ্ট।”(সূরা ইসরা ১৭:১৭) অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(مَنْ کَانَ یُرِیْدُ الْحَیٰوةَ الدُّنْیَا وَزِیْنَتَھَا نُوَفِّ اِلَیْھِمْ اَعْمَالَھُمْ فِیْھَا وَھُمْ فِیْھَا لَا یُبْخَسُوْنَﭞ اُولٰ۬ئِکَ الَّذِیْنَ لَیْسَ لَھُمْ فِی الْاٰخِرَةِ اِلَّا النَّارُﺘ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوْا فِیْھَا وَبٰطِلٌ مَّا کَانُوْا یَعْمَلُوْنَﭟ)‏



“যে ব্যক্তি পার্থিব জীবন ও তার সৌন্দর্য কামনা করে, দুনিয়াতে আমি তাদের কর্মের পূর্ণ ফল দান করি এবং সেথায় তাদেরকে কম দেয়া হবে না। তাদের জন্য আখিরাতে অগ্নি ব্যতীত অন্য কিছুই নেই এবং তারা যা করে আখিরাতে তা নিষ্ফল হবে এবং তারা যা করে থাকে তা নিরর্থক।”(সূরা হুদ ১১:১৫-১৬)



তাই তো ইমাম মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আত তামীমী কিতাবুত তাওহীদে অধ্যায় বেঁধেছেন।



باب من الشرك إرادة الإنسان بعمله الدنيا



অধ্যায়: আমল দ্বারা দুনিয়া উদ্দেশ্য করা শির্ক। অতএব যে তাক্বওয়ার অসীয়ত আল্লাহ তা‘আলা পূর্ববর্তীদের ন্যায় আমাদেরকেও করেছেন, সে তাক্বওয়া অবলম্বন করতঃ সকল আমল একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্যই করা উচিত।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকেই আল্লাহ তা‘আলার তাক্বওয়ার অসীয়ত করেন।

২. আল্লাহ তা‘আলা সকল সৃষ্টি থেকে অমুখাপেক্ষী।

৩. আল্লাহ তা‘আলা সকল মানুষকে ধ্বংস করে নতুন প্রজন্ম নিয়ে আসতে সক্ষম।

৪. সকল ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য করতে হবে।

৫. পার্থিব কোন সার্থের জন্য আমল করা শির্ক।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৩১-১৩৪ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, আকাশ ও পৃথিবীর একমাত্র অধিকারী তিনিই। তিনি বলেন-যে নির্দেশাবলী তোমাদেরকে দেয়া হচ্ছে যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে, তার একত্বে বিশ্বাস করবে, তার ইবাদত করবে এবং তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না, এ নির্দেশাবলীই তোমাদের পূর্বে আহলে কিতাবকেও দেয়া হয়েছিল। আর যদি তোমরা অস্বীকার কর তবে তাঁর কি ক্ষতি করতে পারবে? তিনি তো একাই আকাশ ও পৃথিবীর মালিক। যেমন হযরত মূসা (আঃ) স্বীয় গোত্রের লোককে বলেছিলেনঃ যদি তোমরা ও সারা জগতের লোক আল্লাহকে অস্বীকার কর তবুও তিনি তোমাদের হতে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী এবং প্রশংসার যোগ্য। যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেন- (আরবী) অর্থাৎ তারা অস্বীকার করেছিল ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, আল্লাহ তাদের হতে অমুখাপেক্ষী হয়েছিলেন, তিনি বড়ই অমুখাপেক্ষী এবং প্রশংসিত। (৬৪:৬)

বলা হচ্ছে-তিনি আকাশ ও পৃথিবীর সমুদয় জিনিসের মালিক ও তিনি প্রত্যেকের সমস্ত কার্যের উপর সাক্ষী। কোন কিছুই তার অজানা নেই। তিনি এ ক্ষমতাও রাখেন যে, তোমরা যদি তার অবাধ্যাচরণ কর তবে তিনি তোমাদেরকে ধ্বংস করে তোমাদের স্থলে অন্য মাখলুক আনয়ন করবেন।

যেমন অন্য আয়াতে রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ যদি তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন কর তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য সম্প্রদায়কে আনয়ন করবেন যারা তোমাদের মত হবে না। (৪৭:৩৮)পূর্ব যুগের কোন একজন মনীষী বলেনঃ “তোমরা এ আয়াতটি সম্বন্ধে গবেষণা কর যে, পাপী বান্দারা আল্লাহ তা'আলার নিকট কত তুচ্ছ?'

এ আয়াতে এটাও বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলার নিকট এ কাজ মমাটেই কঠিন নয়! অতঃপর তিনি বলেন-হে ঐ ব্যক্তি! যার মনোবাসনা ও চেষ্টা একমাত্র দুনিয়ার জন্যে সে যেন জেনে নেয় যে, দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত মঙ্গল আল্লাহ তা'আলার অধিকারেই রয়েছে। সুতরাং যখন তুমি তার নিকট দু'টোই যাজ্ঞা করবে তখন তিনি তোমাদেরকে দু'টোই দান করবেন। আর তিনি তোমাদেরকে অমুখাপেক্ষী করে দেবেন এবং পরিতৃপ্ত করবেন। অন্য জায়গায় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ মানুষের মধ্যে এমনও রয়েছে যে বলে- হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে আপনি দুনিয়া দান করুন, তাদের জন্য পরকালের কোনই অংশ। নেই। আর তাদের মধ্যে এমনও রয়েছে যে বলে- হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে দুনিয়ায় মঙ্গল দান করুন এবং পরকালেও মঙ্গল দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করুন। এদের জন্যে ঐ অংশ রয়েছে। যা তারা অর্জন করেছে।' (২:২০০-২০২) আর এক আয়াতে আছে (আরবী) অর্থাৎ যে ব্যক্তি পরকালের ক্ষেত্রের আকাঙ্খ করে আমি তার ক্ষেত্র বৃদ্ধি করে দেবো।' (৪২৪ ২০) অন্য স্থানে রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ যে ব্যক্তি দুনিয়া যাা করে, তখন আমি যাকে চাই ও যত চাই দুনিয়ায় প্রদান করে থাকি।' (১৭:১৮)

ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) (আরবী) -এ আয়াতের ভাবার্থ। এই বর্ণনা করেছেন যে, মুনাফিকরা দুনিয়া অনুসন্ধানে ঈমান কবুল করেছিল, তারা দুনিয়া পেয়ে যায় বটে, অর্থাৎ মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধলব্ধ মালে অংশীদার হয়ে যায়, কিন্তু পরকালে তাদের জন্যে আল্লাহ তা'আলার নিকট যা তৈরী রয়েছে তা সেখানে তারা পেয়ে যাবে। অর্থাৎ জান্নামের অগ্নি ও তথাকার বিভিন্ন ধরনের শাস্তি। সুতরাং উক্ত ইমাম সাহেবের মতে এ আয়াতটি (আরবী) (১১:১৫) -এ আয়াতটির মতই। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এ আয়াতের অর্থ তো বাহ্যতঃ এটাই, কিন্তু প্রথম আয়াতটিকেও এ অর্থে নেয়ার ব্যাপারে চিন্তার অবকাশ রয়েছে। কেননা, এ আয়াতের শব্দগুলো ততা স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছে যে, দুনিয়া ও আখিরাতের মঙ্গল দান আল্লাহর হাতেই রয়েছে, কাজেই প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত যে, সে যেন তার জীবনটা একটি জিনিসের অনুসন্ধানেই শেষ করে না দেয়। বরং সে যেন দুটো জিনিসই লাভ করার জন্যে সচেষ্ট হয়।

বলা হচ্ছে-যে তোমাদেরকে দুনিয়া দিচ্ছেন, আখিরাতের অধিকারীও তিনিই। এটা বড়ই কাপুরুষতার পরিচয় যে, তোমরা তোমাদের চক্ষু বন্ধ করে নেবে এবং অধিক প্রদানকারীর নিকট অল্প যাজ্ঞা করবে। না, না বরং তোমরা ইহকাল ও পরকালের বড় বড় কাজ ও উত্তম উদ্দেশ্য লাভের চেষ্টা কর। স্বীয় লক্ষ্যস্থল শুধু দুনিয়াকে বানিয়ে নিও না, বরং উচ্চাকাঙ্খর দ্বারা দৃষ্টি প্রসারিত করতঃ উভয় জগতে শান্তি লাভের চেষ্টা কর। মনে রেখ যে, উভয় জগতেরই মালিক তিনিই। প্রত্যেক লাভ ও ক্ষতি তারই হাতে রয়েছে। এমন কেউ নেই যে, তার অংশীদার হতে পারে কিংবা তাঁর কার্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে। সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য তিনিই বন্টন করেছেন। ধন ভাণ্ডারের চাবিগুলো তিনি স্বীয় হস্তে রেখেছেন। তিনি প্রত্যেক হকদারকেই চেনেন এবং যে যার হকদার তিনি তাকে তাই পৌছিয়ে থাকেন। তোমাদের তো এটা চিন্তা করা উচিত যে, যিনি তোমাদেরকে দেখবার শুনবার ক্ষমতা দান করেছেন, তাঁর দর্শন ও শ্রবণ কেমন হতে পারে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।