সূরা আল-হুজুরাত (আয়াত: 4)
হরকত ছাড়া:
إن الذين ينادونك من وراء الحجرات أكثرهم لا يعقلون ﴿٤﴾
হরকত সহ:
اِنَّ الَّذِیْنَ یُنَادُوْنَکَ مِنْ وَّرَآءِ الْحُجُرٰتِ اَکْثَرُهُمْ لَا یَعْقِلُوْنَ ﴿۴﴾
উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযীনা ইউনা-দূনাকা মিওঁ ওরাইল হুজূরা-তি আকছারুহুম লা-ইয়া‘কিলূন।
আল বায়ান: নিশ্চয় যারা তোমাকে হুজরাসমূহের পিছন থেকে ডাকাডাকি করে তাদের অধিকাংশই বুঝে না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪. নিশ্চয় যারা হুজরাসমূহের পিছন থেকে আপনাকে উচ্চস্বরে ডাকে, তাদের অধিকাংশই বুঝে না।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা তোমাকে হুজরার বাইরে থেকে (উচ্চঃস্বরে) ডাকে, তাদের অধিকাংশেরই কোন জ্ঞান নেই।
আহসানুল বায়ান: (৪) যারা কক্ষসমূহের পিছন হতে তোমাকে উচ্চ স্বরে ডাকে তাদের অধিকাংশই নির্বোধ। [1]
মুজিবুর রহমান: যারা ঘরের পিছন হতে তোমাকে উচ্চৈঃস্বরে ডাকে তাদের অধিকাংশই নির্বোধ।
ফযলুর রহমান: যারা তোমাকে কামরার পেছন থেকে ডাকাডাকি করে তাদের অধিকাংশের বুদ্ধি নেই।
মুহিউদ্দিন খান: যারা প্রাচীরের আড়াল থেকে আপনাকে উচুস্বরে ডাকে, তাদের অধিকাংশই অবুঝ।
জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ যারা বাসগৃহগুলোর পেছন থেকে তোমাকে ডাকে তাদের অধিকাংশই বুদ্ধিসুদ্ধি রাখো না।
Sahih International: Indeed, those who call you, [O Muhammad], from behind the chambers - most of them do not use reason.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪. নিশ্চয় যারা হুজরাসমূহের পিছন থেকে আপনাকে উচ্চস্বরে ডাকে, তাদের অধিকাংশই বুঝে না।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪) যারা কক্ষসমূহের পিছন হতে তোমাকে উচ্চ স্বরে ডাকে তাদের অধিকাংশই নির্বোধ। [1]
তাফসীর:
[1] এই আয়াত বনী তামীম গোত্রের কিছু বেদুঈন (অভদ্র) লোকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে; তারা একদা দুপুর বেলায়, নবী করীম (সাঃ)-এর বিশ্রামের সময়, তাঁর ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে অসভ্য ভঙ্গিতে ‘ওহে মুহাম্মাদ! ওহে মুহাম্মাদ!’ বলে ডাকাহাঁকা করতে লাগল; যাতে তিনি বেরিয়ে আসেন। (মুসনাদ আহমাদ ৩/৪৮৮, ৬/৩৯৪) মহান আল্লাহ বললেন, তাদের অধিকাংশই অবুঝ। অর্থাৎ, নবী করীম (সাঃ)-এর মান-মর্যাদা, আদব ও শ্রদ্ধার দাবীসমূহের খেয়াল না রাখা হল মূর্খতা।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪-৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
শানে নূযুল :
বানী তামীম গোত্রের কিছু অজ্ঞ লোকের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। তারা দুপুর বেলায় নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিশ্রামের সময় আগমন করে। তাদের কাছে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হয়ে আসার পূর্বেই ডাকতে শুরু করে, হে মুহাম্মাদ! হে মুহাম্মাদ! আমাদের কাছে বেরিয়ে আস, এরূপ কথা বলে ডাকতে থাকে। তখন
(إِنَّ الَّذِينَ يُنَادُونَكَ مِنْ...)
আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (আহমাদ : ৩/৪৮৮, সহীহ) আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে তিরস্কার করে বলছেন, তাদের অধিকাংশই অজ্ঞ। ডাকাডাকি না করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করত তাহলে এটা তাদের জন্য উত্তম ছিল।
এ আয়াত নাযিল হলে আবূ বকর (রাঃ) বলেন : আল্লাহ তা‘আলার শপথ আমি আমার আওয়াজ কখনো উঁচু করব না, নিচু আওয়াজে কথা বলব। (মুসনাদ আহমাদ হা. ১৫৭০০, সহীহ)
প্রাচীর চতুষ্টয় দ্বারা বেষ্টিত স্থানকে الْحُجُرَاتِ বলা হয়। যাতে কিছু বারান্দা ও ছাদ থাকে। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ৯ জন স্ত্রী ছিলেন। তাদের প্রত্যেকের জন্য পৃথক পৃথক হুজরা ছিল। তিনি পালাক্রমে এসব হুজরায় আসতেন। সহীহ বুখারীতে বর্ণিত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন : যখন আমি কোন আলেম সাহাবীর কাছ থেকে কোন হাদীস লাভ করতে চাইতাম তখন তাঁর গৃহে পৌঁছে ডাকাডাকি অথবা দরজার কড়া নাড়া থেকে বিরত থাকতাম এবং দরজার বাইরে বসে অপেক্ষা করতাম। তিনি যখন নিজেই বাইরে আগমন করতেন তখন আমি তাঁর কাছে হাদীস জিজ্ঞাসা করতাম। তিনি আমাকে দেখে বলতেন, হে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চাচাত ভাই! আপনি দরজার কড়া নেড়ে আমাকে সংবাদ দিলেন না কেন? ইবনু অব্বাস (রাঃ) বলেন : আলেম সমাজ জাতির জন্য পয়গম্বরসদৃশ। আল্লাহ তা‘আলা পয়গম্বর সম্পর্কে আদেশ দিয়েছেন যে, তাঁর বাহির হয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর।
আবূ ওবায়দা (রাঃ) বলেন : আমি কোনদিন কোন আলেমের দরজায় যেয়ে নাড়া দেইনি। বরং অপেক্ষা করেছি, তিনি নিজেই বাইরে আসলে সাক্ষাত করব।
সুতরাং নাবীদের ওয়ারিশ আলেম সমাজের সম্মান ও মর্যাদার দিকে লক্ষ্য রাখা মু’মিনদের দায়িত্ব। তবে যদি আলেম বিদ‘আতী হয় তাহলে তাকে সম্মান করা যাবে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুউচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের বর্ণনা পেলাম।
২. গ্রাম্য ব্যক্তিরা সাধারণত আদব আখলাক সম্পর্কে একটু অজ্ঞ। তাই তাদের আচরণে মনঃক্ষুণœ না হয়ে আদব শিক্ষা দেয়া উচিত।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪-৫ নং আয়াতের তাফসীর:
এই আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা'আলা ঐ লোকগুলোর নিন্দে করছেন যারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে তার বাড়ীর পিছন হতে ডাকতো, যেমন এটা আরববাসীদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। তাই আল্লাহ পাক বলেন যে, তাদের অধিকাংশই নির্বোধ।
অতঃপর এই ব্যাপারে আদব বা দ্রতা শিক্ষা দিতে গিয়ে বলেনঃ “হে নবী (সঃ)! তুমি বের হয়ে তাদের নিকট আসা পর্যন্ত তারা যদি ধৈর্য ধারণ করতে তবে ওটাই তাদের জন্যে উত্তম হতো।' অর্থাৎ তাদের উচিত ছিল যে, তারা নবী (সঃ)-এর অপেক্ষায় থাকতো এবং যখন তিনি বাড়ী হতে বের হতেন তখন তাকে যা বলার ছিল তাই তারা বলতো এবং বাহির হতে তাঁকে ডাক দেয়া তাদের জন্যে মোটেই উচিত ছিল না। এরূপভাবে বাহির হতে তাঁকে ডাক না দিলে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ তারা লাভ করতো। অতঃপর মহান আল্লাহ যেন হুকুম দিচ্ছেন যে, এরূপ লোকদের উচিত আল্লাহ তাআলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা। কেননা, তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। এ আয়াতটি হযরত আকরা ইবনে হাবিস (রাঃ)-এর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। মুসনাদে আহমাদে রয়েছে যে, একটি লোক রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে হে মুহাম্মাদ (সঃ), হে মুহাম্মাদ (সঃ)! এভাবে নাম ধরে ডাক দেয়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) কোন জবাব দিলেন না। তখন সে বলেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার প্রশংসা করা শ্রেষ্ঠত্নের কারণ। এবং আমার নিন্দা করা লাঞ্ছনার কারণ।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বলেনঃ “এরূপ। সত্তা তো হলেন একমাত্র মহামহিমান্বিত আল্লাহ।”
হযরত সুফিয়ান সাওরী (রঃ) হযরত হাবীব ইবনে আবি উমরা (রঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, একদা বিশর ইবনে গালিব এবং লাবীদ ইবনে আতারিদ হাজ্জাজের সামনে বসেছিলেন। বিশর ইবনে গালিব লাবীদ ইবনে আতারিদকে বললেনঃ “তোমার কওম বানু তামীমের ব্যাপারে (আরবী)-এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে।” যখন হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রাঃ)-এর সামনে এটা বর্ণনা করা হলো তখন তিনি বললেনঃ সে যদি আলেম হতো তবে এ সূরার (আরবী)-এই আয়াত পাঠ করে জবাব। দিতো। তারা বলেছিলঃ “আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি, সুতরাং বানু আসাদ গোত্র আপনার সাথে যুদ্ধ করবে না।”
হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ কতকগুলো আরব বেদুঈন একত্রিত হয় এবং তারা বলেঃ “চলো, আমরা এ লোকটির (নবী সঃ)-এর কাছে যাই। যদি তিনি নবী হন তাহলে তাঁর নিকট হতে সৌভাগ্য লাভ করার ব্যাপারে আমরাই বড় হকদার। আর যদি তিনি বাদশাহ হন তবে আমরা তার ডানার নীচে পড়ে থাকবো।” আমি গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে এ খবর দিলাম। ইতিমধ্যে তারা এসে পড়লো এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে তার ঘরের পিছন হতে হে মুহাম্মাদ (সঃ)! হে মুহাম্মাদ (সঃ)! বলে ডাকতে লাগলো। তখন আল্লাহ তা'আলা (আরবী) আয়াতটি অবতীর্ণ করলেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন আমার কান ধরে বললেনঃ “হে যায়েদ (রাঃ)! আল্লাহ তোমার কথা সত্যরূপে দেখিয়েছেন। হে যায়েদ (রাঃ)! অবশ্যই আল্লাহ তোমার কথা সত্যরূপে দেখিয়েছেন।”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।