সূরা মুহাম্মাদ (আয়াত: 36)
হরকত ছাড়া:
إنما الحياة الدنيا لعب ولهو وإن تؤمنوا وتتقوا يؤتكم أجوركم ولا يسألكم أموالكم ﴿٣٦﴾
হরকত সহ:
اِنَّمَا الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَا لَعِبٌ وَّ لَهْوٌ ؕ وَ اِنْ تُؤْمِنُوْا وَ تَتَّقُوْا یُؤْتِکُمْ اُجُوْرَکُمْ وَ لَا یَسْـَٔلْکُمْ اَمْوَالَکُمْ ﴿۳۶﴾
উচ্চারণ: ইন্নামাল হায়া-তুদ্দুনইয়া-লা‘ইবুওঁ ওয়া লাহ উওঁ ওয়া ইন তু’মিনূওয়া তাত্তাকূইউ’তিকুম উজূরাকুম ওয়ালা-ইয়াছআলকুম আম ওয়া-লাকুম।
আল বায়ান: দুনিয়ার জীবন তো কেবল খেল-তামাশা ও অর্থহীন কথাবার্তা। আর যদি তোমরা ঈমান আন এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে তিনি তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিদান দিবেন এবং তিনি তোমাদের কাছে ধন-সম্পদ চাইবেন না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৬. দুনিয়ার জীবন তো শুধু খেল-তামাশা ও অর্থহীন কথাবার্তা। আর যদি তোমরা ঈমান আন এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পুরস্কার দেবেন এবং তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ চান না।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: দুনিয়ার এ জীবন তো খেলা আর তামাশা মাত্র। তোমরা যদি ঈমান আন, আর আল্লাহকে ভয় করে চল, তিনি তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিফল দিবেন (আর এর বিপরীতে) তিনি তোমাদের কাছে তোমাদের মাল ধন চাইবেন না।
আহসানুল বায়ান: (৩৬) পার্থিব জীবন তো শুধু খেল-তামাশা মাত্র।[1] যদি তোমরা বিশ্বাস কর ও আল্লাহ-ভীরুতা অবলম্বন কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে পুরস্কার দেবেন। আর তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ চান না। [2]
মুজিবুর রহমান: পার্থিব জীবনতো শুধু ক্রীড়া-কৌতুক। যদি তোমরা ঈমান আন ও তাকওয়া অবলম্বন কর তাহলে আল্লাহ তোমাদের পুরস্কার দিবেন এবং তিনি তোমাদের ধন সম্পদ চাননা।
ফযলুর রহমান: আসলে পার্থিব জীবন হচ্ছে খেলা আর আনন্দ। তবে তোমরা যদি মুমিন ও মোত্তাকী হও তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিদান দেবেন। আর তিনি তোমাদের কাছে তোমাদের সম্পদ চাইবেন না।
মুহিউদ্দিন খান: পার্থিব জীবন তো কেবল খেলাধুলা, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও এবং সংযম অবলম্বন কর, আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিদান দেবেন এবং তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ চাইবেন না।
জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ এই দুনিয়ার জীবন শুধু খেলাধূলা ও আমোদ-প্রমোদ। আর যদি তোমরা ঈমান আনো ও ধর্মভীরুতা অবলন্বন কর তবে তিনি তোমাদের প্রদান করবেন তোমাদের পুরস্কার, আর তিনি তোমাদের থেকে তোমাদের ধনসম্পদ চাইবেন না।
Sahih International: [This] worldly life is only amusement and diversion. And if you believe and fear Allah, He will give you your rewards and not ask you for your properties.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৬. দুনিয়ার জীবন তো শুধু খেল-তামাশা ও অর্থহীন কথাবার্তা। আর যদি তোমরা ঈমান আন এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পুরস্কার দেবেন এবং তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ চান না।(১)
তাফসীর:
(১) আয়াতে বাহ্যিক অর্থ এই যে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের কাছে তোমাদের ধনসম্পদ চান না। এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ তোমাদের ধনসম্পদ তোমাদের কাছ থেকে নিজের কোন উপকারের জন্যে চান না; বরং তোমাদেরই উপকারের জন্যে চান। এই আয়াতেও (يُؤْتِكُمْ أُجُورَكُمْ) শব্দ দ্বারা এই উপকারের উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করার জন্যে বলার কারণ এই যে, তোমরা সওয়াবের প্রতি সর্বাধিক মুখাপেক্ষী হবে। তখন এই ব্যয় তোমাদেরই কাজে লাগবে এবং সেখানে তোমাদেরকে এর প্রতিদান দেয়া হবে। এর নজীর হচ্ছে এই আয়াত: (مَا أُرِيدُ مِنْهُم مِّن رِّزْقٍ) অর্থাৎ আল্লাহ বলেনঃ আমি তাদের কাছে নিজের জন্যে কোন জীবনোপকরণ চাই না। আমার এর প্রয়োজনও নেই। [দেখুন: ইবন কাসীর বাগভী, কুরতুবী, ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৬) পার্থিব জীবন তো শুধু খেল-তামাশা মাত্র।[1] যদি তোমরা বিশ্বাস কর ও আল্লাহ-ভীরুতা অবলম্বন কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে পুরস্কার দেবেন। আর তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ চান না। [2]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, একটি ধোঁকা ও প্রতারণা মাত্র। এর কোন জিনিসের না আছে ভিত্তি, না আছে তার স্থায়িত্ব এবং না আছে তার কোন মূল্য।
[2] অর্থাৎ, তিনি তোমাদের ধন-সম্পদের মুখাপেক্ষী নন। আর এ জন্যই তিনি তোমাদের কাছে যাকাত হিসাবে তোমাদের নিকট সমস্ত ধন-সম্পদ চাননি; বরং তা থেকে অতি সামান্যতম অংশ চান। অর্থাৎ শতকরা আড়াই ভাগ মাত্র। আবার তাও এক বছর পূর্ণ হবার পর প্রয়োজনের অতিরিক্ত (নিসাব পরিমাণ) হলে। উপরন্তু এর উদ্দেশ্যও আল্লাহর সেই বান্দাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা, যারা তোমাদেরই ভাই। তিনি এ দিয়ে তাঁর রাজত্বের প্রয়োজন পূরণ করেন না।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩৬-৩৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
মহান স্রষ্টা আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা করে মানুষকে তার প্রতি নিরুৎসাহিত করে বলেন : দুনিয়ার জীবন তো একটি ধোঁকা ও প্রতারণা মাত্র। এ জীবনের কোন ভিত্তি নেই। মানুষ সম্পদ, সন্তান, দুনিয়ার চাকচিক্য, নারী, ভোজন বিলাসিতা, চোখ জোড়ানো অট্টালিকা ইত্যাদি নিয়ে মত্ত ও তার ভালবাসায় নিমগ্ন। আর এমন কাজ-কর্মে লিপ্ত হওয়া কোন উপকারে আসে না বরং আল্লাহ তা‘আলা থেকে গাফেল করে রাখে। এমনিভাবে তার জীবনের আয়ূ শেষ হয়ে যায়, মৃত্যু চলে আসে কিন্তু তাকে দুনিয়াতে প্রেরণ করার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের কিছুই করেনি। ফলে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শামিল। যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন : “তোমরা জেনে রেখ, দুনিয়ার জীবন তো খেল-তামাশা, জাঁকজমক, পারস্পরিক অহঙ্কার প্রকাশ, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা ব্যতীত আর কিছুই নয়; এর উপমা বৃষ্টি, যার দ্বারা উৎপন্ন শস্য-সম্ভার কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, অতঃপর ওটা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি ওটা হলুদ বর্ণ দেখতে পাও, অবশেষে তা খড় কুটোয় পরিণত হয়। আখিরাতে রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। দুনিয়ার জীবন ছলনাময় ধোঁকা ব্যতীত কিছুই নয়।” (সূরা হাদীদ ৫৭ : ২০)
(وَإِنْ تُؤْمِنُوا وَتَتَّقُوا)
‘যদি তোমরা ঈমান আন এবং তাকওয়ার জীবন যাপন কর’ তাহলে আল্লাহ তা‘আলা আমলের প্রতিদান দেবেন।
ঈমান ও তাকওয়ার ফযীলত সম্পর্কে অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(یٰٓاَیُّھَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللہَ وَاٰمِنُوْا بِرَسُوْلِھ۪ یُؤْتِکُمْ کِفْلَیْنِ مِنْ رَّحْمَتِھ۪ وَیَجْعَلْ لَّکُمْ نُوْرًا تَمْشُوْنَ بِھ۪ وَیَغْفِرْ لَکُمْﺚ وَاللہُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ)
“হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন, তিনি তাঁর অনুগ্রহে তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন এবং তিনি তোমাদেরকে দেবেন আলো, যার সাহায্যে তোমরা চলবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা হাদীদ ৫৭ : ২৮)
(وَلَا يَسْأَلْكُمْ أَمْوَالَكُمْ)
‘আর তিনি তোমাদের কাছ থেকে তোমাদের ধন-সম্পদ চাইবেন না’ অর্থাৎ তিনি তোমাদের ধন-সম্পদের মুখাপেক্ষী নন। আর এ জন্যই তিনি তোমাদের নিকট সমস্ত সম্পদ চাননি। বরং তা থেকে অতি সামান্যতম অংশ চান। আবার তাও এক বছর পূর্ণ হবার পর প্রয়োজনের অতিরিক্ত হলে। তার প্রতিদানও তোমাদেরকে দেবেন। যদি তোমাদের প্রয়োজনের অধিক অবশিষ্ট সমস্ত সম্পদ চাইতেন তাহলে তোমরা কার্পণ্য করতে এবং ইসলামের বিরুদ্ধে নিজেদের বিদ্বেষ ও শত্র“তা প্রকাশ করতে।
(تُدْعَوْنَ لِتُنْفِقُوْا فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِ)
‘তোমাদেরকে বলা হচ্ছে যে, আল্লাহর পথে মাল খরচ কর’ অর্থাৎ যখন যাকাত হিসেবে আল্লাহ তা‘আলার পথে ব্যয় করতে বলা হয় তখন একশ্রেণির লোকেরা কার্পণ্য করে। যারা কার্পণ্য করে তারা মূলত নিজেদেরকে পূণ্য থেকে বঞ্চিত করল। আল্লাহ তা‘আলা ব্যয়ের প্রতি উৎসাহ প্রদান করার অর্থ এই নয় যে, তিনি তোমাদের সম্পদের মুখাপেক্ষী। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন কারণ-
১. তোমাদের আত্মা ও সম্পদকে পবিত্র করার জন্য।
২. অভাবীদের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য।
৩. তোমরা যাতে শত্র“দের ওপর বিজয়ী ও উন্নত থাক।
(وَإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا)
‘যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে রাখ তাহলে আল্লাহ তোমাদের বদলে অন্য কাওমকে নিয়ে আসবেন’ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। সাহাবীরা বলল : হে আল্লাহ তা‘আলার রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা ঈমান থেকে বিমুখ হলে যে অন্য জাতিকে নিয়ে আসা হবে তারা কারা যারা আমাদের মত হবে না? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালমান ফারসীর কাঁধে হাত মেরে বললেন : তারা হল এ (সালমান) ও তাঁর সম্প্রদায় যদি দীন সুরাইয়া নামক তারকাতেও থাকে তাহলে ফারসীর ঐসব লোকেরা তা নিয়ে আসবে। অন্য বর্ণনাতে রয়েছে ঐ সকল লোকেরা নিয়ে আসবে। (তিরমিযী হা. ৩২৬১, সহীহ)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. দুনিয়ার জীবন হল অস্থায়ী, তাই তার পিছনে মত্ত হয়ে আখিরাতকে ভুলে যাওয়া যাবে না।
২. সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কার্পণ্য করা হারাম।
৩. যাকাত না দেয়ার পরিণাম নিজের ওপরেই বর্তাবে।
৪. সালমান ফারসী (রাঃ)-এর ফযীলত জানতে পারলাম।
৫. আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাকওয়া অবলম্বন করলে আল্লাহ উপযুক্ত প্রতিদান দেবেন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩৬-৩৮ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার তুচ্ছতা, হীনতা ও স্বল্পতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন যে, পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক ও খেল-তামাশা ছাড়া কিছুই নয়, তবে যে কাজ আল্লাহর জন্যে করা হয় তা-ই শুধু বাকী থাকে।
আল্লাহ তা'আলা যে বান্দার মোটেই মুখাপেক্ষী নন তার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেনঃ তোমাদের ভাল কর্মের সুফল তোমরাই লাভ করবে, তিনি তোমাদের ধন-মালের প্রত্যাশী নন। তিনি তোমাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন এই কারণে যে, যাতে ওর মাধ্যমে গরীব-দুঃখীরা লালিত-পালিত হতে পারে। আর এর মাধ্যমে তোমরাও যাতে পরকালের পুণ্য সঞ্চয় করতে পার।
এরপর মহান আল্লাহ মানুষের কার্পণ্য এবং কার্পণ্যের পর অন্তরের হিংসা প্রকাশিত হওয়ার অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ ধন-সম্পদ বের করার ব্যাপারে এটা তো হয়েই থাকে যে, ওটা মানুষের নিকট খুবই প্রিয় হয় এবং তা বের করতে তার কাছে খুবই কঠিন ঠেকে।
অতঃপর কৃপণদের কার্পণ্যের কুফল বর্ণনা করা হচ্ছে যে, আল্লাহর পথে ধন-সম্পদ খরচ করা হতে বিরত থাকলে প্রকৃতপক্ষে নিজেরই ক্ষতি সাধন করা হয়। কেননা, যারা আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কার্পণ্য করে, এই কৃপণতার শাস্তি তাদেরকেই ভোগ করতে হবে। আর দান-খয়রাতের ফযীলত এবং ওর পুরস্কার হতেও তারা বঞ্চিত থাকবে। আল্লাহ তা'আলা সম্পূর্ণরূপে অভাবমুক্ত এবং মানুষ অভাবগ্রস্ত আর তারা তাঁর চরম মুখাপেক্ষী। অভাবমুক্ত ও অমুখাপেক্ষী হওয়া আল্লাহ তা'আলার অপরিহার্য গুণ এবং অভাবগ্রস্ত ও মুখাপেক্ষী হওয়া মাখলুক বা সৃষ্টজীবের অপরিহার্য গুণ। ঐ গুণ আল্লাহ তা'আলা হতে কখনো পৃথক হবে না এবং এই গুণ মাখলূক হতে কখনো পৃথক হবে না।
মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বলেনঃ তোমরা যদি শরীয়ত মেনে চলতে অস্বীকার কর তবে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের স্থলে অন্য জাতিকে আনয়ন করবেন, যারা তোমাদের মত (অবাধ্য) হবে না। তারা শরীয়তকে পূর্ণভাবে মেনে চলবে।
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একদা (আরবী) -এই আয়াতটি পাঠ করেন, তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! যাদেরকে আমাদের স্থলবর্তী করা হতো তারা কোন জাতি হতো?” উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত সালমান ফারেসীর (রাঃ) স্কন্ধে হস্ত রেখে বলেনঃ “এ ব্যক্তি এবং এর কওম। দ্বীন যদি সুরাইয়ার (সপ্তর্ষিমণ্ডলস্থ নক্ষত্রের) নিকটেও থাকতো তবুও পারস্যের লোকেরা ওটা নিয়ে আসতো।” (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) ও ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন খালিদ যনজী নামক এর একজন বর্ণনাকারীর ব্যাপারে কোন কোন ইমাম কিছু সমালোচনা করেছেন)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।