সূরা আল-জাসিয়া (আয়াত: 36)
হরকত ছাড়া:
فلله الحمد رب السماوات ورب الأرض رب العالمين ﴿٣٦﴾
হরকত সহ:
فَلِلّٰهِ الْحَمْدُ رَبِّ السَّمٰوٰتِ وَ رَبِّ الْاَرْضِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ﴿۳۶﴾
উচ্চারণ: ফালিল্লা-হিল হামদুরাব্বিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়া রাব্বিল আরদিরাব্বিল ‘আ-লামীন।
আল বায়ান: অতএব আল্লাহরই জন্য সকল প্রশংসা, যিনি আসমানসমূহের রব, যমীনের রব ও সকল সৃষ্টির রব।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৬. অতএব, সকল প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আসমানসমূহের রব, যমীনের রব ও সকল সৃষ্টির রব।
তাইসীরুল ক্বুরআন: অতএব প্রশংসা আল্লাহরই জন্য যিনি আসমানের প্রতিপালনকারী, যমীনের প্রতিপালনকারী, বিশ্বজগতের প্রতিপালনকারী ।
আহসানুল বায়ান: (৩৬) সকল প্রশংসা আল্লাহরই যিনি আকাশমন্ডলীর প্রতিপালক, পৃথিবীর প্রতিপালক এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
মুজিবুর রহমান: প্রশংসা আল্লাহরই যিনি আকাশমন্ডলীর রাব্ব, পৃথিবীর রাব্ব, জগতসমূহের রাব্ব।
ফযলুর রহমান: অতএব, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমানের প্রভু, জমিনের প্রভু এবং সারা জাহানের প্রভু।
মুহিউদ্দিন খান: অতএব, বিশ্বজগতের পালনকর্তা, ভূ-মন্ডলের পালনকর্তা ও নভোমন্ডলের পালনকর্তা আল্লাহর-ই প্রশংসা।
জহুরুল হক: অতএব আল্লাহ্রই জন্য সমস্ত প্রশংসা, তিনি মহাকাশমন্ডলীর প্রভু ও পৃথিবীরও প্রভু, -- সমস্ত বিশ্বজগতের প্রভু।
Sahih International: Then, to Allah belongs [all] praise - Lord of the heavens and Lord of the earth, Lord of the worlds.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৬. অতএব, সকল প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আসমানসমূহের রব, যমীনের রব ও সকল সৃষ্টির রব।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৬) সকল প্রশংসা আল্লাহরই যিনি আকাশমন্ডলীর প্রতিপালক, পৃথিবীর প্রতিপালক এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩০-৩৭ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
এখানে আল্লাহ তা‘আলা যারা সৎ আমল করবে তাদের ও যারা অসৎ আমল করবে তাদের অবস্থা কেমন হবে তা বর্ণনা করেছেন। যারা ঈমান আনবে ও সৎ আমল করবে তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর স্বীয় রহমত তথা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তারাই হবে সফলকাম। পক্ষান্তরে যারা কুফরী করত, যারা কিয়ামত দিবসকে অস্বীকার করত তাদের পরিণতি হবে জাহান্নাম। ঐ দিন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে বলবেন : আজ আমি তোমাদেরকে ভুলে যাব যেমনভাবে তোমরা দুনিয়াতে আমার সাথে আজকের সাক্ষাতের কথা ভুলে গিয়েছিলে। তারা সেখানে কষ্ট আর কষ্ট ভোগ করবে, কিন্তু কেউ তাদেরকে কোন প্রকার সাহায্য করবে না। আর তারা জাহান্নামে চিরস্থায়ীভাবে বসবাস করবে। সেখান থেকে নিষ্কৃতি পাবে না।
(وَبَدَا لَهُمْ سَيِّاٰتُ)
অর্থাৎ তাদের অসৎ আমলগুলো প্রথমে প্রকাশ পাবে।
الكبرياء শব্দের অর্থ গৌরব, অহঙ্কার, গরিমা ইত্যাদি। এটা শুধুমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য বৈধ, অন্য কারো জন্য অহঙ্কার করা বৈধ নয়। অর্থাৎ আকাশ ও জমিনের মাঝে একমাত্র তিনিই গর্ব ও অহঙ্কার করতে পারেন। কারণ তিনি আকাশ ও জমিনবাসীর মা‘বূদ। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন : অহঙ্কার আমার চাদর এবং শ্রেষ্ঠত্ব আমার জামা। যে এ দুটির কোন একটি আমার নিকট হতে ছিনিয়ে নিতে চায় আমি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব। (আবূ দাউদ হা. ৪০৯০, সহীহ)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. সৎ আমল ছাড়া নাজাত পাওয়া যাবে না।
২. পার্থিব জীবনের মোহে পড়ে আল্লাহ তা‘আলাকে ভুলে যাওয়া যাবে না।
৩. সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করতে হবে।
৪. গর্ব-অহঙ্কার করা যাবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩০-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাঁর ঐ ফায়সালার খবর দিচ্ছেন যা তিনি আখিরাতের দিন স্বীয় বান্দাদের মধ্যে করবেন। যারা অন্তরে ঈমান এনেছে এবং স্বীয় হাত-পা দ্বারা শরীয়ত অনুযায়ী সৎ নিয়তের সাথে ভাল কাজ করেছে, তাদেরকে তিনি স্বীয় করুণায় জান্নাত দান করবেন।
এখানে রহমত দ্বারা জান্নাতকে বুঝানো হয়েছে। যেমন সহীহ হাদীসে রয়েছে। যে, আল্লাহ তা'আলা জান্নাতকে বলবেনঃ “তুমি আমার রহমত। আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা করবো সে তোমাকে লাভ করবে। এটাই হলো মহাসাফল্য। পক্ষান্তরে যারা কুফরী করে তাদেরকে কিয়ামতের দিন শাসন-গর্জনরূপে বলা হবেঃ তোমাদের নিকট কি আল্লাহ তা'আলার আয়াত পাঠ করা হয়নি? অর্থাৎ নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়েছিল এবং তোমরা ওগুলো শুনেছিলে, কিন্তু তোমরা ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিলে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে। তোমরা অন্তরে কুফরী রেখে বাইরেও তোমাদের কাজে কর্মে আল্লাহর নাফরমানী করেছিলে এবং বাহাদুরী দেখিয়ে গুনাহর উপর গুনাহ করতে থেকেছিলে। যখন মুমিনরা তোমাদেরকে বলতো যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি তো সত্য এবং কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে, এতে কোনই সন্দেহ নেই, তখন তোমরা পাল্টা জবাব দিতেঃ কিয়ামত কি তা আমরা জানি না। আমরা মনে করি এটা একটা ধারণা মাত্র, আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত নই। এখন তাদের দুষ্কর্মের শাস্তি তাদের সামনে এসে গেছে। তারা তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল স্বচক্ষে দেখে নিয়েছে। যে শাস্তির কথা তারা উপহাস করে উড়িয়ে দিয়েছিল এবং 'যেটাকে অসম্ভব মনে করেছিল ঐ শাস্তি আজ তাদেরকে চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টন করে ফেলেছে। তাদেরকে সর্বপ্রকারের কল্যাণ হতে নিরাশ করে দেয়ার জন্যে বলা হবেঃ “আজ আমি তোমাদেরকে বিস্মৃত হয়ে যাবো। যেমন তোমরা এই দিনের সাক্ষাৎকারকে বিস্মৃত হয়েছিলে। তোমাদের আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নাম এবং এমন কেউ হবে না যে তোমাদের কোন সাহায্য করতে পারে।
সহীহ হাদীসে এসেছে যে, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন স্বীয় বান্দাদেরকে বলবেনঃ “আমি কি তোমাদেরকে সন্তান-সন্ততি দিয়েছিলাম না? তোমাদের উপর কি আমি আমার দয়া-দাক্ষিণ্য নাযিল করিনি। আমি কি তোমাদের জন্যে উট, ঘোড়া ইত্যাদিকে অনুগত করেছিলাম না? তোমাদেরকে কি আমি তোমাদের বাড়ীতে সুখে-শান্তিতে বাস করার জন্যে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিয়েছিলাম না?” তারা উত্তরে বলবেঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! এগুলো সবই সত্য। সত্যিই আপনার এই সমুদয় ইহসান আমাদের উপর ছিল। তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ “সুতরাং আজ আমি তোমাদেরকে বিস্মৃত হয়ে যাবো যেমন তোমরা আমাকে বিস্মৃত হয়েছিলে।”
এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ এই শাস্তি তোমাদেরকে এ জন্যেই দেয়া হচ্ছে যে, তোমরা আল্লাহ তা'আলার নিদর্শনাবলীকে বিদ্রুপ করেছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল। তোমরা এর উপরই নিশ্চিন্ত ছিলে, ফলে আজ তোমাদেরকে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হলো। আজ তোমাদেরকে জাহান্নাম হতে বের করা হবে না এবং তোমাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টার সুযোগ দেয়া হবে না। অর্থাৎ এই আযাব হতে তোমাদের বাঁচবার কোন উপায় নেই। এখন আমার সন্তুষ্টি লাভ করাও তোমাদের জন্যে অসম্ভব। মুমিনরা যেমন বিনা হিসাবে জান্নাতে চলে যাবে, ঠিক তেমনই তোমরাও বিনা হিসাবে জাহান্নামে যাবে। এখন তোমাদের তাওবা বৃথা।
আল্লাহ তাআলা মুমিন ও কাফিরদের মধ্যে যা ফায়সালা করবেন এটার বর্ণনা দেয়ার পর বলেনঃ ‘প্রশংসা তাঁরই, যিনি আকাশমণ্ডলীর প্রতিপালক, পৃথিবীর প্রতিপালক এবং জগতসমূহের প্রতিপালক।' অর্থাৎ যিনি আকাশ ও পৃথিবীর মালিক এবং এতোদুভয়ের মধ্যে যতকিছু রয়েছে সবকিছুরই যিনি অধিপতি, সমুদয় প্রশংসা ঐ আল্লাহরই প্রাপ্য।
অতঃপর তিনি বলেনঃ ‘আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে গৌরব গরিমা তারই। আসমানে ও যমীনে আল্লাহ তা'আলারই রাজত্ব, আধিপত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব। তিনি বড়ই মর্যাদা ও বুযুর্গীর অধিকারী। সবাই তার অধীনস্থ। সবাই তার মুখাপেক্ষী।
সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “শ্রেষ্ঠত্ব আমার তহবন্দ এবং অহংকার আমার চাদর। সুতরাং এ দু’টির কোন একটি আমার নিকট হতে ছিনিয়ে নেয়ার জন্যে যে ব্যক্তি টানাটানি করবে, আমি তাকে জাহান্নামে প্রবিষ্ট করবো।” (এ হাদীসটি সহীহ মুসলিমে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে)
তিনি ‘আযীয অর্থাৎ পরাক্রমশালী। তিনি কারো কাছে কখনো পরাস্ত হন। তার কোন কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন কেউ নেই।
তিনি প্রজ্ঞাময়। তাঁর কোন কথা, কোন কাজ, তাঁর শরীয়তের কোন মাসআলা, তাঁর লিখিত তকদীরের কোন অক্ষর হিকমত বা নিপুণতা শূন্য নয়। তিনি সমুচ্চ ও সমুন্নত। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।