আল কুরআন


সূরা আয-যুখরুফ (আয়াত: 78)

সূরা আয-যুখরুফ (আয়াত: 78)



হরকত ছাড়া:

لقد جئناكم بالحق ولكن أكثركم للحق كارهون ﴿٧٨﴾




হরকত সহ:

لَقَدْ جِئْنٰکُمْ بِالْحَقِّ وَ لٰکِنَّ اَکْثَرَکُمْ لِلْحَقِّ کٰرِهُوْنَ ﴿۷۸﴾




উচ্চারণ: লাকাদ জি’না-কুম বিল হাক্কিওয়ালা-কিন্না আকছারাকুম লিলহাক্কিকা-রিহূন।




আল বায়ান: ‘অবশ্যই তোমাদের কাছে আমি সত্য নিয়ে এসেছিলাম; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্য অপছন্দকারী*।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৮. আল্লাহ বলবেন, অবশ্যই আমরা তোমাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু তোমাদের বেশীর ভাগই ছিলে সত্য অপছন্দকারী।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি তো তোমাদের কাছে সত্য নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্যকে অপছন্দকারী।




আহসানুল বায়ান: (৭৮) (আল্লাহ বলবেন,) আমি তো তোমাদের নিকট সত্য পৌঁছে দিয়েছিলাম; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই তো সত্যবিমুখ ছিলে।[1]



মুজিবুর রহমান: আল্লাহ বলবেনঃ আমি তোমাদের নিকট সত্য পৌঁছিয়ে ছিলাম, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই ছিলে সত্য বিমুখ।



ফযলুর রহমান: আমি তোমাদের কাছে সত্য এনে দিয়েছি, কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই সত্যকে অপছন্দ করে।



মুহিউদ্দিন খান: আমি তোমাদের কাছে সত্যধর্ম পৌঁছিয়েছি; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই সত্যধর্মে নিস্পৃহ!



জহুরুল হক: আমরা তো তোমাদের কাছে সত্য নিয়েই এসেছিলাম, কিন্ত তোমাদের অধিকাংশই সত্যের প্রতি বিমুখ ছিলে।



Sahih International: We had certainly brought you the truth, but most of you, to the truth, were averse.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭৮. আল্লাহ বলবেন, অবশ্যই আমরা তোমাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু তোমাদের বেশীর ভাগই ছিলে সত্য অপছন্দকারী।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭৮) (আল্লাহ বলবেন,) আমি তো তোমাদের নিকট সত্য পৌঁছে দিয়েছিলাম; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই তো সত্যবিমুখ ছিলে।[1]


তাফসীর:

[1] এটা আল্লাহ তাআলার উক্তি অথবা ফিরিশতাগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে বলবেন। যেমন কোন বড় অফিসার প্রশাসন বা সরকারের তরফ থেকে ‘আমরা’ শব্দ ব্যবহার করে। এখানে أكثر (অধিকাংশ) অর্থ সবাই। অর্থাৎ, সমস্ত জাহান্নামী। অথবা أكثر বলতে নেতা ও সর্দারদেরকে বুঝানো হয়েছে। অন্যান্য জাহান্নামীরা তাদের অনুসারী হওয়ার দরুন তাদের মধ্যেই শামিল থাকবে। حَقّ (সত্য) বলতে সেই দ্বীন ও পয়গাম, যা পয়গম্বরগণের মাধ্যমে মানুষের মাঝে পাঠিয়েছেন। আর সর্বশেষ حق (সত্য) হল কুরআন ও ইসলাম।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭৪-৮০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



জান্নাতীদের আরাম-আয়েশের কথা বর্ণনা করার পর এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামীদের দুঃখ-দুর্দশার কথা বর্ণনা করেছেন। তারা তথায় (জাহান্নামে) চিরস্থায়ী শাস্তিতে থাকবে, যে শাস্তি কখনো লাঘব করা হবে না। يفتر শব্দের অর্থ হলো- কমানো, লাঘব করা, হালকা করা ইত্যাদি।



তাদের এ শাস্তি তাদের আমলের পরিণতি। কারণ আল্লাহ তা‘আলা কারো প্রতি বিন্দু পরিমাণ জুলুম করেন না। যেমন হাদীসে কুদসীতে এসেছে : আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



يَا عِبَادِي إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَي نَفْسِي، وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا، فَلَا تَظَالَمُوا



হে আমার বান্দারা! আমি নিজের প্রতি জুলুম করা হারাম করে নিয়েছি, আর তা তোমাদের জন্যও হারাম করে দিয়েছি। সুতরাং তোমরা পরস্পর জুলুম করো না। (সহীহ মুসলিম হা. ২৫৭৭) তারা এহেন শাস্তিতে অতিষ্ট হয়ে জাহান্নামের অধিকর্তা মালিক নামক ফেরেশতাকে লক্ষ্য করে বলবে- হে মালিক! তোমার প্রভুকে বলো, তিনি যেন আমাদের থেকে শাস্তি লাঘব করেন, আমাদেরকে যেন এ শাস্তি থেকে মুক্তি দান করেন। উত্তরে তাদেরকে বলা হবে, তোমাদের থেকে এ শাস্তি কমানো হবে না, বরং তোমরা এভাবেই থাকবে।



আল্লাহ তা‘আলার বাণী :



(وَالَّذِیْنَ کَفَرُوْا لَھُمْ نَارُ جَھَنَّمَﺆ لَا یُقْضٰی عَلَیْھِمْ فَیَمُوْتُوْا وَلَا یُخَفَّفُ عَنْھُمْ مِّنْ عَذَابِھَاﺚ کَذٰلِکَ نَجْزِیْ کُلَّ کَفُوْرٍ)



“আর যারা কুফরী করেছে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদেরকে মৃত্যুর আদেশও দেয়া হবে না যে, তারা মরে যাবে এবং তাদের থেকে দোযখের আযাবও হালকা করা হবে না। আমি এরূপই শাস্তি দিয়ে থাকি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে।” (সূরা ফা-ত্বির ৩৫ : ৩৬)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন :



(ثُمَّ لَا يَمُوْتُ فِيْهَا وَلَا يَحْيٰي) ‏



“অতঃপর সে সেখানে মরবেও না, বাঁচবেও না।” (সূরা আ‘লা ৮৭ : ১১)



তারা তথায় চিরস্থায়ী শাস্তিতে থাকবে যে শাস্তির কোনই শেষ নেই। যেহেতু তারা সত্যকে অস্বীকার করেছে, আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করেছে, সেহেতু তারা জাহান্নামের অধিকারী হয়েছে। আর এজন্যই তাদের সমস্ত কার্যকলাপ আল্লাহ তা‘আলা ফিরিশ্তার মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করে রাখছেন, যেন তা কিয়ামতের দিন সে অস্বীকার করার সুযোগ না পায়।



إبرام-এর অর্থ হলো সুদৃঢ়, চূড়ান্ত, পাকাপোক্ত ও মজবুত করা।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. সত্য প্রত্যাখ্যান করলে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।

২. মানুষ যা করে ফেরেশতারা সবই লিখে রাখে।

৩. কোন চক্রান্তই আল্লাহ তা‘আলার বিরুদ্ধে কাজে আসবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭৪-৮০ নং আয়াতের তাফসীর:

উপরে সৎ লোকদের বর্ণনা দেয়া হয়েছিল এ জন্যে এখানে মন্দ ও অসৎ লোকদের অবস্থার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, পাপীরা স্থায়ীভাবে জাহান্নামের আযাব। ভোগ করতে থাকবে। এক ঘন্টার জন্যেও তাদের ঐ শাস্তি হালকা করা হবে না। জাহান্নামে সে হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকবে। সর্বপ্রকারের কল্যাণ হতে সে। নিরাশ হয়ে যাবে।

মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমি তাদের প্রতি যুলুম করিনি, বরং তারা নিজেরাই ছিল যালিম। দুষ্কর্যের মাধ্যমে তারা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করেছে। আমি রাসূল পাঠিয়েছিলাম, কিতাব নাযিল করেছিলাম এবং যুক্তি-প্রমাণ কায়েম করেছিলাম। কিন্তু তারা তাদের হঠকারিতা, অবাধ্যতা এবং সীমালংঘন হতে বিরত হয়নি। ফলে আমি তাদেরকে এর প্রতিফল প্রদান করেছি। এটা আমার তাদের প্রতি যুলুম নয়, আমি তো আমার বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুম করি না।

জাহান্নামীরা জাহান্নামের রক্ষক মালিককে চীৎকার করে ডাক দিয়ে বলবেঃ ‘তোমার প্রতিপালক যেন আমাদেরকে নিঃশেষ করে দেন। সহীহ বুখারী শরীফের মধ্যে হযরত ইয়ালা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে মিম্বরের উপর এ আয়াতটি পড়তে শুনেন, অতঃপর তিনি বলেন যে, জাহান্নামীরা মৃত্যু কামনা করবে যাতে শাস্তি হতে পরিত্রাণ লাভ করতে পারে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে এটা ফায়সালা হয়ে গেছে যে, না তাদের মৃত্যু হবে এবং না তাদের শাস্তি হালকা করা হবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের উপর এ সিদ্ধান্ত নেই যে, তারা মৃত্যু বরণ করবে, আর তাদের হতে শাস্তি হালকা করা হবে না।” (৩৫:৩৬) আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “ওটা (উপদেশ) উপেক্ষা করবে যে নিতান্ত হতভাগা, যে মহা অগ্নিতে প্রবেশ করবে, অতঃপর সেখানে সে মরবেও না, বাঁচবেও না।” (৮৭:১১-১৩)।

যখন জাহান্নামীরা জাহান্নামের রক্ষক মালিকের কাছে আবেদন করবে যে, আল্লাহ তাআলা যেন তাদের মৃত্যু ঘটিয়ে দেন, তখন মালিক উত্তরে বলবেঃ ‘তোমরা এখানে এভাবেই থাকবে, তোমাদের আর মৃত্যু হবে না। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, হলো এক হাজার বছর। অর্থাৎ তোমরা মরবেও না, মুক্তিও পাবে না এবং এখান হতে পালাতেও পারবে না।

এরপর মহান আল্লাহ তাদের দুস্কার্যের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, যখন তিনি তাদের সামনে সত্যকে পেশ করেন অর্থাৎ তাদের সামনে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন। তখন তারা তা মেনে নেয়া তো দূরের কথা, ওর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতঃ মুখ ফিরিয়ে নেয়। ওটা তাদের মনেই চায় না। তাই তারা হকপন্থীদেরকে ঘৃণার চোখে দেখে। তারা অসত্য ও অন্যায়ের দিকেই ঝুঁকে থাকে এবং অসৎপন্থীদের সাথেই তাদের খুব মিল মহব্বত। সুতরাং তাদেরকে বলা হবেঃ “তোমরা আজ নিজেদেরকেই ভৎসনা কর এবং নিজেদের উপরই দুঃখ আফসোস কর। কিন্তু সেদিন তাদের আফসোসেও কোন উপকার হবে না।

এরপর ইরশাদ হচ্ছেঃ “তারা জঘন্য চক্রান্তের ইচ্ছা করেছিল, তখন আমিও কৌশল করেছিলাম।' মুজাহিদ (রঃ) এটার এই তাফসীর করেছেন এবং এর স্বপক্ষে আল্লাহ্ পাকের নিম্নের উক্তিটি রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা চক্রান্ত করেছিল এবং আমিও এমন কৌশল করেছিলাম যে, তারা বুঝতেই পারে না।” (২৭:৫০) মুশরিকরা সত্যকে এড়িয়ে চলার জন্যে নানা প্রকারের কৌশল অবলম্বন করতো। আল্লাহ তাআলাও তখন তাদেরকে ধোকার মধ্যেই রেখে দেন এবং তাদের দুষ্কর্মের শাস্তি তাদের মাথার উপর এসে না পড়া পর্যন্ত তাদের চক্ষু খুললো না। এ জন্যেই এর পরেই প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহ বলেনঃ “তারা কি মনে করে যে, আমি তাদের গোপন বিষয় ও মন্ত্রণার খবর রাখি না? তাদের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আমি অবশ্যই তাদের সমস্ত গোপন বিষয় অবগত রয়েছি। আর আমার ফেরেশতারা তো তাদের নিকট থেকে সবকিছু লিপিবদ্ধ করে। অর্থাৎ আমি নিজেই তো তাদের সমস্ত গোপন বিষয়ের খবর রাখি, তদুপরি আমার নির্ধারিত ফেরেশতারা তাদের ছোট বড় সব আমলই লিপিবদ্ধ করে রাখছে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।