সূরা আশ-শূরা (আয়াত: 50)
হরকত ছাড়া:
أو يزوجهم ذكرانا وإناثا ويجعل من يشاء عقيما إنه عليم قدير ﴿٥٠﴾
হরকত সহ:
اَوْ یُزَوِّجُهُمْ ذُکْرَانًا وَّ اِنَاثًا ۚ وَ یَجْعَلُ مَنْ یَّشَآءُ عَقِیْمًا ؕ اِنَّهٗ عَلِیْمٌ قَدِیْرٌ ﴿۵۰﴾
উচ্চারণ: আও ইউযাওবিজুহুম যুকরা-নাওঁ ওয়া ইনা-ছাওঁ ওয়া ইয়াজ‘আলুমাইঁ ইয়াশাউ ‘আকীমান ইন্নাহূ‘আলীমুন কাদীর।
আল বায়ান: অথবা তাদেরকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন। তিনি তো সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫০. অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছে তাকে করে দেন বন্ধ্যা; নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাবান।
তাইসীরুল ক্বুরআন: অথবা তাদেরকে দেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই। আর যাকে ইচ্ছে বন্ধ্যা করেন। তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বাধিক অবহিত ও ক্ষমতাবান।
আহসানুল বায়ান: (৫০) অথবা দান করেন পুত্র-কন্যা উভয়ই[1] এবং যাকে ইচ্ছা তাকে বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ সর্বশক্তিমান।
মুজিবুর রহমান: অথবা দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা তাকে করে দেন বন্ধ্যা। তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।
ফযলুর রহমান: অথবা তাদেরকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন। আবার যাকে ইচ্ছা নিঃসন্তান রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি মহাজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান।
মুহিউদ্দিন খান: অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল।
জহুরুল হক: অথবা তিনি তাদের জোড়ে দেন পুত্রসন্তান ও কন্যা-সন্তান, আবার যাকে চান তাকে তিনি বন্ধ্যা বানিয়ে দেন। নিঃসন্দেহ তিনি সর্বজ্ঞাতা, সর্বশক্তিমান।
Sahih International: Or He makes them [both] males and females, and He renders whom He wills barren. Indeed, He is Knowing and Competent.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫০. অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছে তাকে করে দেন বন্ধ্যা; নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাবান।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫০) অথবা দান করেন পুত্র-কন্যা উভয়ই[1] এবং যাকে ইচ্ছা তাকে বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ সর্বশক্তিমান।
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, যাকে চান পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন। এখানে মহান আল্লাহ চার প্রকার মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন। (ক) যারা কেবল পুত্র সন্তান লাভ করে। (খ) যারা কেবল কন্যা সন্তান লাভ করে। (গ) যারা পুত্র ও কন্যা উভয় সন্তান লাভ করে। (ঘ) বন্ধ্যা; যারা না পুত্র সন্তান পায়, আর না কন্যা সন্তান। মানুষের মাঝে এই পার্থক্য ও তফাৎ আল্লাহ তাআলার মহাশক্তির নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ কর্তৃক জারী এই তফাৎকে পৃথিবীর কোন শক্তি পরিবর্তন করার সামর্থ্য রাখে না। এই পার্থক্য তো জাতকের দিক দিয়ে। জনকের দিক দিয়েও মানুষ চার প্রকার। যথাঃ (ক) আদম (আঃ)-কে কেবল মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর না বাপ আছেন, আর না মা। (খ) হাওয়া (আলাইহাস সালাম)-কে আদম (আঃ) হতে; অর্থাৎ পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর মা নেই। (গ) ঈসা (আঃ)-কে কেবল নারীর গর্ভ থেকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর বাপ নেই। (ঘ) অবশিষ্ট সকল মানুষকে নারী-পুরুষের মিলনের মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন। তাদের জনক আছে এবং জননীও। فَسُبْحَانَ اللهِ الْعَلِيْمِ الْقَدِيْرِ (ইবনে কাসীর)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৯-৫০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
অত্র আয়াতদ্বয়ে বলা হচ্ছে যে, সকল ক্ষমতার উৎস ও অধিকারী একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। তাঁর জন্যই আকাশ ও জমিনের রাজত্ব। তিনি তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী সবকিছু করেন। তিনি যা কিছু চান তাই হয় আর যা চান না তা হয় না। তাঁর ইচ্ছার ওপর কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
(يَخْلُقُ مَا يَشَا۬ءُ)
তিনি যা ইচ্ছা তাই সৃষ্টি করেন। তিনি ইচ্ছা করলে কাউকে শুধু পুত্র সন্তান দান করেন, আবার ইচ্ছা করলে কাউকে শুধু কন্যা সন্তান দান করেন। কাউকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন আবার কাউকে বন্ধ্যা অবস্থায় রেখে দেন। এগুলো মূলত আল্লাহ তা‘আলার মহাশক্তির নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই এ ক্ষমতার অধিকারী। তিনি ব্যতীত আর কেউ নেই, যে মানুষকে সন্তান দান করতে পারে। যারা মনে করে যে, আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত কোন পীর-ফকির সন্তান দান করতে পারে তাদের এ দাবী মিথ্যা, তারা সন্তান দেয়ার নামে শরীয়ত গর্হিত কাজ করে থাকে। কোন মানুষের পক্ষে এটা কক্ষনো সম্ভব নয়। যারা এরূপ বিশ্বাস করবে তারা মূলত মুশরিক। এখানে আল্লাহ তা‘আলা চার শ্রেণির মানুষের কথা বর্ণনা করেছেন- (১) যারা কেবল পুত্র সন্তান লাভ করে, (২) যারা কেবল কন্যা সন্তান লাভ করে, (৩) যারা পুত্র ও কন্যা উভয় সন্তান লাভ করে, (৪) বন্ধ্যা : যারা কোন প্রকার সন্তান লাভ করে না। এ শ্রেণী বিভাগ হলো জাতকের দিক দিয়ে। জনকের দিক দিয়েও মানুষ চার প্রকার : (১) আদম (আঃ)-কে কেবল মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, (২) হাওয়া (আঃ)-কে আদম (আঃ) থেকে অর্থাৎ শুধু পরুষ থেকে সৃষ্টি করেছেন, ৩. ‘ঈসা (আঃ)-কে কেবল নারী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, (৪) অবশিষ্ট সকল মানুষকে নারী-পুরুষের মিলনের মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়েছে। এর প্রত্যেকটি সৃষ্টিই আল্লাহ তা‘আলার পরিপূর্ণ ক্ষমতার ওপর প্রমাণ বহন করে। অতএব সন্তান চাওয়ার জন্য কোন মাযার, কোন পীর বা ফকিরের কাছে যাওয়া যাবে না, বরং আল্লাহ তা‘আলার কাছে চাইতে হবে। তিনি ইচ্ছা করলে সবই সম্ভব।
এসব আয়াতে সন্তানের প্রকার বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম কন্যা-সন্তানের কথা উল্লেখ করলেন, আর পুত্র-সন্তানের কথা উল্লেখ করলেন পরে। এ ইঙ্গিতদৃষ্টে ওয়াছেলা ইবনু আসকা বলেন : যে নারীর গর্ভ থেকে প্রথমে কন্যা-সন্তান হবে সে পুণ্যময়ী (কুরতুবী)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. সন্তান দান করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার হাতে।
২. আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীতে চার শ্রেণির মানুষ সৃষ্টি করেছেন।
৩. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত কারো কাছে এমন কিছু যাওয়া যাবে না, যা দেয়ার মালিক আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কেউ না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৯-৫০ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ্ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, সৃষ্টিকর্তা, অধিকর্তা এবং আকাশ ও পৃথিবীর ব্যবস্থাপক একমাত্র আল্লাহ্। তিনি যা চান তা হয় এবং যা চান না তা হয় না। তিনি যাকে ইচ্ছা দেন, যাকে ইচ্ছা দেন না। তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা শুধু কন্যা সন্তানই দান করেন, যেমন হযরত নূত (আঃ)। আর যাকে চান তাকে শুধু পুত্র সন্তান দান করেন, যেমন হযরত ইবরাহীম (আঃ)। আবার যাকে ইচ্ছা তিনি পুত্র ও কন্যা উভয় সন্তানই দান করেন, যেমন হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (সঃ)। আর তিনি যাকে ইচ্ছা সন্তানহীন করেন, যেমন হযরত ইয়াহ্ইয়া (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ)। সুতরাং চারটি শ্ৰেণী হলোঃ শুধু কন্যা সন্তানের অধিকারী, শুধু পুত্র সন্তানের অধিকারী, উভয় সন্তানেরই অধিকারী এবং সন্তানহীন।
তিনি সর্বজ্ঞ, প্রত্যেক হকদার সম্পর্কে তিনি পূর্ণ ওয়াকিফহাল। তিনি সর্বশক্তিমান, তিনি ইচ্ছামত বিভিন্নতা ও তারতম্য রাখেন।
সুতরাং এটা আল্লাহ পাকের ঐ ফরমানের মতই যা হযরত ঈসা (আঃ)-এর ব্যাপারে রয়েছে। তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “এটাকে যেন আমি লোকদের জন্যে নিদর্শন করি।”(১৯:২১) অর্থাৎ এটাকে আমি আমার শক্তির প্রমাণ বানাতে চাই এবং দেখাতে চাই যে, আমি মানুষকে চার প্রকারে সৃষ্টি করেছি। হযরত আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করেছি শুধু মাটি দ্বারা, তার পিতাও ছিল। না, মাতাও ছিল না। হযরত হাওয়া (আঃ)-কে সৃষ্টি করেছি শুধু পুরুষের মাধ্যমে। আর হযরত ঈসা (আঃ) ছাড়া অন্যান্য সমস্ত মানুষকে আমি সৃষ্টি করেছি পুরুষ ও নারীর মাধ্যমে এবং ঈসা (আঃ)-কে সৃষ্টি করেছি পুরুষ ছাড়াই, শুধু নারীর মাধ্যমে। সুতরাং হযরত ঈসা (আঃ)-কে সৃষ্টির করে মহাপ্রতাপান্বিত ও মহান শক্তিশালী আল্লাহ তার সৃষ্টির এই চার প্রকার পূর্ণ করেছেন। ঐ স্থানটি ছিল মাতা-পিতা সম্পর্কে এবং এই স্থানটি হলো সন্তানদের সম্পর্কে। ওটাও চার প্রকার এবং এটাও চার প্রকার। সুবহানাল্লাহ! এটাই হলো আল্লাহ তা'আলার জ্ঞান ও ক্ষমতার নিদর্শন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।