সূরা আশ-শূরা (আয়াত: 32)
হরকত ছাড়া:
ومن آياته الجواري في البحر كالأعلام ﴿٣٢﴾
হরকত সহ:
وَ مِنْ اٰیٰتِهِ الْجَوَارِ فِی الْبَحْرِ کَالْاَعْلَامِ ﴿ؕ۳۲﴾
উচ্চারণ: ওয়া মিন আ-য়া-তিহিল জাওয়া-রি ফিল বাহরি কালআ‘লা-ম।
আল বায়ান: তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে আরো রয়েছে সমুদ্রে চলাচলকারী পর্বতমালার মত জাহাজসমূহ।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩২. আর তাঁর অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে পর্বতসদৃশ সাগরে চলমান নৌযানসমূহ।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে হল সমুদ্রে নির্বিঘ্নে চলমান জাহাজ- পাহাড়ের মত।
আহসানুল বায়ান: (৩২) তাঁর অন্যতম নিদর্শন সমুদ্রগামী পাহাড় তুল্য নৌযানসমূহ।[1]
মুজিবুর রহমান: তাঁর অন্যতম নিদর্শন পর্বত সদৃশ সমুদ্রে চলমান নৌযানসমূহ।
ফযলুর রহমান: তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে সমুদ্রে চলমান পাহাড়ের মত (উঁচু) জাহাজসমূহ।
মুহিউদ্দিন খান: সমুদ্রে ভাসমান পর্বতসম জাহাজসমূহ তাঁর অন্যতম নিদর্শন।
জহুরুল হক: আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে হচ্ছে সমুদ্রে পাহাড়ের মতো জাহাজগুলো --
Sahih International: And of His signs are the ships in the sea, like mountains.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩২. আর তাঁর অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে পর্বতসদৃশ সাগরে চলমান নৌযানসমূহ।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩২) তাঁর অন্যতম নিদর্শন সমুদ্রগামী পাহাড় তুল্য নৌযানসমূহ।[1]
তাফসীর:
[1] الجَوَارِ অথবা الجَوَارِيْ হল, جَارِيَةٌ (চলমান)এর বহুবচন। অর্থ, নৌকা ও পানিজাহাজসমূহ। এগুলো মহান আল্লাহর পরিপূর্ণ শক্তির নিদর্শন। সমুদ্রে ভাসমান পাহাড়সম নৌযান ও জাহাজসমূহ তাঁরই নির্দেশে চলমান। তিনি নির্দেশ দিলে এগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠে নিশ্চল হয়ে পড়বে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩২-৩৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
পূর্বের আয়াতগুলোতে যেভাবে আল্লাহ তা‘আলার মহত্ত্বের, বড়ত্ত্বের ও ক্ষমতার নিদর্শন বর্ণনা করা হয়েছে এ আয়াতেও তাঁর ক্ষমতার অন্যতম একটি নিদর্শন বর্ণনা করা হয়েছে : তা হলো তাঁর অনুমতিতে পাহাড় সমান বড় বড় নৌযান সমুদ্রে ভাসমান হয়ে চলাচল করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তিনি যদি বাতাসকে স্তব্ধ করে দিতেন অর্থাৎ বাতাস বন্ধ করে দিতেন তাহলে নৌযানসমূহের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে, মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে, পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। এগুলো মূলত আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশেই চলাচল করে থাকে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَاٰیَةٌ لَّھُمْ اَنَّا حَمَلْنَا ذُرِّیَّتَھُمْ فِی الْفُلْکِ الْمَشْحُوْنِﭸﺫ وَخَلَقْنَا لَھُمْ مِّنْ مِّثْلِھ۪ مَا یَرْکَبُوْنَﭹ وَاِنْ نَّشَاْ نُغْرِقْھُمْ فَلَا صَرِیْخَ لَھُمْ وَلَا ھُمْ یُنْقَذُوْنَﭺ اِلَّا رَحْمَةً مِّنَّا وَمَتَاعًا اِلٰی حِیْنٍﭻ )
“আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন এই যে, আমি তাদের সন্তান-সন্ততিকে বোঝাই নৌকায় আরোহণ করিয়েছি। এবং তাদের জন্য আমি এর অনুরূপ যানবাহন সৃষ্টি করেছি যাতে তারা আরোহণ করে। আর আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে ডুবিয়ে দিতে পারি, তখন কেউ তাদের আর্তনাদে সাড়া দেবে না এবং তাদেরকে উদ্ধারও করা হবে না। কিন্তু আমারই পক্ষ থেকে রহমত ও কিছু সময়ের জন্য সুখ ভোগ করতে দেয়ার উদ্দেশ্যে আমি তা করি না।” (সূরা ইয়া-সীন ৩৬ : ৪১-৪৪)
الْجَوَارِ শব্দটি الجارية এর বহুবচন, অর্থ হল নৌযান, মূলত অর্থ চলমান ও ভাসমান। যেহেতু নৌযান ভেসে চলে তাই তাকে الجارية বলা হয়। رَوَاكِدَ শব্দটি راكد এর বহুবচন, অর্থ স্থির থাকা।
الاعلام অর্থ পাহাড়, অর্থাৎ পাহাড় সমান নৌযান।
এ সকল নিদর্শনসমূহ প্রমাণ করে- আল্লাহ তা‘আলা একক, অদ্বিতীয়। তিনিই সকল ইবাদত পাওয়ার হকদার। এ সকল নিদর্শন সম্পর্কে পূর্বে সূরা আন্ নাহ্লসহ অন্যান্য সূরাতেও আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. কোন কিছুই এমন নেই যে, আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশ ব্যতীত চলাচল করতে পারে। সকল কিছু তাঁর নির্দেশ মোতাবেক চলাচল করে, এমনকি বাতাসও তাঁর হুকুমে চলাচল করে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩২-৩৫ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা স্বীয় ক্ষমতার নিদর্শন স্বীয় মাখলুকের কাছে রাখছেন যে, তিনি সমুদ্রকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। যাতে নৌযানসমূহ তাতে যখন তখন চলাফেরা করতে পারে। সমুদ্রে বড় বড় নৌযানগুলোকে যমীনের বড় বড় পাহাড়ের মত দেখায়। যে বায়ু নৌযানগুলোকে এদিক হতে ওদিকে নিয়ে যায় তা তার অধিকারভুক্ত। তিনি ইচ্ছা করলে ঐ বায়ুকে স্তব্ধ করে দিতে পারেন, ফলে নৌযানসমূহ নিশ্চল হয়ে পড়বে সমুদ্র পৃষ্ঠে। প্রত্যেক ঐ ব্যক্তির জন্যে এতে নিদর্শন রয়েছে যে দুঃখে ধৈর্যধারণ ও সুখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে অভ্যস্ত। সে এসব নিদর্শন দেখে আল্লাহ তা'আলার ব্যাপক ও অসীম ক্ষমতা ও আধিপত্য জানতে ও বুঝতে পারে। যেমন মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহ বায়ুকে স্তব্ধ করে দিয়ে নৌযানসমূহকে নিশ্চল করে দিতে পারেন, অনুরূপভাবে পর্বত সদৃশ নৌযানগুলোকে ক্ষণেকের মধ্যে সমুদ্রে ডুবিয়ে দিতে পারেন। তিনি ইচ্ছা করলে নৌযানের আরোহীদের পাপের কারণে ঐগুলোকে বিধ্বস্ত করে দিতে পারেন। অনেককে তিনি ক্ষমা করে থাকেন। যদি সমস্ত গুনাহর উপর তিনি পাকড়াও করতেন তবে নৌযানের সমস্ত আরোহীকে সোজাসুজি সমুদ্রে ডুবিয়ে দিতেন। কিন্তু তার সীমাহীন রহমত তাদেরকে সমুদ্রের এপার হতে ওপারে নিয়ে যায়। তাফসীরকারগণ এও বলেছেন যে, তিনি ইচ্ছা করলে বায়ুকে প্রতিকূলভাবে প্রবাহিত করতে পারেন, ফলে নৌযানগুলো আর সোজাভাবে চলতেই পারবে না, বরং এদিক ওদিক চলে যাবে। মাঝি-মাল্লারা তখন আর নৌযানগুলোর ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবে না। যেদিকে যাওয়ার দরকার সেদিকে না গিয়ে নৌকা অন্যদিকে চলে যাবে। ফলে যাত্রীরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংসের মুখে পতিত হবে। মোটকথা, যদি আল্লাহ তা'আলা বায়ুকে স্তব্ধ করে দেন তবে তো নৌকা নিশ্চল হয়ে পড়বে, আবার যদি বায়ুকে এলোপাতাড়িভাবে প্রবাহিত করেন তাহলেও যাত্রীদের সমূহ ক্ষতি হবে। কিন্তু মহান আল্লাহর এটা বড়ই দয়া ও করুণা যে, তিনি শান্ত ও অনুকূল বায়ু প্রবাহিত করেন, ফলে আদম সন্তানরা অতি সহজে ও নিরাপদে নৌকাযোগে সুদীর্ঘ পথ অতিক্রম করে নিজেদের গন্তব্যস্থলে পৌছে যায়। বৃষ্টির অবস্থাও এইরূপ যে, যদি মোটেই বর্ষিত না হয় তবে যমীন শুকিয়ে যাবে এবং কোন ফসল উৎপন্ন হবে না। ফলে মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হবে। আর যদি অতিমাত্রায় বর্ষিত হয়, তবে মানুষ বন্যার কবলে পতিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা কত বড় মেহেরবান যে, যে শহরে ও যে যমীনে বেশী বৃষ্টির প্রয়োজন সেখানে তিনি বেশী বৃষ্টি বর্ষণ করেন। এবং যেখানে বৃষ্টির প্রয়োজন কম সেখানে কমই বর্ষণ করেন।
এরপর মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বলেনঃ যারা আমার নিদর্শন সম্বন্ধে বিতর্ক করে তাদের জেনে রাখা উচিত যে তারা আমার ক্ষমতার বাইরে নয়। আমি যদি তাদেরকে শাস্তি দেয়ার ইচ্ছা করি তবে তাদের কোন নিষ্কৃতি নেই। সবাই আমার ক্ষমতা ও ইচ্ছার অধীনে রয়েছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।