আল কুরআন


সূরা হা-মীম আস-সাজদা (ফুসসিলাত) (আয়াত: 50)

সূরা হা-মীম আস-সাজদা (ফুসসিলাত) (আয়াত: 50)



হরকত ছাড়া:

ولئن أذقناه رحمة منا من بعد ضراء مسته ليقولن هذا لي وما أظن الساعة قائمة ولئن رجعت إلى ربي إن لي عنده للحسنى فلننبئن الذين كفروا بما عملوا ولنذيقنهم من عذاب غليظ ﴿٥٠﴾




হরকত সহ:

وَ لَئِنْ اَذَقْنٰهُ رَحْمَۃً مِّنَّا مِنْۢ بَعْدِ ضَرَّآءَ مَسَّتْهُ لَیَقُوْلَنَّ هٰذَا لِیْ ۙ وَ مَاۤ اَظُنُّ السَّاعَۃَ قَآئِمَۃً ۙ وَّ لَئِنْ رُّجِعْتُ اِلٰی رَبِّیْۤ اِنَّ لِیْ عِنْدَهٗ لَلْحُسْنٰی ۚ فَلَنُنَبِّئَنَّ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا بِمَا عَمِلُوْا ۫ وَ لَنُذِیْقَنَّهُمْ مِّنْ عَذَابٍ غَلِیْظٍ ﴿۵۰﴾




উচ্চারণ: ওয়ালাইন আযাকনা-হু রাহমাতাম মিন্না-মিম বা‘দি দাররাআ মাছছাতহু লাইয়াকূলান্না হা-যা-লী ওয়ামাআজুন্নুছ ছা‘আতা কাইমাতাওঁ ওয়ালাইর রুজি‘তুইলারাববীইন্না লী ‘ইনদাহূলালহুছনা- ফালানুনাব্বিআন্নাল্লাযীনা কাফারূবিমা-‘আমিলূ ওয়া লানুযীকান্নাহুম মিন ‘আযা-বিন গালীজ।




আল বায়ান: আবার আমি যদি তাকে আপতিত অকল্যাণের পর রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই তখন সে অবশ্যই বলে থাকে, ‘এটি আমার প্রাপ্য, আমার মনে হয় না কিয়ামত হবে, আমাকে যদি আমার রবের কাছে ফিরিয়েও নেয়া হয় তবুও তার কাছে আমার জন্য কল্যাণই থাকবে।’ (আল্লাহ বলেন) ‘আমি অবশ্যই কাফিরদেরকে তাদের আমল সম্পর্কে অবহিত করব এবং অবশ্যই তাদেরকে কঠিন আযাবের স্বাদ আস্বাদন করাব।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫০. আর যদি দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করার পর আমরা তাকে আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহের আস্বাদন দেই, তখন সে অবশ্যই বলে থাকে, এ আমার প্রাপ্য এবং আমি মনে করি না যে, কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর যদি আমাকে আমার রবের কাছে ফিরিয়ে নেয়াও হয়, তবুও তার কাছে আমার জন্য কল্যাণই থাকবে। অতএব, আমরা অবশ্যই কাফিরদেরকে তাদের আমল সম্বন্ধে অবহিত করব এবং তাদেরকে অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠোর শাস্তি।




তাইসীরুল ক্বুরআন: দুঃখ-বিপদ মানুষকে স্পর্শ করার পর আমি যখন তাকে আমার অনুগ্রহ আস্বাদন করাই তখন সে অবশ্য অবশ্যই বলে- এটা আমার ন্যায্য পাওনা। ক্বিয়ামত যে সংঘটিত হবে আমি মোটেই তা মনে করি না। আর যদি আমাকে আমার প্রতিপালকের নিকট ফিরিয়ে নেয়া হয়ই, তবে তাঁর কাছে আমার জন্য অবশ্যই কল্যাণ আছে। অতঃপর আমি কাফিরদেরকে অবশ্য অবশ্যই জানিয়ে দেব তারা (দুনিয়াতে) কী কাজ করেছিল। আর অবশ্য অবশ্যই তাদেরকে আমি কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব।




আহসানুল বায়ান: (৫০) দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করার পর যদি আমি তাকে অনুগ্রহের আস্বাদ দিই, তাহলে সে অবশ্যই বলবে, ‘এ আমার প্রাপ্য[1] এবং আমি মনে করি না যে, কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিতও হই, তাহলে তাঁর নিকট তো আমার জন্য কল্যাণই থাকবে।’[2] আমি সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদেরকে ওদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে অবশ্যই অবহিত করব এবং ওদেরকে আস্বাদন করাব কঠিন শাস্তি।



মুজিবুর রহমান: দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করার পর যদি তাকে আমি অনুগ্রহের আস্বাদ দিই তখন সে বলেই থাকেঃ এটা আমার প্রাপ্য এবং আমি মনে করিনা যে, কিয়ামাত সংঘটিত হবে; আর আমি যদি আমার রবের নিকট প্রত্যাবর্তিত হইও তাহলে তাঁর নিকটতো আমার জন্য কল্যাণই থাকবে। আমি কাফিরদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে অবশ্যই অবহিত করব এবং তাদেরকে আস্বাদন করাব কঠোর শাস্তি।



ফযলুর রহমান: দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করার পর তাকে যদি আমি আমার পক্ষ থেকে কোন অনুগ্রহ আস্বাদন করাই তাহলে সে অবশ্যই বলবে, “এটা তো আমার পাওনা। আর কেয়ামত হবে বলে আমার মনে হয় না। তবে একান্তই যদি আমাকে আমার প্রভুর কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হয় তাহলে আমার জন্য তাঁর কাছে অবশ্যই কল্যাণ থাকবে।” অতএব, অবশ্যই আমি কাফেরদেরকে তাদের কৃতকর্ম অবহিত করব এবং অবশ্যই তাদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব।



মুহিউদ্দিন খান: বিপদাপদ স্পর্শ করার পর আমি যদি তাকে আমার অনুগ্রহ আস্বাদন করাই, তখন সে বলতে থাকে, এটা যে আমার যোগ্য প্রাপ্য; আমি মনে করি না যে, কেয়ামত সংঘটিত হবে। আমি যদি আমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাই, তবে অবশ্যই তার কাছে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে। অতএব, আমি কাফেরদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে অবশ্যই অবহিত করব এবং তাদেরকে অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠিন শাস্তি।



জহুরুল হক: আর দুঃখদুর্দশা তাকে স্পর্শ করার পরে আমরা যদি তাকে আমাদের থেকে করুণা আস্বাদ করাই, সে নিশ্চয়ই বলবে -- "এটি আমারই জন্যে, আর আমি মনে করি না যে ঘড়িঘন্টা কায়েম হবে, আর যদিই বা আমাকে আমার প্রভুর কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তবে আমার জন্য তাঁর কাছে কল্যাণই থাকবে।" কিন্ত যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের আমরা অবশ্যই জানিয়ে দেব কী তারা করেছিল এবং তাদের আমরা অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠোর শাস্তি থেকে।



Sahih International: And if We let him taste mercy from Us after an adversity which has touched him, he will surely say, "This is [due] to me, and I do not think the Hour will occur; and [even] if I should be returned to my Lord, indeed, for me there will be with Him the best." But We will surely inform those who disbelieved about what they did, and We will surely make them taste a massive punishment.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫০. আর যদি দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করার পর আমরা তাকে আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহের আস্বাদন দেই, তখন সে অবশ্যই বলে থাকে, এ আমার প্রাপ্য এবং আমি মনে করি না যে, কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর যদি আমাকে আমার রবের কাছে ফিরিয়ে নেয়াও হয়, তবুও তার কাছে আমার জন্য কল্যাণই থাকবে। অতএব, আমরা অবশ্যই কাফিরদেরকে তাদের আমল সম্বন্ধে অবহিত করব এবং তাদেরকে অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠোর শাস্তি।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫০) দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করার পর যদি আমি তাকে অনুগ্রহের আস্বাদ দিই, তাহলে সে অবশ্যই বলবে, ‘এ আমার প্রাপ্য[1] এবং আমি মনে করি না যে, কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিতও হই, তাহলে তাঁর নিকট তো আমার জন্য কল্যাণই থাকবে।”[2] আমি সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদেরকে ওদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে অবশ্যই অবহিত করব এবং ওদেরকে আস্বাদন করাব কঠিন শাস্তি।


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, আমি আল্লাহর নিকটে প্রিয়। তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট, এই জন্য তিনি আমাকে তাঁর নিয়ামত দান করেছেন। অথচ পার্থিব ধনবত্তা ও দারিদ্র্য এবং সুখ ও দুঃখ তাঁর সন্তুষ্টি অথবা অসন্তুষ্টির কোন নিদর্শন নয়। বরং কেবলমাত্র পরীক্ষার জন্য আল্লাহ এমন করে থাকেন। যার দ্বারা তিনি দেখতে চান যে, তাঁর নিয়ামতের কে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে এবং মসীবতে কে ধৈর্য ধারণ করে?

[2] এই প্রকার বক্তা কাফের অথবা মুনাফিক হবে। কোন মু’মিন এই ধরনের কথা বলতে পারে না। কাফেররাই এটা ধারণা করে যে, আমাদের পার্থিব জীবন যেমন মঙ্গলের সাথে অতিবাহিত হচ্ছে, তেমনি পরকালের জীবনও অতিবাহিত হবে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৯-৫১ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



এখানে আল্লাহ তা‘আলা মানুষের একটি মন্দ অভ্যাসের কথা আলোচনা করেছেন। মানুষ প্রাচুর্যের লালসায় মোহিত। তার যত সম্পদ, সন্তান, ক্ষমতা ও সম্মান থাকে সে আরো বেশি কামনা করে। একটি বাড়ি থাকলে চায় আরেকটি বাড়ি যদি থাকত! এরূপ কামনা করতেই থাকে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : আদম সন্তানের একটি স্বর্ণের পাহাড় থাকলে সে পছন্দ করে তার যদি দু’টি স্বর্ণের পাহাড় থাকত। (সহীহ বুখারী হা. ৬৪৩৯) সে কথাই আল্লাহ তা‘আলা এখানে বলছেন- মানুষ তার জন্য সম্পদ, ক্ষমতা, রাজত্ব ও সম্মান চাইতে বিরক্ত বোধ করে না। কিন্তু যখন কোন আপদ-বিপদ যেমন অসুস্থতা, দরিদ্রতা ইত্যাদি দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যায়, মনে করে এ বিপদে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে যারা মু’মিন তারা নয়, কারণ তাদেরকে কোন বিপদ আক্রান্ত করলে ধৈর্য ধারণ করে এটা তাদের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য।



তারপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(وَلَئِنْ أَذَقْنٰهُ رَحْمَةً)



অর্থাৎ যে ব্যক্তি ধন-সম্পদ চাইতে বিরক্ত হয় না তাকে যদি বিপদাপদ আক্রান্ত করে, আর আল্লাহ তা‘আলা সে বিপদ থেকে মুক্তি দান করেন তাহলে সে শুকরিয়া আদায় করে না, বরং সে বাড়াবাড়ি করে ও বড়ত্ব্ প্রকাশ করে বলে- আমি এটার হকদার বলেই আমাকে তা দেয়া হয়েছে।



মুজাহিদ বলেন :



(لَيَقُوْلَنَّ هٰذَا لِيْ)



‘সে বলেই থাকে : এটা আমার প্রাপ্য’ মানুষ বিপদাপদে আক্রান্ত হওয়ার পর আল্লাহ তা‘আলা তা থেকে মুক্তি দিলে সে বলে এটা আমার কর্মের ফল ও আমি এর হকদার। মূলত এটা আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামতকে অস্বীকার করা। ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) বলেন : শুকরিয়ার মূল হল- নেয়ামত দানকারীকে বিনয়-নম্রতা ও মহব্বতের সাথে স্মরণ করা ও নেয়ামতকে স্বীকার করা। যে ব্যক্তি নেয়ামতকে চিনতে পারল না সে শুকরিয়া আদায় করতে পারবে না। আর যে নেয়ামতকে চিনল কিন্তু যিনি নেয়ামত দান করেছেন তাঁকে চিনল না সে ব্যক্তিও নেয়ামতের যথার্থ শুকরিয়া আদায় করতে সক্ষম হয় না। নেয়ামত ও নেয়ামত দানকারীকে চেনার পর অস্বীকার করলে নেয়ামতের সাথে কুফরী করা হয়। যে ব্যক্তি নেয়ামতকে চিনল এবং যিনি নেয়ামত দান করেছেন তাকেও চিনল অস্বীকারও করল না কিন্তু তার প্রতি বিনয়ী ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করল না এবং তা ভালবাসল না সেও নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করল না। সুতরাং যে ব্যক্তি নেয়ামত চিনল, নেয়ামত দানকারীকে চিনল এবং তা স্বীকার করল এবং তার প্রতি বিনয়ী হল সে ব্যক্তিই নেয়ামতের যথার্থ শুকরিয়া আদায় করতে পারবে। (মাদারিজুস সালিকীন ২ : ১৩৫-১৪৪) যেমন বানী ইসরাঈলের তিন ব্যক্তি, একজনের কুষ্ট রোগ ছিল, আরেকজনের মাথায় টাক ছিল, অন্য জন অন্ধ ছিল।



আল্লাহ তা‘আলার রহমতে তিনজন আরোগ্য লাভ করে। প্রথম দুজন নেয়ামত অস্বীকার করে, ফলে তাদের নেয়ামত ছিনিয়ে নেয়া হয়, তৃতীয়জন স্বীকার করে ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে প্রদত্ত নেয়ামত বহাল রাখেন। (সহীহ বুখারী হা. ৩৪৬৪)



(وَمَآ أَظُنُّ السَّاعَةَ قَا۬ئِمَةً)



‘আমি মনে করি না যে, কিয়ামত সংঘটিত হবে’ অর্থাৎ সে পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে।



(وَّلَئِنْ رُّجِعْتُ إِلٰي رَبِّيْٓ...)



অর্থাৎ ‘যদি কিয়ামত হয়ই তাহলে আমি আল্লাহ তা‘আলার কাছে ফিরে যাব এমন অবস্থায় যে, তার কাছে আমার উত্তম প্রতিদান রয়েছে।’ যেমন আমার দুনিয়াতে অনেক সম্পদ ছিল, আখিরাতেও আমার জন্য এরূপ থাকবে। এটা আল্লাহ তা‘আলার প্রতি বানিয়ে কথা বলা এবং তাঁর সাথে স্পর্ধা দেখানো। আল্লাহ তা‘আলা তাকে ধমক দিয়ে পরের কথাগুলো বলেছেন।



(فَذُوْ دُعَا۬ءٍ عَرِيْضٍ)



‘দীর্ঘ প্রার্থনায় রত হয়ে যায়’ অর্থাৎ বেশি বেশি দু’আ করতে থাকে। কারণ সে বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে পারে না এবং সাচ্ছন্দ্যের সময় শুকরিয়া আদায় করতে পারে না। তবে আল্লাহ তা‘আলা যাকে রহমত ও অনুগ্রহ করেছেন সে ব্যতীত। এ সম্পর্কে পূর্বে সূরা ইউনুস-এর ১২ নম্বর আয়াত, সূরা আল কাহ্ফ-এর ৩৬ নম্বর আয়াতসহ অন্যান্য স্থানেও আলোচনা করা হয়েছে।



সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার প্রত্যেক নেয়ামতের যথাযথ শুকরিয়া আদায় করা প্রতিটি মু’মিন-মুসলিমের একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামত পাওয়ার শুকরিয়া আদায় না করা নেয়ামতকে অস্বীকার করার শামিল। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে তাঁর নেয়ামত চিনে যথাযথ শুকরিয়া আদায় করার তাওফীক দান করুন। (আমীন)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে সর্বদা আল্লাহ তা‘আলাকে ডাকতে হবে এবং তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। বিপদে পড়ে আল্লাহ তা‘আলাকে ডাকব আর সুখের সময় তাঁর সাথে কুফরী করব এমনটি করা যাবে না।

২. বিপদে পড়ে নিরাশ হওয়া যাবে না এবং সুখে অতি আনন্দিতও হওয়া যাবে না।

৩. প্রত্যেক নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা আবশ্যক।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪৯-৫১ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ্ তা'আলা বলেন যে, মালধন, স্বাস্থ্য ইত্যাদি কল্যাণের প্রার্থনা হতে মানুষ ক্লান্ত হয় না। কিন্তু যদি তার উপর বিপদ-আপদ এসে পড়ে তখন সে এতো বেশী হতাশ ও নিরাশ হয়ে পড়ে যে, যেন আর কখনো সে কোন কল্যাণের মুখ দেখতেই পাবে না। আবার যদি কোন বিপদ ও কাঠিন্যের পর সে কোন কল্যাণ ও সুখ লাভ করে তখন সে বলে বসেঃ “আল্লাহ তা'আলার উপর তো আমার এটা হক বা প্রাপ্যই ছিল। আমি এর যোগ্যই ছিলাম। এখন সে এই নিয়ামত লাভ করে ফুলে উঠে এবং ধরাকে সরা জ্ঞান করে বসে। মহান আল্লাহকে বিস্মরণ হয়ে যায় এবং পরিষ্কারভাবে তাকে অস্বীকার করে ফেলে। কিয়ামতের সংঘটনকে স্পষ্টভাবে অবিশ্বাস করে বসে। ধন-দৌলত এবং আরাম ও আয়েশ তার কুফরীর কারণ হয়ে দাড়ায়। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “বস্তুতঃ মানুষ তো সীমালংঘন করেই থাকে, কারণ সে নিজেকে অভাব মুক্ত মনে করে।”(৯৬:৬-৭) তাই সে মস্তক উঁচু করে হঠকারিতা করতে শুরু করে দেয়।

মহান আল্লাহ বলেন যে, শুধু এটুকুই নয়, বরং এই দুষ্কর্যের উপর সে ভাল আশাও রাখে এবং বলেঃ যদি কিয়ামত সংঘটিত হয়েও যায় এবং আমি আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রত্যাবর্তিতও হই, তবে যেমন আমি এখানে সুখ-স্বচ্ছন্দে রয়েছি, অনুরূপভাবে সেখানেও অর্থাৎ পরকালেও সুখেই থাকবো। মোটকথা, সে কিয়ামতকে অস্বীকারও করে, মৃত্যুর পর পুনজীবনকে মানেও না, আবার বড় বড় আশাও পোষণ করে যে, দুনিয়ায় যেমন সুখে রয়েছে, আখিরাতেও তেমনি সুখেই থাকবে।

যাদের আমল ও বিশ্বাস এইরূপ তাদেরকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা ভয় প্রদর্শন করে বলেনঃ “আমি এই কাফিরদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে অবশ্যই অবহিত করবো এবং তাদেরকে আস্বাদন করাবো কঠোর শাস্তি।

মহামহিমান্বিত আল্লাহ মানুষের স্বভাব ও আচরণের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ ‘যখন আমি মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি তখন (গর্বভরে) মুখ ফিরিয়ে নেয় ও দূরে সরে যায়। আর যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে তখন সে দীর্ঘ প্রার্থনায় রত হয়। (আরবী) ওকেই বলা হয় যার শব্দ বেশী এবং অর্থ কম হয়। আর যে কালাম বা কথা এর বিপরীত হয় অর্থাৎ শব্দ কম ও অর্থ বেশী, ওকে (আরবী) বলা হয়ে থাকে। এই বিষয়টিই অন্য জায়গায় নিম্নরূপে বর্ণিত হয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “মানুষকে যখন কষ্ট ও বিপদ স্পর্শ করে তখন সে শুয়ে, বসে এবং দাড়িয়ে আমাকে আহ্বান করে থাকে, অতঃপর যখন আমি ঐ কষ্ট ও বিপদ দূরীভূত করি তখন সে এমন বেপরোয়া ভাব দেখিয়ে ফিরে যায় যে, যেন সে বিপদের সময় আমাকে আহ্বান করেইনি।” (১০:১২)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।