সূরা হা-মীম আস-সাজদা (ফুসসিলাত) (আয়াত: 48)
হরকত ছাড়া:
وضل عنهم ما كانوا يدعون من قبل وظنوا ما لهم من محيص ﴿٤٨﴾
হরকত সহ:
وَ ضَلَّ عَنْهُمْ مَّا کَانُوْا یَدْعُوْنَ مِنْ قَبْلُ وَ ظَنُّوْا مَا لَهُمْ مِّنْ مَّحِیْصٍ ﴿۴۸﴾
উচ্চারণ: ওয়া দাল্লা ‘আনহুম মা-কা-নূইয়াদ‘ঊনা মিন কাবলুওয়া জান্নূমা-লাহুম মিম মাহীছ।
আল বায়ান: আর পূর্বে যাদেরকে তারা ডাকত তারা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে যাবে এবং তারা বিশ্বাস করবে, তাদের পলায়নের কোন জায়গা নেই।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৮. আর আগে তারা যাদেরকে ডাকত তারা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে যাবে এবং তারা বিশ্বাস করবে যে, তাদের পলায়নের কোন উপায় নেই।
তাইসীরুল ক্বুরআন: পূর্বে তারা যাদেরকে ডাকত তারা তাদের থেকে উধাও হয়ে যাবে, আর তারা বুঝতে পারবে যে, তাদের পালানোর কোন জায়গা নেই।
আহসানুল বায়ান: (৪৮) পূর্বে ওরা যাদেরকে আহবান করত তারা উধাও হয়ে যাবে[1] এবং অংশীবাদীরা সুনিশ্চিত হবে যে, ওদের নিষ্কৃতির কোন উপায় নেই। [2]
মুজিবুর রহমান: পূর্বে তারা যাদেরকে আহবান করত তারা অদৃশ্য হয়ে যাবে এবং অংশীবাদীরা উপলদ্ধি করবে যে, তাদের নিস্কৃতির কোন উপায় নেই।
ফযলুর রহমান: পূর্বে (দুনিয়ায়) তারা (আল্লাহ ব্যতীত) যাদেরকে ডাকত তারা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে যাবে এবং তারা বুঝতে পারবে যে, তাদের কোন নিষ্কৃতি নেই।
মুহিউদ্দিন খান: পূর্বে তারা যাদের পূজা করত, তারা উধাও হয়ে যাবে এবং তারা বুঝে নেবে যে, তাদের কোন নিস্কৃতি নেই।
জহুরুল হক: আর এর আগে যাদের তারা ডাকত তারা তাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে, আর তারা বুঝবে যে তাদের জন্য কোনো আশ্রয় নেই।
Sahih International: And lost from them will be those they were invoking before, and they will be certain that they have no place of escape.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৮. আর আগে তারা যাদেরকে ডাকত তারা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে যাবে এবং তারা বিশ্বাস করবে যে, তাদের পলায়নের কোন উপায় নেই।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৮) পূর্বে ওরা যাদেরকে আহবান করত তারা উধাও হয়ে যাবে[1] এবং অংশীবাদীরা সুনিশ্চিত হবে যে, ওদের নিষ্কৃতির কোন উপায় নেই। [2]
তাফসীর:
[1] তারা এদিকে ওদিকে অদৃশ্য হয়ে যাবে এবং ধারণা হিসাবে তারা কারো উপকার করতে পারবে না।
[2] এখানে ظَن (ধারণা) يَقِين (দৃঢ়-বিশ্বাস বা সুনিশ্চিত) এর অর্থে ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন এ কথা দৃঢ়-বিশ্বাস করতে বাধ্য হবে যে, তাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। যেমন, অন্য জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেছেন, وَرَأَى الْمُجْرِمُونَ النَّارَ فَظَنُّوا أَنَّهُم مُّوَاقِعُوهَا وَلَمْ يَجِدُوا عَنْهَا مَصْرِفًا অর্থাৎ, অপরাধীরা জাহান্নাম দেখে সুনিশ্চিত হবে যে, তারা সেখানে পতিত হবে এবং তারা ওটা হতে কোন পরিত্রাণ স্থল পাবে না। (সূরা কাহাফ ৫৩ আয়াত)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৭-৪৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
এখানে আল্লাহ তা‘আলা বলেন : কিয়ামত কখন সংঘঠিত হবে তার জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার কাছে। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَعِنْدَه۫ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَآ إِلَّا هُوَ)
“সকল গায়েবের চাবিকাঠি তাঁরই নিকট রয়েছে, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তা জানে না।” (সূরা আন‘আম ৬ : ৫৯)
অতঃপর তিনি বলেন : দুনিয়াতে যা কিছু হয় সবকিছু আল্লাহ তা‘আলা জানেন, এমনকি কোন মহিলা গর্ভ ধারণ করে কি করে না এবং কখন করে, কখন প্রসব করবে সে সম্পর্কেও তিনি অবগত আছেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(اَللّٰهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنْثٰي وَمَا تَغِيْضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ ط وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَه۫ بِمِقْدَارٍ)
“প্রত্যেক নারী যা গর্ভে ধারণ করে এবং জরায়ুতে যা কিছু কমে ও বাড়ে আল্লাহ তা জানেন এবং তাঁর কাছে প্রত্যেক বস্তুরই এক নির্দিষ্ট পরিমাণ আছে।” (সূরা রা‘দ ১৩ : ৮)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করছেন যে, যারা দুনিয়াতে আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্যকে শরীক করত, আল্লাহ তা‘আলার পরিবর্তে অন্যের ইবাদত করত তারা কিয়ামতের মাঠে মুক্তি পাবার কোনই পথ খুঁজে পাবে না এবং তারা যাদের ইবাদত করত তারা সেদিন তাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে।
আল্লাহ বলেন,
(وَرَأَي الْمُجْرِمُوْنَ النَّارَ فَظَنُّوْآ أَنَّهُمْ مُّوَاقِعُوْهَا وَلَمْ يَجِدُوْا عَنْهَا مَصْرِفًا )
“অপরাধীরা আগুন দেখে বুঝবে যে, তারা তথায় পতিত হবে এবং তারা সেখান হতে কোন পরিত্রাণস্থল পাবে না।” (সূরা কাহ্ফ ১৮ : ৫৩)
ظن অর্থ يقين বা দৃঢ় বিশ্বাস, এখানে ধারণার অর্থ দিবে। কারণ কাফিররা যখন আযাব প্রত্যক্ষ করবে এবং প্রকৃত ব্যাপার অনুধাবন করতে পারবে তখন তারা দৃঢ়তার সাথে জানতে পারবে তাদের মুক্তির কোন পথ নেই।
যারা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্যের ইবাদত করছে, যাদের পূজা করছে তারা কিয়ামতের দিন নাজাতের কোন পথ পাবে না। সেদিন তারা সত্য অনুধাবণ করতে পারবে যে তারা যা কিছু করেছে তা সবই ছিল ভুল। তাই সেদিন তাদের পক্ষে কোন সাক্ষী থাকবে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. কিয়ামতের জ্ঞান আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো নেই।
২. প্রত্যেক জিনিস আল্লাহর দৃষ্টির মধ্যেই রয়েছে, এমন কোন কিছু নেই যা তিনি জানেন না।
৩. মুশরিকদের কিয়ামতের মাঠে নাজাতের কোনই পথ খোলা থাকবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৭-৪৮ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে এর জ্ঞান আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই। যেমন হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-কে যখন ফেরেশতাদের নেতা হযরত জিবরাঈল (আঃ) কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে তা জিজ্ঞেস করেছিলেন তখন তিনি সমস্ত মানুষের নেতা হওয়া সত্ত্বেও উত্তরে বলেছিলেনঃ “জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে অধিক জ্ঞান রাখেন না।” মহামহিমান্বিত আল্লাহ আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “এর চরম জ্ঞান আছে। তোমার প্রতিপালকেরই নিকট।”(৭৯:৪৪) অন্য এক আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “এর সময় তিনি ছাড়া আর কারো কাছে প্রকাশমান নয়।”(৭:১৮৭) ভাবার্থ এটাই যে, কিয়ামত সংঘটনের সময় আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জানে না।
এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ প্রত্যেক জিনিসকে তার জ্ঞান পরিবেষ্টন করে রয়েছে। এমনকি যে ফল ওর আবরণ হতে বের হয়, যে নারী গর্ভধারণ করে এবং সন্তান প্রসব করে, এ সবই তাঁর গোচরে থাকে। যমীন ও আসমানের একটি অণুপরিমাণ জিনিসও তার ব্যাপক জ্ঞানের বাইরে নয়। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যে পাতা ঝরে পড়ে সেটাও তিনি জানেন।”(৬:৫৯) মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “প্রত্যেক নারী যা গর্ভে ধারণ করে এবং জরায়ুতে যা কিছু কমে ও বাড়ে আল্লাহ তা জানেন এবং তাঁর বিধানে প্রত্যেক বস্তুরই এক নির্দিষ্ট পরিমাণ। আছে।” (১৩:৮) মহান আল্লাহ আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “বয়স যে বাড়ে ও কমে এটাও কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে, এটা আল্লাহর নিকট সহজ।”(৩৫:১১)
কিয়ামতের দিন সমস্ত মাখলুকের সামনে আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের বলবেনঃ যাদেরকে তোমরা আমার সাথে ইবাদতে শরীক করতে তারা আজ কোথায়? তারা উত্তরে বলবেঃ আমরা তো আপনার নিকট নিবেদন করেছি যে, এই ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। সেই দিন তাদের বাতিল মা’বৃদরা সবাই হারিয়ে যাবে। এমন কাউকেও তারা দেখতে পাবে না যে তার কোন উপকার করতে পারে। তারা নিজেরাও জানতে পারবে যে, তাদের নিষ্কৃতির কোন উপায় নেই।
এখানে (আরবী) শব্দটি (আরবী) বা দৃঢ় বিশ্বাস’ এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “এবং অপরাধীরা জাহান্নাম দেখে নিবে এবং দৃঢ় বিশ্বাস করবে যে, তাদেরকে জাহান্নামে পতিত হতেই হবে এবং তারা তা হতে বাঁচবার কোন পথ পাবে না।”(১৮:৫৩)।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।