সূরা হা-মীম আস-সাজদা (ফুসসিলাত) (আয়াত: 42)
হরকত ছাড়া:
لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه تنزيل من حكيم حميد ﴿٤٢﴾
হরকত সহ:
لَّا یَاْتِیْهِ الْبَاطِلُ مِنْۢ بَیْنِ یَدَیْهِ وَ لَا مِنْ خَلْفِهٖ ؕ تَنْزِیْلٌ مِّنْ حَکِیْمٍ حَمِیْدٍ ﴿۴۲﴾
উচ্চারণ: লা-ইয়া’তীহিল বা-তিলুমিম বাইনি ইয়াদাইহি ওয়ালা-মিন খালফীহি তানযীলুম মিন হাকীমিন হামীদ।
আল বায়ান: বাতিল এতে অনুপ্রবেশ করতে পারে না, না সামনে থেকে, না পিছন থেকে। এটি প্রজ্ঞাময়, সপ্রশংসিতের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪২. বাতিল এতে অনুপ্রবেশ করতে পারে না—সামনে থেকেও না, পিছন থেকেও না। এটা প্রজ্ঞাময়, চিরপ্ৰশংসিতের কাছ থেকে নাযিলকৃত।
তাইসীরুল ক্বুরআন: মিথ্যা এর কাছে না এর সামনে দিয়ে আসতে পারে, না এর পিছন দিয়ে। এটা অবতীর্ণ হয়েছে মহাজ্ঞানী, সকল প্রশংসার যোগ্য (আল্লাহ)’র পক্ষ হতে।
আহসানুল বায়ান: (৪২) সম্মুখ অথবা পশ্চাৎ হতে মিথ্যা এতে প্রক্ষিপ্ত হতে পারে না। এ প্রজ্ঞাময়, প্রশংসার্হ আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ।[1]
মুজিবুর রহমান: কোন মিথ্যা এতে অনুপ্রবেশ করবেনা। সম্মুখ হতেও নয়, পশ্চাৎ হতেও নয়; এটা প্রজ্ঞাময় প্রশংসা আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ।
ফযলুর রহমান: এতে মিথ্যা আসতে পারে না, না তার সামনে থেকে এবং না তার পেছন থেকে (অর্থাৎ কোন দিক থেকে)। এটা এক প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত সত্তার (আল্লাহর) পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
মুহিউদ্দিন খান: এতে মিথ্যার প্রভাব নেই, সামনের দিক থেকেও নেই এবং পেছন দিক থেকেও নেই। এটা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
জহুরুল হক: এতে মিথ্যা কথা আসতে পারবে না এর সামনে থেকে, আর এর পেছন থেকেও নয়। এ হচ্ছে একটি অবতারণ মহাজ্ঞানী পরম প্রশংসিতের কাছ থেকে।
Sahih International: Falsehood cannot approach it from before it or from behind it; [it is] a revelation from a [Lord who is] Wise and Praiseworthy.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪২. বাতিল এতে অনুপ্রবেশ করতে পারে না—সামনে থেকেও না, পিছন থেকেও না। এটা প্রজ্ঞাময়, চিরপ্ৰশংসিতের কাছ থেকে নাযিলকৃত।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪২) সম্মুখ অথবা পশ্চাৎ হতে মিথ্যা এতে প্রক্ষিপ্ত হতে পারে না। এ প্রজ্ঞাময়, প্রশংসার্হ আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ।[1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, সব দিক দিয়ে সর্বপ্রকার ত্রুটি থেকে সুরক্ষিত। ‘সম্মুখ হতে মিথ্যা’ অর্থ হ্রাস এবং ‘পশ্চাৎ হতে মিথ্যা’ অর্থ, বৃদ্ধি। অর্থাৎ, বাতিল বা মিথ্যা তার সামনের দিক দিয়ে এসে না তা হতে কোন কিছু হ্রাস করতে পারবে, আর না তার পিছন দিক দিয়ে এসে তাতে কোন কিছু বৃদ্ধি সাধন করতে পারবে এবং না তাতে কোন পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে সফল হবে। কারণ, এটা তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, যিনি তাঁর যাবতীয় কথা ও কাজে সুকৌশলী ও প্রশংসিত। অথবা তিনি যেসব কাজের নির্দেশ দেন এবং যেসব কাজ থেকে নিষেধ করেন, পরিণাম ও লক্ষ্যের দিক দিয়ে সবই প্রশংসনীয়। অর্থাৎ, সবই ভাল ও উপকারী। (ইবনে কাসীর)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪০-৪৩ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
يُلْحِدُوْنَ শব্দের অর্থ বিকৃত করা, পরিবর্তন করা, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে দেয়া। এখানে মূলতঃ তাদের কথা বলা হয়েছে যারা আল কুরআনের মধ্যে পরিবর্তন পরিবর্ধন সাধনের চেষ্টা করে।
যারা আল্লাহ তা‘আলার কিতাবকে বিকৃত করে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন : যারা কুফরী করে এবং আল্লাহ তা‘আলার কিতাবকে বিকৃত করে তারা হলো জাহান্নামের আধিবাসী। তাই আল্লাহ তাদেরকে এখতিয়ার দিয়ে বলেন : তোমরা তোমাদের ইচ্ছামত কাজ করতে থাকো, এটা মূলতঃ তাদের জন্য ধমকস্বরূপ যে, তোমরা যাই কিছু করো না কেন, এ কুরআন যতই বিকৃত করতে চাওনা কেন এতে কোন প্রকার মিথ্যা অনুপ্রবেশ করবে না। এটা সংরক্ষণ করার দায়িত্ব আমার।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী :
(إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَه۫ لَحٰفِظُوْنَ)
“নিশ্চয়ই আমিই এ কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমিই তার সংরক্ষক।” (সূরা হিজর ১৫ : ৯)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয়পাত্র মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন যে, হে নাবী! এ কাফির-মুশরিকরা যা কিছু বলে তা শুধু তোমাকেই নয়, বরং তোমার পূর্ববর্তী নাবী-রাসূলদেরকেও এরূপ কথা-বার্তা বলা হয়েছিল। তাঁরা ধৈর্য ধারণ করেছিল, সুতরাং তুমিও ধৈর্য ধারণ করো।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. জাহান্নামীরা কখনো জান্নাতীদের সমান হতে পারে না। জান্নাতী লোকেরাই উত্তম।
২. কুরআন সংরক্ষণ করার দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা গ্রহণ করেছেন।
৩. বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।
৪. সত্য-সঠিক জিনিস জানার পর তার উপর অবশ্যই আমল করতে হবে। তা থেকে বিরত থাকা যাবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪০-৪৩ নং আয়াতের তাফসীর:
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনামতে শব্দের অর্থ হলো কালামকে ওর জায়গা হতে সরিয়ে অন্য জায়গায় রেখে দেয়া। আর কাতাদা (রঃ) প্রমুখ গুরুজন এর অর্থ করেছেন কুফরী ও হঠকারিতা। মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ যারা আমার আয়াতসমূহকে বিকৃত করে তারা আমার অগোচর নয়। যারা আমার নাম ও গুণাবলীকে এদিক হতে ওদিকে করে দেয় তারা আমার দৃষ্টির মধ্যেই রয়েছে। তাদেরকে আমি কঠিন শাস্তি প্রদান করবো। যারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে এবং যারা ভয়-ভীতি ও বিপদাপদ হতে নিরাপদে থাকবে তারা কি কখনো সমান হতে পারে? কখনো নয়। পাপী, দূরাচার এবং কাফিররা যা ইচ্ছা আমল করে যাক। তাদের কোন আমলই আল্লাহ তা'আলার নিকট গোপন নেই। ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতম জিনিসও তার চক্ষু এড়ায় না। তারা যা কিছু করে তিনি তার দ্রষ্টা।
যহহাক (রঃ), সুদ্দী (রঃ) এবং কাতাদা (রঃ)-এর উক্তি এই যে, এখানে যিকর দ্বারা কুরআন কারীমকে বুঝানো হয়েছে। এটা ইযযত ও মর্যাদাসম্পন্ন কিতাব। কোন মিথ্যা এতে অনুপ্রবেশ করবে না, অগ্র হতেও নয়, পশ্চাত হতেও নয়। কারো কালাম এর সমতুল্য হতে পারে না। এটা জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হতে অবতারিত। যিনি তাঁর কথায় ও কাজে বিজ্ঞানময় ও নিপুণ। তাঁর সমুদয় হুকুম উত্তম ফলদায়ক।
মহান আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেনঃ তোমার যুগের কাফিররা তোমাকে ঐ কথাই বলে যা তোমার পূর্ববর্তী যুগের কাফিররা তাদের রাসূলদেরকে বলেছিল। ঐ নবীরা যেমন ধৈর্যধারণ করেছিল তেমনই তুমিও ধৈর্যধারণ কর।
যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে ফিরে, আল্লাহ তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল। পক্ষান্তরে যে আল্লাহ হতে বিমুখ হয়, কুফরী ও হঠকারিতার উপর অটল থাকে, সত্যের বিরোধিতা এবং রাসূল (সঃ)-কে অবিশ্বাস করা হতে বিরত থাকে না তাকে তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “যদি আল্লাহ তা'আলার মার্জনা ও ক্ষমা না থাকতো তবে একটি প্রাণীও বাঁচতো না। পক্ষান্তরে, যদি আল্লাহ তা'আলার পাকড়াও ও শাস্তি না হতো তবে প্রত্যেকেই প্রশান্তভাবে হেলান লাগিয়ে নির্ভয় হয়ে যেতো।` (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।