সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 80)
হরকত ছাড়া:
ولكم فيها منافع ولتبلغوا عليها حاجة في صدوركم وعليها وعلى الفلك تحملون ﴿٨٠﴾
হরকত সহ:
وَ لَکُمْ فِیْهَا مَنَافِعُ وَ لِتَبْلُغُوْا عَلَیْهَا حَاجَۃً فِیْ صُدُوْرِکُمْ وَ عَلَیْهَا وَ عَلَی الْفُلْکِ تُحْمَلُوْنَ ﴿ؕ۸۰﴾
উচ্চারণ: ওয়ালাকুম ফীহা-মানা-ফি‘উ ওয়ালিতাবলগূ ‘আলাইহা-হা-জাতান ফী সদূরিকুম ওয়া ‘আলাইহা-ওয়া ‘আলাল ফুলকি তুহমালূন।
আল বায়ান: আর এতে তোমাদের জন্য রয়েছে অনেক উপকার এবং যাতে তোমরা নিজদের অন্তরে যে প্রয়োজন অনুভব কর, ওগুলো দ্বারা তা পূর্ণ করতে পার। ওগুলোর উপর আর নৌযানের উপর তোমাদেরকে বহন করা হয়।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮০. আর এতে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর উপকার এবং যাতে তোমরা অন্তরে যা প্রয়োজন বোধ কর সেগুলো দ্বারা তা পূর্ণ করতে পার। সেগুলোর উপর ও নৌযানের উপর তোমাদেরকে বহন করা হয়।
তাইসীরুল ক্বুরআন: ওগুলোতে তোমাদের জন্য আছে বহু উপকার। তোমরা তোমাদের অন্তরে যে প্রয়োজনবোধ কর, যাতে ওগুলোর দ্বারা তা মিটাতে পার। ওগুলোর উপর আর নৌযানে তোমাদেরকে বহন করা হয়।
আহসানুল বায়ান: (৮০) এতে তোমাদের জন্য প্রচুর উপকার রয়েছে।[1] তোমরা যা প্রয়োজন বোধ কর এদের দ্বারা তা পূর্ণ করে থাক। আর এদের উপর[2] ও নৌযানের উপর তোমাদেরকে বহন করা হয়।
মুজিবুর রহমান: এতে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর উপকার; তোমরা যা প্রয়োজন বোধ কর এটা দ্বারা তা পূর্ণ করে থাক এবং এদের উপর ও নৌযানের উপর তোমাদেরকে বহন করা হয়।
ফযলুর রহমান: ওগুলোতে তোমাদের জন্য (আরো অনেক) উপকার রয়েছে।
মুহিউদ্দিন খান: তাতে তোমাদের জন্যে অনেক উপকারিতা রয়েছে আর এজন্যে সৃষ্টি করেছেন; যাতে সেগুলোতে আরোহণ করে তোমরা তোমাদের অভীষ্ট প্রয়োজন পূর্ণ করতে পার। এগুলোর উপর এবং নৌকার উপর তোমরা বাহিত হও।
জহুরুল হক: আর তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে রয়েছে মুনাফা, আর যেন তাদের সাহায্যে তোমরা পূরণ করতে পারো তোমাদের অন্তরের বাসনা, আর তাদের উপরে ও জাহাজের উপরে তোমাদের বহন করা হয়।
Sahih International: And for you therein are [other] benefits and that you may realize upon them a need which is in your breasts; and upon them and upon ships you are carried.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৮০. আর এতে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর উপকার এবং যাতে তোমরা অন্তরে যা প্রয়োজন বোধ কর সেগুলো দ্বারা তা পূর্ণ করতে পার। সেগুলোর উপর ও নৌযানের উপর তোমাদেরকে বহন করা হয়।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৮০) এতে তোমাদের জন্য প্রচুর উপকার রয়েছে।[1] তোমরা যা প্রয়োজন বোধ কর এদের দ্বারা তা পূর্ণ করে থাক। আর এদের উপর[2] ও নৌযানের উপর তোমাদেরকে বহন করা হয়।
তাফসীর:
[1] যেমন, তাদের লোম, চুল, পশম এবং তাদের চামড়া থেকেও অনেক জিনিস তৈরী করা হয়। এদের দুধ থেকে ঘি, মাখন এবং পনির ইত্যাদিও তৈরী হয়।
[2] অর্থাৎ, এদের মধ্যে উটের পিঠে এবং গরুর গাড়িতে তোমাদেরকে বহন করা হয়।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৭৯-৮৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
(اَللہُ الَّذِیْ جَعَلَ لَکُمُ .....مَّا کَانُوْا یَکْسِبُوْنَﮡ)
এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলার কিছু নিদর্শন তুলে ধরা হচ্ছে- যথা চতুস্পদ জন্তু, এগুলোতে আরোহন করা, এদের গোসত ভক্ষণ করা, আর এদের দ্বারা বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণ করা, সমুদ্রে নৌযানে আরোহণ করা এগুলো মূলত আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত বান্দার প্রতি নিদর্শন ও তাঁর অনুগ্রহের বহিঃপ্রকাশ। এ সম্পর্কে সূরা নাহ্ল-এর প্রথম দিকে আলোচনা করা হয়েছে।
(اَفَلَمْ یَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ .....وَخَسِرَ ھُنَالِکَ الْکٰفِرُوْنَ)
এখানে আল্লাহ তা‘আলা পুনরায় বিশ্ব ভ্রমণ করে পূর্ববর্তী অবাধ্য জাতিসমূহের ওপর আপতিত শাস্তি প্রত্যক্ষ করে তাদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করছেন। অতীত জাতিসমূহ তাদের প্রবলশক্তি থাকা সত্ত্বেও তাদের অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ তা‘আলার আযাব থেকে রেহাই পায়নি। তাদেরকে শাস্তি পরিবেষ্টন করে নিয়েছিল। সুতরাং তোমরাও যদি এরূপ অবাধ্য হও তাহলে তোমাদেরকেও এরূপ শাস্তির মুখোমুখী হতে হবে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা এ বিষয়েও অবগত করে দিচ্ছেন যে, তোমরা শাস্তি আসার পূর্বে ঈমান আনো। কেননা যখন শাস্তি এসে যাবে তখন ঈমান এনে আর কোনই লাভ হবে না। পূর্ববর্তী জাতির লোকেরাও যখন শাস্তি দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়েছিল তখন বলেছিল আমরা এক আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনলাম এবং যাদেরকে আমরা শরীক করতাম তাদেরকে অস্বীকার করলাম। যেমন ফির‘আউন বলেছিল-
(وَجٰوَزْنَا بِبَنِيْٓ إِسْرَا۬ئِيْلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُوْدُه۫ بَغْيًا وَّعَدْوًا ط حَتّٰيٓ إِذَآ أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ اٰمَنْتُ أَنَّه۫ لَآ إِلٰهَ إِلَّا الَّذِيْٓ اٰمَنَتْ بِه۪ بَنُوْآ إِسْرَا۬ئِيْلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ)
“আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করালাম এবং ফির‘আউন ও তার সৈন্যবাহিনী ঔদ্ধত্যসহকারে সীমালঙ্ঘন করে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল। পরিশেষে যখন সে ডুবতে শুরু করল তখন বলল : ‘আমি ঈমান এনেছি যে, তিনি ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই যাঁর প্রতি ঈমান এনেছে বানী ইসরাঈল এবং আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’’ (সূরা ইউনুস ১০ : ৯০)
কিন্তু ঐ সময়ের ঈমান কোনই কাজে আসেনি। ফির‘আউনের কথার উত্তরে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(آٰلْئٰنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِيْنَ)
‘এখন! ইতোপূর্বে তো তুমি অমান্য করেছ এবং তুমি অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। (সূরা ইউনুস ১০ : ৯১)
সুতরাং আমাদের সকলকে আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য কাজ বর্জন করতঃ ঈমানের ওপর বহাল থাকা উচিত।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সংশোধন করে নেয়া উচিত।
২. মৃত্যুর পূর্বেই ঈমান আনতে হবে। যখন মৃত্যুর সময় এসে যাবে তখন ঈমান এনে আর কোন লাভ হবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৭৯-৮১ নং আয়াতের তাফসীর:
আন'আম অর্থাৎ উট, গরু, ছাগল ইত্যাদিকে আল্লাহ্ তা'আলা মানুষের বিভিন্ন প্রকারের উপকারের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। ওগুলো সওয়ারীর কাজে লাগে এবং কতকগুলোকে খাওয়া হয়ে থাকে। উট দ্বারা সওয়ারীর কাজ হয়, গোশতও খাওয়া হয়, দুধও দেয়, বোঝাও বহন করে, দূর-দূরান্তের সফর অতি সহজে অতিক্রম করায়। গরুর গোশত খাওয়া হয়, দুধও দেয়, লাঙ্গলও চালায়। ছাগলের গোশত খাওয়া হয় এবং দুধও দেয়। এগুলোর পশমও বহু কাজে লাগে। যেমন সূরায়ে আন'আম, সূরায়ে নাহল ইত্যাদির মধ্যে এর বর্ণনা গত হয়েছে।
মহান আল্লাহ বলেনঃ এতে তোমাদের জন্যে রয়েছে বহু উপকার, তোমরা যা প্রয়োজনবোধ কর, এটা দ্বারা তা পূর্ণ করে থাকো এবং এদের উপর ও নৌযানের উপর তোমাদেরকে বহন করা হয়।
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখিয়ে থাকেন। দুনিয়া জাহান এবং ওর প্রান্তে প্রান্তে, জগতের অণু-পরমাণুর মধ্যে এবং স্বয়ং তোমাদের নিজেদের জীবনের মধ্যে আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামত বিদ্যমান রয়েছে। সঠিক কথা তো এটাই যে, তাঁর অগণিত নিয়ামত রাশির কোন একটিকেও কোন লোক প্রকৃত অর্থে অস্বীকার করতে পারে না। তারা যে হঠকারিতা ও অহংকার করছে সেটা হলো অন্য কথা।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।