আল কুরআন


সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 79)

সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 79)



হরকত ছাড়া:

الله الذي جعل لكم الأنعام لتركبوا منها ومنها تأكلون ﴿٧٩﴾




হরকত সহ:

اَللّٰهُ الَّذِیْ جَعَلَ لَکُمُ الْاَنْعَامَ لِتَرْکَبُوْا مِنْهَا وَ مِنْهَا تَاْکُلُوْنَ ﴿۫۷۹﴾




উচ্চারণ: আল্লা-হুল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আন‘আ-মা লিতারকাবূমিনহা-ওয়া মিনহা-তা’কুলূন।




আল বায়ান: আল্লাহই তোমাদের জন্য গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা এদের কতকের উপর আরোহণ করতে পার আর কতক তোমরা খেতে পার।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৯. আল্লাহ্‌ যিনি তোমাদের জন্য গবাদিপশু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তার কিছু সংখ্যকের উপর তোমরা আরোহণ কর এবং কিছু সংখ্যক হতে তোমরা খাও।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহ- যিনি তোমাদের জন্য গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কতকগুলোর উপর আরোহণ করতে পার, আর কতকগুলো থেকে আহার করতে পার।




আহসানুল বায়ান: (৭৯) আল্লাহই তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন,[1] কতক তোমাদের আরোহণ করার জন্য ও কতক আহার করার জন্য।[2]



মুজিবুর রহমান: আল্লাহই তোমাদের জন্য চতুস্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, কতক আরোহণ করার জন্য এবং কতক তোমরা আহার করে থাক।



ফযলুর রহমান: আল্লাহই তোমাদের জন্য চতুষ্পদ পশু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা সেগুলোর কোন কোনটিতে আরোহণ করো এবং কোন কোনটি থেকে খাদ্য গ্রহণ কর।



মুহিউদ্দিন খান: আল্লাহ তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে কোন কোনটিই বাহন হিসাবে ব্যবহার কর এবং কোন কোনটিকে ভক্ষণ কর।



জহুরুল হক: আল্লাহই তিনি যিনি তেমাদের জন্য গবাদি-পশু সৃষ্টি করেছেন যেন তোমরা তাদের কতকগুলোয় চড়তে পরো ও তাদের কতকটা তোমরা খেতে পারো,



Sahih International: It is Allah who made for you the grazing animals upon which you ride, and some of them you eat.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭৯. আল্লাহ্– যিনি তোমাদের জন্য গবাদিপশু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তার কিছু সংখ্যকের উপর তোমরা আরোহণ কর এবং কিছু সংখ্যক হতে তোমরা খাও।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭৯) আল্লাহই তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন,[1] কতক তোমাদের আরোহণ করার জন্য ও কতক আহার করার জন্য।[2]


তাফসীর:

[1] মহান আল্লাহ তাঁর অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে কিছু নিয়ামতের কথা উল্লেখ করছেন। চতুষ্পদ জন্তু বলতে, উট, গরু, ছাগল এবং ভেঁড়া। নর-মাদী মিলিয়ে সর্বমোট আটটি। সূরা আন্আমের ১৪৩-১৪৪ নং আয়াতে এর উল্লেখ হয়েছে।

[2] এগুলো বাহনের কাজেও আসে (যেমন উটে সওয়ার হওয়া যায়, গরু গাড়ি টানে) এবং তাদের দুধও পান করা হয়। (যেমন, ছাগল, গাই ও উটনীর দুধ)। এগুলোর গোশত মানুষের কাছে অতি প্রিয় খাদ্য এবং বোঝা বহনের কাজও তাদের থেকে নেওয়া হয়।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭৯-৮৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



(اَللہُ الَّذِیْ جَعَلَ لَکُمُ .....مَّا کَانُوْا یَکْسِبُوْنَﮡ)



এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলার কিছু নিদর্শন তুলে ধরা হচ্ছে- যথা চতুস্পদ জন্তু, এগুলোতে আরোহন করা, এদের গোসত ভক্ষণ করা, আর এদের দ্বারা বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণ করা, সমুদ্রে নৌযানে আরোহণ করা এগুলো মূলত আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত বান্দার প্রতি নিদর্শন ও তাঁর অনুগ্রহের বহিঃপ্রকাশ। এ সম্পর্কে সূরা নাহ্ল-এর প্রথম দিকে আলোচনা করা হয়েছে।



(اَفَلَمْ یَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ .....وَخَسِرَ ھُنَالِکَ الْکٰفِرُوْنَ)



এখানে আল্লাহ তা‘আলা পুনরায় বিশ্ব ভ্রমণ করে পূর্ববর্তী অবাধ্য জাতিসমূহের ওপর আপতিত শাস্তি প্রত্যক্ষ করে তাদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করছেন। অতীত জাতিসমূহ তাদের প্রবলশক্তি থাকা সত্ত্বেও তাদের অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ তা‘আলার আযাব থেকে রেহাই পায়নি। তাদেরকে শাস্তি পরিবেষ্টন করে নিয়েছিল। সুতরাং তোমরাও যদি এরূপ অবাধ্য হও তাহলে তোমাদেরকেও এরূপ শাস্তির মুখোমুখী হতে হবে।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা এ বিষয়েও অবগত করে দিচ্ছেন যে, তোমরা শাস্তি আসার পূর্বে ঈমান আনো। কেননা যখন শাস্তি এসে যাবে তখন ঈমান এনে আর কোনই লাভ হবে না। পূর্ববর্তী জাতির লোকেরাও যখন শাস্তি দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়েছিল তখন বলেছিল আমরা এক আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনলাম এবং যাদেরকে আমরা শরীক করতাম তাদেরকে অস্বীকার করলাম। যেমন ফির‘আউন বলেছিল-



(وَجٰوَزْنَا بِبَنِيْٓ إِسْرَا۬ئِيْلَ الْبَحْرَ فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ وَجُنُوْدُه۫ بَغْيًا وَّعَدْوًا ط حَتّٰيٓ إِذَآ أَدْرَكَهُ الْغَرَقُ قَالَ اٰمَنْتُ أَنَّه۫ لَآ إِلٰهَ إِلَّا الَّذِيْٓ اٰمَنَتْ بِه۪ بَنُوْآ إِسْرَا۬ئِيْلَ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ)



“আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করালাম এবং ফির‘আউন ও তার সৈন্যবাহিনী ঔদ্ধত্যসহকারে সীমালঙ্ঘন করে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল। পরিশেষে যখন সে ডুবতে শুরু করল তখন বলল : ‘আমি ঈমান এনেছি যে, তিনি ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই যাঁর প্রতি ঈমান এনেছে বানী ইসরাঈল এবং আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত।’’ (সূরা ইউনুস ১০ : ৯০)



কিন্তু ঐ সময়ের ঈমান কোনই কাজে আসেনি। ফির‘আউনের কথার উত্তরে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,



(آٰلْئٰنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنْتَ مِنَ الْمُفْسِدِيْنَ)



‘এখন! ইতোপূর্বে তো তুমি অমান্য করেছ এবং তুমি অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে। (সূরা ইউনুস ১০ : ৯১)



সুতরাং আমাদের সকলকে আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য কাজ বর্জন করতঃ ঈমানের ওপর বহাল থাকা উচিত।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সংশোধন করে নেয়া উচিত।

২. মৃত্যুর পূর্বেই ঈমান আনতে হবে। যখন মৃত্যুর সময় এসে যাবে তখন ঈমান এনে আর কোন লাভ হবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭৯-৮১ নং আয়াতের তাফসীর:

আন'আম অর্থাৎ উট, গরু, ছাগল ইত্যাদিকে আল্লাহ্ তা'আলা মানুষের বিভিন্ন প্রকারের উপকারের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। ওগুলো সওয়ারীর কাজে লাগে এবং কতকগুলোকে খাওয়া হয়ে থাকে। উট দ্বারা সওয়ারীর কাজ হয়, গোশতও খাওয়া হয়, দুধও দেয়, বোঝাও বহন করে, দূর-দূরান্তের সফর অতি সহজে অতিক্রম করায়। গরুর গোশত খাওয়া হয়, দুধও দেয়, লাঙ্গলও চালায়। ছাগলের গোশত খাওয়া হয় এবং দুধও দেয়। এগুলোর পশমও বহু কাজে লাগে। যেমন সূরায়ে আন'আম, সূরায়ে নাহল ইত্যাদির মধ্যে এর বর্ণনা গত হয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেনঃ এতে তোমাদের জন্যে রয়েছে বহু উপকার, তোমরা যা প্রয়োজনবোধ কর, এটা দ্বারা তা পূর্ণ করে থাকো এবং এদের উপর ও নৌযানের উপর তোমাদেরকে বহন করা হয়।

মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখিয়ে থাকেন। দুনিয়া জাহান এবং ওর প্রান্তে প্রান্তে, জগতের অণু-পরমাণুর মধ্যে এবং স্বয়ং তোমাদের নিজেদের জীবনের মধ্যে আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামত বিদ্যমান রয়েছে। সঠিক কথা তো এটাই যে, তাঁর অগণিত নিয়ামত রাশির কোন একটিকেও কোন লোক প্রকৃত অর্থে অস্বীকার করতে পারে না। তারা যে হঠকারিতা ও অহংকার করছে সেটা হলো অন্য কথা।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।