সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 5)
হরকত ছাড়া:
كذبت قبلهم قوم نوح والأحزاب من بعدهم وهمت كل أمة برسولهم ليأخذوه وجادلوا بالباطل ليدحضوا به الحق فأخذتهم فكيف كان عقاب ﴿٥﴾
হরকত সহ:
کَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوْحٍ وَّ الْاَحْزَابُ مِنْۢ بَعْدِهِمْ ۪ وَ هَمَّتْ کُلُّ اُمَّۃٍۭ بِرَسُوْلِهِمْ لِیَاْخُذُوْهُ وَ جٰدَلُوْا بِالْبَاطِلِ لِیُدْحِضُوْا بِهِ الْحَقَّ فَاَخَذْتُهُمْ ۟ فَکَیْفَ کَانَ عِقَابِ ﴿۵﴾
উচ্চারণ: কাযযাবাত কাবলাহুম কাওমুনূহিওঁ ওয়াল আহযা-বুমিম বা‘দিহিম ওয়া হাম্মাত কুল্লুউম্মাতিম বিরাছূলিহিম লিইয়া’খুযূহু ওয়া জা-দালূবিলবা-তিলি লিইউদহিদূ বিহিল হাক্কা ফাআখাযতুহুম ফাকাইফা কা-না ‘ইকা-ব।
আল বায়ান: এদের পূর্বে নূহের কওম এবং তাদের পরে অনেক দলও অস্বীকার করেছিল। প্রত্যেক উম্মতই স্ব স্ব রাসূলকে পাকড়াও করার সংকল্প করেছিল এবং সত্যকে বিদূরীত করার উদ্দেশ্যে তারা অসার বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল। ফলে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। সুতরাং কেমন ছিল আমার আযাব!
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫. তাদের আগে নৃহের সম্প্রদায় এবং তাদের পরে অনেক দলও মিথ্যারোপ করেছিল। প্রত্যেক উম্মত নিজ নিজ রাসূলকে পাকড়াও করার সংকল্প করেছিল এবং তারা অসার তর্কে লিপ্ত হয়েছিল, তা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে। দেয়ার জন্য। ফলে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। সুতরাং কত কঠোর ছিল আমার শাস্তি!
তাইসীরুল ক্বুরআন: এদের পূর্বে নূহের জাতি আর তাদের পরে বহু দল-গোষ্ঠী (রসূলদেরকে) অস্বীকার করেছিল। প্রত্যেক জাতি তাদের রসূলের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিল তাকে পাকড়াও করার জন্য, আর অসার অস্ত্রের সাহায্যে বিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছিল তা দিয়ে সত্যকে খন্ডন করার জন্য। ফলে আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছিলাম। অতঃপর দেখ, কেমন কঠোর ছিল আমার শাস্তি।
আহসানুল বায়ান: (৫) এদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়ও নবীগণকে মিথ্যাবাদী বলেছিল এবং তাদের পরে অন্যান্য দলও। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ রসূলকে নিরস্ত করার অভিসন্ধি করেছিল[1] এবং ওরা সত্যকে ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য অসার যুক্তি-তর্কে লিপ্ত হয়েছিল,[2] ফলে আমি ওদেরকে পাকড়াও করলাম। সুতরাং কত কঠোর ছিল আমার শাস্তি! [3]
মুজিবুর রহমান: তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় এবং তাদের পরে অন্যান্য দলও মিথ্যা আরোপ করেছিল। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ রাসূলকে আবদ্ধ করার জন্য অভিসন্ধি করেছিল এবং তারা অসার তর্কে লিপ্ত হয়েছিল, সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য। ফলে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম এবং কত কঠোর ছিল আমার শাস্তি!
ফযলুর রহমান: এদের পূর্বে নূহের সমপ্রদায় এবং তাদের পরে অন্যান্য দলও (তাদের নবীদেরকে) অবিশ্বাস করেছিল। প্রত্যেক (অবিশ্বাসী) জাতি তাদের রসূলকে পাকড়াও করার অভিসন্ধি করেছে এবং মিথ্যার সাহায্যে সত্যকে ব্যর্থ করার উদ্দেশ্যে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে। তখন আমিও তাদেরকে পাকড়াও করেছি। অতএব, কেমন হয়েছিল আমার শাস্তি!
মুহিউদ্দিন খান: তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় মিথ্যারোপ করেছিল, আর তাদের পরে অন্য অনেক দল ও প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ পয়গম্বরকে আক্রমণ করার ইচ্ছা করেছিল এবং তারা মিথ্যা বিতর্কে প্রবৃত্ত হয়েছিল, যেন সত্যধর্মকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। অতঃপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। কেমন ছিল আমার শাস্তি।
জহুরুল হক: এদের আগে নূহের স্বজাতি প্রত্যাখ্যান করেছিল, আর তাদের পরের অন্যান্য দলও, আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ই তাদের রসূল সন্বন্ধে মতলব করেছিল তাঁকে ধরে আনতে, আর তারা তর্কাতর্কি করত মিথ্যার সাহায্যে যেন তার দ্বারা তারা সত্যকে পঙ্গু করে ফেলতে পারে, ফলে আমি তাদের পাকড়াও করলাম, সুতরাং কেমন ছিল আমার শাস্তিদান!
Sahih International: The people of Noah denied before them and the [disbelieving] factions after them, and every nation intended [a plot] for their messenger to seize him, and they disputed by [using] falsehood to [attempt to] invalidate thereby the truth. So I seized them, and how [terrible] was My penalty.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫. তাদের আগে নৃহের সম্প্রদায় এবং তাদের পরে অনেক দলও মিথ্যারোপ করেছিল। প্রত্যেক উম্মত নিজ নিজ রাসূলকে পাকড়াও করার সংকল্প করেছিল এবং তারা অসার তর্কে লিপ্ত হয়েছিল, তা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে। দেয়ার জন্য। ফলে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। সুতরাং কত কঠোর ছিল আমার শাস্তি!
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫) এদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়ও নবীগণকে মিথ্যাবাদী বলেছিল এবং তাদের পরে অন্যান্য দলও। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ রসূলকে নিরস্ত করার অভিসন্ধি করেছিল[1] এবং ওরা সত্যকে ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য অসার যুক্তি-তর্কে লিপ্ত হয়েছিল,[2] ফলে আমি ওদেরকে পাকড়াও করলাম। সুতরাং কত কঠোর ছিল আমার শাস্তি! [3]
তাফসীর:
[1] যাতে তাঁকে বন্দী অথবা হত্যা করে কিংবা শাস্তি দেয়।
[2] অর্থাৎ, তাদের রসূলদের সাথে তারা ঝগড়া করেছিল। যাতে তাদের উদ্দেশ্য ছিল, সত্য কথার দোষ বের করা এবং তাকে দুর্বল করে দেওয়া।
[3] সুতরাং আমি বাতিলের ঐ সমর্থকদেরকে আমার আযাব দ্বারা পাকড়াও করলাম। অতএব তোমরা দেখে নাও, তাদের উপর আমার আযাব কিভাবে এসেছিল এবং কিভাবে তাদেরকে ভুল অক্ষর মুছার মত নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হল বা উপদেশের প্রতীক বানিয়ে দেওয়া হল।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪-৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
আলোচ্য আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদের একটি মন্দ অভ্যাসের বর্ণনা দিয়ে মুসলিমদেরকে সতর্ক করে বলছেন : আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনাবলী প্রতিহত ও বাতিল করার জন্য একমাত্র কাফিররাই বিতর্ক করে থাকে। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَيُجَادِلُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوْا بِهِ الْحَقَّ وَاتَّخَذُوْآ اٰيٰتِيْ وَمَآ أُنْذِرُوْا هُزُوًا)
কিন্তু কাফিররা মিথ্যা অবলম্বণে বিতণ্ডা করে সেটা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দেবার জন্য আর তারা আমার নিদর্শনাবলী ও যার দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে সে সমস্তকে তারা বিদ্রূপের বিষয়রূপে গ্রহণ করে থাকে। (সূরা কাহফ ১৮ : ৫৬)।
এসব অসৎ কাজ করার উদ্দেশ্য হল তারা শয়তানের অনুসারী এবং তারা এ ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান রাখে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُّجَادِلُ فِي اللّٰهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَّيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطَانٍ مَّرِيْدٍ لا- كُتِبَ عَلَيْهِ أَنَّه۫ مَنْ تَوَلَّاهُ فَأَنَّه۫ يُضِلُّه۫ وَيَهْدِيْهِ إِلٰي عَذَابِ السَّعِيْرِ)
“মানুষের মধ্যে কতক অজ্ঞতাবশত আল্লাহ সম্বন্ধে বিতণ্ডা করে এবং অনুসরণ করে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের, তার সম্বন্ধে এ নিয়ম করে দেয়া হয়েছে যে, যে কেউ তার সাথে বন্ধুত্ব করবে সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং তাকে পরিচালিত করবে প্রজ্জ্বলিত অগ্নির শাস্তির দিকে।” (সূরা আল হাজ্জ ২২ : ৩-৪)
(فَلَا يَغْرُرْكَ تَقَلُّبُهُمْ فِي الْبِلَادِ)
‘সুতরাং শহরগুলিতে তাদের অবাধ বিচরণ যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে’ কুরাইশরা শীতকালে ইয়ামান এবং গ্রীষ্মকালে সিরিয়ায় বাণিজ্যিক সফরে যেত। বায়তুল্লাহর সেবক হওয়ার সুবাদে সমগ্র আরবে তাদের সম্মান ও সুখ্যাতি ছিল। ফলে তারা নিরাপদে তাদের ঐশ্বর্য ও রাজনৈতিক প্রতিপত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। ইসলাম ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরোধিতা সত্ত্বেও তাদের এ সুখ্যাতি ও প্রভাব কায়েম থাকা তাদের জন্য গর্ব ও অহংকারের বিষয় ছিল। তারা বলত আমরা আল্লাহ তা‘আলার কাছে অপরাধী হলে এসব নেয়ামত ও ধনৈশ্বর্য ছিনিয়ে নেয়া হত। এ পরিস্থিতির কারণে কিছু সংখ্যক মুসলিমদের মাঝেও সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তাই আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহ তা‘আলা বিশেষ উদ্দেশ্যে তাদেরকে সাময়িক অবকাশ দিয়ে রেখেছেন। এতে ধোঁকায় পড়া যাবে না। বস্তুত তাদের সকল প্রভাব ও রাজনৈতিক কাঠামো বদর যুদ্ধের সূচনা থেকে মক্কা বিজয় পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এ সম্পর্কে আল্লাহ অন্যত্র বলেন :
(لَا یَغُرَّنَّکَ تَقَلُّبُ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا فِی الْبِلَادِﰓمَتَاعٌ قَلِیْلٌﺤ ثُمَّ مَاْوٰٿھُمْ جَھَنَّمُﺚ وَبِئْسَ الْمِھَادُ)
“শহরসমূহে কাফিরদের স্বাচ্ছন্দ্য চাল-চলন যেন তোমাকে প্রতারিত না করে। এসব মাত্র কয়েকদিনের সম্ভোগ; অতঃপর তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম এবং তা কতইনা নিকৃষ্ট স্থান!” (সূরা আ-লি ‘ইমরান ৩ : ১৯৬-১৯৭)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবীকে সান্ত্বনা প্রদান করছেন যে, হে নাবী! লোকেরা যে তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে এ কারণে তুমি দুঃখিত ও চিন্তিত হয়ো না। এদের কাজই হলো সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। এরা শুধু তোমাকে নয়, বরং তোমার পূর্ববর্তী সকল নাবী-রাসূলকেই মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। ফলে তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। অনুরূপ এরাও ধ্বংস হবে এবং এরাই হলো জাহান্নামের অধিবাসী। এদের বিরুদ্ধে তোমার রবের বিধান এমনই যে, এদের ওপর জাহান্নামের শাস্তি অবধারিত হয়ে গেছে। সুতরাং আমাদের এমন আচরণ বর্জন করা উচিত যা ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. অমুসলিম ব্যতীত কেউই আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শন নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করে না।
২. শয়তানের ধোঁকায় পড়ে আখিরাত হারানো থেকে সাবধান থাকতে হবে।
৩. যারা সত্যকে অস্বীকার করবে তাদের জন্যই জাহান্নাম।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪-৬ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ সত্য প্রকাশিত হয়ে যাবার পর ওকে না মানা এবং তাতে ক্ষতি সৃষ্টি করা কাফিরদেরই কাজ। হে নবী (সঃ)! এ লোকগুলো যদি ধন-মাল ও মান-মর্যাদার অধিকারী হয়ে যায় তবে তুমি যেন প্রতারিত না হও যে, এরা যদি আল্লাহর নিকট ভাল না হতো তবে তিনি তাদেরকে এই নিয়ামতগুলো কেন দিয়ে রেখেছেন? যেমন মহান আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যারা কুফরী করেছে, দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেন কিছুতেই তোমাকে বিভ্রান্ত না করে। এটা সামান্য ভোগ মাত্র; অতঃপর জাহান্নাম তাদের আবাস, আর ওটা কত নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল!” (৩:১৯৬-১৯৭) অন্য এক আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “সামান্য দিন তাদেরকে আমি সুখ ভোগ করতে দিবো, অতঃপর তাদেরকে কঠিন শাস্তির দিকে আসতে বাধ্য করবো।”(৩১-২৪)
এরপর আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে সান্ত্বনা দিচ্ছেনঃ হে নবী (সঃ)! লোকেরা যে তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে এ কারণে তুমি দুঃখিত ও চিন্তিত হয়ো না। তোমার পূর্ববর্তী নবীদের (আঃ) অবস্থার প্রতি লক্ষ্য কর যে, তাদেরকেও তাদের কওম অবিশ্বাস করেছিল এবং তাদের প্রতি ঈমান আনয়নকারীদের সংখ্যা ছিল খুবই কম। হযরত নূহ, যিনি বানী আদমের মধ্যে সর্বপ্রথম রাসল হয়ে এসেছিলেন, জনগণের মধ্যে যখন প্রথম প্রথম প্রতিমা-পূজা শুরু হয় তখন ঐ লোকগুলো তাঁকেও অবিশ্বাস করে এবং তার পরেও যতজন নবী এসেছিলেন তাদেরকেও তাদের উম্মতরা অবিশ্বাস করতে থাকে। এমনকি সবাই নিজ নিজ যামানার নবীকে বন্দী করা ও হত্যা করার ইচ্ছা করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাতে সফলকামও হয় এবং নিজেদের সন্দেহ ও মিথ্যা দ্বারা সত্যকে তুচ্ছ জ্ঞান করতে চায় এবং সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি সত্যকে দুর্বল করে দেয়ার উদ্দেশ্যে বাতিলের সাহায্য করে তার উপর হতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) দায়িত্বমুক্ত হয়ে যান।” (এ হাদীসটি আবুল কাসেম তিবরানী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ বলেনঃ আমি ঐ বাতিলপন্থীদেরকে পাকড়াও করলাম এবং তাদেরকে তাদের বড় পাপ ও ঘৃণ্য হঠকারিতার কারণে ধ্বংস করে দিলাম। এখন তোমরা চিন্তা করে দেখো যে, তাদের উপর আমার শাস্তি কতই না কঠোর ছিল! অর্থাৎ তাদের উপর আমার শাস্তি ছিল অত্যন্ত কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক।
এরপর প্রবল প্রতাপান্বিত আল্লাহ্ বলেনঃ যেমনভাবে তাদের উপর তাদের জঘন্য আমলের কারণে আমার শাস্তি আপতিত হয়েছিল, তেমনিভাবে এই উম্মতের মধ্যে যারা এই শেষ নবী (সঃ)-কে অবিশ্বাস করছে, তাদের উপরও এরূপই শাস্তি আপতিত হবে। যদিও তারা পূর্ববর্তী নবীদেরকে (আঃ) সত্য বলে স্বীকার করে নেয়, কিন্তু যে পর্যন্ত তারা শেষ নবী (সঃ)-এর নবুওয়াতকে স্বীকার না করবে, পূর্ববর্তী নবীদের উপর তাদের বিশ্বাস প্রত্যাখ্যাত হবে। এসব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ্।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।