আল কুরআন


সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 22)

সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 22)



হরকত ছাড়া:

ذلك بأنهم كانت تأتيهم رسلهم بالبينات فكفروا فأخذهم الله إنه قوي شديد العقاب ﴿٢٢﴾




হরকত সহ:

ذٰلِکَ بِاَنَّهُمْ کَانَتْ تَّاْتِیْهِمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَیِّنٰتِ فَکَفَرُوْا فَاَخَذَهُمُ اللّٰهُ ؕ اِنَّهٗ قَوِیٌّ شَدِیْدُ الْعِقَابِ ﴿۲۲﴾




উচ্চারণ: যা-লিকা বিআন্নাহুম কা-নাত্তা’তীহিম রুছুলুহুম বিলবাইয়িনা-তি ফাকাফারূফাআখাযাহুমুল্লা-হু ইন্নাহূকাবিওউন শাদীদুল ‘ইকা-ব।




আল বায়ান: এটি এ কারণে যে, তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আসত, কিন্তু তারা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করত। ফলে আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করলেন। নিশ্চয় তিনি শক্তিমান, আযাবদানে কঠোর।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২২. এটা এ জন্যে যে, তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আসত অতঃপর তারা কুফরী করেছিল। ফলে আল্লাহ্ তাদেরকে পাকড়াও করলেন। নিশ্চয় তিনি শক্তিশালী, শাস্তিদানে কঠোর।




তাইসীরুল ক্বুরআন: এটা এজন্য যে, রসূলগণ তাদের কাছে স্পষ্ট (নিদর্শন) নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তখন আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেছিলেন। তিনি প্রবল শক্তিধর, শাস্তিদানে কঠোর।




আহসানুল বায়ান: (২২) এ এজন্য যে, ওদের নিকট ওদের রসূলগণ নিদর্শনাবলী সহ আসার পর ওরা (তাদেরকে) প্রত্যাখ্যান করেছিল।[1] ফলে আল্লাহ ওদেরকে শাস্তি দিলেন। নিশ্চয়ই তিনি শক্তিশালী, কঠোর শাস্তিদাতা।



মুজিবুর রহমান: এটা এ জন্য যে, তাদের নিকট তাদের রাসূলগণ নিদর্শনসহ এলে তারা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিলেন। তিনিতো শক্তিশালী, শাস্তি দানে কঠোর।



ফযলুর রহমান: এটা এজন্য যে, তাদের রসূলেরা তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এলে তারা তা অবিশ্বাস করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেন। নিশ্চয়ই তিনি শক্তিশালী, কঠোর শাস্তিদাতা।



মুহিউদ্দিন খান: এর কারণ এই যে, তাদের কাছে তাদের রসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আগমন করত, অতঃপর তারা কাফের হয়ে যায়, তখন আল্লাহ তাদের ধৃত করেন। নিশ্চয় তিনি শক্তিধর, কঠোর শাস্তিদাতা।



জহুরুল হক: এমনটাই! কেন না তাদের ক্ষেত্রে -- তাদের রসূলগণ তাদের কাছে এসেছিলেন সুস্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, কিন্ত তারা অবিশ্বাস করেছিল, কাজেই আল্লাহ্ তাদের পাকড়াও করলেন। নিঃসন্দেহ তিনি মহাশক্তিশালী, প্রতিফলদানে কঠোর।



Sahih International: That was because their messengers were coming to them with clear proofs, but they disbelieved, so Allah seized them. Indeed, He is Powerful and severe in punishment.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২২. এটা এ জন্যে যে, তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আসত অতঃপর তারা কুফরী করেছিল। ফলে আল্লাহ্ তাদেরকে পাকড়াও করলেন। নিশ্চয় তিনি শক্তিশালী, শাস্তিদানে কঠোর।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২২) এ এজন্য যে, ওদের নিকট ওদের রসূলগণ নিদর্শনাবলী সহ আসার পর ওরা (তাদেরকে) প্রত্যাখ্যান করেছিল।[1] ফলে আল্লাহ ওদেরকে শাস্তি দিলেন। নিশ্চয়ই তিনি শক্তিশালী, কঠোর শাস্তিদাতা।


তাফসীর:

[1] এখানে তাদের ধ্বংসের কারণ বর্ণনা করা হচ্ছে। আর তা হল, আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করা এবং নবীদেরকে মিথ্যা ভাবা। এখন তো নবুঅত ও রিসালাতের ধারা বন্ধ, তথাপি বিশ্বজাহানে ও মানুষের মাঝে আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শনাবলী (চতুর্দিকে) বিস্তৃত রয়েছে। এ ছাড়াও ওয়ায-নসীহত এবং দাওয়াত ও তবলীগের মাধ্যমে উলামা ও সত্যের প্রতি আহবানকারীগণ তার বিশ্লেষণ ও দিক নির্দেশনার জন্য বিদ্যমান রয়েছেন। কাজেই আজও যে আল্লাহর নিদর্শনাবলী থেকে বিমুখ হবে এবং দ্বীন ও শরীয়তের ব্যাপারে উদাসীনতা প্রদর্শন করবে, তাদের পরিণামও রিসালাতের অস্বীকারকারী ও তা মিথ্যাজ্ঞানকারীদের থেকে ভিন্ন হবে না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২১-২২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



পূর্বোক্ত আয়াতসমূহে আখিরাতের অবস্থা বর্ণনা করার পর, এ আয়াতসমূহে দুনিয়াতে কাফিরদের যে মর্মান্তিক অবস্থা হয়েছিল তা বর্ণনা করে জনসাধারণকে সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে যে, এরা একটু জমিনে ঘুরে-ফিরে সে জাতিসমূহের পরিণাম দেখুক, পূর্বে আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলদের সাথে বেঈমানী করার ফলাফল কী হয়েছিল। এরাও সে পাপেই জড়িত। অথচ পূর্বের জাতিরা শক্তি ও সামর্থ্যে এদের থেকেও বেশি শক্তিশালী ছিল। যখন তারা তাদের শক্তি-সামর্থ্যরে বলে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করল তখনই তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার আযাব এসেছিল, আর তখন তাদেরকে আর কেউ রক্ষা করতে পারেনি। সুতরাং তোমরা যদি সতর্ক না হও তাহলে তোমাদের অবস্থাও এরূপই হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. কুরআনে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে তা থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য।

২. আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির মোকাবেলা করার কেউ নেই ।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২১-২২ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তোমার রিসালাতকে অবিশ্বাসকারীরা কি এদিক ওদিক ভ্রমণ করে তাদের পূর্ববর্তী রাসূলদেরকে অবিশ্বাসকারী কাফিরদের অবস্থা অবলোকন করেনি? তারা তো এদের চেয়ে বেশী শক্তিশালী ছিল এবং কীর্তিতেও ছিল তারা এদের চেয়ে উন্নততর। তাদের ঘরবাড়ী এবং আকাশচুম্বী অট্টালিকার ভগ্নাবশেষ এখনো বিদ্যমান রয়েছে। এদের চেয়ে তারা বয়সও বেশী পেয়েছিল। যখন তাদের কুফরী ও পাপের কারণে তাদের উপর আল্লাহর আযাব আপতিত হলো তখন না কেউ তাদের হতে আযাব সরাতে পারলো, না কারো মধ্যে ঐ শাস্তির মুকাবিলা করার শক্তি পাওয়া গেল, না তাদের বাঁচবার কোন উপায় বের হলো। তাদের উপর আল্লাহর গযব অবতীর্ণ হওয়ার বড় কারণ এই ছিল যে, তাদের কাছেও তাদের রাসূলগণ স্পষ্ট দলীল ও উজ্জ্বল প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু এতদসত্ত্বেও তারা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ধ্বংস করে দেন। অন্যান্য কাফিরদের জন্যে এটাকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের উপকরণ বানিয়ে দেন। আল্লাহ তা'আলা পূর্ণ ক্ষমতাবান এবং শাস্তিদানে তিনি অত্যন্ত কঠোর। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা আমাদেরকে এসব আযাব হতে পরিত্রাণ দান করুন!





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।