আল কুরআন


সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 21)

সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 21)



হরকত ছাড়া:

أولم يسيروا في الأرض فينظروا كيف كان عاقبة الذين كانوا من قبلهم كانوا هم أشد منهم قوة وآثارا في الأرض فأخذهم الله بذنوبهم وما كان لهم من الله من واق ﴿٢١﴾




হরকত সহ:

اَوَ لَمْ یَسِیْرُوْا فِی الْاَرْضِ فَیَنْظُرُوْا کَیْفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الَّذِیْنَ کَانُوْا مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ کَانُوْا هُمْ اَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّۃً وَّ اٰثَارًا فِی الْاَرْضِ فَاَخَذَهُمُ اللّٰهُ بِذُنُوْبِهِمْ ؕ وَ مَا کَانَ لَهُمْ مِّنَ اللّٰهِ مِنْ وَّاقٍ ﴿۲۱﴾




উচ্চারণ: আওয়ালাম ইয়াছীরূফিল আরদিফাইয়ানজুরূকাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল্লাযীনা কা-নূমিন কাবলিহিম কা-নূহুম আশাদ্দা মিনহুম কুওওয়াতাঁওয়া আ-ছা-রান ফিল আরদি ফাআখাযাহুমুল্লা-হু বিযুনূবিহিম ওয়ামা-কা-না লাহুম মিনাল্লা-হি মিওঁ ওয়া-ক।




আল বায়ান: এরা কি যমীনে বিচরণ করে না? তাহলে দেখত, তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের পরিণতি কেমন হয়েছিল? তারা এদের তুলনায় যমীনে শক্তিমত্তা ও প্রভাব বিস্তারে প্রবলতর ছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদের পাকড়াও করলেন তাদের পাপাচারের কারণে। আর তাদের জন্য ছিল না আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন রক্ষাকারী।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২১. এরা কি যমীনে বিচরণ করে না? ফলে দেখত তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের পরিণাম কেমন হয়েছিল। তারা এদের চেয়ে যমীনে শক্তিতে এবং কীর্তিতে ছিল প্রবলতর। তারপর আল্লাহ তাদেরকে তাদের অপরাধের জন্য পাকড়াও করলেন এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদেরকে রক্ষাকারী কেউ ছিল না।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না, তাহলে দেখতে পেত তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছিল। তারা শক্তিতে আর স্মৃতি চিহ্নে ছিল এদের চেয়ে প্রবল। অতঃপর তাদের পাপের কারণে আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেছিলেন, আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদেরকে বাঁচানোর কেউ ছিল না।




আহসানুল বায়ান: (২১) এরা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? করলে দেখত এদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি হয়েছিল। পৃথিবীতে ওরা ছিল এদের অপেক্ষা শক্তিতে এবং কীর্তিতে অধিকতর প্রবল। অতঃপর আল্লাহ ওদের অপরাধের জন্য ওদেরকে শাস্তি দিয়েছিলেন এবং আল্লাহর শাস্তি হতে ওদেরকে রক্ষাকারী কেউ ছিল না। [1]



মুজিবুর রহমান: তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনা? তাহলে দেখতে পেত তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি হয়েছিল? পৃথিবীতে তারা ছিল এদের অপেক্ষা শক্তিতে এবং কীর্তিতে প্রবলতর। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিলেন তাদের অপরাধের জন্য এবং আল্লাহর শাস্তি হতে তাদেরকে রক্ষা করার কেহ ছিলনা।



ফযলুর রহমান: এরা কি জমিনে ভ্রমণ করে না? তাহলে দেখত তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল। পৃথিবীতে তাদের শক্তি ও কীর্তি এদের চেয়ে বেশি ছিল। তারপরও তাদের পাপের কারণে আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেছিলেন। আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ ছিল না।



মুহিউদ্দিন খান: তারা কি দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করে না, যাতে দেখত তাদের পূর্বসুরিদের কি পরিণাম হয়েছে? তাদের শক্তি ও কীর্তি পৃথিবীতে এদের অপেক্ষা অধিকতর ছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে তাদের গোনাহের কারণে ধৃত করেছিলেন এবং আল্লাহ থেকে তাদেরকে রক্ষাকারী কেউ হয়নি।



জহুরুল হক: এরা কি দুনিয়াতে পরিভ্রমণ করে নি, করলে দেখত কেমন হয়েছিল তাদের পরিণাম যারা ছিল এদের পূর্ববর্তী? তারা তো ছিল বলবিক্রমে এদের চেয়েও প্রবল আর দুনিয়াদারির কৃতিত্বেও, কিন্ত আল্লাহ্ তাদের পাকড়াও করলেন তাদের অপরাধের জন্য, আর তাদের জন্য আল্লাহ্‌র থেকে কোনো রক্ষাকারী নেই।



Sahih International: Have they not traveled through the land and observed how was the end of those who were before them? They were greater than them in strength and in impression on the land, but Allah seized them for their sins. And they had not from Allah any protector.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২১. এরা কি যমীনে বিচরণ করে না? ফলে দেখত তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের পরিণাম কেমন হয়েছিল। তারা এদের চেয়ে যমীনে শক্তিতে এবং কীর্তিতে ছিল প্রবলতর। তারপর আল্লাহ তাদেরকে তাদের অপরাধের জন্য পাকড়াও করলেন এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে তাদেরকে রক্ষাকারী কেউ ছিল না।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২১) এরা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? করলে দেখত এদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি হয়েছিল। পৃথিবীতে ওরা ছিল এদের অপেক্ষা শক্তিতে এবং কীর্তিতে অধিকতর প্রবল। অতঃপর আল্লাহ ওদের অপরাধের জন্য ওদেরকে শাস্তি দিয়েছিলেন এবং আল্লাহর শাস্তি হতে ওদেরকে রক্ষাকারী কেউ ছিল না। [1]


তাফসীর:

[1] পূর্বোক্ত আয়াতসমূহে আখেরাতের অবস্থার বর্ণনা ছিল। এখন দুনিয়ার অবস্থা উল্লেখ করে ভয় দেখানো হচ্ছে যে, এরা একটু যমীনে ঘুরে-ফিরে সেই জাতিসমূহের পরিণাম দেখুক, যাদেরকে এদের পূর্বে মিথ্যা ভাবার অপরাধে ধ্বংস করা হয়েছে। এরাও সেই পাপেই জড়িত। অথচ পূর্বের জাতিরা শক্তি ও সামর্থ্যে এদের থেকেও অনেক বেশী ছিল। কিন্তু যখন তাদের উপর আল্লাহর আযাব এল, তখন তাদেরকে কেউ বাঁচাতে পারেনি। এইভাবে তোমাদের উপরও আযাব আসতে পারে। আর এ আযাব যদি এসে যায়, তবে (তা থেকে) তোমাদেরকে বাঁচানোর মত কেউ থাকবে না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২১-২২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



পূর্বোক্ত আয়াতসমূহে আখিরাতের অবস্থা বর্ণনা করার পর, এ আয়াতসমূহে দুনিয়াতে কাফিরদের যে মর্মান্তিক অবস্থা হয়েছিল তা বর্ণনা করে জনসাধারণকে সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে যে, এরা একটু জমিনে ঘুরে-ফিরে সে জাতিসমূহের পরিণাম দেখুক, পূর্বে আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলদের সাথে বেঈমানী করার ফলাফল কী হয়েছিল। এরাও সে পাপেই জড়িত। অথচ পূর্বের জাতিরা শক্তি ও সামর্থ্যে এদের থেকেও বেশি শক্তিশালী ছিল। যখন তারা তাদের শক্তি-সামর্থ্যরে বলে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করল তখনই তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার আযাব এসেছিল, আর তখন তাদেরকে আর কেউ রক্ষা করতে পারেনি। সুতরাং তোমরা যদি সতর্ক না হও তাহলে তোমাদের অবস্থাও এরূপই হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. কুরআনে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে তা থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য।

২. আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির মোকাবেলা করার কেউ নেই ।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২১-২২ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তোমার রিসালাতকে অবিশ্বাসকারীরা কি এদিক ওদিক ভ্রমণ করে তাদের পূর্ববর্তী রাসূলদেরকে অবিশ্বাসকারী কাফিরদের অবস্থা অবলোকন করেনি? তারা তো এদের চেয়ে বেশী শক্তিশালী ছিল এবং কীর্তিতেও ছিল তারা এদের চেয়ে উন্নততর। তাদের ঘরবাড়ী এবং আকাশচুম্বী অট্টালিকার ভগ্নাবশেষ এখনো বিদ্যমান রয়েছে। এদের চেয়ে তারা বয়সও বেশী পেয়েছিল। যখন তাদের কুফরী ও পাপের কারণে তাদের উপর আল্লাহর আযাব আপতিত হলো তখন না কেউ তাদের হতে আযাব সরাতে পারলো, না কারো মধ্যে ঐ শাস্তির মুকাবিলা করার শক্তি পাওয়া গেল, না তাদের বাঁচবার কোন উপায় বের হলো। তাদের উপর আল্লাহর গযব অবতীর্ণ হওয়ার বড় কারণ এই ছিল যে, তাদের কাছেও তাদের রাসূলগণ স্পষ্ট দলীল ও উজ্জ্বল প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু এতদসত্ত্বেও তারা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ধ্বংস করে দেন। অন্যান্য কাফিরদের জন্যে এটাকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের উপকরণ বানিয়ে দেন। আল্লাহ তা'আলা পূর্ণ ক্ষমতাবান এবং শাস্তিদানে তিনি অত্যন্ত কঠোর। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা আমাদেরকে এসব আযাব হতে পরিত্রাণ দান করুন!





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।