আল কুরআন


সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 82)

সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 82)



হরকত ছাড়া:

فمن تولى بعد ذلك فأولئك هم الفاسقون ﴿٨٢﴾




হরকত সহ:

فَمَنْ تَوَلّٰی بَعْدَ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ ﴿۸۲﴾




উচ্চারণ: ফামান তাওয়াল্লা-বা‘দা যা-লিকা ফাউলাইকা হুমুল ফা-ছিকূ ন।




আল বায়ান: সুতরাং এরপর যারা ফিরে যাবে, তারা তো ফাসিক।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮২. সুতরাং এরপর যারা মুখ ফিরাবে তারাই তো ফাসেক।




তাইসীরুল ক্বুরআন: অতঃপর যারা মুখ ফিরিয়ে নিবে তারাই হল ফাসেক।




আহসানুল বায়ান: (৮২) অতএব এর পর যারা মুখ ফিরিয়ে নেবে, তারাই হবে ফাসেক (সত্যত্যাগী)। [1]



মুজিবুর রহমান: অতঃপর এর পরে যারা ফিরে যাবে তারাই দুস্কার্যকারী।



ফযলুর রহমান: এরপর যারা ফিরে যাবে (অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে) তারাই অন্যায়কারী।



মুহিউদ্দিন খান: অতঃপর যে লোক এই ওয়াদা থেকে ফিরে দাঁড়াবে, সেই হবে নাফরমান।



জহুরুল হক: অতএব যে কেউ এরপর ফিরে যায়, তা হলে তারা নিজেরাই হচ্ছে পাপাচারী।



Sahih International: And whoever turned away after that - they were the defiantly disobedient.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৮২. সুতরাং এরপর যারা মুখ ফিরাবে তারাই তো ফাসেক।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৮২) অতএব এর পর যারা মুখ ফিরিয়ে নেবে, তারাই হবে ফাসেক (সত্যত্যাগী)। [1]


তাফসীর:

[1] এখানে আহলে-কিতাব (ইয়াহুদী- খ্রিষ্টান) এবং অন্য সকল ধর্মাবলম্বিদের সতর্ক করা হচ্ছে যে, মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর প্রেরণের পরও তাঁর উপর ঈমান না এনে স্ব স্ব দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা সেই অঙ্গীকারের বিপরীত, যা মহান আল্লাহ নবীদের মাধ্যমে প্রত্যেক উম্মতের কাছ থেকে নিয়েছেন এবং এই অঙ্গীকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া কুফরী। আর এখানে ‘ফাসে্ক’এর অর্থঃ কাফের। কেননা, মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর নবূওয়াতের অস্বীকৃতি কেবল ‘ফিসক্ব’ নয়, বরং একেবারে কুফরী।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮১-৮৩ নং আয়াতের তাফসীর:



إِصْرِيْ অর্থ আমার অঙ্গীকার, ওয়াদা।



আল্লাহ তা‘আলা আদম (আঃ) থেকে ঈসা (আঃ) পর্যন্ত প্রত্যেক নাবীর কাছ থেকে এ অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, তাঁর জীবদ্দশায় এবং তাঁর নবুওয়াতকালে যদি কোন নাবীর আগমন ঘটে, তাহলে নবাগত নাবীর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সহযোগিতা করবে। যদি নাবী বিদ্যমান থাকা অবস্থায় নবাগত নাবীর ওপর ঈমান আনা জরুরী হয় তাহলে তার উম্মাতের মাঝে নবাগত নাবীর ওপর ঈমান আনা আরো বেশি জরুরী। কেউ কেউ رسول مصدق বলতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ মুহাম্মাদ এর ব্যাপারে অন্যান্য সমস্ত নাবীর কাছ থেকে অঙ্গীকার নেয়া হয়েছে যে, যদি তাঁর যুগে তিনি এসে যান তাহলে নিজের নবুওয়াতের সমাপ্তি ঘটিয়ে এ নাবীর ওপর ঈমান আনবে। প্রথম অর্থের মাঝে দ্বিতীয় অর্থ এমনিই এসে যায়। কেননা সকল নাবীর দাওয়াতের মূল বস্তু একটাই। সকলেই তাওহীদ, ন্যায় ও সত্যের দিকেই আহ্বান করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: ঐ সত্ত্বার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ যদি আজ মূসা (আঃ) জীবিত থাকতেন তাহলে আমার আনুগত্য ছাড়া তাঁর কোন পথ ছিল না। (ইরওয়াউল গালীল হা: ১৫৮৯, সহীহ)



আল্লাহ তা‘আলা এ অঙ্গীকার নেয়ার পর স্বীকারোক্তি নিলেন এবং নিজেও তাদের সাথে সাক্ষী রইলেন। এরপরেও যারা (বিশেষ করে ইয়াহূদী-খ্রিস্টান) অমান্য করবে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনবে না বরং নিজেদের স্ব-স্ব ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে তারা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য থেকে বের হয়ে গেল। অর্থাৎ কাফির, কেননা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবূওয়াতের অস্বীকৃতি কেবল ‘ফিসক্ব’ নয় বরং একেবারে কুফরী।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. নাবীদের ধর্ম ছিল একটাই, তা হল ইসলাম।

২. আল্লাহ তা‘আলার নিকট অঙ্গীকারের গুরুত্ব অপরিসীম।

৩. রাসূলগণ একে অপরের সমর্থক ও সত্যায়নকারী।

৪. মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের পর অন্য কোন ধর্ম অবলম্বন করার সুযোগ নেই।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮১-৮২ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে বর্ণনা দেয়া হচ্ছে- হযরত আদম (আঃ) থেকে নিয়ে হযরত ঈসা (আঃ) পর্যন্ত সমস্ত নবী (আঃ)-এর নিকট আল্লাহ তা'আলা এই অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, কোন সময় যখন তাদের মধ্যে কাউকে আল্লাহ পাক গ্রন্থ ও জ্ঞান-বিজ্ঞান দান করবেন এবং তিনি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হবেন, তখন যদি তার যুগেই অন্য কোন নবী এসে যান তবে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাকে সাহায্য করা এ নবীর অবশ্য কর্তব্য। এই নয় যে, স্বীয় জ্ঞান ও নবুওয়াতের প্রতি লক্ষ্য করতঃ তিনি তাঁর পরবর্তী নবী (আঃ)-এর অনুসরণ ও সাহায্য হতে বিরত থাকবেন। অতঃপর তিনি নবীদেরকে বলেনঃ “তোমরা কি এটা স্বীকার করলে এবং আমার সাথে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করলে?' তারা তখন বললেনঃ আমরা স্বীকার করলাম। তখন আল্লাহ তা'আলা বললেনঃ তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও সাক্ষী থাকলাম। অতঃপর যে কেউ এই অঙ্গীকার হতে ফিরে যাবে সে নিশ্চিতরূপে দুষ্কার্যকারী।

হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (রাঃ) এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক নবী (আঃ)-এর নিকট এই অঙ্গীকার নেন যে, যদি তিনি তাঁর যুগে হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-কে প্রেরণ করেন তবে তাঁর অবশ্যকর্তব্য হবে তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাঁকে সাহায্য করা, আর স্বীয় উম্মতকেও উপদেশ দেয়া যে, তারাও যেন তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করতঃ তাঁর আনুগত্য স্বীকার করতে থাকে। হযরত তাউস (রঃ), হযরত হাসান বসরী (রঃ) এবং হযরত কাতাদাহ (রঃ) বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলা নবীদের (আঃ) নিকট অঙ্গীকার নেন যে, তারা যেন একে অপরের সত্যতা প্রতিপাদন করেন। কেউ যেন এটা মনে না করেন যে, এ তাফসীর উপরের তাফসীরের বিপরীত বরং এটা ওরই পষ্ঠপোষক। এ জন্যেই হযরত আলী (রাঃ) ও হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত বর্ণনার মতই হযরত তাউস (রঃ) হতে তার পূর্বের বর্ণনাও বর্ণিত আছে।

মুসনাদ-ই-আহমাদের বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি আমার এক কুরাইযী ইয়াহূদী বন্ধুকে বলেছিলাম যে, সে যেন আমাকে তাওরাতের সমস্ত কথা লিখে দেয়। আপনার অনুমতি হলে আমি ঐগুলো পেশ করি।' একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর চেহারা মুবারক পরিবর্তিত হয়ে যায়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সাবিত (রাঃ) তখন হযরত উমার (রাঃ)-কে বলেনঃ “আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মুখমণ্ডলের অবস্থা লক্ষ্য করছেন না?' তখন হযরত উমার (রাঃ) বলেনঃ “আল্লাহকে প্রভুরূপে, মুহাম্মাদ (সঃ)-কে রাসূলরূপে এবং ইসলামকে ধর্মরূপে আমি সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিচ্ছি। এর ফলে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ক্রোধ বিদূরিত হয় এবং তিনি বলেনঃ “যে আল্লাহর অধিকারে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! যদি হযরত মূসা (আঃ) তোমাদের মধ্যে আগমন করেন এবং তোমরা আমাকে ছেড়ে তার অনুসরণ কর তবে তোমরা সবাই পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। সমস্ত উম্মতের মধ্যে আমার অংশের উম্মত তোমরাই এবং সমস্ত নবী (আঃ)-এর মধ্যে তোমাদের অংশের নবী আমি।'

মুসনাদ-ই-আবু ইয়ালার মধ্যে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ তোমরা কিতাব ধারীদেরকে কিছুই জিজ্ঞেস করো না। তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট, সুতরাং তোমাদেরকে কিরূপে তারা সুপথ প্রদর্শন করবে? বরং সম্ভবতঃ তোমরা কোন মিথ্যার সত্যতা প্রতিপাদন করবে এবং কোন সত্যকে মিথ্যা বলে দেবে। আল্লাহর শপথ! যদি হযরত মূসা (আঃ) তোমাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকতেন তবে তার জন্যে আমার আনুগত্য ছাড়া অন্য কিছু বৈধ হতো না। কোন কোন হাদীসে রয়েছেঃ যদি হযরত মূসা (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ) জীবিত থাকতেন তবে তাঁদেরও আমার আনুগত্য ছাড়া কোন উপায় ছিল না। সুতরাং সাব্যস্ত হলো যে, আমাদের রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সঃ) নবীদের (আঃ) সমাপ্তকারী এবং সবচেয়ে বড় ইমাম। যে কোন যুগে তিনি নবী হয়ে আসলে তার আনুগত্য স্বীকার করা সবারই জন্যে অবশ্য কর্তব্য হতো। আর সেই যুগের সমস্ত নবী (আঃ)-এর আনুগত্যের উপর তার আনুগত্য অগ্রগণ্য হতো। এ কারণেই মিরাজের রাত্রে বায়তুল মুকাদ্দাসে তাঁকেই সমস্ত নবী (আঃ)-এর ইমাম নিযুক্ত করা হয়েছি। অনুরূপভাবে হাশরের মাঠেও আল্লাহ তাআলার নিকট একমাত্র সুপারিশকারী তিনিই হবেন। এটাই ঐ মাকাম-ই-মাহমুদ’ যা তিনি ছাড়া আর কারও জন্যে উপযুক্ত নয়। সমস্ত নবী এবং প্রত্যেক রাসূল সেদিন এ কাজ হতে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। অবশেষে তিনিই বিশেষভাবে এ স্থানে দণ্ডয়ামান হবেন। কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা সদা-সর্বদার জন্য তাঁর উপর দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন। আমীন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।