আল কুরআন


সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 138)

সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 138)



হরকত ছাড়া:

هذا بيان للناس وهدى وموعظة للمتقين ﴿١٣٨﴾




হরকত সহ:

هٰذَا بَیَانٌ لِّلنَّاسِ وَ هُدًی وَّ مَوْعِظَۃٌ لِّلْمُتَّقِیْنَ ﴿۱۳۸﴾




উচ্চারণ: হা-যা-বায়া-নুল লিন্না-ছি ওয়া হুদাওঁ ওয়া মাও‘ইজাতুল লিলমুত্তাকীন।




আল বায়ান: এটা মানুষের জন্য স্পষ্ট বর্ণনা ও হিদায়াত এবং উপদেশ মুত্তাকীদের জন্য।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৩৮. এগুলো মানুষের জন্য স্পষ্ট বর্ণনা এবং মুত্তাকীদের জন্য হেদায়াত ও উপদেশ।




তাইসীরুল ক্বুরআন: এটা হচ্ছে মানুষের জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত ও নাসীহাত।




আহসানুল বায়ান: (১৩৮) এ মানবজাতির জন্য স্পষ্ট ব্যাখ্যা আর ধর্মভীরুদের জন্য পথের দিশারী ও উপদেশ।



মুজিবুর রহমান: এটা মানবমন্ডলীর জন্য বিবরণ এবং আল্লাহভীরুগণের জন্য পথ প্রদর্শন ও উপদেশ।



ফযলুর রহমান: এটা (কোরআন) মানুষের জন্য (স্পষ্ট) বর্ণনা এবং মোত্তাকীদের জন্য পথ-নির্দেশ ও উপদেশ।



মুহিউদ্দিন খান: এই হলো মানুষের জন্য বর্ণনা। আর যারা ভয় করে তাদের জন্য উপদেশবাণী।



জহুরুল হক: এই হচ্ছে মানব জাতির জন্য সুস্পষ্ট ঘোষণা ও পথনির্দেশ ও উপদেশ -- ধর্মপরায়ণদের জন্য।



Sahih International: This [Qur'an] is a clear statement to [all] the people and a guidance and instruction for those conscious of Allah.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৩৮. এগুলো মানুষের জন্য স্পষ্ট বর্ণনা এবং মুত্তাকীদের জন্য হেদায়াত ও উপদেশ।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৩৮) এ মানবজাতির জন্য স্পষ্ট ব্যাখ্যা আর ধর্মভীরুদের জন্য পথের দিশারী ও উপদেশ।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৩৭-১৪৩ নং আয়াতের তাফসীর:



যে সকল মু’মিন উহুদের যুদ্ধে আহত ও শাহাদাত বরণ করেছে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সম্বোধন করে বলেন, তোমাদের পূর্বে অনেক নাবীর উম্মাত অতীত হয়ে গেছে যারা এমন বিপদাপদের সম্মুখীন হয়েছিল। কিন্তু মু’মিনদের ছিল শুভ পরিণতি আর কাফিরদের ছিল অশুভ পরিণতি। এজন্য আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীতে ভ্রমণ করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে মিথ্যুকদের পরিণতি দেখে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, উহুদের দিন যা ঘটে গেছে সে জন্য মনবল হারাইও না। মূলতঃ তোমরাই বিজয়ী, তোমাদের জন্যই উত্তম পরিণতি, যদি তোমরা মু’মিন হও।



(أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا...)



এ সম্পর্কে সূরা বাকারাহর ২১৪ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



تَمَنَّوْنَ الْمَوْتَ



শত্র“দের সাথে মুখোমুখী হবার ও মৃত্যু কামনা করা নিষেধ। তবে যদি শত্র“রা মুখোমুখী হয়েই যায় তা হলে পিছপা হওয়া হারাম।



রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: তোমরা শত্র“দের সম্মুখীন হবার আকাক্সক্ষা করো না, আল্লাহ তা‘আলার নিকট নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা কর। যখন শত্র“দের সম্মুখীন হয়েই যাবে তখন ধৈর্যধারণ করবে। জেনে রেখ! জান্নাত তরবারীর ছায়াতলে। (সহীহ বুখারী হা: ২৯৬৫, ২৯৬৬)



সুতরাং মু’মিনরা মারবে এবং মরবে, হীনবল হবার কিছু নেই, কারণ তারা (কাফিররা) মারা গেলে জাহান্নামে যাবে আর মু’মিনরা মারা গেলে জান্নাতে যাবে।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মিথ্যুকদের পরিণতি সর্বদা খারাপ হয়, তারা সফলকাম হতে পারে না।

২. কুরআনের প্রত্যেক আয়াতে হিদায়াত ও উপদেশ রয়েছে।

৩. ঈমানদারগণ দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে সফলকাম।

৪. কোন অবস্থাতেই মৃত্যু কামনা করা যাবে না, তবে এভাবে দু‘আ করা যাবে যে, হে আল্লাহ! আমার বেঁচে থাকা যদি মঙ্গল হয় তা হলে জীবিত রাখ, আর যদি মৃত্যু মঙ্গল হয় তা হলে মৃত্যু দাও।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৩৭-১৪৩ নং আয়াতের তাফসীর:

যেহেতু উহুদের যুদ্ধে সত্তরজন মুসলমান শহীদ হয়েছিলেন, তাই আল্লাহ পাক মুসলমানদেরকে সান্ত্বনা ও উৎসাহ দিয়ে বলছেনঃ “তোমাদের পূর্ববর্তী ধর্মভীরু লোকদেরকেও জান ও মালের ক্ষতি স্বীকার করতে হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিজয় লাভ তাদেরই হয়েছে। তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী ঘটনাবলীর প্রতি একটু দৃষ্টিপাত করলেই তোমাদের উপর এ রহস্য উৎঘাটিত হয়ে যাবে। এ পবিত্র কুরআনের মধ্যে তোমাদের শিক্ষার জন্যে তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের বর্ণনাও রয়েছে। অর্থাৎ তোমাদের অন্তরের হিদায়াতের জন্যে এবং তোমাদেরকে ভাল-মন্দ সম্বন্ধে সজাগকারী এ কুরআন পাকই বটে। মুসলমানদেরকে ঐ ঘটনাবলী স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদেরকে আরও বেশী সান্তনা দেয়ার জন্য বলছেন- “তোমরা এ যুদ্ধের ফলাফল দেখে মন খারাপ করো না এবং চিন্তিত হয়ে বসে পড়ো না। এ যুদ্ধে যদি তোমরা আহত হয়ে থাক এবং তোমাদের লোক শহীদ হয়ে থাকে তাতে কি হয়েছে; কেননা, এর পূর্বে তো তোমাদের শত্রুরাও আহত ও নিহত হয়েছিল। এরূপ উত্থান-পতন ততা পৃথিবীতে চলেই আসছে। হ্যা, তবে প্রকৃত কৃতকার্য ওরাই যারা পরিণামে বিজয়ী হয়, আর আমি তো তোমাদের জন্যে এ বিজয় নির্দিষ্ট করেই রেখেছি। তোমাদের কোন কোন বারে পরাজয় এবং বিশেষ করে এ উহুদ যুদ্ধের পরাজয়ের কারণ ছিল তোমাদের মধ্যকার ধৈর্যশীল ও অধৈর্যশীলদেরকে পরীক্ষা করা। আর যারা বহুদিন হতে শাহাদাত লাভের আকাংখী ছিল তাদের আকাংখা পূর্ণ করাও ছিল একটি কারণ। তারা যেন স্বীয় জান ও মাল আমার পথে ব্যয় করার সুযোগ লাভ করতে পারে। আল্লাহ তা'আলা অত্যাচারীদেরকে ভালবাসেন। না। এর আরও কারণ এই যে, ঈমানদারদের পাপ থাকলে তা মোচন হয়ে যাবে, আর পাপ না থাকলে তাদের মর্যাদা বেড়ে যাবে এবং এর দ্বারা কাফিরদেরকে ধ্বংস করারও উদ্দেশ্য রয়েছে। কেননা, তারা বিজয়ী হয়ে গর্বিত হয়ে যাবে এবং তাদের অবাধ্যতা ও অহংকার আরও বৃদ্ধি পাবে। আর এটাই তাদের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে এবং শেষে তারা সমূলে বিধ্বস্ত হয়ে যাবে। এসব কঠিন বিপদ-আপদ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কেউ জান্নাত লাভ করতে পারে না। যেমন সূরা-ই-বাকারায় রয়েছে- ‘তোমরা কি এটা জান যে, তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদেরকে যেভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল সেভাবে তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না এবং তোমরা জান্নাতে চলে যাবে? এটা হতে পারে না। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ মানুষ কি মনে করেছে যে, তারা-‘আমরা ঈমান এনেছি’ একথা বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না? (২৯:২) এখানেও ঐ কথাই বলা হচ্ছে যে, যে পর্যন্ত ধৈর্যশীলদেরকে জানা না যায়, অর্থাৎ তারা পৃথিবীতে প্রকাশিত না হয় সে পর্যন্ত তারা জান্নাত লাভ করতে পারে না। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “তোমরা এর পূর্বে তো এরূপ সুযোগেরই আকাংখা করছিলে যে, নিজেদের ধৈর্য ও দৃঢ়তা মহান আল্লাহকে প্রদর্শন করবে এবং তার পথে শাহাদাত বরণ করবে। কাজেই এস, আমি তোমাদেরকে ঐ সুযোগ প্রদান করলাম, তোমরা এখন তোমাদের দুঃসাহস ও দৃঢ়তা প্রদর্শন কর।' হাদীস শরীফে রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “তোমরা শত্রুদের সম্মুখীন হওয়ার আকাঙ্খ করো না, আল্লাহ তাআলার নিকট নিরাপত্তার জন্যে প্রার্থনা কর এবং যখন যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হও তখন লৌহস্তম্ভের মত অটল ও স্থির থাক এবং জেনে রেখো যে, জান্নাত তরবারীর ছায়ার নীচে রয়েছে। এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ “তোমরা স্বচক্ষে এ দৃশ্য দেখেছ যে, তরবারী কচ্ শব্দ করছে, বর্শা তীব্র বেগে বের হচ্ছে, তীর বর্ষিত হচ্ছে, ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে এবং এদিকে-ওদিকে মৃতদেহ পড়তে রয়েছে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।